Space For Advertisement

নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর ঘুষ-দুর্নীতির সাতকাহন

৫ লাখ টাকা ঘুষ নেবার সময় আটক

নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর ঘুষ-দুর্নীতির সাতকাহন

রোস্তম মল্লিক : গডফাদার, মন্ত্রী,সচিব,এমপি, নেতা কেউ রক্ষা করতে পারলেন না নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) এসএম নাজমুল হককে। শেষ পর্যন্ত দুদকের জালে ধরা পড়তেই হল প্রতাপশালী এই ঘুষখোর প্রকৌশলীকে। পাপ যে বাপকেও ছাড়ে না এটা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। দুনীতিবাজ এই প্রকৌশলীর একছত্র আধিপত্য ও অবিশ্বাস্য দাপটে অতিষ্ঠ ছিল নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। আর নৌযান মালিকরা ছিলেন তার হাতে জিম্মি। আজ তারা মহাখুশি। সকলেই দুদকের প্রশংসায় পঞ্চমুখি। তারা মনে করেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তর এবার রাহুমুক্ত হলো। আর কৃতিত্বের প্রধান দাবিদার দৈনিক মুক্তখবর। প্রকৌশলী নাজমূল হকের সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে প্রায় ৬ মাস যাবৎ অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করে আসছে দৈনিক মুক্তখবর। ধারাবাহিকভাবে ২৫টি সিরিজ রিপোর্ট ছাপা হলেও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমন কি মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রীর পিএস দৈনিক মুক্তখবরের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রকৌশলী নাজমূল হককে। পিএসের নির্দেশনা মত প্রকৌশলী নাজমূল হক মতিঝিল থানায় মামলা করার চেষ্টাও করেন। কিন্ত সেখানেও ব্যর্থ হন। দৈনিক মুক্তখবর কোন প্রলোভন,ভয় ভীতি ও অনৈতিক প্রস্তাবের কাছে মাথা নত না করে শেষ দিন পর্যন্ত নির্ভিক সংবাদ প্রকাশ করায় দুদক সচেতন হয়। তারা দৈনিক মুক্তখবরে প্রকাশিত সংবাদগুলোর কপি সংগ্রহ করে ফাঁদ পাতার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষব্দি গত বৃহ¯প্রতিবার বিকালে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নেবার সময় হাতেনাতে তাকে গ্রেফতার করে। নৌযান মালিকরা মনে করেন যে, দৈনিক মুক্তখবরের রিপোর্ট আমলে নিয়ে মন্ত্রণালয় যদি আরো আগেই ব্যবস্থা নিতো তবে আরো অনেক আগেই নৌ পরিবহন অধিদপ্তর দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজ মুক্ত হতো। 
সর্বশেষ জানা গেছে, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ড. এসএম নাজমুল হককে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি রেস্তোরাঁয় পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় দুদক পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তাকে গ্রেফতার করে। পরে দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে ওই প্রধান প্রকৌশলীকে আসামি করে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মামলা করেন। 
দুদক সূত্র জানায়, মেসার্স সৈয়দ শিপিং লাইন্সের এমভি প্রিন্স অব সোহাগ নামের যাত্রীবাহী নৌযানের রিসিভ নকশা অনুমোদন ও নতুন নৌযানের নামকরণের অনাপত্তিপত্রের জন্য সম্প্রতি ওই প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল হকের কাছে যান নৌযানটির মালিক মো. ইমাম হাসান। নকশার অনুমোদন ও নামকরণের অনাপত্তিপত্রের বিনিময়ে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন নাজমুল। পরে পাঁচ লাখ টাকায় রফা হয়। ইমাম হাসান বিষয়টি দুদককে জানান। এরপর ফাঁদ পেতে ঘুষখোর ধরার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে গঠন করা হয় বিশেষ টিম। নৌযান মালিক ইমাম হাসানের কাছে ওই পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য সেগুনবাগিচার সেগুন রেস্তোরাঁয় আসেন নাজমুল হক। এর আগে দুদক টিম রেস্তোরাঁর ভেতরে ও বাইরে কৌশলে ফাঁদ পাতে। ঘুষের টাকা হাতে নেওয়ার সময় দুদক টিমের সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করেন। দুদকের বিশেষ এ টিমের সদস্যরা হলেন-সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ, মনিরুল ইসলাম, রেজাউল করিম, ফজলুল করিম, জাহাঙ্গীর আলম, উপসহকারী পরিচালক আতাউর রহমান ও রাফি মো. নাজমুস সাদাৎ। 
আরো জানা গেছে, নৌ পরিবহণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হকের বিরুদ্ধে অবৈধ পথে প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের সহকারী পরিচালক মো: ফারুক আহমেদ তৃতীয় পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছেন। তিনি এক নোটিশের মাধ্যমে প্রকৌশল নাজমুল হক ও তার আত্মীয় স্বজন এবং পোষ্যদের নামে কি পরিমান অর্থ-সম্পদ স্থিতি আছে তা জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন। 
৪ দলীয় জোট সরকার আমলে নিয়োগ
পান প্রকৌশলী এসএম নাজমূল হক
একটি বিশেষ সূত্রে জানাগেছে, এসএম নাজমূল হক ৪ দলীয় জোট সরকার আমলে নিয়োগ লাভ করার সময় বিএনপি নেতা ও তৎকালীন এমপি আলী আজগর লবীর কাছে নিজেকে ছাত্রদলের নেতা ও বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসাবে পরিচয় দেন। তৎপর তার শ্বশুর বাড়ীর আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে হাওয়া ভবনে তদবীর করে চাকুরী লাভ করেন।
প্রথমে তিনি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ডিজিএম হিসাবে চাকুরীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে লিয়েনে ডিজি শিপিং এ পরীক্ষক হিসাবে বদল হন। এখানে এসে বেপরোয়া দুর্নীতি শুরু করলে তৎকালীন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী কর্নেল আকবর হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে নাজমূল হককে চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমীতে বদলী করেন। সেখানে কিছুদিন চীফ ইঞ্জি: চলতি দায়িত্ব পদে চাকুরী করে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আলী আজগর লবী এমপিকে উপটোকন দিয়ে হাওয়া ভবনের তদবীরে আবার ডিজি শিপিং অফিসে বদলী হয়ে আসেন। 
এসময় তারেক কোকোর মালিকানাধীন কোকো-২ লঞ্চটি ডুবে প্রায় ৭ শত যাত্রীর প্রাণ হানী ঘটে। এই লঞ্চের সার্ভেকারক ছিলেন এসএম নাজমূল হক। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি হলে তদন্ত কমিটি নাজমূলকে দায়ী করে রির্পোট প্রদান করে। কিন্তু হাওয়া ভবনের তদবীরে তিনি বহাল থাকেন স্বপদে। ২০০৮ সালে মন্ত্রী সাজাহান খান একবার এসএম নাজমূল হককে চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমীতে বদলী করেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে আবার বদলী হয়ে ডিজি শিপিং অফিসে চলে আসেন। এই সময়ে ডিজি কম: জুবায়েরের সাথে গোপন চুক্তিতে  বেপরোয়া দুর্নীতি শুরু করেন। এমন প্রচার রয়েছে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে।
অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, তিনি যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ১৪/১৫ টি বেসরকারী মেরিন একাডেমী অনুমোদন দিয়ে প্রতিটি থেকে ৬০/৭০ লক্ষ টাকা হারে উৎকোচ গ্রহণ করেছেন নাজমূল হক। এসব একাডেমী গুলো হলো: আটলান্টিক মেরিন একাডেমী উত্তরা, ঢাকা, মেরিনা একাডেমী মগবাজার, ঢাকা, ক্যামব্রীজ মেরিন একাডেমী উত্তরা, ঢাকা, শাহ মেরিন একাডেমী শ্যামলী, ঢাকা। মাস মেরিন একাডেমী, চট্টগ্রাম। এশিয়ান মেরিন একাডেমী, চট্টগ্রাম, অবিঃ মেরিন একাডেমী, চট্টগ্রাম, ডস মেরিটাইম একাডেমী, চট্টগ্রাম, ন্যাশনাল মেরিটাইম একাডেমী চট্টগ্রাম, ড়পবধ মেরিটাইম একাডেমী চট্টগ্রাম, ওঘঞঅ মেরিন একাডেমী, ঢাকা, গরংঃ একাডেমী চট্টগ্রাম ও ইউএস মেরিন একাডেমী ঢাকা। এসব বেসরকারী মেরিন একাডেমীর কমপক্ষে ৮টির সাথে এস এম নাজমূল হকের ব্যবসায়ীক শেয়ার রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো এসব একাডেমীর কয়েকটির অনুমোদন দানের ফাইল পত্রও ডিজি শিপিং অফিস থেকে গায়েব করে দেয়া হয়েছে। যেমন আটলান্টিক মেরিন একাডেমীর কোন ফাইল ডিজি শিপিং অফিসে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। 
প্রতিদিন ১০ লাখ টাকা ঘুষ আদায়!
কথিত আছে প্রতিদিন তিনি ১০ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেন। আর এই ঘুষের টাকা প্রয়োগ করে  গোটা নৌ মন্ত্রনালয়কে পকেটে পুরে রেখেছেন। বিশেষ উপহারে মহাপরিচালককে বশীভূত করে এই নৌ প্রকৌশলী অনিয়ম-দুর্নীতির রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।  তার বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ পাতার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকে)। আর্থিক ও রাজনৈতিক তদবীরে সেটাও তিনি ধামা চাপা দিতে সক্ষম হয়েছেন। অন্য দিকে তার একাধিক অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে ২ টি বিভাগীয় মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। বিভাগীয় মামলা দুটির তদন্ত করছেন অতি: সচিব মো: রফিকুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে সব থেকে বড় অভিযোগ হল-তিনি কোকো-২ লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য মূল দায়ী কর্মকর্তা। এ দুর্ঘটনায় ৭৪৬ জন যাত্রী নিহত হয়েছিল। ওই লঞ্চটির সার্ভে সনদ দিয়েছিলেন এস এম নাজমূল হক। একাধিক সূত্র জানায়, কোনো ধরনের জরিপ ছাড়াই দেশী-বিদেশী জাহাজকে ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন নাজমুল হক। এ অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের যাচাই-বাছাই কমিটি অনুসন্ধানের সুপারিশ করে। পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া পৃথক এক নোটিশে গত ৩ বছরে যতগুলো জাহাজকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে সেই তালিকাসহ বিভিন্ন রেকর্ডপত্রও তলব করেছে দুদক। যার স্মারক নং দুদক/অনু:ও তদন্ত-১/অনু:৩২০/ ঢাকা/২০১৫। তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে মোহাম্মদ বেলাল হোসেন (পরিচালক তদন্ত ও অনু-১) কে।
জানা গেছে, নৌ পরিবহন মন্ত্রীকে ম্যানেজ করে এই  প্রকৌশলী ডিজি শিপিং অফিসে নিজের রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। এমন কি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়েও তার দাপট সীমাহীন। মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে সম্প্রতি তিনি জাপান সরকারের অনুদানপুষ্ট প্রায় ৪ শত কোটি টাকা মূল্যের একটি প্রকল্পের পিডি পদ হাতিয়ে  নিয়েছেন। অথচ এই পদটি অধিকারের যোগ্যতা তার নেই। সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভত  ভাবে এস.এম নাজমূল হককে এই পদে নিয়োগ দান করা হয়েছে। ডিজি শিপিং অফিসে এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারী বিধি মোতাবেক এই পদটি পাবার কথা ডিজি শিপিং এর প্রধান প্রকৌশলী আথবা চীফ নোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়িারের। শোনা যায় এই প্রকল্পে জনবল নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ১৫ কোটি টাকা। 
সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধান লংঘন করে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রকেীশলী নাজমূল হককে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আর এ পদে বসেই তিনি মহামান্য হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা ভংগ করে প্রায় ২ শত নৌযানের নকশা অনুমোদন দিয়েছেন। প্রতিটি নৌযান অনুমোদনের জন্য ঘুষ নিয়েছেন ১০-২৫ লক্ষ টাকা। আরো প্রায় ১ শত ফাইল প্রসেসিং এ রয়েছে। মšত্রী,সচিব এবং মহা পরিচালককে খুশি করার নামে তিনি এই অংকের টাকা আদায় করেছেন বলে প্রচারণা চলছে নৌযান মালিকদের মুখে মুখে। 
সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে শতাধিক নৌ-জাহাজের নকশা অনুমোদন! 
সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে মাত্র ২ মাসে দেড় শতাধিক নতুন জাহাজ নির্মাণের নকশা অনুমোদন দিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা ঘুষ আদায় করেছেন প্রকৌশলী এস এম নাজমূল হক। ইতিপুর্বে নৌযান মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে নৌ-পরিবহন অধিদফতর অফিস আদেশ জারি করে জাহাজের নকশা অনুমোদনে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। আদেশে বলা হয়েছিল, নতুন জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতির সুপারিশ লাগবে। এতে নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছিল। এই আদেশের বিরুদ্ধে একজন জাহাজ মালিক রিট করার পর হাইকোর্ট নৌ-অধিদফতরের আদেশ স্থগিত করলে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গিয়েছিল সরকারপক্ষ তথা নৌ-অধিদফতর। আপিল বিভাগ রিটটি নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে পাঠিয়ে এ সংক্রান্ত রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের দেয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে নকশা অনুমোদনের ওপর অধিদফতরের জারি করা অফিস আদেশ বহাল রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেই নতুন জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের ওপর সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে নৌ-অধিদফতর। এ ক্ষেত্রে জাহাজ মালিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা কিংবা তাদের মতামত নেয়া হয়নি বলে একাধিক জাহাজ মালিক নেতা জানিয়েছেন। এমনকি নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া শিথিল করে সাত দিনের ব্যবধানে জারি করা দুটি অফিস আদেশের অনুলিপিও কোনো জাহাজ মালিক সংগঠনকে দেয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, দেড় মাসের মধ্যে শতাধিক জাহাজের নকশাও অনুমোদন দিয়েছে অধিদফতর; যার মধ্যে একটি বিতর্কিত ডিজাইন ফার্ম (নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান) বেঙ্গল মেরিন ডিজাইন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের অথরাইজড অফিসার এ এন এম বদরুল আলম রাতুলের একাই প্রায় ৩০টি নকশা রয়েছে। এদিকে একজন কর্মকতা একাই ৩০টি নকশা অনুমোদন দিয়েছেন, তা তদন্ত করবে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় বলে সংশ্লিষ্ট নিভর্রযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। জাহাজের নকশা অনুমোদনের মতো অভ্যন্তরীণ নৌযানের ড্রাইভারশিপ (চালক) পরীক্ষায়ও আগের মতো সেই অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ড্রাইভারশিপ পরীক্ষায় অতিমাত্রায় অনিয়ম ও অনৈতিক লেনদেন হচ্ছে এবং পাস করার বিষয়টি সম্পূর্ণ দালাল নির্ভর হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এই দালালদের তালিকায় আলমগীর মামুন, জসিমউদ্দিন ওরফে কালা জসিম, মো. মাসুদ রানা ও মো. আবির হোসেন নামে চার ব্যক্তি রয়েছেন; যারা কেউই নৌ-পরিবহন অধিদফতরের কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী নন। ২০১৬ সালের ১২ মে নৌ-মন্ত্রণালয়ের সভায় নতুন নৌযান নির্মাণের ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের জন্য মালিকপক্ষের ছাড়পত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নৌ-পরিবহন অধিদফতর ওই বছরের ৩০ জুন এক অফিস আদেশে মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সমন্বয় এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন এবং নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্ব স্ব শ্রেণিভুক্ত জাহাজের মালিকপক্ষের (সমিতি) ছাড়পত্র নেয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ফারুক হোসেইন নামের এক জাহাজ মালিকের করা রিটের (রিট নম্বর ১৩৭৫/২০১৭) পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নৌ-অধিদফতরের ওই অফিস আদেশের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। এরপর আবেদনটি গত ৩ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সোমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ মামলাটি সম্ভাব্য স্বল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আপিল বিভাগের আদেশে ইতোপূর্বে দেয়া চেম্বার বিচারপতির স্থগিতাদেশও বহাল রাখা হয়। আইনজ্ঞরা বলছেন, সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশনার ফলে নতুন নৌযানের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে গত বছরের ৩০ জুন জারি করা নৌ-পরিবহন অধিদফতরের অফিস আদেশ বহাল রয়েছে। এ কারণে ৩০ জুন ২০১৬ তারিখ জাহাজ মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির ছাড়পত্র ব্যতিরেকে নতুন নৌযানের নকশা অনুমোদনের কোনো সুযোগ নেই। 
মেরিন একাডেমী অনুমোদন  নৌযানের ড্রাইভারশিপ পরীক্ষা  ও এনওসি সনদে সীমাহীন দুর্নীতি!
অভ্যন্তরীণ নৌযানের ড্রাইভারশিপ পরীক্ষায়ও সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হচ্ছে। এই পরীক্ষায় পাস করে সনদ পাওয়ার জন্য জনপ্রতি প্রথম শ্রেণিতে এক লাখ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৮০ হাজার ও তৃতীয় শ্রেণিতে ৬০ হাজার টাকা পরীক্ষা কমিটিকে দিতে হয়। নির্ধারিত দালাল মারফত এই টাকা কমিটির চেয়ারম্যানের বিশ্বস্ত ক্যাশিয়ার মো. মাসুদ রানা এবং মো. আবির হোসেনের কাছে জমা হওয়ার পরই পরীক্ষার আগের দিন চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের কাছে ‘প্রশ্নপত্র’ পৌঁছে দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ৩০ অক্টোবর দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১২৫ জনের ৫৬ জন, ১৮ সেপ্টেম্বর তৃতীয় শ্রেণিতে ২৪ জনের মধ্যে ১৩ জন এবং ২১ আগস্ট প্রথম শ্রেণিতে ৬৪ জনের মধ্যে ২২ জন পরীক্ষার্থী পাস করেন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নৌযান মালিকদের সাতটি সংগঠন নৌ-পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালককে একটি যৌথ চিঠি দিয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধিদফতরে জমা দেয়া ওই চিঠিতে নতুন নৌযানের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের ১২ মে তারিখের সভার সিদ্ধান্ত অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে নৌ-পরিবহন অধিদফতরের ২০১৬ সালের ৩০ জুন তারিখে জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সমন্বয় গঠিত কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো নকশা অনুমোদন থেকে বিরত থাকার দাবি জানানো হয় ওই চিঠিতে। 
সংগঠনগুলো হচ্ছেÑবাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অয়েল ট্যাংকার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপ। 
কিন্তু তাদের আবেদন আমলে নেয়নি অধিদফতর। এদিকে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের একাধিক সূত্রে জানাগেছে, নিয়োগ লাভের পর থেকেই এসএম নাজমুল হক বেপরোয়া দুর্নীতি শুরু করেন। তিনি অধিদফতরের সাবেক ডিজি কম: জুবায়েরকে হস্তগত করে প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফখরুল ইসলামকে ওএসডি করে রাখেন ৩টি বছর এবং তার নামে দু’দকে ৮-১০ টি মামলা দেন। এরপর একাই অধিদফতরের ৩টি পদ দখল করে বেপরোয়া ঘুষ দুর্নীতি শুরু করেন। সূত্রমতে ডিজি কম: জুবায়েরের আমলে অনিয়ম দুর্নীতি করে প্রায় শত কোটি টাকার  মালিক বনে যান এসএম নাজমূল হক। এসময় তিনি এককভাবে প্রতি মাসে ৩/৪ শত নৌ-যান সার্ভে, রেজিষ্ট্রেশন, ড্রাইভার, ও মেরিন ক্যাডেটদের পাশ সনদ প্রদান করেন। একই সাথে কয়েক হাজার অযোগ্য মেরিন ক্যাডেটদের বিদেশী জাহাজে সুযোগ করে দেন। এছাড়া যোগ্যতা না থাকলেও তিনি ৪০/৫০ টি বেসরকারী মেরিন একাডেমী অনুমোদন দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি বিধি ভংগ করে প্রায় ১ শত রূপান্তরিত জাহাজ উপকূল অতিক্রমের অনুমোদন দিয়ে কোটি টাকা কামিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা লংঘনকরে ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে একটি বেসরকারী কন্টেইনার টার্মিনাল অনুমোদন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরো জানাগেছে, বাংলাদেশের সাথে এমইউ (মেমো: অব আন্ডারস্টান্ডিং) চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও তিনি বেলিজের আনুমানিক ৩০টি (সিওআর) সার্টিফিকেট অব রিকগনেশন (হড় ড়নলবপঃরড়হ) সনদ  প্রদান করেছেন। যা আইএমও আইনের পরিপন্থি। প্রতিটি সনদ থেকে তিনি ৫ লাখ টাকা হারে উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। এতে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।অনুসন্ধানকালে জানাগেছে, এস এম নাজমূল হক তার ডিজি শিপিং অফিসে বসেই অবৈধ ঘুষ দুর্নীতি চর্চা করেন। ষুঘ আদায়ের জন্য তিনি তার অফিসে আবির ও মাসুদ নামে দু’জন বহিরাগতকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই দুই বহিরাগত ডিজি শিপিং অফিসে সরকারী কর্মচারীদের মতই অবস্থান করেন এবং অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পত্রে হস্তক্ষেপ করেন। তাদের বিরুদ্ধে  ডিজি শিপিং এর অতি গোপনীয় তথ্য ও দলিল পত্র পাচারের জোরাল অভিযোগ রয়েছে। এই দুই বহিরাগতের মাধ্যমেই এসএম নাজমূল হক নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর এলাকার শীপ গুলো সার্ভে করেন বলে জানাগেছে। তাদের মাধ্যমে প্রতি মাসে তিনি ৩/৪ শত জাহাজ সার্ভে করে অফিসে বসেই অর্থের বিনিময়ে সনদ প্রদান করে যাচ্ছেন। সরকারী কর্মচারী না হয়েও কিভাবে আবির ও মাসুদ ডিজি শিপিং অফিসে অবস্থান ও সরকারী ফাইলে হস্তক্ষেপ করছেন সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। 
অস্তিত্ববিহীন লঞ্চের রেজিষ্ট্রেশন প্রদান 
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) এস.এম নাজমূল হক রাঙ্গামাটিতে ২০/৩০টি অস্তিত্ববিহীন লঞ্চের রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি রেজিষ্ট্রেশনে ঘুষ নিয়েছেন ২থেকে ৫ লাখ টাকা। বাস্তবে এ সব লঞ্চের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অসাধু একটি চক্র এই রেজিষ্ট্রেশন নম্বর অন্য লঞ্চে ব্যবহার করছে। এতে করে সরকার মোটা অংকের টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ডিজি শিপিং অফিসের একটি বিশেষ সূত্রে জানাগেছে, এসএম নাজমূল হক মোটা অংকের টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে গ্রেসটন কমিয়ে ১৩/১৪ টি লঞ্চের রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন। লঞ্চগুলো হলো: এমভি তাজ তানহা-১, এমভি জান্নাতুল, এমভি দুর-দুরন্ত, এমভি সজল এক্সপ্রেস, ওটি সাদিয়া আনিক, এমভি আয়শা জান্নাত, এমভি আব্দুল্লাহ সায়াদ, এমএল শাহ আলী-৪, এমবি তুর পাহাড় ড্রেজার, এমভি আকিজ লজিস্টিক-১০, এমভি ইফতি মাহমুদ-৩, ও এমভি খায়রুল বাহার। গ্রেসটন কম দেখিয়ে রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করায় সরকার কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
আরো জানাগেছে, এসএম নাজমূল হক ২০১০ সালে এমভি মিরাজ-৪, নামের একটি যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চকে নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ প্রদান করে অবৈধ ভাবে এক বছর চলাচলের সুযোগ করে দেন। পরবর্তীতে এই লঞ্চটি দুঘটনার শিকার হলে অনেক যাত্রীর প্রাণ হানী ঘটে। 
এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলে ঐ তদন্ত কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করে এসএম নাজমূল হক তার অনুকুলে রির্পোট প্রদান বাধ্য করেন। এঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সাংবাদিক সম্মেলন ও মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। 
এছাড়া সম্প্রতি পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটির ৩০-০৪-২০১৪ তাং পর্যন্ত সার্ভে সনদ দিয়েছিলেন এসএম নাজমূল হক। সূত্রমতে, এসব অনিময় দুর্নীতির মাধ্যমে এসএম নাজমূল হক বর্তমানে শতকোটি টাকা ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি অবৈধ পথে অর্জিত এসব টাকা ঢাকা খুলনা ও চট্টগ্রামের ১৪/১৫ টি সরকারী বেসরকারী ব্যাংকে নামে বেনামে হিসাব খুলে জমা রেখেছেন। ব্যাংক গুলো হলো: সাউথ ইস্ট ব্যাংক, ইবিএল ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, এশিয়া ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক নড়াইল শাখা, ও ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড। একেকটি হিসাবে তিনি এককটি আইডি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে থাকেন। এসব ব্যাংক একাউন্টে তার শত কোটি টাকা জমা আছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এছাড়া তিনি ৫ খানা গাড়ী ক্রয় করেছেন, এর মধ্যে ২ খানা মাইক্রো ও ৩ খানা প্রাইভেট কার। ২টি এলিয়ন ও একটি করোলা। একটি এলিয়ন গাড়ী নং ঢাকা মেট্রো গ-৩১৫৮৬৯। একটি প্রাইভেট তিনি নিজে ব্যবহার করেন, ১টি তার স্ত্রী ও ১টি তার কন্যা। অপর দুটি মাইক্রো রেন্ট-এ কার এ ভাড়া দেয়া হয়েছে।
তিনি ঢাকার উত্তরার পূর্বাচল সিটি, বারিধারা বসুন্ধরা, সিদ্বেশ্বরী, রাজউকের ঝিলঝিল প্রকল্প, আশিয়ান সিটি, মিরপুর ডিএইচ এস এলাকায়, ৮/১০ টি ফ্ল্যাট ও প্লট ক্রয় করেছেন। এছাড়া খুলনা সোনাডাঙ্গায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করছেন। চট্টগ্রামে একটি বিদেশী নাবিক নিয়োগ এজেন্সী প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের এমডি তার স্ত্রী। খুলনা, যশোর ও চট্টগ্রামে বেনামে। ১৫/১৬ বিঘা জমি ক্রয় করে রেখেছেন। ঢাকার কয়েকটি লিজিং কোম্পানীতে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এফডিআর করেছেন কয়েক কোটি টাকা। সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমান শত কোটি টাকারও বেশি বলে মনে করছেন ডিজি শিপিং এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তিনি সিদ্বেশ্বরীর যে ফ্ল্যাটে বসবাস করেন তার নম্বর, ২নং সিদ্বেশ্বরী (ডোম ইনো) ফ্ল্যাট নং বি-২। এই ফ্ল্যাটের মূল্য কমপক্ষে এক কোটি টাকা। এছাড়া ফ্ল্যাটের ভেতরে কোটি টাকার ফার্নিচার রয়েছে। ঢাকার কল্যাণ পুরেও তার ২টি ফ্ল্যাট রয়েছে যার মূল্য কম পক্ষে ৩ কোটি টাকা। এছাড়া তার আমেরিকা প্রবাসী শ্যালকের কাছে হুন্ডি ও ব্যাংক মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা পাচার করেছেন।  প্রশ্ন হলো : তিনি এত ধন সম্পদ কোথায় পেলেন? 
সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন 
নৌপরিবহণ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তথ্য গোপন করেছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. এস এম নাজমুল হক। সেগুলো হলো- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত কমিটির চলমান কার্যক্রম, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ ও দ্বিতীয় দফায় সম্পদ বিবরণী তলব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট আয়কর শাখায় দাখিল করা আয়কর রিটার্নে উল্লেখিত সম্পদ বিবরণীর বাইরে একটি প্রাইভেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তিনি ও তার স্ত্রী সাহেলা নাজমুলের নগদ ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ। সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া দুদকে দাখিল করা নাজমুল হকের নামে ঢাকা, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের স্থাবর সম্পত্তির যে ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ বাস্তবতাবিবর্জিত এবং হাস্যকর। যে কারণে দুদক তার বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো নতুন অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে। এছাড়া দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীর বাইরেও এই সরকারি কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর নামে আরো কয়েক কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এরপর দুদক নাজমুল হক, তার স্ত্রী সাহেলা নাজমুল, তাদের সন্তান ও পরিবারের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব তলব করেছে। দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে হিসাব চাওয়া হয়। এসব বিষয় জানাজানি হওয়ার পর নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নৌপরিবহণ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী এ কেএম ফখরুল ইসলাম গত ১৮ জুলাই দুদকের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এরপর অধিদফতরের পরীক্ষক ড. এসএম নাজমুল হককে গত ২০ আগস্ট প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হলে উচ্চতর পদে পদোন্নতি কিংবা চলতি দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হলে দুদকের ছাড়পত্র (দায় মুক্তির সনদ) নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে দুদক অনেক আগেই নাজমুল হকের সম্পদের হিসাব তলব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে নৌ মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন ও সে তদন্ত চলমান থাকলেও চলতি দায়িত্ব প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তিনি এসব তথ্য গোপন করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নাজমুল হকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিতকরণের জন্য নৌ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। এই নির্দেশের পর নৌ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। সে তদন্ত দীর্ঘ এক বছরেও শেষ হয়নি। এমনকি যেদিন (২০ আগস্ট ২০১৭) নাজমুল হককে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দিয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়, সেদিন তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামই মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, দুদক ২০১৪ সালে নাজমুল হকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপ-পরিচালক) মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে। অনুসন্ধানের নামে দীর্ঘ কালক্ষেপণের পর ২০১৬ সালে তিনি নাজমুল হককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করেন। তবে দুদকের বৈঠকে (কমিশন সভা) সে সুপারিশ নাকচ হয়ে যায় এবং উপ-পরিচালক হামিদুল হাসানকে নতুন অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করে দুদক।দুদক সূত্রে জানা গেছে, নৌপরিবহণ অধিদফতরের পরীক্ষক ড. এসএম নাজমুল হকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানকালে হামিদুল হাসান স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে নাজমুল হককে চিঠি দেন এবং এরপর তিনি সম্পদ বিবরণী জমা দেন।কিন্তু অনুসন্ধান প্রতিবেদনে হামিদুল হাসানও তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত মূল্যের চেয়ে তার স্থাবর সম্পদের প্রকৃত বাজারমূল্য বহুগুণ বেশি। ফলে দুদকের নীতি-নির্ধারকদের কাছে নাজমুল হকের বৈধ আয়ে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। যে কারণে দ্বিতীয় দফা অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও নাজমুল হককে অব্যাহতির সুপারিশ নাকচ করে তার বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে দুদক। নতুন অনুসন্ধান কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ গত ১২ জুলাই এক চিঠিতে নাজমুল হক এবং তার স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব তলব করেছেন। প্রতিবেদনে দেখা যায়, অনুসন্ধান কর্মকর্তা হামিদুল হাসানের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নাজমুল হক তার নিজের নামে থাকা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনার কিছু স্থাবর সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ক্রয়কৃত রাজধানীর ২ নং সিদ্ধেশ্বরী রোডে ‘ডম ইনো প্যাসিও’র ৪ কক্ষবিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নং এ-১); যার মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে ক্রয়কৃত রাজধানীর খিলক্ষেতে ডম ইনোর ৫ কাঠার একটি আবাসিক প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নাজমুল হক ২০১২-১৩ অর্থবছরে পূর্বাচল মেরিন সিটিতে ৫ কাঠার একটি আবাসিক প্লটের ক্রয়মূল্য দেখিয়েছেন মাত্র ৩ লাখ টাকা। একই বছর (২০১২-১৩ অর্থবছর) ৩ লাখ টাকা ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৫ কাঠার একটি আবাসিক প্লটের। তিনি ২০০৩-০৪ অর্থবছরে খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় ৩ দশমিক ৭৫ কাঠা জমির ক্রয়মূল্য দেখিয়েছেন মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসব সম্পত্তি বেতন-ভাতার টাকা থেকে ক্রয় করা হয়েছে বলে সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়। তবে উল্লেখিত সম্পদের মূল্য ‘অবিশ্বাস্য’ মনে করছেন দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, এসব স্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্য অন্তত দশগুণ বেশি হবে। যে কারণে উপ-পরিচালক হামিদুল হাসানের অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও নাজমুল হকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিষ্পত্তির সুপারিশ দুদক আমলে নেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।অভিযোগ উঠেছে, দুদকে জমা দেয়া সম্পদ বিবরণীর বাইরেও নাজমুল হকের নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর মিরপুর ১৩ ও ৪ নম্বরের মাঝামাঝি সেকশনে পুলিশ স্টাফ কলেজের পেছনে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি ‘বিজয় রাকিন সিটি’র বহুতল আবাসিক ভবনে নাজমুল হকের স্ত্রী সাহেলা নাজমুলের নামে দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট রয়েছে; যার নম্বর এ-৬ এবং এ-৭। তিন বছর আগে কল্যাণপুর গার্লস স্কুলের কাছে একটি বহুতল ভবনেও স্ত্রীর নামে ৩টি ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। এ ছাড়া রাজধানীর মালিবাগ মোড়ের কাছে ইস্টার্ন হাউজিং কোম্পানির একটি আবাসিক ভবনে এবং ইস্কাটনের দিলু রোডে নাজমুল হকের আলাদা ২টি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে।অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, স্থাবর সম্পত্তির বাইরে নাজমুল হক ও তার স্ত্রী সাহেলা নাজমুলের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে অঢেল অর্থ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে জানা যায়, সাহেলা নাজমুল কোনো ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী নন, তিনি একজন গৃহিণী। অথচ ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের লোভে গুলশানের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে এক কোটি ৭০ লাখ টাকা দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অংশীদারিত্ব ও লভ্যাংশ না পেয়ে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা করেন; যার নম্বর ৪২২/১৪। এই মামলার সূত্র ধরে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক, ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখায় সাহেলা নাজমুলের নামে খোলা হিসাবে গত কয়েক বছরে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
আরো জানা গেছে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পাবার পর এসএম নাজমূল হক অবৈধভাবে রাত ৯টা পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে ঘুষ লেন-দেন করছেন। সন্ধ্যারপর থেকে তার অফিসটি রিতিমত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যালয়ে পরিণত হয়। এসময় তার চারপাশে ঘিরে থাকে কিছু জাহাজ মালিক ও তাদের এজেন্ট। সম্প্রতি তিনি একই দিনে ১৫ টি জাহাজের নকশা অনুমোদন দিয়ে ৩ কোটি টাকা আদায় করেছেন মর্মে অভিযোগ আছে।
নাজমুল হকের স্ত্রী সাহেলা নাজমুল কত টাকার মালিক?
নৌ-পরিবহণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. এস এম নাজমুল হকের স্ত্রী সাহেলা নাজমূল। ঘর সংসার ছাড়া তিনি অন্য কিছুই করেন না। তথাপিও তিনি কোটি- কোটি টাকার মালিক। বিত্তবিলাশী জীবন যাপন করেন। লেটেষ্ট মডেলের গাড়ীও ব্যবহার করেন। তার নামে ব্যাংকে গচ্ছিত আছে মোটা অংকের টাকা। তিনি ২ টি বেসরকারী মেরিন একাডেমির মালিক বলেও তথ্য পাওয়াগেছে। এ ছাড়া কল্যাণপুর অক্সফোর্ড হাউজিং এ     ফ্ল্যাট রয়েছে যার মূল্য  ৪ কোটি টাকা। মিরপুর  ২০১৪ সালের ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে গুলশান নিকেতন এলাকার ব্যবসায়ী  টা আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে তিনি  এন আই এ্যাক্ট এ একটি মামলা ২টা দায়ের করেন। মামলা নং ৪২২/২০১৪ ইং।  এই মামলার আরজিতে তিনি বলেন, তিনি ব্যবসায়িক কারনে  আব্দুল হান্নানকে গত ২৪/১২/২০১৩ ইং তারিখে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই টাকা পরিশোধ করার জন্য আব্দুল হান্নান সাহেলা নাজমূল হকের নামে সোনালী ব্যাংক গুলশান শাখার হিসাব নং ০০১১৫৩৭০০০২১৩ এর অনুকুলে ৭৫ লক্ষ ২০ লক্ষ এবং ৭৫ লক্ষ  টাকা করে মোট ৩টি চেক প্রদান করেন। চেক নং সিএ-৫০-৫২৪০৪৪৯,সিএ-৫০-৫২৪১৫৪৮ এবং সিএ-৫০-৫২৫১৫৫১। তারিখ:২০/০১/২০১৪,১৫/০১/২০১৪ এবং ২০/০১/২০১৪ ইং। এই চেক ৩টি সাহেলা নাজমূল  ১৫/০৭/২০১৪ ইং তারিখে সোনালী ব্যাংক ভিকারুন্নেছা স্কুল এন্ড করেজ শাখায় শাখায় জমা দিলে সেগুলো ডিজঅনার হয়। তখন তিনি গত ০৫/০৮/২০১৪ ইং তারিখে চেকদাতা আব্দুল হান্নানকে উকিল নোটিশ পাঠান।  উকিল নোটিশের সময়মত টাকা পরিশোধ না করায় তিনি এনআইএ্যাক্টে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরিচালনার জন্য মো: আল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে ক্ষমতা প্রদান করেন।  ১৩ নং সেক্টরের রাখাইন সিটিতে ২ টা ডুপ্লেক্স বাড়ী ক্রয় করেছেন যার প্রতিটির মূল্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা করে মোট ৯ কোটি টাকা।এখন প্রশ্ন হলো ২০১৩ সালে  ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানকে দেওয়া ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ও উল্লেখিত সম্পদের অর্থ সাহেলা নাজমূল  কোথায় পেলেন? ২টি বেসরকারী মেরিন একাডেমির মালিক কিভাবে হলেন?  এই টাকার আয়ের উৎস কি? তার ইনকাম ট্যাক্স ফাইলে এই টাকার প্রদর্শন নেই কেন? এ ক্ষেত্রে এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পদক্ষেপ প্রয়োজন। 
চেক ডিজঅনার মামলার
১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা তিনি কোথায় পেলেন?
নৌপরিবহণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. এস এম নাজমুল হক ২০১৪ সালের ২৮/০৯/২০১৪ ইং তারিখে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে গুলশান নিকেতন এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে এন আই এ্যাক্ট এ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৯০১/২০১৪ ইং।  এই মামলার আরজিতে তিনি বলেন, তিনি ব্যবসায়িক কারণে  আব্দুল হান্নানকে গত ২৪/১২/২০১৩ ইং তারিখে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই টাকা পরিশোধ করার জন্য আব্দুল হান্নান এসএম নাজমূল হকের নামে সোনালী ব্যাংক গুলশান শাখার হিসাব নং ০০১১৫৩৭০০০২১৩ এর অনুকুলে ৫০ লক্ষ টাকা করে মোট ৩টি চেক প্রদান করেন। চেক নং সিএ-৫০-৫২৪১৫৪৬,সিএ-৫০-৫২১১৫৪৫ এবং সিএ-৫০-৫২৪১৫৪৭। তারিখ: ০৮/০১/ ২০১৪,০৭/০১/২০১৪ এবং ০৯/০১/২০১৪ ইং। এই চেক ৩টি এসএম নাজমূল হক ০৮/০৭/২০১৪ ইং তারিখে সোনালী ব্যাংক রাজউক শাখায় জমা দিলে সেগুলো ডিজঅনার হয়। তখন তিনি গত ০৫/০৮/২০১৪ ইং তারিখে চেকদাতা আব্দুল হান্নানকে উকিল নোটিশ পাঠান।  উকিল নোটিশের সময়মত টাকা পরিশোধ না করায় তিনি এনআইএ্যাক্টে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরিচালনার জন্য মো: আল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে ক্ষমতা প্রদান করেন। মামলাটি এখন বিচারাধীন রয়েছে বলে জানাগেছে। এখন প্রশ্ন হলো ২০১৩ সালে  ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানকে দেওয়া ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা তিনি কোথায় পেলেন?  এই টাকার আয়ের উৎস কি? তার ইনকাম ট্যাক্স ফাইলে এই টাকার প্রদর্শন নেই কেন? এ ক্ষেত্রে এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পদক্ষেপ কামনা করেছেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। 
জিএমডিএসএস প্রকল্পের কোটি -কোটি টাকা হরিলুট   
সমুদ্র উপকূলে নিরাপত্তাসহ নৌ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে দীর্ঘদিন পর জিএমডিএসএস নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সে প্রকল্পের কাজ ৩বছরেও শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের আগে অধিদপ্তরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার (সিএনএস) ক্যাপ্টেন কে এম জসিমউদ্দীন সরকার প্রাথমিক কর্মকান্ড সম্পন্ন করলেও ৬-৭ মাসের মাথায় নৌ মন্ত্রণালয় তাঁকে বাদ দিয়ে আকষ্মিকভাবে তাঁরই কনিষ্ঠ তবে তাঁকে আকষ্মিকভাবে বাদ দিয়ে নৌ মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের ২৫ মে তাঁরই কনিষ্ঠ সহকর্মী ডিজি শিপিংয়ের পরীক্ষক এস এম নাজমুল হককে (পিডি) নিয়োগ করে।  অধিক যোগ্য বিবেচনায় তাঁকে এই নিয়োগ দেয়া হলেও গত ৩ বছরে তিনিও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে, প্রকল্পের কাজ শুরু হোক বা না হোক- প্রকল্পের অনুকুলে বৈদেশিক সহায়তা পাওয়ার আগেই বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) দেয় অর্থের প্রায় ৬০ শতাংশ খরচ হয়ে গেছে। এর মধ্যে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে; যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। এছাড়া বিশাল আয়তনের বিলাসবহুল অফিস ভাড়া নিয়ে নির্ধারিত জনবলের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল অথচ দু’বছরেও কাজ শুরু হয়নি। এ প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হওয়ার আগেই পিডি এসএম নাজমূল হক প্রায় একশত কোটি টাকা খরচ করেছেন। খরচ হওয়া এই টাকার অর্ধেকই তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এখন প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন- অযোগ্য পিডি এস এম নাজমুল হককে বাদ দিয়ে নতুন পিডি নিয়োগ দেয়া উচিত। তা না হলে একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বাড়বে, অন্যদিকে প্রকল্পটিও ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এ প্রকল্পে গত ৩ বছরের ব্যয় নিরীক্ষণে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের দাবিও জানান তাঁরা।   নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও নৌ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সূত্রে জানা গেছে, নৌ নিরাপত্তার স্বার্থে দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে গ্লোবাল মেরিন ডিস্ট্রেস্ড এন্ড সেফটি সিস্টেম (জিএমডিএসএস) প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের (ডিজি শিপিং নামেই বেশি পরিচিত) অধীনে গৃহিত ৩৭০ কোটি ৮৯ লাখ ৪ হাজার টাকার এ প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা ২৮২ কোটি ৭৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। বাকি ৮৮ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বাংলাদেশ সরকারের (এঙই)। প্রকল্পের অধীনে উপকূলে ফিশিং ট্রলারসহ সব ধরনের জাহাজ চলাচল নির্বিঘœ করতে কক্সবাজার, কুতুবদিয়া ও সেন্টমার্টিনসহ কয়েকটি এলাকায় লাইট হাউজ এবং রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অধিদপ্তরের নিজস্ব বহুতল ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে। সূত্র মতে, প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরিসহ এর প্রারম্ভিক কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্য সম্পাদন করেন ডিজি শিপিংয়ের সিএনএস (চলতি দায়িত্বে) ক্যাপ্টেন কে এম জসিমউদ্দীন সরকার। তবে তাঁকে আকষ্মিকভাবে বাদ দিয়ে নৌ মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের ২৫ মে তাঁরই কনিষ্ঠ সহকর্মী ডিজি শিপিংয়ের পরীক্ষক এস এম নাজমুল হককে (পিডি) নিয়োগ করে। প্রকল্পটির কাজ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অথচ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দাতা দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় প্রকল্পের অনুকুলে অর্থ ছাড় করা থেকে বিরত থাকে কোরিয়া সরকার। ফলে প্রকল্পের মূল কাজ এখনও শুরুই করতে পারেননি পিডি। তবে, বৈদেশিক সহায়তা পেতে বিলম্বের কারণে কাজ শুরু করতে না পারলেও প্রকল্পের অনুকুলে বরাদ্দ জিওবি’র (রাষ্ট্রীয় তহবিল বা জনগণের অর্থ) গত দু’বছরে যথেষ্ট অপচয় করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা; যা জিওবি’র বরাদ্দের ৬০ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় এই অর্থে প্রয়োজনের অনেক আগেই দুটি দামি গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিডিসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ক্রয়কৃত একটি জিপের মূল্য ৯০ লাখ এবং একটি মাইক্রোবাসের মূল্য ৪০ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। কারিগরী বিশেষজ্ঞসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারি মিলিয়ে এ প্রকল্পে নির্ধারিত জনবল সংখ্যা ৬২। এরমধ্যে ৫৫ জনকে নিয়োগ দিয়ে তাঁদের বসিয়ে বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই পিডির আত্মীয়-স্বজন ও নিজস্ব লোক বলে অভিযোগ উঠেছে; যাঁদের মধ্যে কয়েকজন সুন্দরী যুবতীও রয়েছেন। 
এক প্রকল্পের দুই কার্যালয়!
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জিএমডিএসএস প্রকল্পের জন্য রাজধানীর ৯৫ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় ইব্রাহিম চেম্বারে কার্যালয় ভাড়া নেওয়া হয়েছে। বিশাল আয়তনের এই অফিস ভাড়া নেওয়ার আগে প্রাথমিক পর্যায়ে পিডির দৈনন্দিন কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য তাঁর মূল কর্মস্থল ১৪১-১৪৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ ভবনের অষ্টম তলায় নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের একটি কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়। অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ কক্ষটি সাময়িক ব্যবহারের জন্য তাঁকে দিলেও প্রকল্পের নিজস্ব কার্যালয় স্থাপিত হওয়ার দেড় বছর পরও এটি ছাড়েননি তিনি। এমনকি প্রকল্পের কার্যালয় ইব্রাহিম চেম্বার এবং মূল কর্মস্থল ডিজি শিপিং কার্যালয় (বিআইডব্লিউটিএ ভবন) একেবারে কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও পিডি নাজমুল হক কর্মদিবসে উপস্থিতির অধিকাংশ সময়ই ডিজি শিপিংয়ের এই কক্ষে কাটান। অথচ প্রকল্প কার্যালয়ের জন্য প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ গুণতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এই কার্যালয়টিকে এখন তিনি সুন্দরী উপভোগের নিরাপদ স্থান হিসাবেই ব্যবহার করছেন।        
শেখ পরিবারের নাম ভাংগিয়ে লাগামহীন দুর্নীতি!
নৌ পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলেও এ খাতের উন্নয়নে ইতিবাচকের পরিবর্তে নেতিবাচক ভূমিকাই রেখে চলেছে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর (পূর্বনাম সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর)। তবে ইংরেজি নাম ‘ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং বা ডস’ অপরিবর্তিত থাকলেও শুরু থেকেই সংস্থাটি ‘ডিজি শিপিং’ হিসেবেই বহুল পরিচিত। রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নৌ পরিবহন খাতের অত্যাবশ্যকীয় এই অধিদপ্তরটির প্রধান কার্যালয় পরিণত হয়েছে 
অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে। প্রেষণে নিয়োজিত মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অনিয়ম- দুর্নীতির কোনো অভিযোগ এক বছরেও ওঠেনি। তবে, তাঁর অধস্তন একজন প্রকৌশলীর একক আধিপাত্য কায়েম হয়েছে এখানে। যিনি চার্টার অব ডিউটিজ লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন যাবত তিনটি শীর্ষ পদসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন; যার প্রতিটিতেই রয়েছে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার  অভিযোগ। ভাগ্যবান এই কর্মকর্তা হলেন এস এম নাজমুল হক; যিনি দু’বছর আগে থেকে নামের শুরুতে ‘ড.’ শব্দটি লেখা শুরু করেছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে তাঁর সহকর্মীবৃন্দসহ নৌ সেক্টরে বেশ সমালোচনা রয়েছে। কোথা থেকে কীভাবে এই ডক্টরেট ডিগ্রি (পিএইচডি) সংগ্রহ করেছেন, কোথায় কোন অধ্যাপকের অধীনে থিসিস পেপার  (গবেষণাপত্র) জমা দিয়েছেন, গবেষণা কর্ম সম্পাদনের জন্য অধিদপ্তর থেকে ছুটি নিয়েছিলেন কিনা- সে সব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা আজও দেননি তিনি। ব্যাখ্যা দেন বা না দেন- তিনি এখন ড. এস এম নাজমুল হক নামেই পরিচিত। তাঁর ফেসবুক পেইজে (যঃঃঢ়ং://িি.ি ভধপবনড়ড়শ.পড়স/হধুসঁষ.যঁয়.৩৯১৪ভৎবভ=ঃং) পরিচয় হিসেবে লেখা রয়েছে ঈযরবভ ঊহমরহববৎ (গধৎরহব) ধঃ উবঢ়ধৎঃসবহঃ ড়ভ ংযরঢ়ঢ়রহম. যদিও নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের জনবল কাঠামোতে এমন কোনো পদ-পদবির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। 
জনশ্রুতি আছে, প্রকৌশলী নাজমুল হকের দাপটে অধিদপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারি সদা তটস্থ থাকেন। কথায় কথায় তিনি শেখ পরিবারের ২/৩ জন সদস্যেও নাম ব্যবহার করেন।  নৌ পরিবহনমন্ত্রী, নৌসচিব ও সরকারদলীয় সাংসদের নাম উচ্চারণ করে বলেন, তাঁদের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। যদিও বিএনপি-জামাত শাসনামলে তৎকালীন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ও খুলনা-২ আসনের সাবেক সাংসদ আলী আসগর লবি (বহুল আলোচিত হাওয়া ভবনের মালিক) এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলালের নিকটাত্মীয় বলে পরিচয় দিতেন তিনি।এসএম নাজমুল হকের এ ধরনের মিথ্যাচারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শেখ পরিবার , মন্ত্রী  সচিব ও  সাংসদ সদস্যের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করেন।     
প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ চান দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা! 
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম নাজমূল হকের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি,জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয় নিয়ে দৈনিক মুক্তখবর পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ২৫টি সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশ হলেও নৌ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিব তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। পত্রিকার রিপোর্টদৃষ্টে গঠন করেননি কোন তদন্ত কমিটিও। ফলে এসএম নাজমূল হক আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি আর কাউকেই তোয়াক্কা করছেন না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছেনা তার কারণ অনুসন্ধানে জানাগেছে, অবৈধপথে উপার্জিত অর্থে এসএম নাজমূল হক মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কিনে রেখেছেন। বিশেষ করে পিএস তাকে সব রকম সহযোগিতা করছেন। এ কারণে পত্রিকায়,কোন রিপোর্ট প্রকাশ হলে অথবা কোন ব্যাক্তি লিখিত অভিযোগ করলে সেগুলো মন্ত্রী-সচিবের সামনে উপস্থাপন করা হয়না। এসএম নাজমূল হক নাকি জন সংযোগ সেকশনের পিআরওসহ অন্যান্য কর্মচারীদের এজন্য মাসে মাসে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ প্রদান করেন। 
অন্য দিকে পিএসের বাসায় প্রতি সপ্তাহে খুলনার চিংড়ি ঘেরের মাছ , প্রাণ গ্রুপের উন্নতমানের চাল-ডাল দেশী মুরগী,কবুতর এবং ইমপোর্ট করা তাজা ফল পাঠিয়ে থাকেন। এ ছাড়া বিভিন্ন উৎসবে এক কালিন উপঢৌকনতো রয়েছেই। আর এসব কারণেই এস এম নাজমূল হক সব অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যাচ্ছেন। 
আরো জানাগেছে, এসএম নাজমূল হক দু’দকের দুইজন উপ পরিচালক মো: ইব্রাহিম ও হামিদুল হাসানকে মোটা অংকের টাকা খাইয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট করিয়েছেন। এখন তিনি সেটি প্রদর্শন করে নিজেকে ধুয়া তুলশিপাতা প্রমান করতে চাইছেন। সাংবাদিকরা তার দপ্তরে এলেই তিনি দুদকের রিপোর্টের ফটোকপি দেখিয়ে বলেন, এই যে দেখুন আমার সততার দলিল। আমি দুদক থেকে ক্লিন সার্টিফিকেট পেয়ে গেছি। এরপর থেকেই তিনি আরো দ্বিগুন গতিতে ঘুষ -দুর্নীতির চর্চায় মেতে উঠেছেন। গত বৃহস্পতিবার বিদেশে যাবার সময়েও তিনি ১৫ টি নৌ জাহাজের নকশা অনুমোদন দিয়েছেন। কথায় কথায় তিনি মন্ত্রী-সচিব ও মহাপরিচালকের অজুহাত দিয়ে নৌযান মালিকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধাও আদায় করেন। যেহেতু তার বিরুদ্ধে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করে, পত্রিকায় লিখে বা দুদকে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়না সেহেতু নৌযান মালিকরা তার অবৈধ দাবী মানতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম নাজমূল হকের ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা,অনিয়ম -দুর্নীতি ও রাত ৯ টা পর্যন্ত অফিস খোলা রাখার বিরুদ্ধে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের দেশ প্রেমিক সৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ফুঁসে উঠেছেন। এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, নৌ পরিবহন অধিদপ্তর অফিসটি এখন এস এম নাজমূল হকের বাপ দাদার তালুকে পরিণত হয়েছে। তিনি যা বলছেন যা করছেন তাই মহা পরিচালক অন্ধের মত মেনে নিচ্ছেন বা স্বাক্ষর করে দিচ্ছেন। এতে করে ঘুষ-দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। এখন এই অফিসে ঘুষ ছাড়া কেউ কোন সেবা পান না। একজন কর্মকর্তার কারণে এখন সবাই দুর্নীতি করার সাহস পাচ্ছেন। প্রতিদিনই এই অফিস নিয়ে সংবাদপত্রে নেতিবাচক সংবাদ ছাপা হচ্ছে। এতে করে বন্ধু মহলে ও আত্মীয় স্বজনদের কাছে আমাদের মাথা হেট হয়ে যায়। আমরা এই লজ্জা ও গ্লানি থেকে মুক্তি চাই। তারা মনে করেন যে, দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম নাজমূল হককে ডিপার্টমেন্ট থেকে বিতাড়িত করলেই নৌ পরিবহন অধিদপ্তর কলংকমুক্ত হতে পারে। নৌ-যান মালিক ও দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এক্ষেত্রে প্রধান মন্ত্রী, দেশনেত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ কামনা করেছেন।   
নাজমুল হকের অবৈধ পথে উপার্জিত সম্পদের খতিয়ান
নৌ পরিবহণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক  (টিআইএন নং- ৬৬৫৯৮৬২৫৮৭৩৮) ২০১৫-১৬ করবর্ষে ‘কর অঞ্চল-১, ঢাকার ১৯ নং সার্কেলের উপ-কমিশনারের দফতরে দাখিল করা আয়কর রিটার্নে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে সম্পত্তির মোট মূল্য ১ কোটি ৮২ লাখ ২৩ হাজার ৫২৩ টাকা দেখিয়েছেন। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ক্রয়কৃত রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী রোডে ‘ডুমনি প্যাসিও’র চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নং এ-১), ২০১১-১২ অর্থবছরে ক্রয়কৃত রাজধানীর খিলক্ষেতে ‘ডুমনি’র ৫ কাঠার একটি আবাসিক প্লট, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পূর্বাচল মেরিন সিটিতে ক্রয়কৃত ৫ কাঠার একটি আবাসিক প্লট, একই অর্থবছরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ক্রয়কৃত ৫ কাঠার একটি আবাসিক প্লট এবং ২০০৩-০৪ অর্থবছরে খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় ক্রয়কৃত ৩ দশমিক ৭৫ কাঠা জমি। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা আজগর আলী ব্যাপারির করা অভিযোগে বলা হয়, নাজমুল হক প্রকৃত তথ্য গোপন করে তার সম্পদ বিবরণীর বাইরেও নগদ ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন। সূত্র মতে, তিনি ব্যবসায়িক লভ্যাংশের আশায় ২০১৩ সালে রাজধানীর এক ব্যবসায়ীকে নগদ ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ধার দেন। কিন্তু ঐ ব্যবসায়ী লভ্যাংশের পরিবর্তে নাজমুল ও তার গৃহিণী স্ত্রী সাহেলা নাজমুলের নামে কয়েকটি চেক দেন। কিন্তু ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাবে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় চেকগুলো বাউন্স (ডিজ অনার) হয়। এরপর নাজমুল ও তার স্ত্রী ঐ ব্যবসায়ীর নামে আদালতে ফৌজদারি মামলা করলে এই গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। অভিযোগকারী ৩ পৃষ্ঠার আবেদনের সঙ্গে ৯ পৃষ্ঠা পেপার কাটিং ও ৪৩ পৃষ্ঠা ডকুমেন্ট যুক্ত করেন। অভিযোগের অনুলিপি অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিব ও কর অঞ্চল-১, ঢাকার কমিশনারকেও দেয়া হয়েছে।
ঢাকা মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে (সিএমএম কোর্ট) করা সিআর ১৯০১/২০১৪ নং মামলা সূত্রে জানা যায়, নাজমুল হকের নামে ব্যবসায়ীর দেয়া ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ৩টি চেক সোনালী ব্যাংক, রাজউক ভবন শাখায় বাউন্স হয়। সাহেলা নাজমুলের করা সিআর ৪২২/২০১৪ নং মামলা সূত্র জানা যায়, তার নামে দেয়া ১ কোটি ৭০ টাকার ৩টি চেক বাউন্স হয় সোনালী ব্যাংক, ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ শাখায়। এরপর সোনালী ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাংকের রাজউক ভবন শাখায় নাজুমলের নামে খোলা ও ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ শাখায় সাহেলা নাজমুলের নামে খোলা পৃথক ২টি হিসাবে গত ৫ বছরে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। অথচ ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ করবর্ষে দাখিল করা এ দম্পতির আয়কর রিটার্নে সোনালী ব্যাংকের কোনো স্টেটমেন্ট-ই যুক্ত করা হয়নি। এছাড়া সাহেলা নাজমুল ব্যবসায়ী কিংবা চাকরিজীবী নন। অন্য কোনো পেশাও নেই তার। পুরোদস্তুর একজন গৃহিণীর পক্ষে কোনো ব্যবসায়ীকে নগদ ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ধার দেয়া সম্ভব নয় বিধায় ঐ টাকা তার স্বামীর অবৈধভাবে উপার্জিত; যা আইনের দৃষ্টিতে কালো টাকা হিসেবে চিহ্নিত। নাজমুল হকের স্ত্রী সাহেলা নাজমুলের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে কয়েকটি কোটি টাকা আমানত রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজের বিপরীতে ‘বিজয় রাকিন সিটিতে এ-৬ ও এ-৭ নম্বরের ২টি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। ৪ বছর আগে কল্যাণপুর গার্লস স্কুলের কাছে একটি বহুতল ভবনেও তার নামে আরও ৩টি ফ্ল্যাট কেনা হয়। এছাড়া নাজমুল হকের নামে মালিবাগে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের এ্যাপার্টমেন্টে একটি, নিউ ইস্কাটনের দিলু রোডে একটি ফ্ল্যাট এবং রাজউক পূর্বাচল সিটিতে ২টি প্লট রয়েছে বলে জানা গেছে। স্ত্রী ও নিজের নামে থাকা এসব সম্পত্তি অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ থেকে ক্রয় করা। এছাড়া তার নামে ডাচ বাংলা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার চার্টার্ড ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, শাহজালাল ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সাউথ ইস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে হিসাব রয়েছে; যেখানে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।সর্ব শেষ জানাগেছে, প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক চট্রগ্রামের ফজিলা মেরিন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ৫০% মালিক। সমপ্রতি তিনি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ টি ট্যাংকার ক্রয় করেছেন যার মূল্য ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের নামে কেরাণীগন্জের একটি ডকইয়র্ডে নতুন একটা কোষ্টার ও একটা ট্যাংকার নির্মাণ করছেন যার মূল্য ১৩ কোটি টাকা। ৪/৫ দিন পর পর রাতে প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক  ওই ডকে যান এবং নির্মাণের খোঁজখবর নেন।
দুদকের অনুসন্ধানী অভিযোগ থেকে মুক্তিপেতে হাইভোল্টেজ তদবীর!
নৌ পরিবহণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হকের বিরুদ্ধে অবৈধ পথে প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের সহকারী পরিচালক মো: ফারুক আহমেদ তৃতীয় পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছেন। তিনি এক নোটিশের মাধ্যমে প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক ও তার আত্মীয় স্বজন এবং পোষ্যদের নামে কি পরিমান অর্থ-সম্পদ স্থিতি আছে তা জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন। এই নোটিশের জবাবে প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক যে সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন তাতে শুভংকরের ফাঁকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়াগেছে।
সুত্রমতে তিনি তার নিজের, স্ত্রী, সন্তান , শ্যালক ও সুমন্দির (স্ত্রীর বড় ভাই)এর নামে প্রকৃতপক্ষে যে সম্পদ স্থিতি করেছেন তার স¤পূর্ণ বিবরণী দুদকে প্রদান করেননি। তার নিযুক্ত আইনজীবির ফরমায়েশমত অসত্য ( আংশিক সম্পদ বিবরণী ) জমা দিয়েছেন। কিন্তু দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি ধরা পড়ে যাওয়ায়  প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক এখন বাকা পথে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন। জানাগেছে,  প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক ও তার স্ত্রী যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট কোম্পানীর শেয়ার হোল্ডার ও মালিকানায় রয়েছেন সেগুলোর কোন হিসাব দুদকে জমা দেননি। এমনকি বনানীর এক ব্যবসায়ীকে দেওয়া ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকার হিসাবও তিনি গোপন করেছেন। অন্য দিকে ‘বার্ষিক আয়কর রিটার্ন’ বহির্ভূত সম্পদের গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার পর তিনি তা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এর প্রথম ধাপে তিনি ৩ কোটি ২০ লাখ কালোটাকা সাদা করতে ৪ বছর আগের আয়কর রিটার্নের সঙ্গে দাখিল করা সম্পদবিবরণী সংশোধনের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) এমন অভিযোগ এসেছে। চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগের স্বপক্ষে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণও দেয়া হয়েছে এনবিআর চেয়ারম্যানকে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 
প্রাপ্ত কাগজপত্রে দেখা যায়, নৌ পরিবহণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক (টিআইএন নং- ৬৬৫৯৮৬২৫৮৭৩৮) ২০১৫-১৬ করবর্ষে ‘কর অঞ্চল-১, ঢাকার ১৯নং সার্কেলের উপ-কমিশনারের দফতরে দাখিল করা আয়কর রিটার্নে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে সম্পত্তির মোট মূল্য ১ কোটি ৮২ লাখ ২৩ হাজার ৫২৩ টাকা দেখিয়েছেন। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ক্রয়কৃত রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী রোডে ‘ডুমনি প্যাসিও’র চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নং এ-১), ২০১১-১২ অর্থবছরে ক্রয়কৃত রাজধানীর খিলক্ষেতে ‘ডুমনি’র ৫ কাঠার একটি আবাসিক প্লট, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পূর্বাচল মেরিন সিটিতে ক্রয়কৃত ৫ কাঠার একটি আবাসিক প্লট, একই অর্থবছরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ক্রয়কৃত ৫ কাঠার একটি আবাসিক প্লট এবং ২০০৩-০৪ অর্থবছরে খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় ক্রয়কৃত ৩ দশমিক ৭৫ কাঠা জমি। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা আজগর আলী ব্যাপারির করা অভিযোগে বলা হয়, নাজমুল হক প্রকৃত তথ্য গোপন করে তারসম্পদবিবরণীর বাইরেও নগদ ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন। সূত্র মতে, তিনি ব্যবসায়িক লভ্যাংশের আশায় ২০১৩ সালে রাজধানীর এক ব্যবসায়ীকে নগদ ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ধার দেন। কিন্তু ঐ ব্যবসায়ী লভ্যাংশের পরিবর্তে নাজমুল ও তার গৃহিণী স্ত্রী সাহেলা নাজমুলের নামে কয়েকটি চেক দেন। কিন্তু ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাবে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় চেকগুলো বাউন্স (ডিজ অনার) হয়। এরপর নাজমুল ও তার স্ত্রী ঐ ব্যবসায়ীর নামে আদালতে ফৌজদারি মামলা করলে এই গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। অভিযোগকারী ৩ পৃষ্ঠার আবেদনের সঙ্গে ৯ পৃষ্ঠা পেপার কাটিং ও ৪৩ পৃষ্ঠা ডকুমেন্ট যুক্ত করেন। অভিযোগের অনুলিপি অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিব ও কর অঞ্চল-১, ঢাকার কমিশনারকেও দেয়া হয়েছে। ঢাকা মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে সিএমএম কোর্ট এ করা সিআর ১৯০১/২০১৪ নং মামলা সূত্রে জানা যায়, নাজমুল হকের নামে ব্যবসায়ীর দেয়া ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ৩টি চেক সোনালী ব্যাংক, রাজউক ভবন শাখায় বাউন্স হয়। সাহেলা নাজমুলের করা সিআর ৪২২/২০১৪ নং মামলা সূত্র জানা যায়, তার নামে দেয়া ১ কোটি ৭০ টাকার ৩টি চেক বাউন্স হয় সোনালী ব্যাংক, ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ শাখায়। এরপর সোনালী ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাংকের রাজউক ভবন শাখায় নাজুমলের নামে খোলা ও ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ শাখায় সাহেলা নাজমুলের নামে খোলা পৃথক ২টি হিসাবে গত ৫ বছরে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। অথচ ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ করবর্ষে দাখিল করা এ দম্পতির আয়কর রিটার্নে সোনালী ব্যাংকের কোনো স্টেটমেন্ট-ই যুক্ত করা হয়নি। এছাড়া সাহেলা নাজমুল ব্যবসায়ী কিংবা চাকরিজীবী নন। অন্য কোনো পেশাও নেই তার। পুরোদস্তুর একজন গৃহিণীর পক্ষে কোনো ব্যবসায়ীকে নগদ ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ধার দেয়া সম্ভব নয় বিধায় ঐ টাকা তার স্বামীর অবৈধভাবে উপার্জিত; যা আইনের দৃষ্টিতে কালো টাকা হিসেবে চিহ্নিত। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কাটিং যুক্ত করে অভিযোগে বলা হয়, নাজমুল হকের স্ত্রী সাহেলা নাজমুলের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে কয়েকটি কোটি টাকা আমানত রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজের বিপরীতে ‘বিজয় রাকিন সিটিতে এ-৬ ও এ-৭ নম্বরের ২টি ডুপ্লেঙ্ ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। ৪ বছর আগে কল্যাণপুর গার্লস স্কুলের কাছে একটি বহুতল ভবনেও তার নামে আরও ৩টি ফ্ল্যাট কেনা হয়। এছাড়া নাজমুল হকের নামে মালিবাগে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের এ্যাপার্টমেন্টে একটি, নিউ ইস্কাটনের দিলু রোডে একটি ফ্ল্যাট এবং রাজউক পূর্বাচল সিটিতে ২টি প্লট রয়েছে বলে জানা গেছে। স্ত্রী ও নিজের নামে থাকা এসব সম্পত্তি অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ থেকে ক্রয় করা। এছাড়া তার নামে ডাচ বাংলা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার চার্টার্ড ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, শাহজালাল ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সাউথ ইস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে হিসাব রয়েছে; যেখানে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এসব বিষয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর নাজমুল হক তার সব অবৈধ স্থাবর সম্পদের বৈধতা প্রাপ্তি এবং কালোটাকা সাদা করার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। আয়কর সার্কেল-১৯, কর অঞ্চল-১, ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার জন্য ইতোমধ্যে প্রচুর অর্থও ঢেলেছেন তিনি। এজন্য ৫ বছর আগের আয়কর রিটার্ন ও সম্পদবিবরণী সংশোধনের জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদনও করেছেন। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা যাতে দুর্নীতির মাধ্যমে এভাবে অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জন এবং সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পার পেয়ে না যান, সে জন্য জাতীয় স্বার্থে নাজমুল হক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংসদীয় কমিটিকে অনুরোধ জানানো হয়। জানতে চাইলে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ। খুব শিগগির এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ দিকে দুদক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তদন্ত রিপোর্ট তার পক্ষে নেবার জন্য এ দুটি সরকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে হাই ভোল্টেজ তদবীর শুরু করেছেন  প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক এমন তথ্য পাওয়াগেছে। সুত্রমতে দুদকের তদন্ত রিপোর্ট তার অনুকুলে নেবার জন্য বরিশাল থেকে একজন সরকার দলীয় এমপিকে ভাড়া করে এনে তার মাধ্যমে একজন দুদক কমিশনারের কাছে হাইভোল্টেজ তদবীর করেছেন । কমিশনার নাকি তাকে পূর্ণ আশ্বাসও দিয়েছেন যে, তদন্তাধীন ওই অভিযোগ থেকে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে। এরপরই তিনি তার অনুগতদের কাছে ঘোষনা দিয়েছেন যে, দুদকের অভিযোগ থেকে অচিরেই তিনি মুক্তি পাচ্ছেন। প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হকের এমন তথ্যে দুদকের ওই কমিশনারের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে তেমন তিনি বিতর্কিত হয়ে পড়ছেন। তার বিরুদ্ধে শপথ ভংগেরও অভিযোগ জোরাল হচ্ছে। অপর দিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তদন্ত থামিয়ে দিতে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের ২জন আমলা ও খুলনা অন্চলের সরকার দলীয় ১ জন এমপির মাধ্যমে হাইভোল্টেজ তদবীর চালাচ্ছেন এমন তথ্য পাওয়াগেছে। 
অন্যের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে নিজেই পরিচালনা করেন নাজমূল হক!
নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম নাজমূল হকের বিরুদ্ধে দুদকে নয়া অভিযোগ জমা পড়েছে। এই অভিযোগে জানাগেছে তিনি অভিনব কৌশলে অন্যের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলে তা নিজ স্বাক্ষরে পরিচালনা করছেন। তার অবৈধ পথে উপার্জিত ধন –সম্পদের খোঁজ যেন দুদক কোন দিনই না পায় সেজন্যেই তিনি এই চাতুরীর আশ্রয় নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্য দিকে তার আমেরিকা প্রবাসী শ্যালকের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করেন মর্মেও অভিযোগ করা হযেছে।দুদক সুত্রে জানাগেছে,প্রকৌশলী এস এম নাজমূল হকের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: ফারুক আহমেদ। তিনি ইতিমধ্যেই প্রকৌশলী নাজমূল হককে ২ টি নোটিশ করে তার নিজের এবং পোষ্যদের নামে কোথায় কি পরিমান সম্পদ ও অর্থ লগ্নি করা আছে এবং তারা কোন কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অংশীদার আছেন তা জানতে চেয়েছেন। এদিকে একাধিক সুত্রে জানাগেছে, প্রকৌশলী নাজমূল হক তার ৩ জন ঘনিষ্ঠ লোকের মাধ্যমে ঘুষ আদায় করে থাকেন।  তিনি অফিসে বসে ঘুষ নেন না। নৌযান মালিক বা পার্টির সাথে  দর-দাম চুড়ান্ত হবার পর তিনি পার্টিকে ওই ৩ জনের একজনের সাথে দেখা করে ঘুষের টাকা দিতে বলেন। কখনো কখনো তাদের ব্যাংক হিসাব নং লিখে দেন। পার্টি ওই ব্যাংক হিসাবে ঘুষের টাকা জমা করার পর তিনি ব্যাংকের ক্রেডিট ব্যালেন্স চেক করে নিশ্চিত হয়ে তবেই ফাইলের চুড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছেন। যাদের মাধ্যমে নাজমূল হক ঘুষ গ্রহণ করেন তারা হলেন,তার সাবেক ড্রাইভার আলী রাজ (নড়াইল)  জিএমডিএসএস প্রকল্পের পিয়ন মাসুদ ও তার আপন ভাতিজা (ব্যক্তিগত পিয়ন) আবির হাসান। তাদের নামের ব্যাংক হিসাব গুলো অনুসন্ধান করলে এবং তাদেরকে দুদকের হেফাজতে এনে জিজাসাবাদ করলেই  প্রকৌশলী নাজমূল হকের থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়বে বলে অভিযোগে দাবী করা হয়েছে। 
মতিঝিলের ইসলামিক ফাইন্যান্স ও আল ফালাহ ব্যাংকে প্রচুর টাকা!
নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নাজমূল হক এখন টাকার কুমির। নামে বেনামে তিনি যে সম্পদের মালিক তার মূল্য কমপক্ষে শতকোটি টাকা। স্ত্রী, শ্যালক, সুম্মন্দি ও ২ কন্যার নামে তিনি যে পরিমান সম্পদ গড়ে তুলেছেন তা বিস্ময়কর।  দুদকের অনুসন্ধানে প্রায় প্রতিদিনই তার অর্থ সম্পদের কোন না কোন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে।তিনি মাত্র ১৫ বছরের চাকুরী জীবনে কিভাবে এত ধন সম্পদ অর্জন করলেন তা খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন। খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে, প্রকৌশলী এস এম নাজমূল হক বিগত ৪ দলীয় জোট সরকার আমলে হাওয়া ভবনের তদবিরে চাকুরী লাভ করেন। এরপর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলী আসগর লবীর তদবীরে প্রেসনে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর বর্তমানে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে পরীক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। এ সময় তিনি হাওয়া ভবনের আশির্বাদ মাথায় নিয়ে বেপরোয়া দুর্নীতিতে মেতে ওঠেন। শীপ সার্ভেয়ারের অতিরিক্ত দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়ে মালবাহী ছোট বড় জাহাজ ও যাত্রীবাহী লঞ্চ সার্ভেতে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করে কোটিপতি বনে যান। এ ছাড়া জাহাজের নকশা অনুমোদন ও মাষ্টার ,ড্রাইভার পরীক্ষার দায়িত্ব হস্তগত করে  টাকার বিনিময়ে গণহারে মাষ্টার ড্রাইভার পাশ করিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ পথে উপার্জন করেন। সম্প্রতি  তিনি ঘুষ নাটক সাজিয়ে প্রধান প্রকৌশলী ফখরুল ইসলামকে দুদক দ্বারা গ্রেফতার করিয়ে সুকৌশলে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারটি দখল করেছেন। এখন নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে তিনিই সর্বেসর্বা। নৌ বাহিনী থেকে প্রেসনে আসা একজন ডিজি থাকলেও মূলত তিনি প্রকৌশলী নাজমূল হকের ওপর ডিপেন্ডেন্ট। অর্থাৎ তিনি শোপিস হয়ে বসে আছেন মাত্র। এদিকে দুদকের অনুসন্ধানে মতিঝিলের ২ টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী নাজমূল হক ও তার স্ত্রী সায়লা হকের নামে প্রচুর পরিমাণ অর্থ রক্ষিত থাকার তথ্য পাওয়াগেছে। এ ২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা অর্থ তিনি আয়কর নথিতে যেমন গোপন করেছেন তেমন দুদকে যে সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন তাতেও উল্লেখ করেননি।জানাগেছে, দিলকুশার ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেষ্টমেন্ট ও মতিঝিলের আল ফালাহ্ ব্যাংকে তিনি ও তার স্ত্রী সায়লা হকের নামে মোটা অংকের টাকা লগ্নি ও জমা রেখেছেন। এ দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দুদকের পক্ষ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এধরনের আরো অসংখ্য আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তারা কোটি কোটি টাকা অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। 
নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে প্রকৌশলী নাজমুল হকের ঘুষের রাজত্ব 
মতিঝিলের বিআইডব্লিউটিএ ভবনে অবস্থিত নৌ পরিবহন অধিদপ্তর এখন এক প্রকৌশলীর ঘুষ-দুর্নীতির রাজত্ব চলছে। তাকে ঘুষ না দিয়ে কেউই পার পাচ্ছেননা।এই দপ্তরে একজন মহাপরিচালক  থাকলেও তিনি দিবান্ধেরমত সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করে আছেন। ফলে একক কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠা  করে ওই প্রকৌশলী প্রতিটি ফাইলেই নির্দ্ধারিত হারে ঘুষ আদায় করে চলেছেন। এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শত শত অনিয়ম,দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেও সেগুলো আমলে নিচ্ছেননা নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মন্ত্রী ও সচিব।
দুদক সুত্রে জানাগেছে, ভাগ্যবান এই প্রকৌশলীর নাম এসএম নাজমূল হক। তিনি এখন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বে প্র্রধান প্রকৌশলী পদে কর্মরত আছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক অভিযোগ তদন্তাধিন রয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুখ আহমেদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে তিনি আয়ের সাথে ব্যয়ের অনেক অসংগতি পেয়েছেন। এ ছাড়া তিনি যে,সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন সেটাতেও অসংগতি ধরা পড়েছে। তদন্ত কাজ প্রায় শেষ করে এনেছি। এখন তথ্যগুলো বিশ্লেষন করা হচ্ছে। অচিরেই তিনি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জমা দেবেন। এ দিকে প্রকৌশলী নাজমূল হকের ঘুষ -দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নৌযান মালিকরা। তাদের অভিযোগ, প্রকৌশলী নাজমূল হক মন্ত্রণালয়কে ভুল বুঝিয়ে নিজ স্বার্থে একটার পর একটা জন বিরোধী আদেশ জারি করিয়ে নিয়েছেন।  এতে করে জন বান্ধব সরকারী সেবা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। নৌযান মালিকরা আরো জানান, প্রকৌশলী নাজমূল হক একজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের আশির্বাদ পেয়ে এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে,তিনি বিআইডব্লিউটিএর স্ক্রাপ ঘোষিত জাহাজকেও বেক্রসিং ও ভয়েজ লাইসেন্স এর অনুমোদন দিয়েছেন। এখন তিনি প্রতিদিনই নতুন নতুন আদেশ (নিয়ম) জারি করে ঘুষের রেট ফিক্সড করে দিচ্ছেন এবং বহিরাগত ক্যাশিয়ারের অনুকুলে নগদ ও চেকে ঘুষ আদায় করছেন ।
কে এই মো: বরকত আলী
আরো জানাগেছে, ইটালী ফেরৎ জনৈক মো: বরকত আলীর সাথে প্রকৌশলী এসএম নাজমূল হক বিশেষ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে তার ১৫/১৬ টি জাহাজের নকশা অবিশ্বাস্য গতিতে অনুমোদন করে দিয়েছেন। তার মধ্যে স্টার অব বেংগল ১০ থেকে ১৬ পর্যন্ত সিরিয়ালভুক্ত। প্রতিটি নকশা অনুমোদনের জন্য ২৫/৩০ লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়েছে বলে গুন্জন উঠেছে। এ ছাড়া তার আরো প্রায় ১ ডজন জাহাজের নকশা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ঘটনায়  নৌ অধিদপ্তরে তোলপাড় চলছে। সবার একটাই প্রশ্ন কে এই বরকত আলী ? কি সম্পর্ক প্রকৌশলী এসএম নাজমুল হকের সাথে? কথিত আছে যে তিনি টাকা (ঘুষ) পেলে রাতকে দিন আর দিনকে রাত বানাতে পারেন। সে সব অসম্ভবকে সম্ভব করতে তিনি প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় থেকে বেআইনী বিধি বা সার্কুলার জারি করে নেন। তার এই অসীম ক্ষমতা সবাইকে বিস্মিত করেছে। সুত্রমতে গত ৩ মাসে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থেকে নতুন নৌযানের নকশা অনুমোদন  ও অন্যন্য খাতে দুর্নীতি করে কমপক্ষে ৪০ কোটি টাকা অবৈধ উপার্জন করেছেন। শোনাগেছে  এই অর্থের একটি অংশ  নৌ- মন্ত্রণালয় , একটি অংশ রাজনৈতিক গডফাদার ও একটা অংশ নিজে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, প্রকৌশলী এসএম নাজমূল হকের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে দৈনিক মুক্তখবরে ধারাবাহিকভাবে ২৫ টি সিরিজ রিপোর্ট ছাপা হয়। এ সব রিপোর্ট যথাযথ নিয়মে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পিআরও সেকশন ও মন্ত্রীÑসচিবের দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। বিধি মোতাবেক এসব নিউজ কার্টিং প্রতিদিনের ডাক ফাইলে মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের কাছে উপাস্থাপিত হলে তারা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেটি করা হয়নি। বরং ঘুষ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় বা সুরক্ষা দেবার মানসে-নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ডিজির কাছে মতামত চেয়ে পাঠানো হয়।  
প্রকৌশলী নাজমুলের ট্যাস্ক নম্বর বাণিজ্য!
ঘুষ আদায়ে অভিনব এক পন্থা চালু করেছেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম নাজমূল হক। মন্ত্রণালয়ের বিধি বিধান উপেক্ষা করে স¤পূর্ণ বে আইনীভাবে তিনি এই নিয়ম চালু করে নতুন নৌযানের সার্ভে ও রেজিষ্ট্রেশনের জন্য ট্যাস্ক নম্বর প্রদানে প্রতিটির জন্য ১ লক্ষ টাকা হারে ঘুষ আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়াগেছে। শুধু ট্যাস্ক নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেই নয়-তিনি প্রতিটি জাহাজের বেক্রসিং অনুমোদনে মহা পরিচালকের কাছে সুপারিশের জন্য নিচ্ছেন ১০ হাজার টাকা। অন্য দিকে প্রটোকল রুটে নৌযানের এনডোর্সমেন্ট করার জন্য নিচ্ছেন নিচ্ছেন ৫ হাজার টাকা। এছাড়া নতুন কোন জাহাজের নামের ছাড়পত্র গ্রহনের আবেদনে ইনিশিয়াল স্বাক্ষর বাবদ নিচ্ছেন ২-৫ লক্ষ টাকা। এ রকম কোন বিধি না থাকলেও তিনি অলিখিতভাবে এ নিয়ম চালু করে নৌযান মালিকদের রক্ত চুষে নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নৌযান মালিক জানান, প্রকৌশলী নাজমূল হক দীর্ঘদিন নৌ পরিবহন অফিসে একাই ৫/৬টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে গোটা অধিদপ্তরকে তার হাতের মুঠিতে তুলে নিয়েছেন। এখন প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পেয়ে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। যখন যা খুশি তখন তাইই করছেন। নৌ বাহিনী থেকে প্রেষনে আসা মহা পরিচালকও তার ইশারামত অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। ফলে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরটি এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এভাবে একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না বলেও তারা মন্তব্য করেন । তাদের অভিযোগ-নতুন নৌযানের ক্ষেত্রে একজন নৌযান মালিক সরকারী সকল প্রকার রাজস্ব প্রদান করে আবেদন করলেও প্রধান কার্যালয়ের ট্যাস্ক নম্বর ছাড়া সেগুলো সার্ভে ও রেজিষ্ট্রেশন করা হচ্ছে না। আর ট্যাস্ক নম্বর আনতে গেলেই প্রকৌশলী নাজমূল হককে দিতে হচ্ছে ১ লক্ষ টাকা। আবার নতুন জাহাজের নামের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করতে গেলেই প্রকৌশলী নাজমূল হকের ইনিশিয়াল স্বাক্ষর ছাড়া কোন আবেদনই গ্রহণ করা হচ্ছে না। আর স্বাক্ষর আনতে গেলেই আদায় করা হচ্ছে প্রতিটির জন্য ২-৫ লক্ষ টাকা। তিনি প্রতিটি জাহাজের বেক্রসিং অনুমোদনে মহা পরিচালকের কাছে সুপারিশের জন্য নিচ্ছেন ১০ হাজার টাকা। অন্য দিকে প্রটোকল রুটে নৌযানের এনডোর্সমেন্ট করার জন্য নিচ্ছেন নিচ্ছেন ৫ হাজার টাকা।
পরীক্ষায় দুর্নীতি
আরো জানাগেছে, তিনি মার্চেন্ট ইন্জি: ক্লাস থ্রি-টু-ওয়ানের ৮ টি সাবজেক্ট এর লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে প্রতিটি সাবজেক্ট’র জন্য ২লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করেছেন। অর্থাৎ একজন পরীক্ষার্থীকে ৮ টি সাবজেক্ট’র প্রশ্ন কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৬ লক্ষ টাকা। দুই মাস পর পর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি পরীক্ষায় অন্তত: ৫০/৬০ জন পরীক্ষার্থী উত্তির্ণ হয়। আর এদের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেই এস এম নাজমূল হক হাতিয়ে নেন কমপক্ষে ৮ কোটি টাকা। একইভাবে তিনি ইনল্যান্ড মাষ্টার ও ড্রাইভারশীপ পরীক্ষাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভাইভা পরীক্ষায় দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। 
ইনল্যান্ড মাষ্টার ও ড্রাইভারশীপ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে টাকা আদায়
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ইনল্যান্ড মাষ্টার ও ড্রাইভারশীপ পরীক্ষা নিয়ে চলছে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য।  অভিনব কৌশলে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পাশ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে অদক্ষ ম্ষ্টাার ও ড্রাইভারদের। ফলে নৌ দুর্ঘটনা না কমে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামনে আসছে ইদ ও  ঝড়ের মৌসুম। এ সময় অদক্ষ মাষ্টার ও ড্রাইভারদের হাতে কত দুর্ঘটনা ঘটবে তা একমাত্র বিধাতায় জানেন। 
সুত্রমতে, নৌ পরিবহন অধিদপ্তর থেকে প্রতি মাসেই ১ম,২য় ও ৩য় শ্রেণীর মাষ্টার ও ড্রাইভারশীপ পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রতিটি পরীক্ষায় শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে। এদের মধ্যে ৫০/৬০জন পরীক্ষার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাশ করে থাকে। এই পরীক্ষার লিখিত খাতা মূল্যায়ন ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনের জন্য একটি কমিটি থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম নাজমূল হকই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি কমিটির অন্য সদস্যদের দ্বারা লিখিত পরীক্ষা নিলেও মৌখিক পরীক্ষা নিজে গ্রহণ করেন। এসময় তার সাথে চুক্তিবদ্ধ প্রার্থীদের পাশ করিয়ে দেন আর যারা চুক্তি করেনি তাদের ফেল করিয়ে দেন। পরীক্ষাথীদের সাথে গোপন যোগাযোগ ও চুক্তি করার জন্য তিনি মাসুদ ,আবির ও তার ব্যাক্তিগত ড্রাইভারের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। তাদের সাথে পরীক্ষার্থী প্রার্থীরা যোগাযোগ করলেই তার পাশ অণিবার্য। গ্যারান্টিসহ পাশের জন্য তারা ১ম শ্রেণীর মাষ্টার ও ড্রাইভারের কাছ থেকে আদায় করছে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা। ২য় শ্রেণীর কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা আর ৩য় শ্রেণীর কাছ থেকে নিচ্ছেন ৮০ হাজার টাকা। যে সব পরীক্ষার্থী প্রার্থীরা চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন তাদের কাছে পরীক্ষার আগেই মাসুদ ও আবিরের মাধ্যমে  লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পৌছে দেয়া হচ্ছে । যেহেতু লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরী করেন একমাত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম নাজমূল হক সেহেতু খুব সহজেই তিনি তার সিন্ডিকেট দ্বারা সেগুলো ফাঁস করে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।  যদি অন্য কোন সদস্য প্রশ্ন তৈরী করতেন তবে আর তিনি এইরূপ দুর্নীতি করতে পারতেন না বলে অভিঞ্জরা মনে করেন।
আরো জানাগেছে,লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম নাজমূল হক’র সাথে যেসব প্রার্থীর চুক্তি থাকে সে সব প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার খাতাগুলো তিনি নিজের কাছে রেখে বাকি খাতাগুলো বোর্ডের অন্য সদস্যদের কাছে মূল্যায়নের জন্য ভাগ করে দেন। এভাবেই তিনি আজ ২/৩ বছর ধরে ইনল্যান্ড মাষ্টার ও ড্রাইভারশীপ পরীক্ষায় দুর্নীতি করে আসছেন। হিসাবমতে এ খাতে তিনি প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা অবৈধ উপার্জন করছেন।
নারী কেলেংকারী
অতিরিক্ত ধন-সম্পদ মানুষকে বিপদগামী করে তোলে। অবৈধ টাকা মানুষকে অমানুষে পরিণত করে। ঠিক তেমনটিই ঘটেছে প্রকৌশলী এসএম নাজমূল হকের ক্ষেত্রে। ঘরে সুন্দরী স্ত্রী  থাকতেও তিনি পর নারীতে আসক্ত হয়ে দু’হাতে অর্থ ব্যয় করেছেন। এমনকি মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ২/৩জন সুন্দরী মডেল কন্যাকে দামী ফ্ল্যাট ভাড়া করে রক্ষিতা বানিয়ে রেখেছেন। রাজধানীর বেশ কয়েকজন মক্ষী রাণীর রংমহলে তার অবাধ যাতাওয়াত ছিল। মতিঝিলের নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের অফিস কক্ষে এবং জিএমডিএসএস প্রকল্পের অফিসে প্রায় তাকে সুন্দরী নারী নিয়ে রুদ্ধদার সময় কাটাতে দেখা গেছে। তিনি নিত্য নতুন নায়িকা,গায়িকা অভিনেত্রী ও মডেল কন্যাদের উপভোগ করার জন্য জিএম সৈকত নামের একজন নাট্য পরিচালকের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে জানাগেছে। এছাড়া উৎসব-পার্বণ সময়ে প্রায়ই তিনি সুন্দরীদের নিয়ে অভিজাত শপিংমলে ঘুরতেন। তাদেরকে লক্ষ লক্ষ টাকার কেনাকাটা করে দিতেন। সুন্দরী মডেল কন্যাদের নিয়ে লংড্রাইভে যাওয়া ছিল তার নেশা। সময় পেলেই তিনি একেক দিন একেক মডেলের গাড়ী হাকিয়ে লংড্রাইভে চলে যেতেন। কমপক্ষে একডজন মক্ষী রাণী ও মডেল কন্যার সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে তথ্য পাওয়াগেছে। একবার তিনি কলগার্ল ভোগ করার সময় সরকারী একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের হাতে ধরাও পড়েছিলেন বলে শোনা যায়। মোটা অংকের টাকা মাশুল দিয়ে সে যাত্রায় তিনি রক্ষা পান। এমন যার নৈতিক চরিত্র তিনি কিভাবে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পেলেন সেটাই কারো বোধগম্য নয়। 
প্রকৌশলী নাজমুলের দুর্নীতি সাম্রাজ্যের সহযোগী কারা?
একাধিক সুত্রে জানাগেছে, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হকের ঘুষ-দুর্নীতির সার্বক্ষনিক সহযোগী হলেন সাবেক ড্রাইভার আলী রাজ,(নড়াইল)  জিএমডিএসএস প্রকল্পের পিয়ন মাসুদ( আপন ভাতিজা) , চাচাত ভাই (ব্যক্তিগত পিয়ন) আবির হাসান , বহিরাগত আলমগীর হোসেন ও বাসার কর্মচারী মো: আল আমিন । এসব ব্যক্তির নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ঘুষের টাকা লেন দেন করা হয়। তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। 
অবশেষে কারাগারে
পাঁচ লাখ টাকা ঘুষসহ গ্রেপ্তার নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গত শুক্রবার তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে দুদক। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ। অপরদিকে নাজমুল হকের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। আদালতে দুদকের পক্ষে আবুল হাসান জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সুব্রত ঘোষ শুভ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সেগুন রেস্তোরাঁ থেকে দুদকের উপ-পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি দল গ্রেপ্তার করে নৌ-প্রকৌশলী নাজমুল হককে। সৈয়দ শিপিং লাইন নামের একটি শিপিং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে সব আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ফাঁদ পাতে দুদক। পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে সেগুন রেস্তোরাঁয় আসার কথা বলেন নাজমুল হক। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল দুদকের দলটি। ঘুষ নেয়ার পররপরই দুদকের দলটি হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে নাজমুল হককে। সৈয়দ শিপিং লাইনের জাহাজের রিসিভ নকশা অনুমোদন ও নতুন জাহাজের নামকরণের অনুমোদনের জন্য ১৫ লাখ টাকা ঘুষ চান নাজমুল। এর মধ্য থেকে পাঁচ লাখ টাকা আগেই নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় কিস্তির পাঁচ লাখ টাকা নিতে গিয়ে দুদকের ফাঁদে পড়লেন তিনি। দুদক সূত্র জানায়, এ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদক তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করছে।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor