Space For Advertisement

বিডিআর ট্রেজেডি-জেঃ মঈনের ব্যর্থতা ও আত্মহত্যার প্রচেষ্টা

 বিডিআর ট্রেজেডি-জেঃ মঈনের ব্যর্থতা ও আত্মহত্যার প্রচেষ্টা

                পিলখানার বিডিআর সদর দফতরে ২০০৯ সালের ২৫/২৬ ফেব্র“য়ারী নির্মম, নিষ্ঠুর, অমানবিক ও ইতিহাসের ভয়াবহতম নারকীয় হত্যাকান্ডের কথা লেখতে গিয়ে ভেসে আসে ৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বাঙ্গাঁলী ইপিআর তাদের স্ত্রী পুত্র পরিজন, দুগ্ধপোষ্য শিশু ও গর্ভবর্তী মহিলাদেরকে পাকহানাদারদের নিষ্ঠুর ও পৈশাচিকভাবে হত্যার কাহিনী। যে মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের পরের দিন ২৬ মার্চের বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালীর ভাষ্যে বিবিসি থেকে প্রচার হয়েছিল পিলখানার লাশের উপর প্রত্যুষে দাঁড়িয়ে পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক জান্তা লেঃ জেঃ টিক্কা খান ও লেঃ জেঃ রাওফরমান আলী পাক জল্লাদদের উদ্দেশ্যে বলেছিল, ঢাকাতো এখন মরা মানুষ খেকো কুকুর, শিয়াল, শকুন ও সেনাবাহিনীর টহল ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না। এরাব সব ংবাবহঃু ঃড়ি যড়ঁৎং ঃরসব ধহফ ও রিষষ মরাব নধপশ ঊধংঃ চধশরংঃধহ ভৎড়স ংযধফবং ড়ভ সরংপৎবধহঃ. অপরদিকে জেনারেল রাওফরমান আলী টিক্কার মতই লাশের উপর দাঁড়িয়ে একটি নিদের্শনায় বলেছিল, (ঞযব মৎববহ ড়ভ ঊধংঃ চধশরংঃধহ রিষষ যধাব ঃড় নব ঢ়ধরহঃবফ ৎবফ) অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের সবুজ চত্ত্বরকে লাল রঙ্গেঁ রঞ্জিত করে দিতে হবে। 

                পিলখানার স্বাধীনতার আগে ও পরে ইপিআর ও বিডিআর সদর দফতরে ইতিহাসের দুটি অমানবিক, লোমহর্ষক ও নিষ্ঠুর ঘটনা সংগঠিত হলেও তেমন পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়না। মানুষ ভেবে পায়না বিডিআর বিদ্রোহের বর্বরতম ঘটনার আগে, পিছে ও নেপথ্যেই বা কী থাকতে পারে। যদিও বিডিআরে ছিল জঝট বা রাইফেল সিকিউরিটি ইউনিট নামের একটি গোয়েন্দা ইউনিট। ইতিহাসের বীভৎস ও ভয়াবহ এ দিনকে ঘিরে আগ থেকেই দেশের সর্বত্র জাতীয় দৈনিক সমুহে ক্রোড়পত্রসহ সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক উদ্যেগে ও বিজিবির সদর দফতর সহ সকল ইউনিটে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তাতে বিশদভাবে স্থান পায় ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল সহ ৫৭ জন অফিসার ও ৭৭ জনের হত্যাকান্ডের নির্মম কাহিনীসহ জানা অজানা অনেক কিছু।  

                এমনিভাবে নিহত হয় বিডিআর এর উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী। প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারীর সাথে প্রথম পরিচয় ঘটে ১৯৮৭ সালের প্রথম দিকে ঢাকা সেনানিবাসে একটি বিবাহ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। তখন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী সেনাবাহিনীর ১২ আর্টিলারী কোরের একজন অঙ্গীভূত চৌকস মেজর এবং রাজশাহী বিডিআর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। পরবর্তী সময় তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরাধীন (ডিজিএফআই) ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমাড্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পত্রপত্রিকায় একজন কলাম লেখক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলাম বিধায় তার সাথে পরবর্তী সময় সু-সম্পর্ক গড়ে উঠে। যতটুকু বুঝেছি তিনি তার কর্তব্যের পরও একজন সংস্কৃতিমনা, সুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, ভালো লন টেনিস খেলোয়াড়, সুপাঠক, হাস্যোজ্জ্বল ও উদার মন মানসিকতার অধিকারী ছিলেন। 
  
                যতদিন দেখেছি বিকাল বেলায় অফিস সময়ের পর তিনি ছিলেন ময়মনসিংহ সাহেব কোয়ার্টারের টেনিস কমপ্লেক্সে অন্যান্যদের মতো নিয়মিত লন টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে। আরো লক্ষ্য করা গেছে সরকারী এমন একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চাকরী করলেও তিনি তার কর্মকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার ও প্রাধান্য দিতেন। কোন শীতিলতা বা গাফিলতি তার অফিসিয়াল কাজে পরিলক্ষিত হয়নি। কর্মে ছিল তার ন্যায়নিষ্ঠা ও আদর্শের ছাপ। শ্রেণী, পেশা ও সাধারণ মানুষের সাথে ছিল তার অভূতপূর্ব সুন্দর ও সানন্দ ব্যবহার। আজকাল প্রায় সময় অনেকের সাথে ১০ টায় সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ থাকলেও বেলা ১২ টাতেও সাক্ষৎ মেলেনা। তারপরও অনেকের হাবভাবে বাঙ্গাঁলী ঘরাণার মনে না হয়ে ইউরোপিয়ান সাদা চামড়ার সাহেব বলে ভাবতে হয়। কিন্তু ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী কোন অবস্থাতেই যেমন সময় দিয়ে মিনিটের কালক্ষেপন করতেন না, তেমনি বাঙ্গাঁলী হয়ে ইউরোপিয়ান কালচারে অপদুষ্ট হতেন না। ময়মনসিংহ ডিজিএফআইয়ে চাকরী করাকালীন সময়ে একবার তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য মালয়েশিয়া গেলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে ২/৩ দিন পর তার সাথে সাক্ষাতের জন্য ফোনে জানালেন। যথারীতি সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে মালয়েশিয়া থেকে আনা একটি গেঞ্জি উপহার করলেন। গেঞ্জিটি অনেক আগেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর খোঁজাখুঁজি করে আর পাওয়া যায়নি। ইচ্ছা ছিল ছেঁড়া গেঞ্জিটি স্মৃতি হিসেবে রেখে দেয়ার। মেজর থেকে রাজশাহীর বিডিআর সেক্টর কমান্ডার লেঃ কর্ণেল, কর্ণেল এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের আগে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ব্রিগেডিয়ার জেনারের বারী ১৯৮৮ সালে ময়মনসিংহের ডিজিএফাই কর্মকর্তা হয়েও ‘৮৮’ ইর নজিরবিহীন বন্যার সময় কিশোরগঞ্জের ভাটী এলাকা ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নেত্রকোনার খালিয়াজুরী, আটপাড়া, মোহনগঞ্জসহ প্রায় জায়গাতেই বন্যার্তদের পাশে থেকে নিবেদিতভাবে কাজ করেন। সেই সময় কিশোরগঞ্জ জেলার কর্মরত ছিলেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ২৫ বেঙ্গঁলের লেঃ কর্ণেল আঃ খালেক, সেকেন্ড ইন কমান্ড (টু আই সি) মেজর সাঈদ। কিশোরগঞ্জ জেলা ত্রাণ পূনর্বাসন সমন্বয় কমিটির সদস্য হিসেবে তাদের সাথে থেকে “৮৮” বন্যার্ত বানে ভাসাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করার প্রত্যক্ষ সুযোগ আজো ভুলে যাওয়ার নয়। সেনাবাহিনীর অফিসার থেকে সিপাহীরা দুর্যোগ, দুঃসময়ে এত পরিশ্রম করতে পারে যা প্রত্যক্ষভাবে না দেখলে বুঝা যায় না। 

                ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাঝে বিডিআর ডিডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারীর সাথে বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় সৌজন্য সাক্ষ্যৎ হয়। তিনি ব্যস্ততার মাঝেও বেশ সময় আমার ও আমার পরিবারের কুশলাদি জেনে নেন। পরিশেষে যথাযোগ্য আপ্যায়ন পূর্বক বারংবার যোগাযোগ করার কথা জানিয়ে আবার তাহার এখানে যাওয়ার কথা বলেন। ফেব্র“য়ারী মাসের ২৫ তারিখ সকাল ৮টায় নিজের কাজে বেড়িয়ে পড়ি। হঠাৎ দেখি রাস্তাঘাটে মানুষ টিভির সামনে ভীড় করছে। তাতে জানতে পারি বিডিআর সদর দফতর পিলখানার বিদ্রোহের মর্মান্তিক ঘটনা। পরের ঘটনা যেহেতু কমবেশী সকলেরই জানা, তাই ২৫/২৬ তারিখের পিলখানার লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনার চিত্র লেখার ভাষ্য, কালিশুদ্ধ কলম ও বাকশক্তি আর নেই। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী সহ অন্যান্যদের চিন্তায় উদ্বিগ্ন ছিলাম। তখন বিডিআর ডিজি জেনারেল শাকিলসহ অনেকের লাশ পাওয়া গেলেও বারীর লাশ পাওয়া যায়নি। পরিশেষে টিভির পর্দায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারীর ক্ষতবিক্ষত লাশ পিলখানার সুয়ারেজ নর্দমা থেকে উদ্ধারের খবর জানা যায়। আজো বারবার মনে পড়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারীর স্মৃতি তর্পন, কথোপকথন এবং সর্বশেষ সাক্ষাতের দুটি কথা যোগাযোগ রাখবেন আবার আসবেন ভুলে যাবেন না। মনে রাখবেন (সধহ রং সড়ৎঃধষ) মানুষ মাত্রই মরণশীল। 

                ২৫ জানুয়ারী বিডিআর সদর দফতরে বিদ্রোহের এ ঘটনা যখন মিডিয়ার মাধ্যমে দেশের মানুষ জেনে গেল তখন দেশের উদ্বিগ্ন ও ব্যাকুল মানুষের বদ্ধমূল ধারণা ছিল সেনাপ্রধান, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত বিদ্রোহকে আয়ত্বে নিয়ে আসবে। এরই মধ্যে মিডিয়ার পর্দায় একটার পর একটা পদক্ষেপ দেখা ও মিডিয়ায় বিভিন্ন জনের কন্ঠে আশার বাণী এমনকি বিডিআর সদর দফতরে পিলখানার গেইট থেকে শুরু করে এ্যালিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, জিগাতলা, ধানমন্ডি ও অন্যান্য জায়গায় সেনা বাংকার ও তাঁবু টানিয়ে সুসজ্জিত সেনাবাহিনী এ সমস্ত তাবুতে অবস্থান করে এবং মিডিয়াতে ঘোষনা করা হলে বিডিআর সদর দফতরের চতুর্দিকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে লোকজন যে যে ভাবে পারে অন্যত্র চলে যেতে থাকে। তারপর নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর লোকজন হ্যান্ড মাইকে ঘোষণাও প্রদান করতে থাকে।

                তখন সবারই ধারণা ছিল সেনাবাহিনীর কমান্ডো বিডিআর সদর দফতরে ঢুকে, বিডিআর বিদ্রোহীদের আর্মসলেস করবে এবং যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আটক অরক্ষিত বিডিআর কর্মকর্তা ও তাঁদের স্ত্রী পুত্র পরিজনকে উদ্ধার করা হবে। মানুষের এ প্রত্যাশা আশা নিরাশার মধ্য দিয়ে ২৫ তারিখের দিন এমনিভাবে চলার পর ঐ রাতেই পিলখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, বিডিআর বিদ্রোহী নামধারী নরপশু, নররাক্ষস ও হায়না নামধারীরা পিলখানায় অবস্থানরত অফিসারদের বাসায় অভিযান চালিয়ে এবং পলায়নরত অনেক অফিসার ও তাদের স্ত্রী পুত্র পরিজনকে ধরে এনে নির্মম নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। মিডিয়াতে দেখা যায় হায়েনারা মাঝে মধ্যে বন্দুকের গুলির আওয়াজ করে ও মাইকে বক্তৃতা দিয়ে আনন্দ ফুর্তির তামাশা করে একটার পর একটা আল্টিমেটাম দিতে থাকে। এরপরও সেনাবাহিনী এসব কিছুর হস্তক্ষেপ না করায় মিডিয়াতে দৃশ্যমান দুর্বিনীত নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা দেশের মানুষ ও বিডিআর এর পরিবার পরিজন ও তাদের আত্মীয়-স্বজন যে যে ভাবে পারে সেনাবাহিনীর আশু হস্তক্ষেপের কামনা করলে, সুচিন্তিত ও তড়িৎ সিদ্ধান্ত না নেয়ার কারণে সব কিছু ভেস্তে যায়। তারপর বিডিআর কর্মকর্তাদের জীবিত পাওয়ার সকল প্রকার আশা ভরসার তিরোধান ঘটে। এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক থেকে একজন প্রবাসী সাংবাদিকের জেনারেল মইনের সাক্ষাৎ তথ্য সূত্র সম্পর্কিত ও একটি সাপ্তাহিকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কেন পিলখানায় ৫৭ জন অফিসার ও অপরাপর ৭৭ 

জনকে নির্মম, নিষ্ঠুরভাবে প্রাণ দিতে হলো, সেনাবাহিনী উর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তার এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে আত্মহত্যা করতে চেয়েচিলেন ওয়ান ইলেভেনের নায়ক, ক্ষমতালোভী জেনারেল মইন উ আহমেদ। সেনা সদরের নিজের অফিস কক্ষেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এজন্য নাকি একটি সুই সাইড নোটও প্রস্তুত করেন ওয়ান ইলেভেন জমানার দোর্দন্ত প্রতাপশালী এই সেনা প্রধান। যিনি এক সময় দেশের প্রচলিত আইন আদালতকে ডিঙিয়ে দুই নেত্রীসহ অনেককেই কারাগারে ঢুকিয়ে ছিলেন। অনেকে বলেন তারেক রহমানের মেরুদন্ড ভাঙার পিছনেও নাকি তারই হাত রয়েছে। রুলস অব প্রেসিড্যান্স ব্যাক করে ক্ষমতার জোরে নিজেই সেনাসদরে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ত্রান সামগ্রী, নগদ টাকা ও চেক গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি সেনা প্রধান হিসেবে ভারতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান মন্ত্রীর ন্যায় লাল গালিচা সম্বর্ধনা পেয়ে ৬টি অথর্ব বৃদ্ধ ঘোড়া এনেছিলেন।  

              এই জেনারেল মইন পিলখানার বিডিআর হত্যাকান্ডের সুস্পষ্ট জবাব তো দূরের কথা, অস্পষ্ট জবাবও দিতে পারছিলেন না। তবে তাতে নিজের অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ক্ষমা চান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ ও দেশবাসীর কাছে। সূত্রে জানা যায় বিডিআর এর এ লোমহর্ষক ঘটনার পর শোক সংক্ষুব্ধ ও বিক্ষুব্ধ সেনা কর্মকর্তাদের চাপের মুখে কিংকর্তব্য বিমুঢ় জেনারেল মইনের মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা আসলেও শেষ পর্যন্ত আবার কি যেন চিন্তা করে তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত থেকে দুরে সরে আসেন। সম্প্রতিক সময়ে নিজের একান্ত জনদের কাছে এমন কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে সাবেক এই ক্ষমতাধর জেনারেল। প্রভুত ক্ষমতায় থেকে দেশে রাজার হালে অবস্থান কালেই একটি বই লিখেছেন তিনি। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ বছর যাবৎ অবস্থান করে আরেকটি বই লেখায় হাত দিয়েছেন জেনারেল মইন উ আহমেদ। আর নতুন বইয়ের বিষয়বস্তু হচ্ছে বিডিআর হত্যাকান্ডের পূর্বাপর নিয়ে। কবে নাগাদ বইটি প্রকাশ হবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ জানা না গেলেও বলা যায়, পতিত ক্ষমতাধর জেনারেল যেহেতু আস্তে আস্তে লিখছেন, তা হয়তো একটু সময় নিতেও পারে। তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্র“য়ারী নৃশংসতম বিডিআর হত্যাকান্ডের পর নিজের একান্ত সহকর্মিদের কাছ থেকে প্রচন্ড চাপের মুখে পড়েন তিনি। ঘটনার দিন দুপুর ১২ টার আগেই বেশীর ভাগ উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইনের সাথে যোগাযোগ করে পিলখানায় আটকে পরা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার বর্গের উদ্ধারের জন্য দ্রুত সেনা অভিযান পরিচালনার তাগিদ দেন। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে সেনা অভিযান পরিচালনা থেকে বিরত থাকেন। সূত্রে আরো জানা যায়, পরদিন ২৬ ফেব্র“য়ারী সন্ধ্যাবেলায় যখন জানা গেল ডিজি থেকে আরম্ভ করে পিলখানায় অবস্থানকারী কোন কর্মকর্তাদের কেহই আর বেঁচে নেই, তখন বিপুল সংখ্যক অকতোভয় দেশ প্রেমিক বিক্ষুব্ধ সেনা কর্মকর্তা তাৎক্ষনিকভাবে ছুটে যান সেনা প্রধানের বাসভবনে। সেখানে জেনারেল মইন উ আহমেদের সাথে দুঃখ ও ব্যাথা বেদনায় প্রচন্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। তখন জেনারেল মইন ছিলেন নির্বিকার ও প্রায় বাকরুদ্ধ। এতে সেনা কর্মকর্তারা আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে সেনা অভিযান না চালানোর পক্ষে তিনি যুক্তি প্রদর্শন করে কোন একটা কিছু বলার চেষ্টা করতেই, কয়েকজন কর্মকর্তা রাগে মার মুখো হয়ে নাকি তেড়ে যান তার দিকে এবং তার জামার কলার টেনে ছিড়ে ফেলেন। 

                জেনারেল মঈন ব্যর্থতা, নাজেহাল ও আত্মহত্যার গ্লানি নিয়ে অতি গোপনীয়ভাবে মার্কিনযুক্ত রাষ্ট্রের জ্যামাইকা এলাকার পাড়ি দিয়ে ১৭৯ নম্বর ষ্ট্রীটের একটি বাড়ীর বেজম্যান্ট ফ্লোরে স্ত্রী পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। যদি তিনি আত্মহত্যা করতেন আমাদের আক্ষেপ থাকতো কারণ বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে তিনি যে “পূর্বাপর” নামক বইটি লিখছেন এ বইটি দেশের মানুষ দেখতে পেতনা। তিনি দুষ্ট কি তুষ্ট সেদিকে না যেয়ে দেশের মানুষ আশা করছে জেনারেল মঈন আহমদের বিডিআর বিদ্রোহ বা বিডিআর হত্যাকান্ডই নয় অন্য কিছুও বিশদভাবে জানার সুযোগ পাবে। যেমন নাকি জেনারেল এম.এ মঞ্জুর নিহত না হলে, রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যার ব্যাপারে যেমনি অনেক কিছু জানা যেত, তেমনি নাটের গুরুদের মুখোশও উম্মোচিত হয়ে যেত। পলাশীর আম্রকাননে বেঈমান মীর জাফরের ষড়যন্ত্রে নবাবের পরাজয় ও পিলখানায় দেশপ্রেমিক বিডিআরদের মর্মান্তিক হত্যাকান্ডকে আলাদা করে দেখা ও ভাবার সুযোগ নেই।  

(এ.কে.এম শামছুল হক রেনু)
লেখক কলামিষ্ট


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor