Space For Advertisement

সকিনার বাঁচার আকুতি

সকিনার বাঁচার আকুতি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: প্রায় ৮ মাস আগে বাম পায়ে ব্যাথা শুরু হয়েছিলো গৃহবধু সকিনা বেগমের(৪০)। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষুধ খাওয়ার পর ব্যাথা ক্ষনিকের জন্য সেরে যায়। অসুস্থ্য হোটেল শ্রমিক স্বামী আর তিন সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন পার করা একটি অসহায় পরিবারের পক্ষে ভালো চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নেয়াটা কোন ভাবেই সম্ভব ছিলো না। ধীরে ধীরে সেই ব্যাথা দীর্ঘ স্থায়ী হতে শুরু করায় ঠিকমত হাঁটার আর উপায় ছিলো না। অনেক কষ্ট করে খুড়িয়ে খুড়িয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মত ঔষুধ খেয়েও কোন কাজ হয় না। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকের কাছে যেতে বলেন তারা।  এতে যেন সকিনা বেগমের স্বামীর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। কিভাবে রংপুরে চিকিৎসা করাবেন। যাদের রংপুরে যাওয়ার মত টাকা নাই আর ডাক্তার দেখাবেন। অর্থের অভাবে এমন দোটানায় এতদিনে সকিনা বেগমের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যায়। সেখানে জন্ম নিয়েছিলো টিউমার আর তা ঠিক মত চিকিৎসা না করায় যা পরবর্তীতে ক্যান্সারে রুপ নেয়। তবে সেটা সকিনা বা তার পরিবারের সবার কাছে ছিলো অজানা।  উত্তরের সীমান্ত-বর্তী লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার খিড়া বেচা টারী গ্রামের হোটেল শ্রমিক একরামুলের স্ত্রী সকিনা। একরামুলও দীর্ঘ দিন থেকে অসুস্থ্য। ৪ শতক জমির উপর দুইটি ঘর তুলে চার ছেলে মেয়েকে নিয়ে কোন রকম বাস করে আসছিলেন তারা। বড় মেয়ের বিয়েও দিয়ে দেন।  এমতাবস্তায় রংপুরে যাওয়ার জন্য টাকা না পেয়ে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দ:গড্ডিমারী গ্রামের বসিন্দা সকিনার বড় ভাই আব্দুর রহমানের সরনাপন্ন হলে তিনি কিছু টাকা যোগাড় করে রংপুরে নিয়ে যান। রংপুর মেডিকেল কলেজের অর্থো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ.এম এনামুল বাশারে কাছে গেলে তিনি সকিনাকে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন।  পরে ১৭ জানুয়ারি তাকে ভর্তি করানোর পর চিকিৎসক পরিক্ষা নিরিক্ষা করে দেখেন টিউমারের ফলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে এবং তা কেটে ফেলতে হবে।  আগামী (৪ মার্চ) রবিবার অপারেশনের সময় ঠিক করা হয়েছে বলেও পরিবারটি জানায়। এছাড়া তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজের অর্থো সার্জারি বিভাগের ৩২ নম্বর কেবিনে রয়েছেন। কিন্তু অপারেশনের জন্য তাদের হাতে কোন টাকা নেই। এর মধ্যে ভাই রহমান তার চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেছে। তাদের আর কোন ভাবেই সম্ভব নয় এই টাকা যোগাড় করা। যা ছিলো তাতো চিকিৎসা করেই শেষ করে ফেলেন। এখন অপারেশন, চিকিৎসা ঔষুধ সব মিলে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মত লাগবে।  তাই সমাজের বিত্ত বানদের সহযোগীতা কামনা করছেন ওই পরিবারটি।   এ ব্যাপারে সকিনার ভাই আব্দুর রহমান জানান, আমি যতদূর সম্ভব করেছি। এতে তাদের যা টাকা পয়সা ছিলো তা শেষ করেও আমি ব্যক্তিগত ভাবে ৫০ হাজারের মত খরচ করেছি। এখন পা টি কেটে না ফেললে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। তাই সকলের সহযোগী কামনা করছি।  সকিনার অসুস্থ্য স্বামী একরামুল জানান, আমার যা ছিলো সব শেষ। তার বড় ভাইয়ের সহযোগীতায় এতদুর এসেছি। তবে অপারেশনের করানো মত অর্থ কারোই পক্ষে বহন করা সম্ভব না। আপনারা যদি সহযোগীতা করেন তাহলে হয়তো পা কেটে ফেললেও তাকে বাঁচানো যাবে। এ বিষয়ে সকিনার ভাতিজা আপেল জানান, আমার বাবা যতদুর পেরেছেন তার চিকিৎসা জন্য ব্যয় করেছেন। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে তার অপারেশন করানোর মত টাকা আমরা যোগাড় করতে পারি নাই। টাকা না হলে অপারেশন করাতে পারবো না। তাই সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে হয়তো আমার ফুপুকে আমরা বাঁচাতে পারবো।  অর্থো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এনামুল বাশার বলেন, পায়ে টিউমার হয়েছিলো। কিন্তু তারা সময় মত ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ না নেয়ায় তা ক্যান্সারে রুপ নিয়েছে। যদি পা কেটে ফেলা না হয় শরীরে ক্যান্সার আক্রমন করবে। 

 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor