Space For Advertisement

উন্নয়ন প্রকল্পে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না বৈদেশিক সহায়তার অর্থ

উন্নয়ন প্রকল্পে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না বৈদেশিক সহায়তার অর্থ

মুক্তখবর রিপোর্ট : সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থ ব্যবহার করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাদ যাচ্ছে। মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এখন সেখান থেকে কাটছাঁট করে নামিয়ে আনা হচ্ছে ৫২ হাজার ৫০ কোটি টাকায়। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এ অঙ্ক চূড়ান্ত করে পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এতো বিপুল অর্থের ব্যবহার করতে না পারায় সরকারকে উন্নয়নের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে আসতে হচ্ছে। আর অর্থবছরের ছয় মাস যেতে না যেতেই এডিপি কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু করে ইআরডি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। আর তার মধ্য দিয়ে সংশোধিত এডিপি প্রণয়নের জন্য সব বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প সাহায্য বরাদ্দের প্রাক্কলন নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে এডিপি বরাদ্দের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ব্যয়ের ভিত্তিতে সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্পভিত্তিক বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁট হচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে। বিপরীতে বরাদ্দ বাড়ছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের। সূত্র জানায়, সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এডিপিতে যথাযথবাবে বৈদেশিক অর্থ যে ব্যবহার করতে পারছে না তা প্রমাণিত। আর সংশোধিত এডিপিতে যে লক্ষ্য ধরা হচ্ছে অর্থবছর শেষে ওই টাকাও ব্যয় করতে পাড়বে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা আছে। কারণ সামনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়েছে। ওই সময় কর্মকর্তারা স্থিতিশীলতা রক্ষার দিকেই বেশি মনোযোগী থাকবে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে তেমন মনোযোগ থাকবে না। আর প্রতি বছরই এভাবে এডিপির লক্ষ্যমাত্রা ভুল প্রমাণিত হলে বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না। অথচ অর্থবছরের শুরু থেকেই যদি উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক বরাদ্দ ব্যবহারে সিরিয়াসভাবে কাজ করা হতো তা হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। বরং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধরেই নেয় এডিপির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন হবে না।  সূত্র আরো জানায়, সংশোধিত এডিপিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বরাদ্দ হচ্ছে- কৃষি মন্ত্রণালয় ২৮৫ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ ৬১৩ কোটি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ৩৯৩ কোটি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণায় সাড়ে ২৭ কোটি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২ হাজার ২৬২ কোটি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ৫৯৯ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৭৫ কোটি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ১৮৮ কোটি, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৭ হাজার ৬২৩ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ৭০০ কোটি, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ৬ হাজার ১৪২ কোটি, সেতু বিভাগ ১ হাজার ৭৫৫ কোটি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৯৪৯ কোটি, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৮ কোটি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ১১ কোটি, তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১ হাজার ৯৯৩ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ ৭ হাজার কোটি, খাদ্য মন্ত্রণালয় ২০৮ কোটি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ ৭৩ কোটি, ভূমি মন্ত্রণালয় ২২ লাখ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৫৫১ কোটি, আইন ও বিচার বিভাগ ১০ কোটি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১৫১ কোটি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৫১ কোটি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২৭ কোটি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ৩৭ কোটি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ১৫৬ কোটি, তথ্য মন্ত্রণালয় ১৯ কোটি, নির্বাচন কমিশন ৪৪৯ কোটি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ৩৯ কোটি, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ২৮৩ কোটি, আইএমইডি ৩৩ কোটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেড় কোটি, সংসদ সচিবালয় ৭৫ লাখ, বিদ্যুৎ বিভাগ ১১ হাজার ৯৬ কোটি, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ ৪২৯ কোটি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ১১০ কোটি, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ৪০ কোটি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৯০ লাখ, শিল্প মন্ত্রণালয় ১০ কোটি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৬০ কোটি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৩৩৮ কোটি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৩ কোটি, নিরাপত্তা সেবা বিভাগ ৬০ কোটি, জননিরাপত্তা বিভাগ সাড়ে ৭ কোটি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুকূলে বরাদ্দ থাকছে এক কোটি টাকা। তাছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে এক হাজার ১৫৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে যেসব কারণে বরাদ্দ ব্যবহার করা যাচ্ছে না তার মধ্যে অন্যতম হলো- কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, দরপত্র মূল্যায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ, দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাব, উন্নয়নসহযোগীদের প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন অনুসরণ করে মালামাল ক্রয়ে অসুবিধা, ঠিকাদারদের পেশাদারিত্বের অভাব, ভৌত নির্মাণ কাজের ধীরগতি, চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়াই কার্যক্রম চালু রাখা, প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে দ্রব্যের মান ও মূল্য নির্ধারণে অদূরদর্শিতা এবং পরামর্শক সংস্থার ওপর অতি নির্ভরশীলতা। এদিকে এ বিষয়ে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ফরিদা নাসরিন জানান, সংশোধিত এডিপিতে মোট টাকার অঙ্কের আর কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ কম-বেশি হতে পারে। এই প্রক্রিয়া চলমান। এমনকি সংশোধিত এডিপি অনুমোদন হওয়ার পরও এরকম করা হতে পারে। গত অর্থবছর কমেছিল ৭ হাজার কোটি টাকা। সে তুলনায় এ অর্থবছর কম কমছে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর প্রায় সব প্রকল্প থেকে বিদেশিরা চলে যায়। তাদের ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় লেগেছিল। সেই প্রভাব চলতি অর্থবছরেও রয়েছে।

 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor