Space For Advertisement

রক্ষকই যেখানে ভক্ষক : গার্মেন্টস মালিক কর্তৃক কিশোরী কর্মচারী ধর্ষিত

রক্ষকই যেখানে ভক্ষক : গার্মেন্টস মালিক কর্তৃক কিশোরী কর্মচারী ধর্ষিত

ঢাকা, বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (স্টাফ রিপোর্টার) : ধর্ষকের নগ্ন উল্লাসে কম্পিত গোটা দেশ। একদিকে যেমন ধর্ষকের বিচার কার্যে সরকার তৎপর, অন্যদিকে বেড়েই চলছে ধর্ষকের উল্লাস। নানা রকম তালবাহানা ও কলা কৌশলে দিনে দিনে বাড়ছে ধর্ষণ, যা পশু প্রকৃতিকে হার মানায়, সেই রকম একটি ধর্ষণের ঘটনা অভিযোগ পাওয়া যায় রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন গাওয়াইর বাজার স্কুল রোডের হাজী দিদার বক্স ট্রেড সেন্টার বাক্কার বাড়ীর নিচে নাছিরের গার্মেন্টেসে। নাছির উদ্দিন রাবিন নিজেকে পোষাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসাবে দাবী করেন। গার্মেন্টেসের কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক কিশোর-কিশোরীদের। এসব গার্মেন্টস কর্মীদের নামমাত্র  বেতন প্রদান করা হয়।  ধর্ষিতার  নাম জান্নাতুল ফেরদৌস নিশি (১৭), পিতা- মৃত কবির  গাজী, মাতা- নাজমা, গ্রাম- কুলচর, ইউনিয়ন- গুয়াবাড়ীয়া, উপজেলা-হিজলা, জেলা-বরিশাল। ধর্ষিতা নিশি দীর্ঘদিন যাবৎ নাছির উদ্দিন রাবিনের গার্মেন্টেসের কাজ করে যাচ্ছে সুইং হেলপার হিসেবে। গার্মেন্টেসের মালিক ধর্ষক নাসির উদ্দিন রাবিন (২৮) ওরফে রবিন, পিতা- ছাদু মিয়া, মাতা-নুরুন নাহার, গ্রাম-খুরুয়া, পোঃ চিতৈশী বাজার, থানা- মনোহরগঞ্জ, জেলা-কুমিল্লা। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ দৈহিক মেলামেশা করে আসছে। গত ০৮/০৯/২০১৭ তারিখে ঈদের ছুটি বন্ধ কালীন সময়ে সন্ধ্যা ৭:৩০ ঘটিকায় অসৎ উদ্দেশ্যে নিশিকে ফোন করে গার্মেন্টেসে নিয়ে আসে ধর্ষক নাছির উদ্দিন রাবিন। স্থানীয় লোকজন বন্ধ গার্মেন্টেসের ভেতর লাইটের আলো দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনতা গার্মেন্টেসের ভেতর থেকে অসামাজিক কার্যকলাপ অবস্থায় তাদের দু’জনকে ধরে ফেলে। ধর্ষক নাছির উদ্দিন রাবিন স্থানীয় জনতাকে টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। অসহায় কোমলময়ী নিশির কথা চিন্তা করে সঠিক বিচার পাওয়া আশায় স্থানীয় জনতা দক্ষিনখান থানায় খবর দিলে দক্ষিনখান থানার এ.এস.আই দুলাল ও এস.আই মাহমুদুল এসে নাছির উদ্দিন রাবিন ও নিশিকে থানায় নিয়ে আসে। পরে এস.আই মাহমুদুল নিজে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। দক্ষিণখান থানার পুলিশ মামলাটিকে অন্যদিকে ধাবিত করে মামলা নং-১০৮, ধারা-৭৪/১০০ ডি.এম.পি অধ্যাদেশ নাছির উদ্দিন রাবিন ও নিশিকে কোর্টে চালান করে দেন। স্থানীয় লোকদের মনে প্রশ্ন জাগে, কেন একজন অসহায় গার্মেন্টস কর্মীকে তার নিজ প্রতিষ্ঠানে পতিতাবৃত্তি দেখিয়ে কোর্টে চালান করা হলো? ধর্ষক নাছির উদ্দিন রাবিন মুঠোফোনে গত ০৮/০৯/২০১৭ইং তারিখের রাতে ঘটনায় সত্যতা স্বীকার করেন প্রতিবেদকের কাছে। নিশি জামিনে এসে সংবাদকর্মীদের স্মরনাপন্ন হয়ে জানান যে, আমার বাবা রানা প্লাজার ট্রাজিডিতে মারা যান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাছির উদ্দিন রাবিন দীর্ঘ ০৬ মাস ধরে আমাকে ধর্ষণ করে আসছে এই কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। নিশি আরো জানান যে, নাছির উদ্দিন রাবিন ও তার বড় ভাই রুবেল আমাকে কোর্ট থেকে জামিনে নিয়ে এসে একটি হোটেলে নিয়ে যায় আমাকে ভয় দেখায় যে তাদের কথা যদি আমি না শুনি তবে আমার হাত-পা কেটে দেবে এক পর্যায়ে আমাকে প্রাণ নাশেরও হুমকী দেয় এবং তাদের গার্মেন্টসে চাকরি করতে বারন করে। নাছির উদ্দিন রাবিন ও তার বড় ভাই রুবেলের হুমকীর মুখে ভয়ে ভীত হয়ে মানবেতর জীবন যাবন করছেন নিশি। সে এই ধর্ষণের বিচার দাবী করেন প্রশাসনের কাছে। বর্তমানে নিশির পাশে বিপদের সময় দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই । এমতাবস্থায় তার আবেদন, সমাজের সকল স্তারের মানুষ যেন তার মতো নির্যাতিতার মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়, যাতে আর কাউকে এভাবে নির্যাতনের স্বীকার হতে না হয়। আমাদের সমাজে অবহেলিত, লাঞ্চিত হচ্ছে প্রতিদিন/প্রতিনিয়ত নিশির মতো অনেকেই। এদের পাশে এসে দাঁড়িয়ে সমাজের সকল ধর্ষকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor