Space For Advertisement

অপেন সিক্রেট বেসামাল দূর্নীতি এবং দূর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে দুদক

 অপেন সিক্রেট বেসামাল দূর্নীতি এবং দূর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে দুদক

 

                দূর্নীতি এবং দূর্নীতিবাজ একই সূত্রে গাঁথা এবং একটি অপরটির পরিপূরক। দূর্নীতি এবং দূর্নীতিবাজ শব্দ দুটির সাথে অনেকেই যেমন পরিচিত তেমনি অনেকেই ভোক্তভোগীও বটে। তবে দূর্নীতি দমনের ইংরেজি প্রতিশব্দ এ্যান্টি করাপশন (অহঃর ঈড়ৎৎঁঢ়ঃরড়হ) শব্দটির সাথে অনেকেই আরো বেশী পরিচিত। তদোপরি দূর্নীতি এ দেশে একটি অপ্রতিরোধ্য মহামারী হিসেবে পরিচিত। অনেকের মতে ইহা একটি সনাতন রোগ। যা এইডস, ক্যানসার ও লিভার সিরোসিসের চেয়েও ভয়াবহ। অনেকে মনে করে যার মধ্যে লুক্কায়িত রয়েছে একটি কুৎসিত, ভয়ংকর সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা বা ক্যালকুলেটেড প্ল্যানড। বট বৃক্ষের ন্যায় বি¯তৃত যার ডালপালা ও শাখা প্রশাখা। যার মূল সুবিন্যস্ত— ও অনেক গভীরে সঞ্চালিত। একদিকে এভারেষ্ট শৃংগ এবং অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে যার বি¯তৃতি। ওয়ান ইলেভেন ও অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় বিশেষ কোন কারণে হঠাৎ এর কার্যক্রমের স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেলেও তা ছিল খুবই সাময়িক। যদিও এর তল্পীবাহকদের মধ্যে অনেকেই এই দোষে নিজেদের কে জড়িয়ে ফেলেন।                

                  বর্তমানে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো অনেকের কাছে দূর্নীতি দমন ব্যুরো হিসেবে পরিচয় বহন করে থাকে। ঔপনিবেশ আমলের কালা কানুনে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত আলো ও আঁধারে সন্নিবেশিত দূর্নীতি দমন ব্যুরোর কার্যকলাপ মানুষের মনকে জয় লাভ করতে পারেনি। তদোপরি এই সংস্থাটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা স্টাকচারাল ইন্টার লকিংয়ের কারণে (ঝঃৎঁপঃঁৎধষ রহঃবৎ ষড়পশরহম) যতটুকু সামনে এগুনোর প্রয়োজন ছিল ততটুকু এগুতে পারেনি। ব্রিটিশের ২০০ শত বছর, পাকিস্তানের ২৩ বছর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এই সংস্থাটির তেমন কোন সাফল্য (অপযরাবসবহঃ) মানুষের মনে বিতর্ক জন্ম দেয়া ছাড়া স্থান করে নিতে সচেষ্ট হয়নি। এক সময়ে বাংলাদেশের ৬৪টি মহকুমা এবং ২১টি জেলার মধ্যে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর এতগুলো জেলা ও মহকুমা অফিস থাকলেও এ সমস্ত অফিসে উক্ত সংস্থার কিছু লোকের পেট স্বাভাবিকের চেয়ে মোটা তাজা পরিলক্ষিত হলেও, রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা খুব একটা শুনা যায়না। তখন কিশোরগঞ্জ দূর্নীতি দমন ব্যুরোর অফিস ছিল বর্তমান পুলিশ সুপারের অফিসের অনতিদুরে গাইটাল হর্টিকালচার সংলগ্ন। সেই অফিসে 

যেমনি সব সময় একশ্রেণীর বেরসিক লোকের ভীড় পরিলক্ষিত হত, তেমনি রাত দিন নামী দামী গাড়ীর দৃশ্যও পথচারীসহ অনেকের চোখকে ফাঁকি দিতে পারতনা। এমনও শুনা গেছে জিআর, টিআর, কাবিখা খেকো থেকে শুরু করে রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তা তেমন অগ্রায়িত করা হত না। এসব কিছুর পেছনেই নাকি ছিল কাড়ি কাড়ি টাকার খেলা। তদোপরি অনেক সময় এ সমস্ত অফিসের সাজানো ক্যারিশমেটিক মামলায় অনেককে অযথা হয়রানীর জন্য দূর্নীতি দমন ব্যুরোর মেনো ফ্যাকচারির মামলার কারখানা বলতেও শুনা যায়।                  

                  বেশ কয়েক বছর আগে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক দেশের বড় বড় শহর রাজধানীর অত্যাধুনিক শপিং কমপ্লেক্স, বিপণী বিতান এবং আবাসন এলাকাতে যাদের ফ্ল্যাট ও বাসাবাড়ী রয়েছে এগুলোর ব্যাপারে জরিপ চালালে অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তা, কর্মচারীদের চেয়ে বেশীর ভাগ বাসা বাড়ী, ফ্ল্যাট, বিপণী বিতান এবং অত্যাধুনিক গাড়ীর সন্ধ্যান মেলে দুর্নীতি দমন সংস্থার লোকদের বিরুদ্ধে।                 

                 আজ কয়েক বছর যাবত দূর্নীতি দমন ব্যুরোর স্থলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এই সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক সেনা প্রধান লেঃ জেঃ (অবঃ) হাসান মশহুদ চৌধুরী ওয়ান ইলেভেনের সময় “এখনই সময়” বলে দূর্নীতির বিরুদ্ধে একটি থীম বা কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে সাড়া দেশ ঘুরে বেড়ালেও কাংখিত ও অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারার যাতনায় অবশেষে তিনি অপারগতা প্রকাশ করতেও দিধা সংকোচ করেননি। বলেছিলেন ও ধস ঃরৎবফ, ও ধস ঁহফড়হব. তারপরও যারা দায়িত্বে সমাসীন হয়েছিলেন তারাও কোন মতে নির্ধারিত সময় পার করলেও দূর্নীতি ও দূর্নীতিবাজদের বিষয়ে তাদের কাছ থেকেও দেশের মানুষ আশাতীত সাফল্য (অপযরাবসবহঃ) দেখতে পায়নি। 

                  দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে একটু নড়েচড়ে বসেছে বলেই দূর্নীতি দমন কমিশনের কিছু অসাধু থেকে শুরু করে দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে দুদক। বলা চলে বর্তমান দুদক প্রথমে নিজের ঘর থেকেই প্রতিকারের শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে। ব্যাংক, বীমা, শেয়ার বাজার, কেলেংকারী সহ অন্যান্য বিভাগ ও পর্যদের দূর্নীতিতেও রয়েছে অগণিত সর্বনাশা দূর্নীতিবাজ এবং একটি বেসামাল চিহ্নিত শ্রেণী। যারা দূর্নীতির পরিসীমায় রাঘব বোয়াল, দানব, পাওয়ারফুল ম্যাগনেট (ঢ়ড়বিৎভঁষ সধমহবঃ) ও হাইপাওয়ার হিসেবে সমাজে সমধিক আলোচিত, সমালোচিত ও মার্কা মারা। ওরা যেমনি কোন কিছুর তোয়াক্কা করেনা, তেমনি আইন আদালতের নির্দেশেরও খুব একটা পরোয়া বা ধার ধারে না। যার সুবিন্যস্ত বর্ণনা সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয়।            

                  ২৫/৯/২০১৭ ইং বিভিন্ন গণমাধ্যমে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল হালিমকে ঘুষের ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা সহ গ্রেফতার করেছে দূর্নীতি দমন কমিশন। ওই টাকার মধ্যে ৭টি খামে মোড়ানো সার্ভেয়ারের ড্রয়ায় ও আলমারী তল্লাশী করে পাওয়া যায় ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। এর মধ্যে একটি খামে লেখা ছিল “স্যার” যার মধ্যে ছিল ৪০ হাজর টাকা। এমনিভাবে বর্তমান দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নির্দেশনায় এ ধরনের অভিযান চলে আসছে। ট্রাফিক আইন লংঘন করে উল্টোপথে গাড়ী চালিয়ে যানঝট সৃষ্টি করা কিছু লোকের মামুলী ব্যাপার। সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় প্রতিমন্ত্রী ও সচিবকে ট্রাফিক আইন লংঘনের কারণে জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটা একটা নজির বিহীন ঘটনা ও দৃষ্টান্ত বলে দেশের মানুষ মনে করে থাকে।        

                 জানা যায়, দূর্নীতি বন্ধের ব্যাপারে দুদক জেলায় জেলায় অভিযোগ বাক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইহা একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে এই সমস্ত অভিযোগ বাক্সে অনেক সময় বেশীর ভাগই মিথ্যা মিথ্যি ঘটনার অভিযোগ করা হয়ে থাকে। তাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেক সময় তল্লাশি করতে যেয়ে হিমশিম খেতে হয়। এ ব্যাপারে নজরদারী রাখা দরকার যেন অতীতের অনেক সময়ের মত কাহাকেও যাতে অহেতুক হয়রাণী হতে না হয়। লক্ষ্য রাখা দরকার বেড়ায় যেন ক্ষেতের ফসল না খায়। যার রয়েছে ভুরি ভুরি উদাহরণ।      
                 ১৯৯৬, ৯৭ ও ৯৮ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার সার্বিক স্বাক্ষরতা আন্দোলন বা টিএলএম কর্মসূচীর আওতায় “আলোর পথে কিশোরগঞ্জ” এই বাহারী নামের আদলে ঢাক, ঢোল, বাদ্য বাজনা, বাহারী পোষ্টার, ফেস্টুন, ব্যানার দেখা ছাড়া জনগণ কাজের কাজ কিছুই দেখতে পায়নি। যদিও এর অর্ন্তরালে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের রয়েছে ভানুমতির খেলা। উক্ত টিএল কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে ৩৯ কোটি টাকা বরাদ্ধের কথা সূত্রে জানা যায়। যা উক্ত প্রজেক্টের হিসেব নিকেশ, খাতাপত্র, রেজিষ্টার, ভাউচার, চেক ইস্যুতে সীমাহীন গড়মিল, প্রতারণার আশ্রয় ইত্যাদি দালিলিক প্রমাণ হিসেবে (উড়পঁসবহঃধৎু ঊারফবহপব) সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা যায়। অনেকের ধারণা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা স্ট্রাকচারাল ইন্টারলকিংয়ের (ঝঃৎঁপঃঁৎধষ রহঃবষড়পশরহম) যাতাকলে আটকে থাকার কারণে উক্ত টিএলএমের দূর্নীতি আলোর মুখ দেখছে না। এমনিভাবে কিশোরগঞ্জ শহরের উপকন্ঠে স্বপ্নিল নরসুন্দা নদীর প্রজেক্ট নিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সুশীল সমাজ, নাগরিক ও জনগণের অভিযোগ ও বিষোধগার। যা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মিডিয়াতে অনেকবার প্রকাশিত হয়েছে। এ ব্যাপারে সুশীল সমাজ, নাগরিক ও জাগ্রত জনতা অনেকবার সভা সমাবেশ মানববন্ধন ও মিছিল করেছে। উক্ত প্রজেক্টে ও মূল বরাদ্ধ বর্ধিত করে ৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানা যায়। দূর্নীতি এবং দুর্নীতিবাজদের কয়েকটি শ্রেণীতে বিভাজন করা যেতে পারে। (ক) দূর্নীতির রাঘব বোয়াল, (খ) ক্রনিক দূর্নীতি (পৎড়হরপ পড়ৎৎঁঢ়ঃরড়হ), (গ) দূর্নীতির মানসিক রোগী, (ঘ) দূর্নীতির আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা ও গডফাদার (ঙ) দূর্নীতির যোগানদার (চ) প্রথাসিদ্ধ দূর্নীতি (ছ) চেঁচড়া দূর্নীতি (জ) অপেন সিক্রেটও বেসামাল দূর্নীতি। (ঝ) দূর্নীতির আনসিন হাই পাওয়ার ফুল ম্যাগনেট এবং দূর্নীতির অদৃশ্য শক্তি।         

                 হাজার হাজার টাকার টিআর, কাবিখা, জিআর, কাবিটা ও অন্যান্য সরকারী সম্পদ লুঠপাঠের ব্যাপারে গণমাধ্যমে অহরহ যা প্রকাশিত হচ্ছে তা দেখলে বাস্তবিকই অবাক হওয়ার কথা। তা দেখে অনেকেই মন্তব্য করে বলে থাকে লুঠেপুঠে খাবিতো খা, কুছ নেহি পরোয়া। এল.এ আর (খঅজ) বা লোকাল অ্যারেঞ্জমেন্ট ফান্ডের (খড়পধষ অৎৎধহমবসবহঃ ঋঁহফ) নামে যে অর্থ নেয়া হয়, এর কোন আইনী বৈধতা আছে বলে সম্যক জানা যায় না। এসবের প্রতিকার ও প্রতিরোধ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে চোখ কান খোলা রেখে সামনে চলার পথ হোক কালিমা মুক্ত।      

                 বর্তমান দুদক চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের মানুষ মিট মিট প্রদীপের আলোর মাঝে প্রজ্বলিত আলোর অনিবার্ণ শিখা দেখতে পেয়ে দূর্নীতি ও দূর্নীতিবাজদের ব্যাপারে নিরাশার মাঝে আলোর ঝলক দেখতে পাচ্ছে। তাই বলে অপেক্ষা ছাড়া একেবারে এখনই ঢাকঢোল পিটিয়ে জয়ধ্বনি করার চেয়ে অনাগত ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া বাস্তবতাই কোথায়। প্রতিনিয়ত দূর্নীতির খবর শুনে ও দেখে অনেকেরই গা শিহরিয়ে ওঠার উদ্বেগ হয়। যদি কোন কারণে অতীতের মতো বলতে হয় আই অ্যাম টায়ার্ড, আই অ্যাম আনডান তবে তা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের মানুষের জন্য এ যেন এক করুণ ও দুর্ভাবনার নামান্তর। একজন পন্ডিত ব্যক্তি বলেছেন, ব্যর্থতার চেয়ে সফলতার আনন্দ অনেক বেশি, যদি তাতে শ্রম, ত্যাগ, সময়ও অতিবাহিত হয়। দূর্নীতি ও দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বর্তমান দুদক হোক আপোষহীন অনিবার্ণ আলোর দিশারী।       
     
  

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট
মোবাইল: ০১৭১৮-৮১৪৮১৩।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor