Space For Advertisement

২৫ মার্চের কালো রাতে হানাদার বাহিনীর ভয়াবহ নৃশংসতা

২৫ মার্চের কালো রাতে হানাদার বাহিনীর ভয়াবহ নৃশংসতা

এত বছর অতিবাহিত হলেও আজো ৭১ সালের ২৫ মার্চের বিভীষিকাময় কালো রাতের নিহতদের সম্মানে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও ইপিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতর পিলখানার পাশ দিয়ে যাওয়া আসার সময় তাদের স্মৃতি স্তম্ভ দেখে এখনো স্তম্ভিত হয়ে যেতে হয়। পাষাণ হৃদয়ও ঠিক থাকতে পারেনি। অনেকের মতো বেদনা বিদুর ও অশ্র“ ভরাক্রান্ত মন নিয়ে এমনিতেই থমকে দাঁড়াই। মনে পড়ে জল্লাদ পাক বাহিনীর হাতে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র অবস্থায় ২৫ মার্চের বিভীষিকাময় নিশিত কালোরাতে বন্দুক, রাইফেল, এসএমজি, এসএলআর, এলএমজি, ট্যাংকের গুলি ও বেয়নেটের মাধ্যমে পুলিশ, ইপিআর, সেনাবাহিনী তাদের পরিবার পরিজন সদ্যজাত কোলের শিশুসহ মার্তৃগর্ভাদের নির্মম নিষ্টুরভাবে হত্যার কথা। যা থেকে মনকে কোন অবস্থাতেই সরিয়ে নেয়া যায় না। আজো কানে ভেসে আসে বেঁচে যাওয়াদের উক্তি থেকে তাদের বাঁচাও, বাঁচাও গগণ বিদারী আর্তনাদ। ভেসে আসে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ ও নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর ধ্বনি। সেই কালো রাতের নির্মমতা ও লাশের মধ্য হতে কোন মতে বেঁচে যাওয়া ভোক্ত-ভোগীদের স্মৃতিকথা ও তর্পন থেকে হানাদার বাহিনীর মর্মস্পর্শী, নিষ্টুর, নির্মমভাবে হত্যার কাহিনী শুনে। যা শুনে আজো শরীর তরতর করে কাঁপে বাকশক্তি এমনিতেই রুদ্ধ হয়ে যেতে চায়। তদোপরি এ নিবদ্ধটি লেখার সময় বারবার এ নিষ্টুর ঘটনা মনে পড়ে যাওয়ায় কলম রেখে অশ্র“ মুছে নিতে হয়েছে। ৭১ সালে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজের প্রথমবর্ষের ছাত্র ছিলাম। সেদিন ছিল ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল। সকালে ঘুম থেকে উঠে, রাস্তার অগণিত মানুষের জটলা দেখে কাছে গিয়ে জানতে পারি, পাকহানাদার বাহিনী নিশিরাতে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র অবস্থায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ইপিআর সদর দফতর পিলখানা ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অগণিত পুলিশ, ইপিআর, সেনাবাহিনী ও তাদের পরিবার পরিজনদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ঢাকা শহরে লাশের পর লাশের স্তুপ এবং রাস্তাঘাট মানুষের রক্তে কাদাপানির মতো রক্তাক্ত হয়ে গেছে। নাই কোন জনমানব। আছে শুধু লাশ আর লাশ। বেওয়ারিশ কুকুর ও হানাদার বাহিনীর বিচরণ। বিবিসিতে এ সংবাদ নাকি প্রতুৎষেই প্রচার করা হয়েছে। মানুষের মুখে এ কথা শুনে কেহই স্থির থাকতে পারেনি। তদোপরি এ সমস্ত দফতরে যাদের ছেলে মেয়ে, স্বামী, ভাই ও আত্মীয়-স্বজনরা কর্মরত ছিল, তাদের কি অবস্থা হতে পারে, যা এ নিবন্ধে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না। ২৬ মার্চ সূর্য উঠার পর থেকে ঘড়ির কাঁটায় সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই পিলখানা, রাজারবাগ, ক্যান্টনমেন্টসহ দেশের অন্যান্য স্থানে ঘাতক পাক হানাদারদের বীভৎসতার আরো খবর ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিবিসি, ভোয়া, আকাশ বাণী, জার্মানী সহ অন্যান্য দেশের রেডিওর খবরে আসতে থাকে এ নৃশংসতার সংবাদ। এদিকে ঢাকায় অবস্থিত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া বিবিসি ডেক্সের প্রখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালির ভাষ্যেও চলে আসে,

২৫ মার্চ কালো রাতের নির্মম, নিষ্টুর, নৃশংস হত্যাকান্ডের বিবরণ। দেশের সকল শ্রেণী পেশার শত শত মানুষ খাওয়া নাওয়া ছেড়ে বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা (ভোয়া) ও রেডিও আকাশ বাণীর খবর শুনার জন্য এখানে সেখানে রেডিওর কাছে ভীড় করতে থাকে। শহরের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে ধাবিত হয়। অনেকের মতো নিজেও গ্রামে চলে যাই। গ্রামে গিয়ে দেখি ঢাকা থেকে রিফুজির মতো শত শত নারী পুরুষ, কিশোর, যুবক, শিশুসহ আবাল বৃদ্ধা বণিতা যে যেভাবে পারে রেলপথ ও সড়ক পথে পায়ে হেঁটে রিক্সায় করে যার যার গন্তব্যে ছুটে আসছে। পথে ঘাটে ও রাস্তায় রাস্তায় এলাকার সকল পর্যায়ের লোকজন ঢাকা থেকে ছুটে আসাদের সেবা-যতেœর ব্যাপারে গুড়, মুড়ি, চিড়া, খিচুড়ি, পানি ইত্যাদির ব্যবস্থাসহ তাদের প্রাথমিক চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে যেভাবে পারে সেবা যতেœর কমতি করেনি। সেই সময় ঢাকা থেকে গন্তব্যে ছুটে আসাদের কাছ থেকে ২৫ মার্চ কালো রাতে পাক বাহিনীর নৃশংসতা শুনে কেহই যেমনি স্থির থাকতে পারেনি তেমনি চোখের পানিও সংবরণ করতে পারেনি। মনে হয়েছে গোঠা দেশটা যেন মানুষের চোখের পানিতে ভাসছে। যারা পথে পথে এ বর্ণনা দিচ্ছে, তারাও অঝোর ধারায় কাঁদছে। অনেকেই বলছে, ঢাকা শহর তারা লাশের উপর দিয়ে হেঁটে আসছে। রাস্তায় কাদাপানির মতো রক্তের চুবচুব অবস্থা। লাশগুলো শৃগাল, কুকুর, শুকুনের খোড়াক হয়ে গেছে। বীভৎসতার বর্ণনা করতে যেয়ে আরো বলা হয়েছে ঢাকা শহরে হানাদার পাকবাহিনী প্রথমে রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ইপিআর সদর দফতর ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আক্রমন করে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, মহিলা হোস্টেল ও বিভিন্ন সরকারী স্টাফ কোয়ার্টারে বুলেট ও ট্যাংকের গুলি চালিয়ে চোখের পলকে নৃশংসভাবে হত্যা করে বসবাসকারীদের। তাদের কথা ঐদিনই সান্ধ্য বিবিসি, ভোয়া ও আকাশ বাণীর খবরেও প্রচারিত হয়। এ খবর কালুর ঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করা হলেও শর্টফ্রিকোয়েন্সির কারণে অনেক সময় তা শুনতে শ্রোতাদের অসুবিধা হয়। যে সমস্ত পুলিশ, ইপিআর, সেনাবাহিনীর হাতে কমবেশী ছোট খাট অস্ত্র ছিল তা দিয়ে মরণ প্রাণ বাধা দিয়ে যতটুকু সম্ভব তারা হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করতে সাময়িক সচেষ্ট হয়। যদিও সুকৌশলে আগেভাগেই বাঙ্গালী পুলিশ, ইপিআর ও সৈনিকদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হয় এবং গোলা বারুদ ও অস্ত্রাগার পাঞ্জাবীদের কব্জায় নেয়া হয়ে থাকে। ২৫ মার্চের কালো রাতেই রাজেন্দ্রপুর জয়দেবপুর সমরাস্ত্র কারখানায় কর্মরত বাঙ্গালী অফিসার, সৈনিক সহ রাজেন্দ্রপুর, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রংপুর, কুমিল্লা ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে শতশত সৈনিক ও দেশের বিভিন্ন পুলিশ ছাউনিতে, ইপিআর ছাউনিতে হানা দিয়েও ঢাকার মতো হৃদয় বিদারক হত্যাকান্ড সংঘটিত করে থাকে। দিন যতই অতিবাহিত হতে থাকে পুলিশ, ইপিআর, সেনাবাহিনীর কর্মরত স্বজন, ভাইবোন, পিতামাতা, ছেলেমেয়ে চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়ে। আমাদের সাথে কলেজের একই শ্রেণীর সহকর্মি শিক্ষার্থী ২৭ মার্চ জানতে পারে, তার পিতা পিলখানা সদর দফতরে ইপিআরে নায়েক সুবেদার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ২৫ মার্চের কালো রাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারায়। তাছাড়া ষ্টাফকোয়ার্টারে মা, ছোট বোনও বুলেটের আঘাতে নিহত হয়। এ যাতনা সহ্য করতে না পেরে বন্ধবর সহকর্মি শিক্ষার্থী এরফান চৌধুরী সিলেটের গ্রামের বাড়ীতে ২৭ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এরফান চৌধুরী ছিল খুবই মেধাবী ছাত্র ও সাহিত্যিক, রাজনীতি বিমুখ ও সহজ সরল। সে গুরুদয়াল কলেজ হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করতো। শিক্ষক, শিক্ষিকা ও সহপাঠিদের কাছে সে ছিল খুবই জনপ্রিয় ছাত্র। সহকর্মি শিক্ষার্থীদের কাছে আজো তার অম্লান স্মৃতি প্রতিনিয়ত ভেসে উঠে। যা ভুলা যায়না। কবির কন্ঠে বলতে হয়, মরণের পরপারে যেই দেশে যেই বেশে যাই, তোমাকে যেন দেখিবারে পাই। এরফান চৌধুরীর মতো পিতার শোকে এমনিভাবে কত যে হৃদয় বিদারক ঘটনা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘটেছে তার খোঁজখবর রাখেই বা কজনে। কালো রাতের লোমহর্ষক মর্মান্তিক ঘটনার পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষমকে হারিয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে অগণিত পরিবার। স্বজন হারানোদের ব্যথায় আজো দিশেহারা অনেকেই। দেশমাতৃকার অকুতোভয় সূর্য সৈনিকদের মধ্য হতে যারা লাশের ভিতর থেকে বেঁচে গিয়েছিল যারা রাজারবাগ, পিলখানা ও ক্যান্টেনমেন্ট থেকে যেনতেনভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালিয়ে ছিল তারা এলাকার ছাত্র, যুবক ও তরুণদের সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দান করে। তারাই আনসার ও পুলিশদের সহযোগীতায় দেশের অভ্যন্তরে প্রশিক্ষণ দিয়ে পাকবাহিনীর চলার পথে ব্যুহ সৃষ্টি করে। রাস্তাঘাট, কালভার্ট, সেতু ধ্বংস করে দেয়ার ব্যবস্থা করে। এপ্রিলের  প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে ছাত্র, যুবক ও তরুণদের উজ্জীবিত করে তাদেরই নেতৃত্বে ও অনুপ্রেরণায় মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে নিয়ে যায়। এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকার পিলখানা ও রাজারবাগ থেকে বেঁচে আসা এলাকার ইপিআর নায়েক মমতাজ ও পুলিশের নিয়ামত হাবিলদারের নেতৃত্বে স্কুল কলেজের ছাত্র, যুবক ও তরুণসহ প্রায় ৪৫ জন ভারতে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য রওয়ানা দিলে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন আঠারবাড়ির জমিদার বাড়ী সংলগ্ন কালবালুয়া বাজার হয়ে রায়বাজার অতিক্রম কালে পাকবাহিনী অনেককে ধরে ফেলে। গ্র“পের পিছনে থাকার কারণে আমরা ১৫/১৬ জন প্রাণে বেঁচে যাই। পরবর্তী সময় নৌপথে ধরমপাশা ও তাহেরপুর হয়ে ভারতের টেঁকের ঘাট ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প মহিষখলায় যাওয়া হয়। যেখানে গিয়ে জানতে পারি, পাকবাহিনী কর্তৃক ধৃত সহকর্মী কাশেম, জব্বার, আঙ্গুর, সবজালী, গোলাপ, নিয়ামত সহ অনেককে গচিহাটার ধুলদিয়া ব্রীজে পাকবাহিনী গুলি করে হত্যা করে। এর মধ্যে ৩/৪ জন নদীতে ঝাপ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যায়। তাদের মধ্যে বেঁচে যাওয়া কটিয়াদী থানাধীন বন্দী গাঁয়ের হুমায়ুন কবীর  একজন প্রখ্যাত বিমান ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সপরিবারে বসবাস করে আসছে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এতকিছুর পরও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সংগঠিত স্বাধীনতার যুদ্ধের মূল্যায়ন না করে হিন্দুস্থান ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ আখ্যা দিয়ে ১৯৭২ সালের ৩ জুলাই ভুট্টো ইন্দিরার মধ্যে অনুষ্ঠিত সিমলা চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানের পরাজিত ও খুনী যুদ্ধাদের নিঃশর্তভাবে ক্ষমা করে পাকিস্তানে ফেরত দেয়া হয়। যদি এ দেশের মাঠিতে য্দ্ধুাপরাধীদের বিচার করা হতো, তবে নিহত পুলিশ, ইপিআর, সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের বেঁচে থাকা পিতামাতা, ভাইবোন, স্ত্রী পুত্র পরিজন যেমন পেত স্বস্থি তেমনি এদেশের নির্যাতিত মানুষও পেত মনের জ্বালা যন্ত্রণা নিরসনের নিয়ামক, বেঁচে থাকার শান্তি ও মনকে বুঝানোর অমিয় শক্তি। এত বছর অতীত হলেও, আজ একটাই প্রশ্ন যারা সুস্থ মস্তিকে হাঁসতে হাঁসতে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, যারা মা বোনের ইজ্জত পদদলিত করেছে, পিতামাতাকে সন্তান হারা ও বুকখালি করেছে, যারা স্ত্রীকে স্বামী হারা, সম্ভাবনাময় সন্তানদেরকে এতিম করে, শিক্ষা দীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে পথের কাঙ্গাঁল করেছে, সেই কুলাঙ্গাঁর পিশাচদেরকে নিঃশর্ত ক্ষমার মাধ্যমে মুক্তি দিয়েছে কারা ? এ প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোন দিনই পাওয়া যাবেনা।  রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দফতর ও ঢাকা সেনানিবাসসহ বিভিন্ন জায়গার স্মৃতিফলকে যদিও তাদের নাম রয়েছে, সেই কালোরাতে নিহতদের পরিসংখ্যান ও সঠিক তালিকা এতদিন পরেও লক্ষ্য করা যায়নি। যেহেতু আজো কর্মস্থলে তাদের নাম পদবী সম্বলিত তালিকা রয়েছে। সেহেতু ভোক্তভোগী পরিবারের লোকজন ও দেশের মানুষ নিহতদের একটি সঠিক তালিকা প্রত্যাশা করে থাকে। তদোপরি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতা, রেশন, চাকুরীর কোঠা, বীরঙ্গনা মা বোনদের জন্য যেমনিভাবে ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তেমনিভাবে ২৫ মার্চের কালো রাতে যে সমস্ত পুলিশ, ইপিআর, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারী হানাদার পাকবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছে, তাদের পরিবারের জন্য ভাতা রেশন ও চাকরির কোটা সিস্টেম অত্যাবশ্যক বলে অভিজ্ঞমহল ও ভোক্তভোগীরা মনে করে থাকে। পরিশেষে আবারো বলব, মৃত্যুক্ষণে তাদের বাঁচাও বাঁচাও আর্তনাদ আজো ভুলা যায়না। এতদিন পরে হলেও, ভোক্তভোগীদের স্বস্থি ও প্রশান্তি না আসলে, অশান্ত মনকে শান্তনা দেয়ার একটাই উপায়। তা হচ্ছে, কবির কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলা- “উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই ওরে ভয় নাই, নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই। 

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor