Space For Advertisement

কৃত্রিম সংকটে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

কৃত্রিম সংকটে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

ঢাকা, সোমবার, ১৪ আগষ্ট ২০১৭ (স্টাফ রিপোর্টার) : নানা টালবাহানায় কৃত্রিমভাবে পেঁয়াজের সরবরাহ সংকট তৈরি করে জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে বলে দাবি করেছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি। সংকট দূর করতে দ্রুততার সঙ্গে ভারতের বিকল্প রপ্তানিকারক দেশ নেপাল, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানির কোনো উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। গতকাল ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করা এ প্রতিষ্ঠানটি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে একটি বিবৃতি পাঠায়। বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা, সহসভাপতি হাজি ইকবাল আলী আকবর ও সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম সম্পাদক এ এম তৌহিদুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ আবদুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহনেওয়াজ আলী মির্জা এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজের সংকট আসলে ব্যবসায়ীদের একটি টালবাহানা। এটা মানুষের পকেট কাটার একটি পাঁয়তারা। আর এ সংকটকালীন সরকারি কোনো পদক্ষেপ নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে দ্রুত আমদানির ব্যবস্থা করা, রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা টিসিবিকে কাজে লাগানো কোনোটাই করা হচ্ছে না। বরং টিসিবিকে একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে। এতে করে রমজান, ঈদ, পূজা-পার্বণকে সামনে রেখে এক শ্রেণির মৌসুমি ব্যবসায়ীর আবির্ভাব ঘটে।

তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধিতে তত্পর থাকে।
এ ছাড়া মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বাজার মনিটরিংয়ে এ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। যে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ী বেপরোয়া হয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন দিচ্ছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে এই জরুরি অবস্থায় পার্শ্ববতী দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা, পেঁয়াজ সংকট নিরসনে বর্তমান মজুদগুলোর সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত, আমদানিকারক ও খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের যথাযথ মনিটরিংয়ের আওতায় আনা, সংকটকালীন টিসিবিকে দ্রুত কার্যকর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বাজার তদারকিতে মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং জোরদার করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে তত্পর করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

দাবি করা হয়েছে ব্যবসায়ীরা নীতি-নৈতিকতা বাদ দিয়ে যেভাবে পারে মজুদ করে সরবরাহ সংকট তৈরি করছে। পরে ১০০-১৫০ শতাংশ পর্যন্ত লাভে পণ্য বিক্রি করছে। ভারতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির অজুহাত তুললেও বর্তমানে মজুদ পেঁয়াজগুলো ৩-৬ মাস আগে আমদানি করা। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটলেও সরকার আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের যথাযথ নজরদারি করেনি। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দেখানো পথ অনুসরণ করে খুচরা ব্যবসায়ীরাও বেপরোয়াভাবে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। দেখার জন্য বাজারেও কেউ নেই।

দাবি করা হয়েছে, সরকারের মাঠপর্যায়ে নজরদারির দুর্বলতার কারণে ১৭-১৮ শতাংশ পর্যন্ত চালের শুল্ক হ্রাস করে চাল আমদানির পরেও চালের বাজারে এর প্রতিফলন ঘটেনি। যার পুরো টাকা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে বাজার মনিটরিংয়ে জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor