Space For Advertisement

আগামী নির্বাচনে ৬০ আসনে প্রার্থী পাল্টাচ্ছে বিএনপি

আগামী নির্বাচনে ৬০ আসনে প্রার্থী পাল্টাচ্ছে বিএনপি

ঢাকা, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ (স্টাফ রিপোর্টার) : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে অন্তত ৬০টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের তালিকা করছে বিএনপি। মৃত্যু, বার্ধক্য, নিষ্ক্রিয়তা কিংবা অন্য কারণে এসব আসনে বিকল্প প্রার্থীর কথা ভাবা হচ্ছে বলে বিএনপির একাধিক নেতার কাছ থেকে জানা গেছে।বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের নেতৃত্বে নির্বাহী কমিটির বেশ কয়েকজন সম্পাদক পর্যায়ের নেতা এ কাজটি করছেন। একটি খসড়া তালিকাও তাঁরা ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন। বিএনপির তালিকা অনুযায়ী বার্ধক্যের কারণে স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও তরিকুল ইসলামকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পঞ্চগড়-১ আসনে জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এবং যশোর-৩ আসনে তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে প্রার্থী করা হতে পারে। এ ছাড়া নিখোঁজ  এম ইলিয়াস আলীর আসন সিলেট-২-এ তাঁর স্ত্রী তাহসীনা রুশদী লুনাকে প্রার্থী তালিকায় রাখা হচ্ছে। এদিকে বিশ দলীয় জোটের শরীক খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ মোনতাসির আলী তাদের দলের পক্ষ থেকে আলোচায়। যদি বিএনপি এই আসন জোট কে ছাড় না দেয় তারপর ও মোনতাসীর উক্ত আসনে নির্বাচন করবেন।         সিলেট-৬ আসন গোলাপগনজ -বিয়ানীবাজার এই আসনে দল বিএনপি এই পর্যন্ত তাদের পক্ষ কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি। সরেজমিন যানা যায় এই এলাকায় দলের প্রতিষ্টাতা জিয়াউর রহমানের সময় মাত্র একবার একজন প্রার্থী দেওয়া হয় তখন সেই নির্বাচনে দল বিএনপি'র প্রার্থী জয়ী হন। এরপর থেকে দীর্ঘ ২১ বছরে আর কোনে নির্বাচনে দল বিএনপি প্রার্থী দিতে না পারায় স্বতন্ত্র বা জোটগত ভাবে জামাতকে দুইবার ছেড়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সুত্রে মাঠপর্যারে জানা যায় উক্ত এলাকা বিভিন্ন ইসলামী মতাদর্শ হওয়ার সুবাদে উক্ত ইসলামী দলসংগঠন জামাত বিরোধী হওয়ায় দুইবার বিএনপি জোট জামাতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান পরাজয় বরণ করেন। সেই বিষয়টি মাথায় নিয়ে দল বিএনপি তাদের দলের প্রার্থী তারেক রহমানের দির্দেশে সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী তৃনমূল কর্মীবান্দব নেতা ইলিয়াস আলীর প্রস্তাবিব এডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদকে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে দলের হাইকমান্ড বদ্ধপরিকর।  এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসি হওয়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আসন চট্টগ্রাম-২-এ তাঁর স্ত্রী ফরহাদ কাদের চৌধুরী অথবা ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।  সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর আসন ঢাকা-৭-এ তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনাকে প্রার্থী ভাবা হচ্ছে। আর খুলনা-৪ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম দাদুভাই অসুস্থ থাকায় এবং নবম সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া শাহ শরিফ কামাল তাজ রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকায় সেখানে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলালের নাম রাখা হয়েছে। দলীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, আইনি জটিলতায় নবম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও এবার রাজশাহী-৫ আসন থেকে অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা, নাটোর-২ থেকে অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সিরাজগঞ্জ-২ থেকে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং ঢাকা-২ আসন থেকে আমানউল্লাহ আমানকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। সিরাজগঞ্জ-৫-এ মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদেরের স্থানে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও তরুণ শিল্পপতি রকিবুল করিম খান পাপ্পুকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। তা ছাড়া ব্যারিস্টার শাজাহান ওমরকে ঝালকাঠি-১ আসনে নতুন প্রার্থী হিসেবে রাখা হয়েছে। আর ঢাকা-১৮ আসনে মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম  এবং ফরিদপুর-৩ আসনে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও বিকল্প হিসেবে মাহবুবুল হাসান পিংকুকে তালিকায় রাখা হয়েছে। ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যুতে নাটোর-১ আসনে তাঁর স্ত্রী অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার শিরিনকে রাখা হয়েছে তালিকায়। আর স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার মারা যাওয়ায় কুমিল্লা-২ আসন এবং মোজাহার হোসেন মারা যাওয়ায় পঞ্চগড়-২ আসনে নতুন প্রার্থীর খোঁজ চলছে। এই দুই আসনে এখনো যোগ্য কাউকে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর মৃত্যুতে গাজীপুর-৪ আসনে তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর গাজীপুর-১ আসনে স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য (বহিষ্কৃত) চৌধুুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীকে এবং নোয়াখালী-৬ আসনে পদত্যাগ করা কুমিল্লার সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল আজিমকে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।  পাবনা-১ আসনে পেশাজীবী সাংবাদিক নেতা এম এ আজিজকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে বলা হলেও জামায়াত এ আসনে ছাড় দেবে না বলে মনে করছে বিএনপি। এই আসনে জামায়াতের সাবেক আমির, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসি হওয়া মতিউর রহমান নিজামী নির্বাচন করতেন।কিন্তু নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার মোমিন সে নির্বাচন করবেনা বিষয়টি পারিবারিক বিষয় সেই সুবাদে এম এ আজিজ এগিয়ে আছেন। কারণ এখানে বিএনপির ভালো প্রার্থী নেই বিদায় আজিজ এগিয়ে আছেন। এদিকে সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, নজির হোসেন, জহির উদ্দিন স্বপন দলে ফিরে আসায় তাঁদের মনোনয়ন বিষয়ে চুড়ান্ত বরিশাল-১ আসনে জহির উদ্দীন স্বপন। নরসিংদী-৪ আসনে বকুল ও বিকল্প হিসেবে আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল। সুনামগঞ্জ-১ আসনে নজির হোসেন । তা ছাড়া যশোর-৬ আসনে সংস্কারপন্থী নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তি, ময়মনসিংহ-৪ আসনে আরেক সংস্কারপন্থী দেলোয়ার হোসেন দুলুর নাম রাখা হলেও সেখানে অন্য কোনো যোগ্য প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে বলে উল্লেখ  করেছে কমিটি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন,আন্দোলনে যাঁরা ভূমিকা রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন তাঁদের মধ্যে যোগ্য, ত্যাগী ও জনপ্রিয়দের মনোনয়ন দেওয়া হবে। যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মৃত্যু, নিষ্ক্রিয়তা, অজনপ্রিয়তা, সংস্কারপন্থীসহ নানা কারণে এবার মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসবে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor