Space For Advertisement

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল প্রসঙ্গে অনেকের অভিমত

 ষোড়শ সংশোধনী বাতিল প্রসঙ্গে অনেকের অভিমত

পার্লামেন্টে ষোড়শ সংশোধনী এবং তৎপরবর্তী সময় সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতিসহ অপরাপর সাত বিচারকের বেঞ্চে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল প্রসঙ্গে রায়ের পক্ষে বিপক্ষে আইন বিশেষজ্ঞসহ অনেকেই এ ব্যাপারে আলোচনা সমালোচনা এবং অভিমত ব্যক্ত করছেন। যেহেতু নিজে তেমন একজন আইনজ্ঞ নই, সেহেতু আইনজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ ও আইন বিশ্লেষকদের অভিমত ব্যতিত এ ব্যাপারে আইনের মারপ্যাচেও যেতে চাচ্ছি না। তদোপরি এ ব্যাপারে আমার অভিমত শুদ্ধ কী অশুদ্ধ সেদিকে না গিয়ে এ নিবন্ধে আইনজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ ও আইন বিশ্লেষকদের পদাংখ অনুসরণ করাটা যেমনি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হচ্ছে, তেমনি আইন বিশেষজ্ঞসহ আইনের ব্যাপারে অভিজ্ঞ অনেকের উক্তি ও দিকদর্শনকে সমীচিন ভেবেই এ নিবন্ধের সামনে চলা। তাতে কোন ভুল ভ্রান্তি হলেও, আগে ভাগেই নিজের ভুল স্বীকার করে নেয়াটাকে দোষের কিছু তাতে আছে বলে মনে হয় না।

                 আইন, বিচার ও বিচারক এই শব্দচয়ন তিনটি যেমনি রাষ্ট্রের অন্যতম অর্গান, তেমনি বিচার, বিচারক এবং আদালতে বিচারকের রায় এসবও খুবই স্পর্শকাতর (ঝবহংধঃরাব) বিষয়। তদোপরি বিচারক নিু আদালত থেকে নিয়ে জজ কোর্ট, হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের যেকোন মর্যাদায় থাকিলেও, তাদের আদালতের রায় নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে হাটে, ঘাটে, মাঠে ময়দানে এবং রাজনৈতিক মঞ্চ ও অঙ্গনে তোতা পাখির মতো যা ইচ্ছা তা বলা কোন মতেই সমীচিন মনে হয় না। আমার হাতে কলম আছে বলেই আদালতের রায়ের ব্যাপারে যা ইচ্ছা তা লেখনীর মাধ্যমে মন্তব্য শুধু বেমাননই নহে তাহা অশোভনীয়, অপাংক্তেয় এবং পক্ষান্তরে আদালত অবমাননারই নামান্তর। তবে আজ সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের পর পক্ষে বিপক্ষে যা হচ্ছে, যা ঘটছে তা দৃষ্টিতে দুঃখ বেদনা ও অপরিপক্কতারই নামান্তর হিসেবে আখ্যায়িত করলে তাতে বড় ধরণের কোন ভুল হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া বিচার, বিচারক ও আদালতে রায় খুবই স্পর্শকাতর ও সংক্ষুদ্ধ বিষয়। ইচ্ছা করলেই যে কোন (উড়পঁসবহঃধৎু ঊারফবহপব) দালিলিক প্রমানাদি ব্যতিরেখে তোতা পাখীর মতো সোনা বানের পুঁথির কবি নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, সুকান্ত, শামসুর রহমান বা অন্য কারো গল্প, কবিতা বা উপন্যাস আঙ্গিকে তোলে ধরার উদাহরণের মতো নয়। রাষ্ট্র বিজ্ঞানী অষ্টিন বলেছেন, (খধি রং ঃযব পড়সসড়হফ ড়ভ ংড়াবৎরমহ) অর্থাৎ আইন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাছাড়া অনেকেই আরো বলেছেন, (খধি ধহফ পড়হংঃরঃঁঃরড়হ শবু ড়ভ ঃযব ংঃধঃব) আইন ও সংবিধান যেকোন রাষ্ট্রের অন্যতম চাবিকাঠি। এই আইন ও সংবিধানের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের বিচার ও বিচার বিভাগ পরিচালিত হয়ে থাকে। আর বিচারক হচ্ছে আইন ও বিচার বিভাগের অন্যতম চালিকা শক্তি। আর যদি রাষ্ট্রের আইন, বিচার বিভাগ, বিচার আদালতের রায় ও বিচারকের মধ্যে কোন ধরণের ভুল বুঝাবুঝি বা ফাটল ধরে থাকে তবে সেই রাষ্ট্রে আইন, বিচার ও বিচারকের মধ্যে কোন কিছু অবশিষ্ট থাকে না। সেই রাষ্ট্রকে অরাজক রাষ্ট্র হিসেবে বলতেও বাধা নেই।

                  জানা যায়, আইনে আদালত অবমাননা (পড়হঃবসঢ়ঃ ড়ভ ঃযব পড়ঁৎঃ) বলতে একটি আইনের ক্লজ (পষধঁংব) রয়েছে। যেখানে নিু বা উচ্চ আদালতের কোন বিচার ও বিচারকের রায় নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য বা কোন বিচারকের সম্পর্কে মন্তব্য করার সুযোগ একেবারেই পরাহত। তদোপরি কোন রায়কে নিয়ে মাঠে ময়দানে, রাজনৈতিক মঞ্চে আলোচনা ও সমালোচনা আদালত অবমাননারই নামান্তর। তবে বিচার বিভাগের যে কোন রায়কে নিয়ে উচ্চ আদালতে আপীল এবং রিভিউ (জবারব)ি করার মতো আইনে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলেই দেওয়ানী বা ফৌজদারী আদালতের যেকোন রায় কারো মনোপুতঃ না হলে অহরহ তা নিয়ে উচ্চ আদালতে দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাতে আইনের দৃষ্টিতে কোন আদালতের কোন বিচারকের সন্তুষ্টি, অসন্তুষ্টির কিছুই যায় আসে না। সেই বিচারক নিু আদালতের হোক বা দেশের সর্বোচ্চ আদালতেরই হোক। তাই বলে কোন বিচারক যদি ভুলক্রমে, জ্ঞাতসারে বা অজানা বশতঃ কোন মামলায় রায় দিয়েও থাকেন তবে তুষ্ট না হওয়া সংক্ষুব্ধ পক্ষ কোন মতেই বলে না আমি অমুক বিচারকের রায় মানিনা। ওই বিচারক পক্ষপাত দুষ্ট ইত্যাদি। বরং বিচারকের রায় যাহাই হোক না কেন, তাহা মেনে নিয়েই উচ্চ আদালতে আপীল বা রিভিউয়ের স্মরণাপন্ন হওয়াটাই আইন ও প্রথাসিদ্ধ। তদোপরি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীও এই মর্মে ব্যক্ত করেন যে, উচ্চ আদালতে ন্যায় বিচারের জন্য আপীল করা হবে। কিন্তু রাগে, ক্ষোভে, দুঃখে ও অনুশোচনায় কোন অবস্থাতেই যেমনি বলা হয় না- রায় মানি না, বিচার মানিনা, তেমনি বলা হয় না বিচারক মানি না। আদালত অবমাননা বা পড়হঃবসঢ়ঃ ড়ভ ঃযব পড়ঁৎঃ হবে বলেই সাধারণ বিচার প্রার্থী থেকে শুরু করে কোন পর্যায়ের আইনজীবীও সংক্ষুব্ধে মুখ থেকে কষ্মিনকালেও তা শুনা যায় না।

                 ১৮৮৬ সালে ব্রিটিশ আমলে পাক ভারত উপমহাদেশে আইন আদালত সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই এভাবেই চলে আসছে। যা বিচার ও বিচারকের প্রথা সিদ্ধ আইনের ধরাবাহিকতা বলেই পরিগণিত। এই প্রথা সমাজের ছোট বোড়, ধনী গরীব, সরকারী, বেসরকারী তথা সকলের জন্যই প্রযোজ্য হয়ে আসছে। আইনে এমন কোন ক্লজ (পষধঁংব) নেই যে,  পড়হঃবসঢ়ঃ ড়ভ ঃযব পড়ঁৎঃ বা আদালত অবমাননা করে কোন ক্ষমতাসীন বলয়ের লোক, কোন কর্মকর্তা, মন্ত্রী, এমপি বা দেশের কোন প্রভাবশালী নাগরিক পার পেয়ে যাবে, আর সাধারণ লোক তা করে শাস্তি পেয়ে যাবে। অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের সকলের জন্যই আইনের কার্যকারিতা সমান ও অভিন্ন।

                  বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, সুপ্রীম কোর্টের কোন বিচারক অবসর পরবর্তী বিচার বিভাগীয় বা আধা বিচার বিভাগীয় পদে প্রজাতন্ত্রের কোন লাভজনক পদে নিয়োগ লাভের সুযোগ নেই। সে নিরিখে একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রীম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নিয়োগ দেয়া যায় কী না তা দেখার বিষয়। তাছাড়া সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পরিবেশিত অনুচ্ছেদ ৭-ক অবলম্বনে প্রতীয়মান হয় কোন ব্যক্তি বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায় সংবিধান বা এর কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের অনাস্থা অবিশ্বাসের প্রত্যয় ব্যক্ত করলে বা উহা করার জন্য উদ্যোগ গ্রহন বা ষড়যন্ত্র করলে তার কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল এবং ওই ব্যক্তিসহ তাকে সহায়তাকারী ও উস্কানিদাতা ও একই অপরাধে অপরাধী হওয়ার কথা। তাছাড়া সরকারের কোন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, বিচারক বা অন্য যে কেহ যদি বিচার বিভাগের প্রতি কোনো বক্তব্য দেন তাহাও শপথ ভঙ্গেরই নামান্তর। এ ধরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই গত বছর খাদ্য মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ। রায়ে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ বলেছিলেন তিনি খাদ্যমন্ত্রী। শপথ ভঙ্গ করেছিলেন। কিন্তু ১১ আগস্ট শুক্রবার গণমাধ্যমে দেখা যায় ১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী ভবনের জিল্লুর রহমান মিলনায়তনে আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্যে করে খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন তার (প্রধান বিচারপতি) যদি সামান্যতম জ্ঞান থাকে সামান্যতম বুঝ থাকে তাহলে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়া উচিত। তা না হালে সেপ্টেম্বর মাস থেকে আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

                  এ ব্যাপারে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, খাদ্যমন্ত্রীর এ ধরণের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নীতি নৈতিকতা ও শিষ্টচারের দৈন্যদশা ফুটে উঠেছে। আরো বলেছেন, আমাদের দুর্ভাগ্য এ ধরণের ব্যক্তিরাই বছরের পর বছর মন্ত্রী পদে বহাল থাকেন। এ প্রসঙ্গে ব্যারিষ্টার মওদুদ বলেছেন, উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী যা বলেছেন তা আদালত অবমাননার চেয়েও বেশী। এই বক্তব্য দেয়ার মাধ্যমে মন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। এর আগেও তিনি প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে আদালত অবমাননার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন। ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, একজন মন্ত্রী প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে এ ধরণের উক্তি করতে পারেন না। পাগলের দেশেও এটা হয় না। আমরা একটা অসভ্য ব্যবস্থার মধ্যে আছি। প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে কোন দেশের মন্ত্রী এ ধরণের কথা বলেন না। পাবলিক সার্ভেন্ট (ডিসমিসাল অব কনভিকশন) অর্ডিন্যান্স ১৯৮৫ অনুযায়ী সরকারী কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ১ হাজার টাকার বেশী জরিমানা হলে তা আপনা আপনিভাবেই বরখাস্ত হয়েছেন বলে ধরে নেয়া হয়। গণমাধ্যমে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ষোড়শ সংশোধনী সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতিসহ সাত সদস্য বিশিষ্ট বিচারকদের বেঞ্চে বাতিল হওয়ার পর এর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বর্তমান আইন কমিশনের চেয়ারমান সাবেক প্রধান বিচারপতি তার কার্যালয়ে ০৯/৮/১৭ ইং এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। যা ১০/৮/১৭ ইং বিভিন্ন গণমাধ্যম, মিডিয়া এবং অনলাইনে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। তাতে তিনি বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ের মাধ্যমে জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেছেন, চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের যে সংশোধন 

আনা হয় তা সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে রায়ে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। এই রায়ের পর্যবেক্ষণে গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

                 এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজ্ঞ, আইন বিশ্লেষণসহ অনেক রাজনীতিক এবং সুশীল সমাজের অনেকেই আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হকের সাংবাদিক সম্মেলন এবং এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যা করেছেন তা আইন অবমাননার সামিল বা পড়হঃবসঢ়ঃ ড়ভ ঃযব পড়ঁৎঃ। কোন মেতেই সরকারী একটি লাভজনক অবস্থানে থেকে তা করতে পারেন না। অনেকে বলেছেন, তা করে তিনি সরকারকে খুশী করতে চাইলেও, সামগ্রিক দৃষ্টিতে সরকারের অপূরণীয় ক্ষতিই করেছেন। যা কিছুই বলা বা করা হোক না কেন এ ব্যাপারে আবেগ, উচ্ছাস, রাগ, ক্ষোভ সংযত না করে অনেকেই এসব কিছুকে বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ক্যারিশমা বলেও মন্তব্য করতে কুন্ঠাবোধ করেনি।

                ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলের বিপক্ষে ২০/৮/১৭ ইং সোমবার বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে আলোচনা সভা ও সমাবেশ করে। যা ২১/৮/১৭ ইং বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মিডিয়াতে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। তাতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের নেতা ব্যারিষ্টার ফজলে নূর তাপস, সমাবেশ থেকে ঘোষনা করেছেন, ২৪ আগস্টের মধ্যে প্রধান বিচারপতি রায় প্রত্যাহার করে না নিলে এক দফার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যাকে দেশের বিশিষ্ট আইনজীবীরা গণতন্ত্রের অশনি সংকেত, বিচার ও বিচার বিভাগের প্রতি হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন।

                অপর দিকে সুপ্রীম কোর্টের এ রায়কে ঐতিহাসিক দার্শনিক দিক নির্দেশনামূলক (উড়পঁসবহঃ) দলিল হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, এ রায়ের মাধ্যমে বর্তমান দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্রের অবস্থা সম্পর্কে একটি ম্যাগনাকার্টা বলে মনে হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, সংবিধানের ৫ম, ৭ম ও ১৩তম বাতিলের রায় দিয়াছিলেন সাবেক বিচারপতি ও বর্তমান আইন কমিশনের চেয়ারম্যান। তাছাড়া আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলনকে তিনি অনৈতিক এবং আদালত অবমাননা (পড়হঃবসঢ়ঃ ড়ভ ঃযব পড়ঁৎঃ) বলে উল্লেখ করেছেন।

                এ রায়ের ব্যাপারে লন্ডন প্রবাসী বিশিষ্ট ঘরাণার খ্যাতিমান কলামিস্ট “আগুন নিয়ে খেলা” এই মর্মে একটি কলাম লিখেছেন। যা ২৮/৮/১৭ ইং দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে অনেক কথার মধ্যে তিনি বলেছেন, ঢাকায় ৭১ টিভি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে একটি সিরিজ অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করেছে। তারা প্রধান বিচারপতিকে দেয়া বড় অংকের দুটি চেক দেখিয়েছে এবং বলেছে তাদের কাছে নাকি আরো দুর্নীতির প্রমান পত্র আছে। দুদিন আগে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাতে উপস্থিত ছিলেন একজন সাবেক মন্ত্রী এবং সাবেক বিচারপতি সামছুদ্দিন মানিক। তারা যে ভাষায় প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে কথা বলেছেন তা সভ্য মানুষের ভাষা নয়। তাকে (প্রধান বিচারপতি) তুই তোকারি তো করা হয়েছেই, সেই সঙ্গে হুমকি ধমকি দিয়ে বলা হয়েছে “তোমাকে শুধু চাকরি ছাড়লে হবে না, দেশ ছাড়তে হবে। তিনি বলেছেন, এবারের বিতর্কে যদি বিচার বিভাগের ক্রেডিবিলিটি নষ্ট হয় তাহলে নির্বাহী বিভাগের ক্রেডিবিলিটিও রক্ষা পাবে না। বিচার বিভাগের মর্যাদা যতটুকু ক্ষুন্ন হয়েছে তা উদ্ধারে বহু যুগ লাগবে।

                আওয়ামী লীগের যেসব মন্ত্রী ও নেতা লাগামহীন কথা শুরু করেছেন, তারা যেন সতর্ক হোন। রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতার পংক্তি টেনে তিনি আরো বলেছেন, “প্রতাপ যখন চেঁচিয়ে করে বড়াই, জেন মনে তখন তাহার বিধির সঙ্গে লড়াই।”

                যদিও সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরি মানিক ২৬/৮/১৭ ইং শনিবার রিপোর্টাস ইউনিটের অনুষ্ঠানে বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি মাত্র ২৫ দিন সময়ের মধ্যে ৪০০ পৃষ্ঠার রায় লিখেছেন এটা অসম্ভব। এটা মোটেও তার লেখা রায় নয়। আরো বলেছেন, সম্ভবতঃ পাকিস্তানী কোন আই.এস.আই তা লিখে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্যে করে আরো বলেছেন তুমি শুধু প্রধান বিচারপতির পদ ছাড়বানা এ দেশ ছাড়তে হবে ইত্যাদি। যা ২৭/৮/১৭ ইং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

                তদোপরি প্রধান বিচারপতির রায় সম্পর্কে এমন কিছু কথা বেড়িয়ে আসছে তা কল্পনাতেও অনেকের আসছেনা। কেহ বলেছে, এই রায় নাকি আইএসআই লিখে দিয়েছে। কেহ বলছে ইংরেজি পত্রিকার কোন সম্পাদক নাকি রায় লিখে দিয়েছে। অনেকেই মনে করে প্রধান বিচারপতির রায় নিয়ে আসলে হচ্ছেটা কী? যত তাড়াতাড়ি এর অবসান হয় ততই মঙ্গল। আইন, বিচার, বিচারক ও বিচার বিভাগ দেশ জাতি জনগণ ও রাষ্ট্রের অন্যতম চালিকা শক্তি। এর ব্যর্থয় ঘটলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। দেশের মানুষ চায় শান্তি, স্বস্থি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থাই সকলের প্রত্যাশা।
 
  
এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট
মোবাইল: ০১৭১৮-৮১৪৮১৩।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor