Space For Advertisement

সমস্যার বেড়া জাঁলে বন্দি পাট অধিদপ্তর ॥ উত্তরনে নেই কোন পদক্ষেপ

সমস্যার বেড়া জাঁলে বন্দি পাট অধিদপ্তর ॥ উত্তরনে নেই কোন পদক্ষেপ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩  মার্চ ২০১৮ (কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা) : পাটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং পাটের বৈদেশিক বাণিজ্য তদারকির জন্য তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের অধিনে ১৯৫৩ সালে জুট বোর্ড গঠিত এবং প্রণীত হয় পাট অধ্যাদেশ। ১৯৬২ সালে পাট অধিদপ্তর গঠনের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৪২ বছর ছিল পাটের সোনালী অধ্যায়। সৌর্য-বির্যে, বৈদেশিক রপ্তানি আয়ের মূল চালিকা শক্তিই ছিল পাট এবং স্বভাবত এই কারণে সাবেক পাট পরিদপ্তরের পরিচিতি ছিল যেমন, তেমন জনবলও ছিল অধিক সমাদৃত ও সরকারি সকল কাজ বাস্তবায়নে প্রধান সহযোগি দপ্তর। অধিদপ্তরে প্রকল্পের জনবল ১৯৯৬ সাল হতে ক্রমে ক্রমে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ায় এবং তাদের অপতৎপরতা মাঠ পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলা কর্মকর্তা, মুখ্য পরিদর্শকগণদের পদমর্যাদা তথা পাট অধিদপ্তরের মূলস্্েরাতধারার সকল পর্যায়ের অতি কর্মদক্ষ জনবলদের সামাজিক মর্যাদা এবং অধিদপ্তরের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হতে শুরু করে এবং অদ্যবধি তা অব্যাহত ভাবে চলছে। বেশীর ভাগ মুখ্য পরিদর্শকগণসহ সকল পদের অগণিত জনবল ৩২-৩৪ বছর একই পদে চাকুরী করে অনেক কষ্ট আর হতাশায় ডুবে অবসরে চলে গিয়েছে শুধুমাত্র অনাকাংখিত প্রকল্প জনবলদের অপতৎপরতায় । বর্তমানে যারা ‘মুখ্য পরিদর্শক’ পদে কর্মরত আছেন তারা এখন প্রকল্পের জনবলদের স্বেচ্ছাচারিতায় এবং অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তাদের নীতিহীন পক্ষপাতিত্ব আচরণে ভাষাহীন মানবেতর কর্মজীবন অতিবাহিত করছে। প্রকল্পের জনবল সুদূর প্রসারি পরিকল্পনায় পাট অধিদপ্তরের জনবল সংকট সৃষ্টি করে রেখেছিল আজকের প্রেক্ষাপট পাট অধিদপ্তরের সর্বত্র তাদের আধিপত্য বিস্তার। অস্থায়ী রাজস্বখাতভুক্ত জনবলদের যে পদ অধিদপ্তরের চলমান সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নেই। অফিস বিন্যাস নেই, অধিদপ্তরের রুলস অব বিজনেস’ এ যে পদের কাজ নেই সেই জনবল কি ভাবে পদায়িত হয় এবং দাপ্তরিক দায়িত্ব প্রাপ্ত হয় ? স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকল্পের জনবল রাজস্বখাতে পদায়িত হতে পারে না। ইচ্ছানুযায়ী বেতন নির্ধারণ করলেই ১ম ও ২য় শ্রেণীর পদমর্যাদা প্রাপ্ত হওয়া যায় না। যা বর্তমানে পাট অধিদপ্তরে বিদ্যমান এবং প্রকল্পের সহকারী পরিচালক (সমন্বয়) গণকে রাজস্ব খাতের সহকারী পরিচালকের কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসাবে নীতিবহির্ভূত ভাবে পদায়িতকরণ। উন্নত পাট ও পাটবীজ উৎপাদন কাজ কখনোই সাবেক পাট পরিদপ্তর ও বর্তমানে পাট অধিদপ্তরের রুলস অব বিজসেন এ ছিল না, এটা ছিল অধিদপ্তরের প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে দেশের পাটচাষীর মধ্যে হতে মাত্র ৫% পাট চাষীদের উদ্বুদ্ধকরণের একটা প্রয়াস। উন্নত পাটের জাত উদ্ভাবনকারী প্রতিষ্ঠান বিজেআরআই, চাষীদের সকল প্রকার ফসলের চাষাবাদের পরামর্শক এবং উন্নত জাতের বীজ উৎপাদনকারী বৃহত্তর জনবল সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকৃত কার্যাবলী, বিলুপ্ত হয়ে যাবে প্রণীত আইন ও বিধি তথ্য অবমুল্যায়ন এর কারনে পাট অধিদপ্তরের মূল চালিকা শক্তি রাজস্ব আদায়ে ও সকল আইন ও বিধি বাস্তবায়নের অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মাঠ পর্যায়ের মূল¯্রােতধারার মুখ্য পরিদর্শক, পরিদর্শক (পাট) ও সহকারী পরিদর্শক পদবীর জনবল। 
অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সাবেক মুখ্য পাট পরিদর্শক ও বর্তমানে সহকারী পরিচালকদের মতে, পাট অধিদপ্তরের ‘উফশী পাট ও পাটবীজ উৎপাদন (২য় পর্যায়ে)’ শীর্ষক সমাপ্ত প্রকল্পের জনবল সর্বোচ্চ অনিয়মতান্ত্রিক পন্থায় মিথ্যাকে সত্য এবং সত্যকে মিথ্যায় রূপান্তর করে রাজস্ব খাতে এসেছে। গত ১৯/০৯/২০১৭ইং তারিখে ঐ সকল জনবলের চাকুরী রাজস্বখাতে নিয়মিতকরণ ও জ্যোষ্ঠতা নির্ধারণে নিয়োগবিধি পরিক্ষণ সংক্রান্ত উপ-কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পের জনবল ঐ সভা পাট অধিদপ্তরকে পাশ কাটিয়ে করতে চেয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। প্রকল্পের জনবলদের অবৈধতাকে বৈধতা দানে সমন্বয় কর্মকর্তা , মনিটরিং এন্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার, জেডিওগণ বস্ত্র ও প্রকল্পের জনবলদের চাকুরী রাজস্বখাতে বিধিবর্হির্ভূতভাবে নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে নিয়োগবিধি পরিক্ষণ সংক্রান্ত উপ-কমিটির সভায় অনেক সত্যকে আড়াল করা হয়েছে এবং অনেক সাজানো তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। কার্যবিবরণীর ৩.০৫ নম্বর অংশে বলা হয়, প্রকল্পের ধারাবাহিকতার সমাপ্ত সমন্বিত উফশী পাট ও পাটবীজ উৎপাদন (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প। ১৯৯৪ সাল হতে জুন ২০০৭ সাল পর্যন্ত পিপি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে একাধিক প্রকল্প একাধিক মেয়াদে বাস্তবায়ন হয়। প্রকল্পের জনবল পদবীর ভিন্নতা আড়াল করা হয়েছে। ১৯৯৪ সাল হতে জুন, ২০০২ সাল পর্যন্ত মেয়াদের প্রকল্পের জনবল পদবী এবং জুলাই ২০০২ হতে জুন, ২০০৭ পর্যন্ত মেয়াদের প্রকল্পের জনবল পদবীর ভিন্নতা রয়েছে, জেডিএম পদ থেকে জেডিও পদ ইত্যাদি। ধারাবাহিকতাহীন চাকুরীকাল আড়াল করে সমস্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় প্রমাণিত জুন, ২০০২ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে মাঠ পর্যায়ের প্রকল্পের অফিস সমূহ বিলুপ্ত করা হয় এবং প্রকল্পের জনবলদের গ্রাচুয়েটিসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি এককালীন প্রদান করে তাদের বিদায় দেওয়া হয়। বিলুপ্ত প্রকল্প অফিসের মালামাল সহকারী পরিচালক ও মুখ্য পরিদর্শকের কার্যালয়ে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ০৮ জুন ২০০৩ সালে একনেকে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রকল্প ‘সমন্বিত উফশী পাট ও পাটবীজ উৎপাদন (২য় পর্যায়ে)’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদিত হয় যার মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয় জুলাই, ২০০২ হতে জুন, ২০০৭ পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদে। ০৮ জুন ২০০৩ সালে এই নতুন প্রকল্পের ভিন্নতর পদবীর পদে প্রায় দীর্ঘ এক বছর পর অবসরপ্রাপ্ত সেই জনবল কাজে যোগদান করে। পুনরায় জুন, ২০১১ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে তারা পুনরায় গ্রাচুয়েটিসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি গ্রহণ করে বিদায় নেন। সমাপ্ত প্রকল্পের ১২০ সংখ্যক জনবলদের ২০১২ সালে অস্থায়ী রাজস্বখাতে আনায়ন করা হয়। ১ জুলাই ২০১১ হতে ২৮ মার্চ ২০১২ তারিখ পর্যন্ত পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন না। এই সময়কালকে কর্তব্যকাল হিসাবে গণ্য করার কোন সুযোগ নেই মর্মে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় অভিমত দিয়েছে। তা’হলে কি ভাবে চাকুরীর ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকে? প্রকল্পের যেমন ধারাবাহিকতা নেই, তেমনি পদ ও চাকুরীর ও কোন ধারাবাহিকতা নেই।

 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor