Space For Advertisement

নসুর শাস্তি এবং বড় হুজুরদের বেসামাল দুর্নীতি

নসুর শাস্তি এবং বড় হুজুরদের বেসামাল দুর্নীতি

                ১৯৬৬ সালের কথা। তখন আমি কোদালিয়া এস.আই উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। একদিন সুখিয়া গ্রামের বাড়ী থেকে স্কুলে আসার পথে লক্ষ্য করলাম, এলাকার কিছু লোক পাখীর ঠোঁকরানো গাছের পাকা কাঁঠাল খাওয়ার অপরাধে ৫০/৬০ বছরের নসুকে চুনকালি মেখে ঘুরাচ্ছে। কিন্তু নসু বারবার বলতে ছিল আমি উপোষ। আমি বাড়ীর পাশের অপরের গাছের পাখীর ঠোঁকরানো পাকা কাঁঠাল খেয়েছি। আমি গাছের কোন কাঁচা কাঁঠাল নেইনি। আমি কোনো চোরও নই। সায় সাক্ষী নিয়ে দেখুন আমি একজন ভালো মানুষ। আপনারা চুনকালি মেখে রাস্তায় ঘুরাইয়া এমনভাবে অপমান, অপদস্থ ও হেনস্তা না করলেই পারেন। অন্যের গাছের কাঁচা কাঁঠাল নিলে হয়তো চোর বলতে পারেন। কিন্তু তারপরও নসুকে চুনকালি দিয়ে রাস্তায় ঘুরানোসহ যে যেভাবে পারে কিল, ঘুষি, লাথি, বেদা দেয়ার পর চৌকিদার তাকে পাকুন্দিয়া থানায় নিয়ে যায়। এ দৃশ্য দেখে তখন অনেকেই বলতে ছিল, এলাকায় অহরহ চুরিচামারি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি ও দুর্নীতি হচ্ছে, তাদেরকে চোখে পড়ে না। আজ ক্ষুধার কারণে পাখীর ঠোঁকরানো গাছের পাকা কাঁঠাল খাওয়ার কারণে নসুকে এমনিভাবে শাস্তি দিয়ে থানায় সোপর্দ করার কাজটা সঠিক হয়নি।

             পরে জানা যায়, নসুর এ অপরাধের কারণে পাকুন্দিয়া থানার সামনের লেচু গাছে ঝুলিয়ে পেটানো হয়েছে এবং বলা হয়েছে অন্যের গাছের কাঁঠাল চুরি করলে কেন? নসু অনয় বিনয় করে বারবার নাকি বলছিল, হুজুর (থানার লোকজন) আমি কাঁঠাল চুরি করি নাই। পেটের ক্ষুধায় পাখীর ঠোঁকরানো গাছের পাকা কাঁঠাল খেয়েছি। তারপরও তাকে রেহাই না দিয়ে কাঁঠাল চুরির মামলায় নসুকে কোর্টে চালান দেয়া হয়ে থাকে। পরের দিন শ্রেণী শিক্ষকের কাছ থেকে নসুর এ ঘটনা শুনে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং স্যারও ক্লাসে এ ঘটনা ব্যাক্ত করে সহ্য করতে না পেরে রুমাল দিয়ে অশ্র“ মুছে কোন মতে নিজেকে সংবরণ করে থাকেন। যদিও অন্যের গাছের পাকা ফল খাওয়া প্রথাসিদ্ধ ও মামুলি ব্যাপার।

                আর আজ চোখের সামনে বেসামাল ও হাজার হাজার কোটি টাকার সীমাহীন দুর্নীতি যেন মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির বেসামাল দৃশ্যপট দেশের মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। সম্প্রতি উদঘাটিত ফার্মার্স ব্যাংকের দুর্নীতিও আলোচিত বিষয়। যদিও এর মূল দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম.খা আলমগীর। এসব দেখে মনে হয় বাপ দাদার সম্পদ মনে করে ব্যাংকের টাকা হালুম হালুম করে অনেকেই গিলছে। তাতে কুছ নেহি পরোয়া। যদিও সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যান সূত্রে জানা যায়, ২৫ ঋণ খেলাপীর কাছে ঋণে পরিমান ১০৬৩৫ কোটি টাকা। তন্মধ্যে খেলাপী ঋণের পরিমান ৯৬৬৯ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্রে জানা যায়, ২১টি প্রকল্পে ৪৬৫ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতির কিছুই দেখানো হয়নি। এমতাবস্থায় দুর্নীতির ব্যারোমিটার কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যা সহজেই অনুমেয়।


             দৈনিক মুক্তখবর ১১/৩/১৮ ইং ছেপেছে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় ২ হাজার ১১২ মেঃ টন চাল সংগ্রহ করা হলে সমতা ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান খাওয়ার অযোগ্য অতি নিুমানের ৬৮০০ বস্তা চাল সংগ্রহকালে কক্সবাজারের খুরুশকুল থেকে উদ্ধার করা হয়। ০৯/৩/১৮ ইং শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে আরো জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর (কাবিখা) ৯০ মেঃ টন চাল পাচার কালে কক্সবাজার র‌্যাব- ৫ এর কমান্ডার তাদেরকে গ্রেফতার করে থাকে। উক্ত প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৩৪০ মেঃ টন চাউল। যদিও এর মধ্যে বেসামাল দুর্নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ওইসব ব্যক্তিরাই আবার জনগণের সামনে ভোট চাইতে যাবে ইহাই সত্য। যদিও এরই মধ্যে ফার্মার্স ব্যাংকের দুর্নীতির হোতা চাঁদপুরের একটি আসনে ভোট পর্বে আগাম নেমে গিয়েছেন। তিনি আবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনেও একজন সংসদ সদস্য।

             সংবাদ সূত্রে জানা যায়, কোন এক উপজেলার কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর (কাবিখা) তালিকা অনুযায়ী জনৈক অনুসন্ধ্যানকারী দেখতে পায় বরাদ্দকৃত এসব প্রকল্পের কোন সন্তোষজনক কাজই দৃষ্টিতে আসেনি। অনেক প্রকল্পের কোন সাইনবোর্ড দৃশ্যমান না হলেও অনেক জায়গায় আমগাছ, বটগাছ, গাবগাছ ও তালগাছে অনেক প্রকল্পের সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখতে পায় বলে মন্তব্য করা হয়ে থাকে। এ সমস্ত প্রকল্পের নামে জালিয়াতি ও প্রতারণা থাকলেও, এ সমস্ত প্রকল্পে স্থানীয় সংসদ সদস্য কাবিখার বরাদ্দ দিয়ে থাকেন বলে জানা যায়। তিনি পদাধিকার বলে নির্বাচনী এলাকার উপজেলার উপদেষ্টা ও উন্নয়নেরও চেয়ারম্যান।

            কিশোরগঞ্জ জেলা ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা সেতাফুলের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ মাসের বেশী সময় ধরে তদন্তকালে প্রায় ৮ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনিয়ম ধরা পড়াতে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে আরো ৫ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেবার পর পরবর্তী সময় আরো ১০ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে উঠানোর সাহস পেয়ে থাকে। যদিও সেই টাকা পরবর্তী সময় ব্যাংক থেকে উঠাতে পারেনি। এসবের পেছনে কোন অদৃশ্য বড় হুজুরে কলকাঠি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার ব্যাপারে এলাকার ভূমি অধিগ্রহনের মালিক ও শ্রেণী পেশার মানুষের যথেষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে অনেকের ধারণা তদন্তে প্রমাণিত ৮ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার টাকার তছরুপ ধরা পড়া স্বত্বেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অবহেলাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ একেবারেই পরাহত। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় এল.এ.ও সেতাফুল গ্রেফতার হলেও বড় হুজুরদের সংশ্লিষ্টতা এখনো অনোদঘাটিত।

            সম্প্রতি একজন বিশিষ্ট আইনজীবী আক্ষেপ করে গণমাধ্যমকে বলেছেন, মহা ও বেসামাল দুর্নীতির এসব দৃশ্যপট সরকার ও সচেতন মানুষের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। যার জন্য উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থা ও এজেন্সি। বেসামাল দুর্নীতির গডফাদার, ঠাকুর ও বড় হুজুরদের ব্যাপারে অনেক সময়ই তেমন শাস্তি— ও বিচার খুব একটা চোখে পড়ে নাই বলেই স্পর্শকাতর বেসামাল দুর্নীতি নিয়েও অনেক সময় কাহাকেও মাথা ঘামাতে দেখা যায়নি। বলা চলে কিশোরগঞ্জে ১৯৯৭ ও ৯৮ সালে সার্বিক স্বাক্ষরতা আন্দোলনের নামে পর্যায়ক্রমে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও, কাজের কাজ খুব একটা অনেকের দৃষ্টিতেই আসেনি। এ নিয়ে অনেক কথা ও লেখালেখি হলেও যোগ বিয়োগের খাতায় বিগ জিরো বই কোন আপগ্রেড কারো চোখে আজো রেখাপাত করেনি। যদিও এ ব্যাপারটি নিয়ে গড়িমসি করা সঠিক হয়নি বলে অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা। 

            বেসামাল দুর্নীতিবাজ ও কথিত দুর্নীতিবাজ বড় হুজুরদের কারণে জাতীয় জীবনে দুর্নীতিবাজ আজ মহাব্যাধি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দুর্নীতির মহাগ্রাস ও দাবানল থেকে উদ্ধার হতে না পারলে দাবালনের মতো দুর্নীতির লেলিহান শিখা আরো দুর্ভোগ ও দুঃসময় অপেক্ষা করছে বলে দেশের সুশীল সমাজ থেকে অনেকেই লেখালেখি ও কথাবার্তায় তা উপস্থাপনের কমতি করছে না। 

            দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের দিকদর্শন, নির্দেশনা, পরামর্শ ও উৎকন্ঠা দেশের মানুষকে নতুন করে জাগিয়ে তুলছে। ২০০৭ সালে দুদকের চেয়ারম্যান লেঃ জেঃ (অবঃ) হাসান মাহমুদও বলেছিলেন, আই এম টায়ার্ড, আই এম আনডান, আই এম আনএব্যল ইত্যাদি বাক্য চয়ন। বেসামাল দুর্নীতি, ঘুম, খুন, অপহরণের কথা বলেই এক সময় বৈধ ও সাংবিধানিক বিচারপতি সাত্তারের কাছ থেকে ক্ষমতা হরণ করে ৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশে এরশাদীয় সামরিক শাসন ও ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী মইনুদ্দীন, ফখরুদ্দীনের ওয়ান ইলেভেন আবির্ভূত হয়। যার পরিণতি নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন না পড়ারই কথা।

            দেশের মানুষ যেমনি সহিংসতা বিমূখ সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক, সকলের জন্য উদার রাজনীতি আশা করে তেমনি মানুষ চায় দুর্নীতি ও হস্তক্ষেপ মুক্ত সমাজ, শাসন, প্রশাসন, আইন ও বিচার ব্যবস্থাপনা। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ১৯৬ বছরের জগদ্দল পাথর থেকে মুক্তি হয়ে পাকিস্তানিদের ২৩ বছরের শোষন নির্যাতন এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছর ধরে এদেশের এক শ্রেণীর চিহ্নিত রাজনীতির বলয়ে ঘুরপাকে তাদের সাথে সুর মিলিয়ে বিভিন্ন জয়গানের সাথে তালিয়া বাজিয়ে জয়ধ্বনি  করলেও বাস্তবে শুধু জয় ঝংকার ও জয় ধ্বনিই সার। আজো এর পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হয়নি। দেশের জনগণ রাজনীতি, শাসন, প্রশাসন যেখানে ছিল এখনো সেই তিমিরে। অর্থাৎ হালুয়াছে লুটেপুটে দেদারছে খাবিতো খা, কুছ নেহি পরোয়া। তাই বিশিষ্ট কলামিস্ট মুহম্মদ ইসমাইল হোসেন ১০/৩/১৮ ইং শনিবার একটি গণমাধ্যমে “দুর্নীতি নেবেগো, দুর্নীতি” এই শিরোনামের একটি নিবন্ধের দৃশ্যপটে দুর্নীতির কথা লিখেছেন। এমনকি দুর্নীতি এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি (ঞধষশ ড়ভ ঃযব পড়ঁহঃৎু) রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তারপর তিনি লেখেছেন সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধানগণ সব সময়ই একশ্রেণীর তোষামোদকারী দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। ওরা তাদের চারিদিকে এমনভাবে বলয় বা ব্যারিকেট তৈরী করে রাখে যে, আসল কথা যেন তারা জানতে, শুনতে বা বুঝতে না পারে। তাছাড়া এ বলয় বা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে গিয়ে কিছূ বলা, কওয়াও অনেকের জন্যই দুস্কর হয়ে ওঠে। তাতে তোষামোদকারীদের ক্রেডিবিলিটিও নষ্ট হয়ে যাওয়ার শংকা মুক্ত থাকে না। তাই আমার মতো অনেকেই নিশ্চিত যে, কোন সমালোচনাই কোনো সরকার প্রধান ও কোনো দলীয় প্রধানের কাছে 

পৌঁছায় না। যে কোন ক্ষমতাসীন সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধানের কাছে কোনো সমালোচনা কে চর্বিত চর্বন ও তিলকে তাল না বানিয়ে বাস্তবেই যদি গোচরে নেয়া হত তবে মোদ্দাকথা এর ফলাফল ভোগ করতো দেশের আপামর জনগণ। অপরদিকে তা যেভাবে কর্ণকোহরে যাওয়ার কথা সেভাবে না গিয়ে উল্টা, পাল্টা ও দলীয় রাজনীতির কালার দেয়াতে তা যাওয়ার তাই হয়ে সিদ্ধান্তে বিকলাঙ্গ হয়ে যায়।

            কিন্তু এসব কিছু সমালোচনা সভ্য, গণতান্ত্রিক ও উন্নত দেশ সমূহে যথেষ্ট সমাধরে গ্রহণ করা হয় বিধায় দুনিয়ার সেই সমস্ত দেশের মর্যাদাও গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের রাজনীতি এবং দেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন সমস্যার উদ্ভব হলে তার সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, রাশিয়া, ভারত, কমনওয়েলথ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বিদেশী সংস্থা অংশগ্রহণ করে থাকে। অনেকেই মনে করে থাকে তাদের মতো যোগ্য লোক এদেশে থাকলেও ওদের কথাই শুনতে হয়। একদলের প্রতি অন্য দলেও একজনের প্রতি অন্য জনের অবিশ্বাস, আস্থাহীনতা, জেদাজেদি ও জেলাসিই নাকি মূল কারণ। তা না হলে একটি স্বাধীন দেশে বিদেশীদের এসে নির্বাচন নয় কোনো ব্যাপারেই মরুব্বীয়ানা করার প্রশ্নই উঠে না। যদি কোন কিছুকে উল্টা পাল্টা দিকে ধাবিত না করে তিলকে তাল এবং বট গাছ না বানিয়ে কান ভারী না করা হত তবে বৈরীতা ও বিদেশীদের হস্তক্ষেপ কারো পক্ষেই সম্ভব হত না।

            তাছাড়া যদি শাসন, প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগের সমন্বয় থাকতো তবে প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে এক বিভাগের সাথে অন্য বিভাগের ভুলবুঝাবুঝির অবসানে কালক্ষেপন হত না। কিন্তু তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করলে যে কেহ দেখতে পায়, এক বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে অন্য বিভাগের বিশেষ ব্যবধান ও বিভাজন। এমনকি একসাথে অফিস ও কোয়ার্টারে থাকলেও তাদের মধ্যে কথা তো দূরের কথা দেখা সাক্ষাৎও নাকি হয় না। যদিও যে কোন সরকারী বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ সরকার ও প্রজাতন্ত্রের সেবক ও বেতনভূক্ত।

            লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যদি কোন কর্মকর্তা জনবান্ধব, জনসেবক, গুড পারফরম্যান্স, ন্যায়নীতিবান হয়ে সুনামের সহিত কর্ম সম্পাদনে বদলী জনিত বা পদোন্নতি নিয়ে বা চাকরি থেকে অবসর নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করে তখন তাকে উৎসাহ, উদ্দীপনা, অনুপ্রেরণা ও তার ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বেদনা বিধুর পরিবেশে বিদায় সম্ভাষন জানানো হয়। তাতে সেই কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন কর্মস্থলে গিয়ে যেমনি উৎসাহ বোধ করে, তেমনি অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী অবসরে গিয়ে স্ত্রী পুত্র, পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের নিকট এর যথার্থতা বর্ণনা করে নিজেকে নিয়ে উৎসাহ ও সানন্দ বোধ করে থাকেন। আর যদি কর্মস্থল হতে কোন কর্মকর্তা, কর্মচারী, দুর্নীতি, অসদাচরণে জড়িত হয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করে থাকে আর তাকেও যদি যেতে নাহি দিব, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায় এমনিভাবে ঘটা করে বিদায় জানানো হয় তবে সেই কর্মকর্তা কর্মচারীর সাহস বেড়ে যায় এবং নতুন কর্মস্থলে একই ধরণের অপকর্ম, অন্যায়, ব্যাভিচার, দুর্নীতি এমনকি দুর্নীতির চাহিদা ও দুর্নীতির রেইট পূর্বের কর্মস্থল থেকে নতুন কর্মস্থলে গিয়ে অনেকাংশে বেড়ে যাওয়ার কথা অমূলক মনে না করারই কথা।

            অভিজ্ঞতার আলোকে একজন অবসরপ্রাপ্ত জনৈক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলাপ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলে থাকেন, এ ব্যাপারে যথাযথদের সম্পর্কে সতর্ক ও সাবধানতা অবলম্বন বাঞ্চনীয়।

            এ নিবন্ধের শুরুতেই বলা হয়েছে পেটের ক্ষুধায় নসু প্রতিবেশীর পাখীর খাওয়া ঠোঁকরানো পাকা কাঁঠাল খেয়ে যথেষ্ট অপদস্থ হয়ে থানায় সোপর্দ হলে সেখানেও থানা কর্তৃপক্ষ অপরাধের লঘু মাত্রা জেনেও তা না জেনে, না বুঝে, না শুনে থানার লেচু গাছে ঝুলিয়ে অবশেষে নিরপরাধ নসুকে চুরির মামলায় দন্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় কোর্টে সোপর্দ করে থাকে। আর দুঃখজনক হলেও সত্য, কোন বেসামাল দুর্নীতিবাজ এক স্থান থেকে অন্যত্র বদলী হয়ে যাওয়ার সময় তাকে ফুলের তোড়া ও প্রশংসনীয় মান পত্র সম্বর্ধনায় যেতে নাহি দিব, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়, কবিগুরু রবী ঠাকুরের কবিতার এ পংক্তি পাঠ করে বিদায় জানানো হয়ে থাকে।

            দুর্নীতিবাজ, ব্যাভিচারি, ক্ষমতার অপব্যবহাকারী ও জন নিন্দুকদের কাছ থেকে যত দূরে থাকা যায় তাতেই সাধুবাদ। এসব থেকে দেশ, জাতি ও জনগণের উত্তোরণই এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতার স্বার্থকতা। তদোপরি নসুদের মতো নিরপরাধ কাহাকেও থানার লেচু গাছে না ঝুলিয়ে এবং বিনা কারণে চুরির মামলায় কোর্টে না পাঠিয়ে বেসামাল দুর্নীতির বড় হুজুরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণই জন প্রত্যাশা।

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট
মোবাইল: ০১৭১৮-৮১৪৮১৩।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor