Space For Advertisement

ঘুরে আসুন সেন্টর্মাটিন

ঘুরে আসুন সেন্টর্মাটিন

অঞ্জন আর্চায্য : প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের লীলাভূমি সেন্টর্মাটিন দ্বীপটি বাংলাদেশের সীমানার র্সব দক্ষিনে অবস্থিত। নীল সাগরের ঢেউ আর সুনীল আকাশ একসাথে মিশে গিয়ে যেন এক নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের দৃশ্যপট এঁকে রেখেছে, যা ভ্রমন পিপাসুদের মনকে খুব সহজেই কেড়ে নেয়। বাংলদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন প্রতিটি পর্যটকদের কাছে স্বপ্নের একটি স্পট। এই দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের উত্তর ও পূর্ব অংশে অবস্থিত। যার আয়তন ৮ বর্গকিলোমিটার। 
যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে টেকনাফ অথবা কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যওয়ার জন্য অনেক বাস রয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলে প্যাকেজেও যেতে পারেন। কিন্তু প্যাকেজে গেলে আপনি প্রতারিত হতে পারেন। কারন কক্সবাজারে অনেক বুকিং অফিস আছে। কিন্তু কথা অনুযায়ী কাজ হয় না। তাছাড়া টাকা অনেক বেশি নেয়। এক্ষেত্রে বুকিং অফিস থেকে শুধু যাওয়ার টিকিট কেনাই ভাল। এল সি কুতুবদিয়া, কেয়ারী সিন্দাবাদ, ঈগল-১, কেয়ারী ক্রসসহ বেশ কয়েকটি জাহাজ সকাল ১০ টা টেকনাফ থেকে ছেড়ে যায়, ট্রলারেও যাওয়া যায়। কিন্তু জাহাজে যাওয়া নিরাপদ ও উপভোগ্য। জাহাজ ছাড়ার পর দেখবেন একপাশে সুবিশাল পাহাড় আরেকপাশে সবুজ বন আর জাহাজের চারপাশে গাংচিলদের ঘুরাঘুরি দেখতে দেখতে কখন যে আপানি নাফ নদী থেকে নীল সাগরে পৌছে গেছেন বলতেও পারবেন না। গাং চিলগুলোর জন্য খাবার ও পাউরুটি কিনতে ভুলবেন না। আসলে সেন্টমার্টিন ভ্রমনের প্রথম আর্কষন হচ্ছে গাং চিল। জাহাজ যতই গভীর সমুদ্রে পৌছাবে ঢেউয়ের পরিমান ততই বাড়তে থাকবে। একপাশে মায়ানমার বর্ডার অন্য পাশে নীল সমুদ্রের জলরাশি, তাকাতেই যেন প্রান জুড়িয়ে যায়। টেকনাফ থেকে সেন্টর্মাটিন যেতে প্রায় ২.৩০ মিনিট থেকে ৩.০০ ঘন্টা লাগবে। সেন্টর্মাটিনে পৌছে জাহাজ ঘাট থেকে নেমে ব্রীজের উপর দিয়ে সোজা হাটতে শুরু করুন । ব্রীজ পার হলে দেখবেন অনেক খাবারের দোকন ।
রুম বুকিং : থাকার জন্য সেন্টর্মাটিনে রুমের অভাব নেই। এখানে বাড়ি বাড়ি কটেজ করে রাখা তাই যেকোন একটি কটেজে উঠতে পারেন । তবে সব কটেজেই বিদুৎ এর সুবিধা পাবেন না। সন্ধা ৬ টা থেকে রাত ১১ টা ও দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত জেনারেটর সাপ্লাই দেওয়া হয়। তাই যাচাই করে নেবেন। থাকার জন্য উল্লেখ্য যোগ্য হোটেল হল ব্লু-মেরিন রির্সোট , প্রিন্স হেভেন, সীমানা পেরিয়ে, প্রাসাদ প্যারাডাইস, কোড়াল ব্লু রিার্সোট, লাবিবা বিলাস, পর্যটন হোটেল অবকাশ ইত্যাদি। 
স্পট সমূহ : সেন্ট মার্টিনে চারটি বীচ ও ছেড়াঁ দ্বীপ সহ পাচঁটি স্পট আছে। বীচ ধরে হাটতে থাকলে পুরা সেন্টমার্টিন দ্বীপ ঘুরতে পারবেন। তাছাড়া ভাড়ায় সাইকেল পাওয়া যায় যার মাধ্যমে সেন্টমার্টিনসহ ছেড়াদ্বীপও ঘুরতে পারবেন। সেন্টমার্টিনের উত্তর পাড়ার বীচটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এখানেই সবাই গোসল দেয়। কিন্তু সাবধান বীচটির হাতের ডানপাশে তাকালেই যে মোচড় দেখবেন তা সেন্টমার্টিন এর ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ। 
দারুচিনি বীচটি অত্যন্ত সুন্দর এখানেই হুমায়ন আহমেদের বাড়ি, এটি মূলত একটি কটেজ। ইচ্ছে করলে আপনিও থাকতে পারবেন। নারিকেল বাগান বীচটি ঘুরে আসতেও ভুলবেন না, খুব সুন্দর একটি বীচ। এই বীচ এ শুধু প্রবাল আর প্রবাল। আপনি চারটি স্পট ঘুরার জন্য ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে ভ্যান গাড়ি ভাড়া কারে নিতে পারেন। ছেঁড়াদ্বীপ না গেলে সেন্টমার্টিনের পরিপূর্নতা পাওয়া যায় না। এই দ্বীপের পানি অত্যন্ত স্বচ্ছ যা ৫ ফুট নিচ পর্যন্ত দেখা যায়। পায়ে হেঁটে কিংবা স্পীডর্বোডে করে ছেড়াদ্বীপ ভ্রমন করতে পারেন। 
মনে রাখবেন সেন্টর্মাটিনের হোটেল ছাড়ার সময় ১১ টা। আর জাহাজ ছাড়ার সময় বিকেল ৩ টা। যাওয়ার পূর্বে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নিন। গোসলের সময় হাটু পানির চেয়ে বেশি পানিতে নামবেন না। ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ এড়িয়ে চলুন। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলুন তারা খুবই মিশুক। মোবাইল নেটওর্য়াক পাওয়া যায়। আপনার ভ্রমন হোক আনন্দদায়ক। 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor