Space For Advertisement

অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া পঞ্চগড় সেটেলমেন্ট অফিস

অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া পঞ্চগড় সেটেলমেন্ট অফিস

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস। অফিস কর্তাদের অনিয়ম ও অবহেলায় এখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন অফিসে এসে পড়ে যান দালালদের খপ্পরে। জমি-জমা সংক্রান্ত কোন মামলা বা আপত্তি মামলা করতে হলে অফিস নির্ধারিত দালালদের শরনাপন্ন হতে হয় ভূক্তভোগীদের। তাদের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে যাচ্ছে অফিস কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে মুঠোফোনে একটি অভিযোগের খবর পেয়ে সদর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে গেলে জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মহর আলী জমি সংক্রান্ত জটিলতায় পঞ্চগড় সদর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে আসেন। এখানে একজন দালাল কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে তিনি ১০ হাজার টাকা প্রেরণ করেন। টাকা প্রদানের পর কাজ প্রাপ্তির সময় অতিক্রম হয়ে গেলেও তিনি কোন সুফল পাননি। এরইমধ্যে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে বর্তমানে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একটি সূত্র জানায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়। বিচারাধীন জমির মূল কাগজপত্র জমা নেওয়ার পর বিচার শেষে ফেরতের সময় টাকা ছাড়া ফেরত পেয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা কম। প্রতিদিন বিচারের নামে বাদী-বিবাদী উভয়ের কাছে হাজিরা ফি নেওয়া হয় ১শত টাকা হারে। জমির দাগ ভুলের কারণে মামলা বা আপত্তি মামলা প্রতি ৩ থেকে ৫শত টাকা নেয় পেশকার আবু বক্কর সিদ্দিক। এছাড়াও অফিসের নির্ধারিত সময়ের পর কেউ মামলা করতে এলে তাকে গুনতে হয় মোটা অংক, অন্যথায় জমি হাতছাড়া হয়ে যাবে। একজন ভূক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জমির কাগজ এবং দখল আমাদের আছে, সম্প্রতি জানতে পারলাম আমাদের জমির দাবী করে একজন প্রভাবশালী নেতা সেটেলমেন্ট অফিসে মামলা দিয়েছেন। অফিসে গেলে প্রতিপক্ষের দিকে ইশারা করে কৌঁসুলি সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা বলেন, ‘দাঙ্গাবাজ লোক নাকি ওরা, এখানে এসে এমপিকে দিয়ে ফোন দেয়ায়, হুমকির সুরে কথা বলে। ৫ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলো, আমি বলেছি আমার নিয়মের বাইরে কিছু করতে পারবো না।’ আমাকে আরও বলেন, ‘আপনার কাজ হয়ে যাবে টাকা পয়সা বাইরে কেউকে দিবেন না, খরচ করলে অফিসের লোকজনকে দিবেন, যারা আপনার কাজ করে দিবে।’ ভূক্তভোগী ব্যক্তি আরও বলেন, ওরা ৫ লাখ টাকা দিতে চেয়েছে তাই আমি ২০ হাজার টাকা দিয়ে এসেছি আর বলেছি টাকার চিন্তা করবেন না কাজগুলো সঠিকভাবে করে দেন আপনাকে খুশি করবো। বুধবার দুপুরে পেশকার আবু বক্কর ছিদ্দিকের টেবিলে কতগুলো মৌজার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বা কি পরিমান মামলা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এ ব্যাপারে সহকারি সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আবু মুতালেব বিরক্তির সুরে বলেন, পঞ্চগড়ের কোন সাংবাদিক আমার সামনে এসব প্রশ্ন কখনও করেননি। তারা কখনও এসব বিষয়ে জানতে চান না। দরজার সামনে এসে সালাম দেয়, খুব বেশি হলে জিজ্ঞাসা করেন আপনি কেমন আছেন আর পেসকারের সাথে দেখা করে চলে যায়। এখানে অনেক সাংবাদিক আসে পাশাপাশি এনএসআই, ডিএসবির লোকজনও নিয়মিত আসেন দেখা করে চলে যান। টাকা নিয়ে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা বা লেখালেখি করা ঠিক হচ্ছে না আপনার। কথার প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত বন্ধু-বান্ধব, নিকটাত্মীয়দের পরিচয় দিয়ে এই প্রতিবেদককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে থাকেন। কোন এক প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কেউ কি জানে এই মৌজাগুলো শেষ হলে আমাদের আর কোন কাজ থাকবে না, অফিসাররা সারাদিন বসে থাকবে, মাস শেষে বেতন ছাড়া আর কোন ইনকাম থাকবে না।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor