Space For Advertisement

আলোকিত মাগুরা এবং একজন মজিদ উল-হকের অবদান

আলোকিত মাগুরা এবং একজন মজিদ উল-হকের অবদান

রোস্তম মল্লিক
সত্য যত নির্মমই হোক তা মেনে নিতে হয়। ক্ষমতা আর অর্থ- বিত্তের প্রভাবে কেউ যদি সেটা মানতে অস্বীকার করে- তবে তাকেও সময়ের প্রতিশোধে নর্দমায় নিক্ষিপ্ত হতে হয়। সত্যের বিরুদ্ধাচারণকারীকে ইতিহাস কখনো ক্ষমা করে না। বিশ্ব ইতিহাসে তার ভুরি ভুরি প্রমাণ রয়েছে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ -দৌলা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিষ্ঠুর ভাবে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। নির্দয়ভাবে তাকে হত্যাও  করা হয়েছিল। আর এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিল তারাই ঘনিষ্ঠ স্বজনরা। বিশেষ করে মোহাম্মদ আলী বেগ, মীর জাফর,  মীর কাশেম, মীর মীরন ও ঘষেটি বেগম মুখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। পলাশীর প্রান্তরে সেদিন যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল সেই সূর্য আর ফিরে আসেনি। ফলে জন্ম হয়নি আর  কোনো সিরাজ উদ দৌলার। অন্যদিকে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র কারী মোহাম্মদ আলী বেগ, মীর জাফর, ঘষেটি বেগমদের কি পরিনতি ঘটেছিল তা নিশ্চয় সবার জানা। ইতিহাসের খল-নায়ক নায়িকা হিসেবে তারা যুগের পর যুগ মানুষের ঘৃণার পাত্র-পাত্রী হয়ে আছে। তাদের নাম এখন বাঙালীর গালিতে পরিণতি হয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা সেই কলংক বহন করে যাবে। কেউ নেই সেই কলংক থেকে তাদের মুক্তি দিতে পারে। ইতিহাসের সেই প্রকাশ্য সত্য আহরণ করে পশ্চিমা দেশের কোটটাই পরা প্রভাবশালী প্রভুরা আমাদের মীর জাফরের জাতি বলে গালি দেয়। চরম অপমান জনক হলেও সেই গরল (গালি) আমাদের হজম করতে হয়। এ সময় বাঙালী জাতির উচু মাথা নীচু হয়ে যায়। অপমানে মরে যেতে হচ্ছে করে। কেবল মাত্র নবাব সিরাজ উদ দৌলার নিষ্ঠুর পরিণতির জন্যেই নয়, আমাদেরকে আরো একটি ঘটনার জন্য বিশ্ব দরবারে মাথানত করে থাকতে হয়। মুখোমুখি হতে হয়-বিব্রতকর এক পরিস্থিতির।

 আর সেটি হলো: বাঙালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার ঘটনা। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ আমাদের জাতীয় জীবনে একটি কালো দিন। এ দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে আরেকটি পলাশী ট্র্যাজেডির জন্ম দেওয়া হয়। সেদিন বিশ্ববাসী নিন্দায় ফেটে পড়লেও অকৃতজ্ঞ বাঙালী জাতির একটি অংশ আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। তারা প্রমাণ করে যে, মীর জাফররা এখনো বেঁচে আছে। তাদের বিনাশ হয়নি। তাদের বিনাশ নেই। ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজ উদ-দোলার পর ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ জাতির নিষ্ঠুর নিয়তি থেকে আমাদের যে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল- সেটাও নেয়নি কেউ। ফলে অনাকাঙ্খীতভাবে আরে একটি ঘটনা আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। ৩০ মে ১৯৮৭ চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজে - নিমর্মভাবে হত্যা করা হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। নিভিয়ে দেয়া হয় আরেকটি নক্ষত্র। যে নক্ষত্রটি বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সবুজ বনায়নে ঢেকে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের পথ-প্রান্তর। ইরি ধানের বিপ্লব ঘটিয়ে ছিলেন। পায়ে হেঁটে চলে যেতেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাটি ও মানুষের কাছে। দেশ-ও জাতির জন্য শরীরের সবটুকু শক্তি উৎসর্গ করেছিলেন। বিনিময়ে তিনি পেয়েছিলেন ঘাতকদের অজস্ত্র বুলেট। সে বুলেটে তার দেহ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ঘাতকরা নবাব সিরাজ উদ দৌলা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মেজর জিয়াউর রহমানকে এভাবে হত্যা করে প্রমাণ করেছে যে, তারা মীর জাফরের জাতি। তদের মধ্যে এতটুকু কৃতজ্ঞতা বোধ নেই। বিশ্বাস ঘাতক আর কাকে বলে? সেই জাতির কাছ থেকে আমরা আর কিইবা আশা করতে পারি ? 

খুলনা বিভাগের একটি ক্ষুদ্র জেলা মাগুরা। এদেশের অনেক কবি, সাহিত্যিক, অলী, আউলিয়া, ফকির, দরবেশ, মুণী-ঋষী জন্ম গ্রহণ করেছেন এ জেলায়। বিখ্যাত-অখ্যাত অনেক রাজনৈতিকেরও জন্ম হয়েছে । তারা দেশ শাসনে থেকে জেলাটির উন্নয়নে অবদান রেখে গেছেন। স্বাধীনতা উত্তর কালে এই জেলা থেকে অনেকই মন্ত্রী, এমপি হয়েছেন। তাদের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন মাগুরাবাসী। সেই মহানদের অনেকের সম্পর্কেই আমার জানা নেই। তবে ইতিহাস থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি তা খুব একটা তৃপ্তকর নয়। যাক সে সব কথা। মূল বিষয়ে আসি। এম.মজিদ উল হক সেনা বাহিনীর চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তিনি দল গঠনে জোরালো ভূমিকা রাখেন। জাতিয় নির্বাচনে মাগুরা ১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী হন। এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে তিনি নির্বাচিত হন। মাগুরাবাসী দু’হাত ভরে ভোট উপহার দিয়ে তাঁকে সংসদে পাঠান। পরবর্তীতে তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানএর মন্ত্রী পরিষদে মন্ত্রীত্ব পান। মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়ে মাগুরায় ফিরে এলো জেলাবাসী আনন্দ উল্লাস ফেঁটে পড়ে। গণ সম্বর্ধনা দেওয়া হয় তাঁকে। সেই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে লক্ষ জনতার সমাবেশ ঘটে। সম্বর্ধনার জবাবে তিনি মাগুরাবাসীকে কথা দেন যে, ৫ বছরের মধ্যে মহকুমা শহর মাগুরাকে তিনি দেশের একটি সেরা জেলা শহরে রূপান্তরিত করবেন। বেকার সমস্যা সমাধান ও শিল্প কল কারখানা গড়ে তুলবেন।
হাসি ফুটাবেন উন্নয়ন বঞ্চিত মাগুরা বাসীর মুখে। হ্যা, তিনি কথা রেখেছেন। আজকের রাজনীতিকদের মত ওয়াদা বা অঙ্গীকার করে সেটি বেমালুম ভুলে যাননি। বিচ্ছিন্ন করেননি তৃণমূল জনতা বা নেতা কর্মীদের। মেজর জিয়াউর রহমানএর শাসন আমলে এবং খালেদা জিয়ার শাসন আমলে ২ বার মন্ত্রী ছিলেন এম মজিদ উল হক । এই দুই সরকার আমলে তিনি মাগুরা জেলাকে সরকারে দেশ উন্নয়নের সোপান সংযুক্ত করেন। বরাদ্দ করেন কয়েক শত কোটি টাকা। আর সেই টাকায় মাগুরাবাসীর ভাগ্য বদলে যায়। ছোট ঘরের বদলে গড়ে ওঠে টিনের ঘর। টিন সেড ঘরের বদলে ৩/৪ দালান বাড়ী। পুরাতন জীর্ণশীর্ণ সরকারি অফিস ভবনের স্থলে ৪/৫ তলা আধুনিক অফিস ভবন প্রতিষ্ঠা করেন। শত-শত স্কুলে কলেজে ২/৩ তলা পাকা ভবন নির্মিত হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল ১০০ শয্যার উন্নীত হয়। মাগুরায় একটি সরকারি টেক্সটাইলস মিলস স্থাপন করেন তিনি। এছাড়া মাগুরা কামারখালির ফেরী ঘাটের পাশে গড়াই সেতু নির্মাণ করেন। মাগুরা সরকারি কলেজ বহু তলা করা হয়। জেলা-জজ কোট ও নতুন কারাগার তৈরি করা হয়। সরকারি গার্লস ও বয়েজ স্কুলে বহু তলা ভবন করে দেন। আড়পাড়া-ব্রীজ নির্মাণ করেন। মাগুরা শিল্পকলা একাডেমি দ্বিতল করেন। প্রেস ক্লাবে জমি দান করে ভবন নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। মাগুরায় হটিকালচার সেন্টার, মসলা গবেষণা কেন্দ্রের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন করেন। জেলা-সার্কিট হাউজ ও এলজিইডি অফিস বহুতলা করেন। এভাবে সরকারি পাবলিক লাইব্রেরি, সৈয়দ আতির আলী পাঠাগারে নতুন ভবন তৈরি করার অর্থ বরাদ্দ দেন। মাগুরা পৌরসভা তৃতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করেন । জেলা শহরের রাস্তাগুলো প্রস্বস্থ করে পাকা করে দেন। নবগঙ্গা নদীর দুই  তীর দৃষ্টিনন্দন করেন। পৌরসভা ও মাগুরা জেলার অসংখ্যা বেকার যুবক যুবতীকে তিনি সরকারি চাকুরি দিয়েছেন। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি ব্যাংকে। সেনা বাহিনীতেও তিনি অনেক যুবককে চাকুরি দিয়েছেন। এভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত মাগুরা জেলাকে তিনি স্বীয় ক্ষমতা বলে একটি আলোকিত জেলায় রূপান্তির করেন। এক সময় যে জেলায় ৫/৬ টি মাইক্রো বা প্রাইভেটকার ছিলনা। সেই জেলায় শতাধিক মাইক্রো ও প্রাইভেট কার এসে যায়। জেলা বাসীর আর্থ সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী এক পরির্বতন এনে দেন তিনি। তাঁর আর্থিক বরাদ্দে মাগুরায় গড়ে ওঠে পৌর ভবন ও পৌর মার্কেট। সেগুলো এখন মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এসময় মাগুরা জেলাবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে মজিদ উল হক সৃস্টিকর্তার বিশেষ দূতের ভূমিকা পালন করেন। জেলার প্রতিটি ইট মজিদ উল হকের অবদানের কথা স্বীকার করে। আমার দেখা মতে তিনি অন্যরকম এক ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তাঁকে বলা হয় মাগুরা উন্নয়নের প্রতীক। আমরা এই মানুষটিকে কি অবমূল্যায়ন-ই না করেছি। তিনি শেষ বয়সে এসে রাজনৈতিক বিতৃষ্ণায় ভুগছিলেন। পঁচাগন্ধযুক্ত নষ্ট রাজনীতির আর্বতে নিজেকে সামিল করতে পারছিলেন না। অপরিনামদর্শী রাজনীতিক তারেক রহমানের নিদেশনা মেনে রাজনীতি করা ছিল তাঁর জন্য দূঃসহ কাজ। ফলে তিনি Ñতারেক রহমানের বশ্যতা স্বীকার না করে দলের বাইরে অবস্থান করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন :তারেক বিএনপির কে? ওতো একটা দুধের বাচ্চা। রাজনীতির কি বোঝে ছেলেটা? ওর জন্যেই একদিন বিএনপি ধংস হবে। একথা বলে তিনি বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। সতন্ত্র হিসাবে প্রার্থী হয়েছিলেন ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। পানপাতা ছিল তার নির্বাচনি প্রতিক। কিন্তু অকৃতজ্ঞ, বিশ্বাস ঘাতক মাগুরাবাসী নিমক হারামের মতই মাত্র ৩০ হাজার ভোট দিয়েছিল মাগুরা উন্নয়নের প্রতীক এম মজিদ উল হককে। অন্যদিকে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডাঃ সিরাজুল আকবরকে নির্বাচিত করেছিল। 


মাগুরাবাসীর কাছ থেকে এই নিষ্ঠুর প্রতিদান পেয়ে তিনি প্রচন্ড মানসিক আঘাত পেয়েছিলেন। কারো সাথে দেখা না করেই অতি গোপনে ফিরে এসেছিলেন ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ীতে। এরপর এলাকার আর কারো সাথে তিনি কথা বলেননি। এমনকি জানতেও চাননি কেমন চলছে মাগুরার রাজনীতি। কেমন আছে প্রিয় মাগুরাবাসী। তাঁর ছায়া বঞ্চিত হয়ে মাগুরাবাসী ভালোছিলনা। চরম এক হতাশা তাদের গ্রাস করেছিল। সেই হতাশা আজো বিদ্যামান রয়েছে। মাগুরা থেকে যেদিন মজিদ উল হক ঢাকায় চলে আসেন সেদিন থেকেই জাতীয়বাদী শক্তির মেরুদ- ভেঙ্গে যায়। দুর্বল  হতে হতে বিএনপি এখন ৩ ভাগে বিভক্ত। অবাঞ্চিতরা এসে দখল করেছে বিএনপির নেতৃত্ব। তাদের না আছে বংশ মর্যাদা, না আছে উচ্চ শিক্ষা,  না আছে জনসমর্থন, না আছে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। আর আত্মকলহে লিপ্ত তিনটি ধারাতেই বইছে তারেক বন্দনা। ফলে জেলা বিএনপি এখন কাগজে দলে পরিণতি হয়েছে। দলের এই দুঃসময়ে ত্যাগী ও আদর্শিক নেতারা স্মরণ করছেন মজিদ উল হককে। কিন্তু অনেক দেরী হয়ে গেছে। ততোদিনে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আর জীবনের শেষ মুহুর্তে এসে এক সমুদ্র বেদনা বুকে ধারণ করে তিনি স্ত্রী সন্তান ও ভাইদের অসীহত করে যান যে, ‘আমার লাশ যেন মাগুরায় দাফন করা না হয়, আমি ওদের কেউ নই’। একথা বলেই তিনি দু’চোখে বৃষ্টি ঝরিয়ে ছিলেন। কষ্টে তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। চোখের পাতায় দৃশ্যত হচ্ছিল মাগুরা শহরের চিরচেনা পথগুলো। 
প্রিয় শহরের ছবিখানা তিনি যেন চোখের ক্যানভাস থেকে কিছুতেই তাড়াতে পারছিলেন না। কেবলই বোবা কান্না কাঁদাছিলেন। একসময় পর্বত প্রমাণ অভিমান নিয়ে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নেন। সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে গুরুত্বের সাথে তার মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা হয়। বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের চোখ থেকে অশ্রুপাত হতে থাকে। রাজনৈতিকরা তার মৃতদেহ শেষ বারের মত দেখার জন্য ছুটে যান হাসপাতাল ও ক্যন্টেনমেন্টের বাড়ীতে। তারা শোকে মাতম তোলেন। কিন্তু অকৃতজ্ঞ মাগুরাবাসী তখন মজিদ উল হকের জন্য এক ফোটা চোখের জলও ছাড়েনি। শোকে বিলাপও করেনি। বরং তারা নানা প্রকারে নোংরা মন্তব্য করেন। 
এই মাগুরাবাসীকে আমার বড়ই করুণা হয়। এই জেলার মানুষ গুলো গুণীর কদর জানেনা। কোনটি সোনা আর কোনটি তামা সেটাও চেনে না। তারা সব সময়ই আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নেয়। পরে যখন যাতাকলে পড়ে তখন চিৎকার করে কান্না কাটি করে। মজিদ উল হক পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি সাথে করে কিছুই নিয়ে যাননি। তাঁর যত অবদান তা এখন মাগুরাবাসীই ভোগ করছেন। কিন্তু কেউই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেননা। তার নামটিও উচ্চারণ করছেননা। তাঁর জন্ম-মৃত্যু দিনে একটি স্মরনসভাও করা হচ্ছেনা। তাঁর নামে কোন সড়ক, ভবন বা স্কুল, কলেজের নাম করণ করা হচ্ছে না। তাঁর স্মৃতি গুলোও সংরক্ষণ করা হচ্ছেনা। অন্যদিকে জেলা শহরের উন্নয়নে যার কোনই অবদান নেই তাঁর নামে- স্টেডিয়াম, অডিটরিয়াম, সড়ক ও স্কুল-কলেজের নাম করণ করা হচ্ছে। এসব দেখে আমার রক্ত আগুন জ্বলে ওঠে। বিবেক বিদ্রোহ করে। সম্পর্ক ছেদ করতে ইচ্ছা করে মাগুরাবাসীর সাথে। কিন্তু আমি তা করতে পারি না। নাড়ির টানে আমাকে বার বার ছুটে যেতে হয় প্রিয় শহর মাগুরায়। কিন্তু যখন সেখানে যাই তখন বড়ই ক্লান্তিÍ বোধ করি। মনে হয় এই শহরের সব আনন্দ মরে গেছে। সূচিন্তার মানুষ গুলো বোবা হয়ে গেছেন। প্রতিবাদী হাতগুলো প্যারালাইসড হয়ে আছে। নষ্ট কিছু মানুষ গিলে খাচ্ছে গোটা জেলাটিকে। রাজনীতির নামে তারা যা করছে তা কোন সুস্থ্য বিবেকবান মানুষ সহ্য করতে পারে না। কেউ নেই সেই সব রাজনৈতিক দূর্বত্তদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার। ফলে দুর্বত্তায়নের গ্রাসে চলে গেছে আমার প্রিয় মাগুরা। ক্ষমতায় যাতাকলে পিষ্ঠ মাগুরাবাসীকে মুক্তি দিতে এবং সরকারের উন্নয়নে সোপান জেলাটিকে অর্ন্তভূক্ত করতে আরেকজন মজিদ উল হকের জন্ম কবে হবে? 
পরিশেষে প্রিয় জেলা বাসীর উদ্দেশ্য বলছি, আসুন আমরা আরেকজন মজিদ উল হককে খুঁজে বের করি। তাঁকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাই। তাঁর হাতে তুলে দেই মাগুরা উন্নয়নের চাবি কাঠি। অপাংতেয় কোন দুবৃত্ত যেন আমাদের স্বপ্নœ ডাকাতি করতে না পারে সেদিকে আমরা সজাগ থাকি। এ লেখার মাধ্যমে মজিদ উল হকের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। 
লেখক ও সাংবাদিক- কলামিস্ট


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor