Space For Advertisement

মননশীল ব্যক্তিত্ব মোশাররফ হোসেন ভূঞা ও তাঁর সমৃদ্ধ লাইব্রেরী

মননশীল ব্যক্তিত্ব মোশাররফ হোসেন ভূঞা ও তাঁর সমৃদ্ধ লাইব্রেরী

প্রথম শ্রেণিতে অধ্যায়নকালেই আমার বই পাঠের অভ্যাস গড়ে ওঠে। মনের মাঝে সব সময় একটা পাঠপিপাসা জেগে থাকতো। সেই সময় বড় ভাই মরহুম সামসুদ্দিন ভূঞা আমাকে রাশিয়ার রূপকথা বিষয়ক দু’টি বই কিনে দেন। বইগুলো পড়তে খুব ভালো লাগতো। চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর লুকিয়ে লুকিয়ে বিভিন্ন গল্প ও কবিতার বই পড়তাম। আমার বড় ভাই ও ভাবী দু’জনেই বেশ পড়–য়া ছিলেন। তাদের সংগ্রহশালা থেকে বেশ কয়েকটি বই পড়েছি। আমি যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি তখন মেজভাই একাত্তরের বীর মুক্তিযুদ্ধা সালাউদ্দিন ভূঞা মেক্সিম গোর্কীর উপন্যাস ‘মা’ বইটিসহ আরো ৪-৫টি বই আলমিরাতে সাজিয়ে রেখে যদি কোন ভালো বই পাওয়া যায় তা হলে সেগুলো আলমিরাতে রেখে দেওয়ার পরামর্শÑদেন। তার এই উৎসাহে বই কেনা ও পড়া শুরু হয়। মহান স্বাধীনতার পর ৩০ পয়সা দিয়ে প্রথম বই কিনি ‘ক্ষুদিরামের ফাঁসি’। অতঃপর ৫০ অথবা ৬০ পয়সা দিয়ে দ্বিতীয় বই কিনি ‘বিন্দুর ছেলে’। অল্প দিনের মধ্যেই কথাশিল্পী শরৎ চন্দ্রের বই পড়ার প্রতি আমার প্রবল আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। পর্যায় ক্রমে ডাঃ লুৎফর রহমানের বইগুলোর প্রতিও। মোটামুটিভাবে বলা চলে দশম শ্রেণিতে পড়া অবধি শরৎ, বঙ্কিম, রবীন্দ্র, নজরুলসহ আরো অনেকের উপন্যাসÑগল্পধর্মী বই কিনে পড়তে থাকি। তখন নগদ অর্থের খুবই অভাব ছিলো। বৈশাখ মাসে বোরোধানের মৌসুমে খড়ের নীচের ধানগুলো ছিলো শিশু/বালক বালিকাদের জন্য। ওই সময় আমরা খোলা ঝাড়– দিয়ে প্রাপ্তধান বিক্রি করে মেলা, পার্বন, দশমী বিভিন্ন সময়ে খরচ করার জন্য টাকা জমিয়ে রাখতাম। একটা পর্যায়ে ওই টাকাগুলো আমি ব্যয় করতে থাকি বই কেনার পেছনে। পাশাপাশি মা ও আপাদের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া যেতো। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে খরচ বাঁচিয়ে টাকা জমানো খুব দুরূহ ব্যাপার ছিলো। তবুও যা জমতো তা দিয়ে বই কিনতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থাতেই একটি এনজিও সংস্থায় চাকুরি পেয়ে গেলে এবং পরবর্তীতে সরকারী চাকুরিতে প্রবেশ করার পর বই কেনার জন্য টাকা পয়সার তেমন অভাব হয়নি। এতো বছর পর আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে বইয়ের সংখ্যা প্রায় আট হাজার। গ্রামের বাড়িসহ আমার প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন লাইব্রেরীতে আমার দেয়া প্রচুর বই রয়েছে। এখনও বই কেনা ও পড়া অব্যাহত রয়েছে। 
ডিআইজি (স্কুল অব ইন্টেলিজেন্স)
বাংলাদেশ পুলিশ, এসবি, ঢাকা।
সম্পাদক, ডিটেকটিভ।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor