Space For Advertisement

আক্কেল দাঁতের যত সমস্যা

আক্কেল দাঁতের যত সমস্যা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৮ মে ২০১৮ (স্বাস্থ্য ডেস্ক) : মানুষের মুখে ওপর ও নিচের চোয়ালে মোট ৪টি আক্কেল দাঁত থাকে। এগুলোর নাম তৃতীয় মোলার দাঁত। এগুলো দাঁতের সারিতে পেছনের দাঁত। স্বাভাবিকভাবে আক্কেল দাঁতের সংখ্যা যদিও ৪টি, কারো কারো ক্ষেত্রে এ দাঁতের অনুপস্থিতিও দেখা যায়। কারো বেলায় ৪টির বেশি আক্কেল দাঁত দেখা যেতে পারে। তবে তা বিরল। কারো আক্কেল দাঁত মাড়ি ও হাড়ের ভেতর লুকানো অবস্থায় থাকে।

তা মুখের ভেতরে বেরিয়ে আসে না। এক্স-রে করে এসব আক্কেল দাঁতের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়। সাধারণত ১৬ থেকে ২৩ বছর বয়সের মধ্যে আক্কেল দাঁত উঠতে শুরু করে। সময়ের কিছুটা হেরফেরও হতে পারে।

লক্ষণ : অনেকের আক্কেল দাঁত ওঠে ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই। কারো পুরোপুরি না উঠে আংশিকভাবে ওঠে। এ ক্ষেত্রে আংশিক গজানো আক্কেল দাঁতের চারপাশে জীবাণু সংক্রমণ ও প্রদাহ হতে পারে। আংশিক গজানো আক্কেল দাঁতের ওপরিভাগ মাড়ির একটি আবরণে ঢাকা থাকে। এটির নাম ‘অপারকুলাম’। এটির নিচে আটকে থাকে ডেন্টাল প্ল্যাক। সেখানে বিস্তার লাভ করে ব্যাকটেরিয়া। দেখা দেয় সংক্রমণ ও প্রদাহ। এ অবস্থার নাম ‘পেরিকরোনাইটিস’।

এ সমস্যা দেখা দিলে আক্কেল দাঁতের ওপরিভাগের মাড়ি লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া, কামড় দিলে ব্যথা হওয়া, দুর্গন্ধের সৃষ্টি হওয়া, কখনো পুঁজ বেরিয়ে আসা সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে আশপাশের মাড়িতে, এমনকি চোয়ালে পুঁজ জমে যেতে পারে। এতে মুখ খুলতে অসুবিধা হতে পারে, জ্বর আসতে পারে, ফুলে যেতে পারে চোয়ালের নিচের গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি।
চিকিৎসা : সংক্রমণ ও প্রদাহ কমানোর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ ও ব্যথানাশক ব্যবহার করতে হয়। লবণ মেশানো হালকা গরম পানি বা অ্যান্টিবায়োটিক মাউথওয়াশ দিয়ে কুলি করলে আরাম পাওয়া যেতে পারে।

চিকিৎসা হিসেবে প্রথমেই আক্রান্ত দাঁতের এক্স-রে করে কীভাবে গজাচ্ছে, তা দেখা হয়। দাঁত যদি খাড়াভাবে গজাচ্ছে বলে মনে হয় এবং কোনো এক সময় পুরোপুরি গজিয়ে উঠবে বলে ধারণা পাওয়া যায়, তা হলে দাঁত তুলে ফেলার প্রয়োজন নেই।

দাঁতের ওপরের ‘অপারকুলাম’ মাড়ি কেটে ফেললেই সমাধান হলো। ‘অপারকুলাম’ কেটে ফেলার পাশাপাশি ওপরের আক্কেল দাঁতের ওপরের অংশও কিছুটা চেঁছে ফেলার দরকার হয়। এতে চিবানোর সময় ওপরের আক্কেল দাঁত নিচের আক্কেল দাঁতের ‘অপারকুলাম’ মাড়িতে চাপ সৃষ্টি করে ব্যথার কারণ ঘটাতে না পারে।
কারো ক্ষেত্রে আক্কেল দাঁত খাড়াভাবে না গজিয়ে কোনাকুনিভাবে গজাতে পারে।

এ ক্ষেত্রে দাঁতটি পাশের দাঁতের সঙ্গে এমনভাবে লেগে থাকতে পারে, যাতে পাশের দাঁত ব্রাশ করে পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়। ফলে পাশের দাঁতে ডেন্টাল ক্যারিজ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। কোনাকুনিভাবে গজানো আক্কেল দাঁত ফেলে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আক্কেল দাঁত চোয়ালের ভেতর সমান্তরালভাবে শুয়ে থাকতে পারে। এ দাঁতের গজিয়ে ওঠার কোনো আশঙ্কা নেই।

এটি যদি পাশের দাঁতের ক্ষতির কারণ না হয়, তা হলে না তুলে রেখে দিলে ক্ষতি নেই। তবে এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত জানার জন্য ওরাল সার্জনের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া দরকার।

লেখক : ডেন্টাল স্পেশালিস্ট
তায়েফ ডেন্টাল হাসপাতাল
সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor