Space For Advertisement

পুলিশ সুপার ডিবি সিআইডি দুদক কর্মকর্তার দুর্নীতি ও সেনাবাহিনীর আটক

পুলিশ সুপার ডিবি সিআইডি দুদক কর্মকর্তার দুর্নীতি ও সেনাবাহিনীর আটক

       সম্প্রতি ২৩, ২৫, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর ২০১৭ ইং এক সপ্তাহে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ২টি দূর্নীতি, ১টি জিম্মি করে অর্থ আদায় ও ১টি অসাদুপায় (দূর্নীতির মাধ্যমে) টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য চারটি শিরোনামের সংবাদে দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে রক্ষকই ভক্ষক, এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী দুদকের সমন্বিত কার্যালয়ের মোঃ আমিরুল ইসলামের ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার আয়কর ফাঁকি, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার আয়কর ফাঁকি, ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ডিবির ১ কোটি টাকা দাবী, সেনাবাহিনীর হাতে ডিবির ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার, ৭ জন গ্রেফতার। সিআইডি কর্মকর্তার ট্রাভেল এজেন্সির ১ হাজার দুশর বেশী পাসপোর্ট জব্দ, কোটি টাকার ঘুষ দাবী ও ৪৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ উল্লেখযোগ্য।            

          ছিনতাই, অপহরণ, জিম্মি, নির্যাতন, পণ আদায় রাঘব বোয়ালদের ব্যাংকের দুর্নীতি, কোটি কোটি টাকার ঋণ খেলাপী আয়কর ফাঁকি ইত্যাদি মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসবের প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণে রাজস্ব বিভাগের (ঘইজ) গোয়েন্দা ইউনিট, পুলিশের ডিবি, টেরোরিজম ইউনিট, সিআইডি, গোয়েন্দা নজরদারী লক্ষ্যে পুলিশের ডিএসবির (উঝই) পুলিশ কর্মকর্তাদের খোঁজ খবর নেয়ার জন্যে পুলিশ সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণে অভ্যন্তরীন শৃংখলা ইউনিট রয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়। তদোপরি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা বা জানিগো বা এনএআই (ঘধঃরড়হধষ ঝবপঁৎরঃু রহঃবষষবমবহপব) র‌্যাবের পৃথক গোয়েন্দা ইউনিট এবং বিজিবির গোয়েন্দা ইউনিট আরএসইউ (জঝট) রয়েছে। বর্তমানে দুদকেরও গোয়েন্দা শাখা রয়েছে বলে জানা যায়।                     

          ২৩/১০/২০১৭ ইং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদে জানা যায় রাজশাহী দুদকের সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে তার আয়কর বিবরণীতে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ শূন্য প্রদর্শন করেছেন। কিন্ত তার বিরুদ্ধে ১২ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৪ টাকার অনুসন্ধ্যান মেলে। কিন্তু তার স্ত্রীর নামে গাজীপুরে ১১ দশমিক ৭৫ শতক জমি হেবামূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। টাঙ্গাইলে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১১৩ শতক জমি। যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। যার তিনি খরিদের উৎস প্রদর্শন করতে পারেননি। যা দুদক বিধিমালা ২০০৮ এর ২ (ঝ) মতে অসদাচরণ ও গুরুতর অপরাধের শামিল। যে কারণে তাকে দুদকের ২০০৮ সালের ৪৩ (১) বিধিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।               

         ফরিদপুরের পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী রীনা চৌধুরীর দূর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক আঃ ওয়াদুদ এ ব্যাপারে মামলা করতে দু-দফা ঢাকার বংশাল থানায় যাওয়ার পর ওসি নাকি তার (এসপি) বিরুদ্ধে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে গণমাধ্যম ও সূত্রে জানা যায়। পরবর্তী সময় তার বিরদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় মামলা রুজু করা হয়। জানা যায়, এসপি ও তার স্ত্রীর নামে ওয়ান ব্যাংক ঢাকার বংশাল শাখায় ৬টি এফডিআর ২ কোটি ৮১ লাখ ১৪ হাজার ৪৬৭ টাকা, এ্যালিফ্যান্ট রোডে ১টি এফডিআর হিসেবে ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২ টাকা, যশোহর শাখায় এফডিআর হিসেবে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৫০ টাকা। অর্থাৎ ১৯টি হিসেবে মোট ৮ কোটি ৩৬ লাখ ১৩ হাজার ৬৬৭ টাকা পাওয়া যায়। এই অর্থ ২০১৬-২০১৭ কর বর্ষ 

পর্যন্ত প্রদর্শিত হয়নি। অর্থাৎ তিনি তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমাকৃত ওই অর্থের উৎস, অবস্থা ও মালিকানা গোপন করেছেন বলে অনুসন্ধ্যানে প্রতিয়মান হয়। যা দুদকের এজহারে উল্লেখিত। এ ব্যাপারে ২৫/১০/২০১৭ ইং বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে বিশদভাবে প্রকাশিত হয়ে থাকে। তবে এখানে উল্লেখ্য দুদকের সহকারী পরিচালককে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত (ঝঃধহফ জবষবধংব) এবং পুলিশ সুপারকে পুলিশের সদর দফতরে নেয়া হয়ে থাকে।                                

          ২৬/১০/২০১৭ ইং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও তথ্যসূত্রে জানা যায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ডিবির ১৭ লাখ টাকা উৎকুচ গ্রহণ এবং সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ডিবির কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার ও ডিবির ৭ জনকে আটক করা হয়ে থাকে। জানা যায় টেকনাফের এক ব্যবসায়ীকে ধরে এনে ডিবির লোকজন নাকি ১ কোটি টাকা দাবী করে থাকে। উক্ত ব্যবসায়ীকে নাকি ক্রসফায়ারেরও ভয় দেখানো হয়। অবশেষে ডিবির লোকজনের সাথে ভিকটিমের (ব্যবসায়ী) লোকজন অনয় বিনয় ও দফারফা করে ১৭ লাখ টাকা ঘুষ দিলে তাকে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় ছেড়ে দেয়া হয়। সেনাবাহিনী ডিবির গাড়ী আটক কালে এ সময় মনিরুজ্জামান নামে ডিবির এস.আই গাড়ীর জানালার কাচ ভেঙ্গে পালিয়ে যায় এবং অপর ৭ জনকে আটক করা হয়। টেকনাফে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত সেনাবাহিনী ক্যাম্পের মেজর নাজিম আহমেদ যথাযথ ইনফরম্যাশনের ভিত্তিতে ১৭ লাখ টাকাসহ ডিবির ৭ জনকে গ্রেফতার করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ও র‌্যাবের কর্মকর্তাদের অবহিত করলে ওনারা আসেন। মেজর নাজিম আহমদ তাদের হাতে উদ্ধারকৃত ১৭ লাখ টাকা ও আটক ডিবির ৭ জনকে সোপর্দ করে থাকেন। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী (ভিকটিম) টেকনাফ থানায় মামলা করলে এজাহারটি আমলে নিয়ে আটক ডিবির ৭ জনকে কোর্টে সোপর্দ করা হয়ে থাকে। কোর্টে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ প্রদান করে থাকে। অনেকেরই আগ্রহ এবং জানার প্রশ্ন ১৭ লাখ টাকা সহ আটককৃত ডিবির ৭ জনকে পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাপরদের ব্যাপারেও যথেষ্ট ক্লু পাওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। ডিবির স্পর্শকাতর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রয়েছে হরেক রকমের গল্প। যা এখন টক অবদি কান্ট্রি (ঞধষশ ড়ভ ঃযব পড়ঁহঃৎু)। 

          ২৭/১০/২০১৭ ইং দৈনিক যুগান্তরে “কিছু পুলিশ সদস্যের অপকর্ম, ক্ষুন্ন হচ্ছে বাহিনীর ভাবমূতি” এই মর্মে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায় সম্প্রতি ফকিরাপুলের জিনেট টাওয়ারে অভিযানের নামে একটি রিক্রটিং এন্ড ট্রাভেল এজেন্সির কার্যালয় থেকে এক হাজার দুশর বেশী পাসপোর্ট জব্দ করে কোটি টাকার ঘুষ দাবী করে পুলিশের অপরাধ বিভাগ (সিআইডি) মতিঝিল ইউনিটের উপ-পরিদর্শক সুশান্ত কুমার রাহুত। শেষ পর্যন্ত ৪৫ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রায় ১১০০ শত পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হয়। বাকি ১০১টি পাসপোর্ট জব্দ তালিকায় দেখিয়ে ব্যবসায়ী অনুপমের ভাই প্রবীর বণিক ও তার দুই কর্মচারী রিয়াজ হোসেন ও আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে সিআইডি বা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশান ডিপার্টম্যান্ট (ঈৎরসরহধষ ওহাবংঃরমধঃরড়হ উবঢ়বৎঃসবহঃ)। আরেক ঘটনায় ১৮ এপ্রিল কাফরোলের কচুক্ষেতের নিউওয়েভ ক্লাবে চাঁদাবাজি অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি (উবঃবপঃরাব ইৎধহপব) পূর্ব বিভাগের সহকারী কমিশনার রুহল আমিনের নেতৃত্বে ১১ পুলিশ সদস্যকে আটক করে মিলিটারী পুলিশ। পরে তদন্ত কমিটি করে ডিএমপি (উযধশধ সবঃৎড়ঢ়ড়ষরঃড়হ ঢ়ড়ষরপব) । তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে সাময়িক দায়ীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এমনিভাবে সাবরেজিষ্ট্রি অফিস, ভূমি বা ল্যান্ড অফিস, ভূমি অধিগ্রহন অফিসসহ অনেক অফিস ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরণের ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। কিছু দিন পূর্বে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহন সংক্রান্ত একটি ঘটনা নজের আসে। যা এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়। কোনটি গণমাধ্যমে নজরে আসে, আবার অনেক বিভীষিকাময় ঘটনা সহ দূর্নীতির সংশ্লিষ্ট ঘটন ও অনেক সময় নজরে আসেনা। যদিও গর্ব করার মতো পুলিশ ও প্রশাসনের অনেক সাফল্য রয়েছে। ইতোপূর্বে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকার জন্যই গত রোজার ঈদের আগের ঈদে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ বীভৎস জঙ্গি আক্রমণের হাত থেকে শত শত মানুষ রেহাই পেয়েছে। যদি মাঠের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে যেত তবে হাজার হাজার মানুষের পায়ের চাপে অগণিত শিশু ও বৃদ্ধ এমনিতেই পায়ের তলায় পড়ে অকালে জীবন হারাতে হতো। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকাকে গৌরবের বিষয় বলে আজো এলাকার শ্রেণী পেশার মানুষ মনে করে থাকে।    

         জানা যায়, পুলিশ সদর দফতরের সর্বশেষ তথ্যমতে ২০১১ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত অপরাধ ও নানা অভিযোগে জড়িত থাকার কারণে ৭৭ হাজার ৯২৬ জন পুলিশ সদস্যকে অর্থদন্ড, তিরষ্কার, বদলি, বরখাস্ত বাধ্যতামূলক অবসর ও চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। শাস্তি প্রাপ্তদের মধ্যে ৭৬ হাজার ৯৯ জনই কনস্টেবল থেকে উপ-পরিদর্শক (এস.আই) পদের। বাকিরা পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর), সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও তদুর্ধ্ব পদের। পরিদর্শক পদের ২৭২ জন, এএসপি ও তদুর্ধ্ব পদের ৫৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছে। শাস্তি প্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৬২৪ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬০৮ জনই কনস্টেবল থেকে এস.আই পদের। বাকি ১৫ জনের মধ্যে ২ জন পরিদর্শক, ১৩ জন এএসপি ও তদুর্ধ্বপদের কর্মকর্তা। তবে পারিবারিক অবস্থা ও চাকরির মেয়াদ বিবেচনায় নিয়ে ৭২ জন পুলিশকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর মেধ্য ৬৮ জনই কনস্টেবল থেকে এস.আই পদের। বাকি ৪ জনের মধ্যে ২ জন পরিদর্শক ও ২ জন এএসপি পদ মর্যাদার। 

         এছাড়া অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লঘুদন্ড দেয়া হয় ৭১ হাজার ৭৭০ জন পুলিশ সদস্যকে। তাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৪৮৪ জন কনস্টেবল থেকে এসআই পদের। বাকি ২৮৬ জনের মধ্যে ২৫৩ জন পরিদর্শক, ৩৩ জন এএসপি ও তদুর্ধ্বপদের পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গুরুদন্ড দেয়া হয়েছে মোট ৪ হাজার ৩৩ জন পুলিশকে। এদের মধ্যে ৪ হজার ৭ জন কনস্টেবল থেকে এএসআই পদের। বাকি ২৬ জনের মধ্যে ১৭ জন পুলিশ পরিদর্শক এবং ৯ জন এএসপি থেকে তদুর্ধ্ব পদের কর্মকর্তা।          

         পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, দুদক ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্ষদে অনেক স্বচ্ছ, ন্যায় নিষ্টাবান ও আদর্শিক কর্মকতা, কর্মচারী রয়েছে। তাদের নাম পদবী এ নিবন্ধে উল্লেখ না করলেও দায়িত্বে কর্তব্যে অহংকার করার মতো তাদের রয়েছে অনেক কৃতিত্ব, প্রশংসা ও পারফরম্যান্সের (চবৎভড়ৎসধহপব) উদাহরণ। দুঃখজনক হলেও সত্য মুষ্টিমেয় কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য বারংবার এ সমস্ত বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে সমালোচিত এবং এসব বিভাগের সুনাম যথেষ্ট ক্ষুন্ন হচ্ছে। এসবের মধ্যে নারায়নগঞ্জের র‌্যাবের হাতে সেভেন কিলিংও উল্লেখযোগ্য। যদিও জঙ্গি দমনে র‌্যাবের ভূমিকাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। সুনাম ক্ষুন্নকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা কল্পে পদক্ষেপ অনেকেরই রয়েছে সুষ্পষ্ট অভিমত।   

         সম্প্রতি “কিছু পুলিশ সদস্যের অপকর্মে ক্ষুন্ন হচ্ছে বাহিনীর ভাবমূর্তি” এ প্রতিবেদনের পুলিশের সাবেক আইজিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিভাগের চেয়ারম্যানসহ অনেকের মন্তব্য ও সুষ্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিভাগের চেয়ারম্যান বলেছেন, সনাতন পদ্ধতিতে চলছে দেশের পুলিশ বাহিনী। কোন সদস্য কার সঙ্গে চলাফেরা করছে কোথায় অভিযানে যাচ্ছে তার তথ্য সিনিয়র অফিসাররা জানতে পারে না। তিনি মনে করেন পুলিশের প্রো-একটিভ ব্যবস্থার দূর্বলতার কারণে এসব অপরাধমূলক কাজে জড়াচ্ছে পুলিশ। তিনি মনে করেন পুলিশের অপরাধ প্রবণতা কমাতে হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিয়মিত মোটিভেশন দিতে হবে।  

         দেশের প্রথম সারির কয়েকজন অপরাধ বিশ্লেষক মনে করেন পুলিশ নিয়োগের সময় মোটা অংকের লেনদেন হওয়ার অভিযোগ এখন অনেকেই বিশ্বাস করে থাকে। যার প্রভাব পড়েছে পুলিশ সদস্যদের ওপর। চাকরিতে নিয়োগের সময় দেয়া ঘুষের টাকা তুলতে গিয়ে এসব সদস্য এসব খারাপ পথ বেছে নেয়। তাছাড়া চাকরি নিয়োগে রাজনীতিকদের তদবিরও এর মধ্যে পড়ে। অনেক সময় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে পড়েও অপরাধে জড়াচ্ছে অনেকেই বলে তাদের ধারণা।       

        এ প্রসঙ্গে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেছেন, প্রো-অ্যাকটিভ (চৎড়-ধপঃরাব) ও তদারকি ব্যবস্থা শক্ত না থাকায় পুলিশের অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। একজন এসপি একদিনে ৮ কোটি টাকার মালিক হয়নি। আবার কোনো পুলিশ সিভিল ড্রেসে অভিযানে যাওয়ার আগে অবশ্যই তার সিনিয়র অফিসারদের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু সঠিক তদারকির অভাবেই পুলিশ সদস্যরা অপরাধে জড়াচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। পুলিশ এ্যাক্টের ১৮৬১ সালের প্রবিধান মতে কোন পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়ালে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দুধরণের শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। একটি লঘুদন্ড অন্যটি গুরুদন্ড। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেই পুলিশের অনেকেই চেইন অব কমান্ড (ঈযধরহ ড়ভ পড়সসধহফ) ভেঙ্গে বেপোয়ারা ও লাগামহীন হয়ে পড়ছে। টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ ক্যাম্পে ত্রাণ কার্যে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর নিকট ডিবির ৭ সদস্য আটক, ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার এবং ৪/৫ বছর আগে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনের এপিএস ও অপরাপরদের নিকট থেকে পিলখানার বিজিবির সদর দফতরের গেইটে কথিত ঘুষের লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধারের ঘটনা সেনাবাহিনী ও বিজিবির জন্য যথেষ্ট প্রশংসা বয়ে এনেছে। দেশের মানুষ যেমনি এ ধরণের নোংরা ঘটনা থেকে মুক্তি চায় এবং যাতে এ ধরণের ঘটনা আর না ঘটে তাও প্রত্যাশা করে থাকে। 

      দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের শ্রম, সাধনা ও উদ্যোগ যাতে অতীতের মতো থেমে না যায় তাও সকলের প্রত্যাশা। জনতাই পুলিশ, পুলিশই জনতা (চঁনষরপ ধৎব ঃযব ঢ়ড়ষরপব ধহফ ঢ়ড়ষরপব ধৎব ঃযব ঢ়ঁনষরপ) এ উদ্যোগ সভাসমাবেশ, সেমিনার মিছিলের মধ্যেই যেন থেমে না যায়। পিলখানায় (বিডিআর) বর্তমানে বিজিবির বিশাল গোয়েন্দা ইউনিট (জরভষবং ঝপবঁৎরঃু টহরঃ- জঝট) থাকার ফলেও ২০০৯ সালে ২৫/২৬ ফেব্র“য়ারীতে যে ঘটনা ঘটে গেছে,  জঝট অ্যাকটিভ কার্যকারী থাকলে তা কোন মতেই হওয়ার কথা ছিল না।  পরিশেষে একটি গ্রাম্য ও আঞ্চলিক প্রবাদ টেনে বলতে হচ্ছে “কাউয়ায় ধান খাইলরে খেদানির মানুষ নাই, খাওয়ার সময় আছে মানুষ, কামের সময় নাই, কাউয়ায় ধান খাইলরে”। এ প্রবাদ বাক্যটি কারো অবহেলার কারণে যাতে ঘুরে ফিরে সামনে না আসে ইহাই কাংখিত প্রত্যাশা। 

       


এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট
মোবাইল: ০১৭১৮-৮১৪৮১৩।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor