Space For Advertisement

উচ্চ আদালতের রায়ের নিরিখে মোবাইল কোর্ট

উচ্চ আদালতের রায়ের নিরিখে মোবাইল কোর্ট

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে কী হবে না এই মর্মে উচ্চ আদালতে একটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। উচ্চ আদালত এরই মধ্যে মামলা চলাকালীন সময়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে প্রথমে ৩ মাস, পরবর্তী সময়ে ২ সপ্তাহ এবং তারও পরে আরো ২ সপ্তাহ সময় বৃদ্ধি করে থাকে। এ নিবন্ধটি লেখার সময় উচ্চ আদালতের ২ সপ্তাহ সময় শেষ হয়নি।

                  জানা যায় ২৫/৭/১৭ থেকে ২৭/৭/১৭ ইং পর্যন্ত ৩ দিন পর্যন্ত ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের সম্মেলন হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের সাথে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকরা ৫০০ প্রস্তাব পাঠালে ৩৪৯টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ ৫১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ২২টি অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছেন একাধিক জেলা প্রশাসক। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়নের সময় পদায়নকৃত কর্মকর্তাকে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ১০ (২) ধারার বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) ক্ষমতা প্রদান করাসহ এ আইনের আরো কয়েকটি ধারার কথা উল্লেখ রয়েছে। সূত্রে আরো জানা যায়, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২০ হাজার ৭৪১টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ ২৩ হাজার ২৬২টি মামলার বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি হয়েছে। এ ছাড়াও ৮ বছরে মোবাইল কোর্ট চালুর মাধ্যমে ২০০ কোটি ৩৭ লাখ ৭৫ হাজার ৪১২ টাকা আদায় করা হয়েছে। আরো উল্লেখ করা হয়, মে মাসে (২০১৭) হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা মাত্র ৩ দিন বন্ধ থাকলে জেলায় জেলায় আশংকাজনকভাবে অপরাধ বেড়ে যায়। বাল্য বিবাহ, অবৈধ স্থাপনা নির্মান, ইভটিজিং, বালু উত্তোলন, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রয়, ভেজাল দ্রব্য বিক্রিসহ নানা অপরাধ সংগঠিত হলেও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি স্থানীয় নির্বাহী প্রশাসন। এসব কিছুর পর জেলা প্রশাসকদের ৩ দিনের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদেরকে ২৩টি নির্দেশনামূলক ৩২১টি নির্দেশনা সম্বলিত পরামর্শ প্রদান করেছেন। জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা, কিন্তু প্রভু নন। জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জানা যায়, সম্মেলনে প্রথম দিনেই নির্বাহী 

ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্টের সুযোগ বহাল রাখার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায়ই চূড়ান্ত।

                  তাছাড়া উচ্চ আদালতের রায় বা নির্দেশনা না আসার কারণে কোন সাংবাদিক, কলামিস্ট, গণমাধ্যম, রাজনীতিক, সুশীল সমাজ ও সর্বোপরি আইন বিশ্লেষকরা এ ব্যাপারে মনগড়া কোন কিছু না বলারই কথা। ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর মাসদার হোসেন মামলার আলোকে ইতোমধ্যে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ করা হয়েছে। জুডিসিয়াল সেপারেশন (ঔঁফরপরধষ ঝবঢ়বৎধঃরড়হ) করার প্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছ থেকে আমলী আদালতগুলো জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের (সিজেএম, এসিজেএম ও জেএম দের) এখতিয়ার চলে আসে। সংগত কারণেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আমলী আদালতে (ফৌজদারী) ক্ষমতা এমনিতেই রহিত হয়ে যায়। মাসদার হোসেন মামলার শুধু নির্বাহী থেকে বিচারিক আদালত বা জুডিসিয়াল কোর্টই (ঔঁফরপরধষ ঈড়ঁৎঃ) পৃথকীকরণের কথা বলা হয়নি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছ থেকে সকল প্রকার বিচারিক আদালতকেও গণ্য করা হয়ে থাকে। যার মধ্যে রয়েছে এ.ডি.এম কোর্ট, ৫৪ ধারার কোর্ট ও মোবাইল কোর্ট। যার ফলশ্র“তিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানা প্রদানও এর মধ্যে পড়ে যায়। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর জুডিসিয়াল কোর্টের ব্যবস্থাপনা জেএমদের (ঔঁফরপরধষ গধমরংঃৎধঃব) নিকট হস্তান্তর করা হলেও তার পর থেকে  ২০১৭ সালের মে মাসের ৩ দিন বাদে অন্য কোনদিন দেশে মোবাইল কোর্ট বন্ধ থাকেনি। যাকে দেশের বিচার বিশ্লেষক ও প্রথিতযশা আইনজীবীরা মাসদার হোসেন মামলা ও বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর নির্বাহীদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য ও অভিমত করতে লক্ষ্য করা যায়। অপরদিকে দেশের স্পর্শকাতর ভেজাল প্রতিরোধ, বাল্য বিবাহ, ঔষধে ভেজাল, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, পরিবেশ দূষন পলিথিন, জাল টাকা নিয়ন্ত্রনসহ অনেক ব্যাপারে মোবাইল কোর্টের প্রয়োজনীয়তার কথা জানা যায়। তখন জনমনে প্রশ্ন হলো, মোবাইল কোর্ট কে বা কাহারা পরিচালনা করবে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট না নির্বাহী ম্যাজিস্টেট। অনেকের মতে যদি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়ে থাকে তবে তাতে মাসদার হোসেন মামলার নিরিখে নির্বাহী বিভাগ থেকে ২০০৭ সালে যে জুডিসিয়াল পৃথকীকরণ (ঔঁফরপরধষ ঝবঢ়বৎধঃরড়হ) করা হয়েছে এর কোন মূল্য অবশিষ্ট না থাকারই কথা। জুডিসিয়াল কোর্ট ও মোবাইল কোর্ট একই সূত্রে গাথা একটি কবিতা বা গল্পের পংক্তিমালার মতই। নির্বাহী বিভাগের সাথে মোবাইল কোর্টের সংযোগ স্বাভাবিকভাবে দোষের কিছু মনে না করা হলেও মাসদার হোসেন মামলার আলোকে এ দিকটি খুব তাৎপর্যপূর্ণ ও সাংঘর্ষিক বলা চলে। এ ব্যাপারে এ ধরণের প্রস্তাব ও আসছে মোবাইল কোর্টে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও থাকুক। এ ব্যাপারে মতামত এসেছে যদি তাই হয় তবে নির্বাহী থেকে জুডিসিয়াল পৃথকীকরণের প্রয়োজনীয়তাই কী ছিল। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালত কী রায় প্রদান করে থাকে তা দেখা ছাড়া এ বিষয়ে কোন মন্তব্য বা অভিমত দেয়ার মত কোন কিছুর সুযোগ না থাকারই কথা। যেহেতু জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও কোন মতামত বা নির্দেশনা প্রদান করেননি। যেহেতু মোবাইল কোর্টের বিষয়টি উচ্চ আদালতে রায়ের অপেক্ষায়। তদোপরি ইতোমধ্যে অনেক আইন বিশেষজ্ঞ অভিমত ব্যাক্ত করে আরো বলেছেন, আইন ও বিচার তার নিজস্ব গতিতে চলে, ইচ্ছা করলেই যা ইচ্ছা তা করা আইনে যেমন সুযোগ নেই, তেমনি আইন বহির্ভূত কোন সিদ্ধান্তও ব্যক্তি, গোষ্টি, শ্রেণী, পেশা ও কারো ওপর চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ পরাহত। আইন যে কোন দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক বা খধি রং ঃযব পড়সসবহফ ড়ভ ংড়াবৎরমহ। আইনের সামান্য ব্যতিক্রম হলে সবকিছু উল্টা পাল্টা হওয়ার উদাহরণের শেষ নেই। যেমন সম্প্রতি বরিশালের উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং বরিশালের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে (ঈযরবভ ঔঁফরপরধষ গবমরংঃৎধঃব) নিয়ে গণমাধ্যমসহ সর্বত্র তোফান বইছে এর মূল কারণ হচ্ছে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিয়ে। ভোক্তভোগীসহ আইন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করে থাকে উচ্চ আদালতের রায়ের নিরিখে যাদের দ্বারাই মোবাইল কোর্ট হোকনা কেন, মোবাইল কোর্টের জেল জরিমানার ব্যাপারে সুস্পষ্ট একটি আইনী নির্দেশনা ও প্রবিধান থাকা অত্যাবশ্যক। কেহ যদি নিজের ইচ্ছে বা খুশী মতো মোবাইল কোর্টের বাহিরে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অতি উৎসাহী হয়ে আইনের বাহিরে বেশী কিছু করে থাকে তবে তাদের জন্যও একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা 

থাকা বাঞ্চনীয়। মোবাইল কোর্টের প্রশ্ন আসতেই মানুষ আজো স্মরণ করে থাকে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট রুকনোদ্দৌলা, চট্টগ্রামের মাহমুদুল হক ও কিশোরগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মোঃ সাঈদের কথা।

                 দেশে যদি বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের প্রয়োজন না হত তবে স্বাধীনতার এত বছর পর বিচারক মাসদার হোসেন হয়তোবা জুডিসিয়াল পৃথকীকরণের কথা অনুভব করতেন না। বিচার কার্য পরিচালনা কালে এই দুই বিভাগের মধ্যে পৃথকীকরণের কথা বিশদভাবে চিন্তা করেছেন বলেই হয়তো তিনি একজন বিচারক হয়ে স্বপ্রণোদিতভাবে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন বলেই এত বছর পর হলেও জুডিশিয়াল পৃথকীকরণের সমূহ ফল ভোগ করছে দেশের জনগণ। নিবন্ধের প্রারম্ভেই বলা হয়েছে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ব্যাপারে উচ্চ আদালত কী রায় দিবেন, তা কারো জানার বিষয় নহে। তবে মোবাইল কোর্টের স্বপক্ষে যদি কোন রায় আসে এবং তা যদি সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় তবে তাতে কারো অবজ্ঞা না থাকারই কথা। মাসদার হোসেন মামলার আলোকে যদি মোবাইল কোর্টের রায় আসে তবে তা বিচার বিভাগের হাতকে যেমনি শক্তিশালী করবে তেমনি বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি আরো গতিশীল হবে বলে দেশের সুশীল  সমাজ থেকে শুরু করে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এ বিষয়ে পজিটিভ (চড়ংংরঃরাব) চিন্তা ভাবনাকেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা। হয়তো ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ব্যাপারে অনেকেই বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের সমন্বয়কে কাজে লাগিয়ে সামনে চলার পথ চিন্তা করে আসছেন। যদিও ভেবে দেখা হয়নি, মাসদার হোসেন মামলার আলোকে এ ভাবনা কতটুকু সঠিক বা বেঠিক। 

          ২০০৭ সালে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পূর্বে পরিসংখ্যান মতে নিু আদালত (ফৌজদারী আদালত) যে পরিমাণ মামলার জট লেগে থাকত, তা বর্তমানে অনেক লাঘব হয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু জমি জমা সংক্রান্ত ব্যাপারে দেওয়ানী আদালতে বছরের পর বছর ধরে মামলার জট তো শেষ হচ্ছেইনা অধিকন্তু দিনের পর দিন তা বৃদ্ধি পেয়ে পাহাড়ের মত মামলার পরিধি বেড়েই চলছে। এমনও দেখা গেছে, মামলার বাদী বিবাদী মৃত্যুবরণ করলেও তাদের নাতি পুতির আমলেও মামলার ভোগান্তির শেষ হয় নাই। পরিশেষে ২০/২৫ বছরেও মামলার কুল কিনারা না হওয়াতে এক সময় বাদী বিবাদী উভয়েই মামলা থেকে সরে গিয়ে জোর যার মুল্লুক তার এই থীম কাজে লাগায় এবং জমা জমি নিয়ে উভয়পক্ষের গন্ডগোলে খুন খারাবী হয়ে থাকে। এই ভোগান্তি হতে যত তাড়াতাড়ি ভোক্তভোগীদের পরিত্রাণ দেয়া যায় ততই মঙ্গল। আর তা না হলে কোন ভোক্তভোগী যদি মনের দুঃখ, কষ্ট ও যাতনায় বলে ওঠে “হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ” তবে হয়তো বা ভোক্তভোগীর সাথে সুর মিলিয়ে কোরাশ গাওয়া ছাড়া অন্য কারো উপায় না থাকারই কথা।     

                  মাসদার হোসেন মামলার আলোকে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকী করণ যেমনি একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তেমনিভাবে দেওয়ানী আদালতের মামলার জট ও পরিত্রাণও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। উচ্চ আদালতে মোবাইল কোর্টের রায়ের অপেক্ষার কারণে এ ব্যাপারে এ নিবন্ধে ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও উপসংহারে (ঈড়হপষঁংংরড়হ) পৌঁছতে না পারলেও একটি যথাযোগ্য নীতিমালার আলোকে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হোক ইহাই জন প্রত্যাশা। তবে লক্ষ্য রাখা উচিত মাসদার হোসেন মামলার দিকটি যেন কোন মতেই ব্যাহত বা ক্ষুন্ন না হয়। যত তাড়াতাড়ি এর সমাধান হয় ততই দেশ, জাতি ও জনগণের মঙ্গল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মোবাইল কোর্ট একটি জনস্বার্থ ও প্রয়োজনীয় বিষয়।    
  


(এ.কে.এম শামছুল হক রেনু)
লেখক কলামিষ্ট
মোবাইল: ০১৭১৮-৮১৪৮১৩।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor