Space For Advertisement

ফের ছাড়ের আবেদন ছাড় পাওয়া খেলাপিদের

ফের ছাড়ের আবেদন ছাড় পাওয়া খেলাপিদের

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭ (স্টাফ রিপোর্টার) : পুনর্গঠন সুবিধা নেওয়ার পর নতুন করে পুনঃতফসিল সুবিধা নিতে আবেদন করেছেন বড় অঙ্কের ঋণখেলাপিরা। পুনর্গঠন নীতিমালা অনুযায়ী সুবিধাভোগী গ্রাহকরা নতুন করে কোনো ছাড় পাবেন না। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় নীতিমালা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন তাদের কেউ কেউ। নীতিমালা পরিবর্তন করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। গতকালসহ পর পর দুটি পর্ষদসভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ২০১৫ সালে পুনর্গঠন নীতিমালার আওতায় বড় অঙ্কের খেলাপিদের ঋণ পুনর্গঠিত করে দীর্ঘমেয়াদের জন্য নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সূচি অনুসারে কিস্তি পরিশোধ করেনি সুবিধাপ্রাপ্ত কয়েকটি গ্রুপ। তারা টাকা না দিয়েই নতুন করে পুনঃতফসিলের আবেদন করেন। তাদের সুবিধা দিতে হলে আগের নীতিমালা পরিবর্তন করতে হবে। নীতিমালা পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নতুন পুনঃতফসিল নীতিমালার খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের (গতকাল) পর্ষদ সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। তবে সেটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে নাকচও করা হয়নি। সূত্র জানায়, ৫০০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে এমন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই নীতিমালায় বলা হয়, পুনর্গঠিত এসব ঋণ আর পুনঃতফসিল করা যাবে না। সুবিধা নেওয়া কোনো প্রতিষ্ঠান সময়মতো কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার সব ধরনের সুবিধা বাতিল হবে। এ ছাড়া টানা দুটি কিস্তি খেলাপি প্রতিষ্ঠানের সমুদয় অর্থ আদায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক দেউলিয়া আইনে মামলা করতে পারবে। ওই সুবিধার আওতায় সুদ কমানো, পরিশোধের মেয়াদ বৃদ্ধি, ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিলসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালার আলোকে পুনর্গঠিত ঋণ পরিশোধে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড পায় ১১ প্রতিষ্ঠান। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হতেই চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশেষ সুবিধা চায় ৫টি গ্রুপ। বেক্সিমকো, কেয়া, এসএ, রতনপুর ও এমআর গ্রুপ ফের পুনঃতফসিল চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করে। আবেদনে বলা হয়, পুনর্গঠিত মেয়াদি ঋণ পরিশোধে ১২ বছরের স্থানে তাদের ২০ বছর সময় দিতে হবে। ঋণের সুদহার হতে হবে শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ নতুন করে আর কোনো সুদ আরোপ করা যাবে না। আর বিদ্যমান গ্রেস পিরিয়ড তথা ঋণের প্রথম কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে আরও বাস্তবভিত্তিক করতে হবে।ব্যাংকগুলো নতুন করে যেন তাদের চলতি মূলধন ঋণ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সে ব্যবস্থা করতে হবে। তবে ওই সময় তা নাকচ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিভিন্ন পক্ষের চাপে নতুন করে এসব ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দিতে নীতিমালার শর্ত শিথিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র : আমাদের সময় 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor