Space For Advertisement

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে হেবা হস্তান্তর সহযোগিতা

এতিমদের সম্পত্তি জাল জালিয়াতি চক্রের দখলে মুল হোতা ইফতেখার উদ্দিন শাহিনগং

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে হেবা হস্তান্তর সহযোগিতা

রফিকুল ইসলাম : এতিমদের সম্পত্তি জাল জাতিয়াতি চক্রের মূল হোতা শাহিন গংরা দখল করে নিয়েছে। দুষ্কৃতিকারী কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে তারা ক্ষমতাসীন দলের ব্যানারে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তির স্বার্থ হাসিল করার জন্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে অঢেল অর্থের বিনিময়ে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে, মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ, থাকা স্বত্ত্বেও আবেদনকারীর পক্ষে রিপোর্ট প্রদান করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। আর এই রিপোর্ট প্রদান করার সাথে সাথে মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশগণকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কারণে জীবন নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মৃত সামছুন নাহারের তিন সন্তান। দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায় মিরপুর সেকশন-২, ব্লক-এইচ, রোড-৬, বাড়ি-২২ উক্ত প্লটটি পরিত্যক্ত থাকার কারণে ১৯৮৬ইং সালের ১২ই মে সহকারী কমিশনার পরিত্যক্ত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা বোর্ড কর্তৃক ৫২৬৮নং সাব কবলা দলিল মুলে ১৯৯৬ইং সালের ৭ই আগষ্টে রেজিষ্ট্রী সম্পাদন করে এবং ১৯৯৯ ইং সালে ১৫ই মার্চে ছাড়পত্র প্রদান করেন সহকারী কমিশনার স্যাটেলমেন্ট, ঢাকা। যাহার স্বারক নং-এইচএম ২৭০/৬১/১০৪৪৩ কসে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ক্রেতার মালিক মিসেস সামছুন নাহার এর নামে নামজারী অনুমোতি প্রাপ্ত হয়। এরপর উক্ত বাড়িতে বসবাস করার এক পর্যায়ে ২০০৩ সালে (১) বাপ্পী (২) সুমি ও (৩) লিপিকে ওয়ারিশ রাখিয়া মারা যান। এখন প্রশ্ন হলো প্লট/বাড়ি প্রাপ্তির পক্ষে। যেকোন লোক আবেদন করতে পারে, কিন্তু আবেদন অনুযায়ী প্লট/বাড়ির মালিক জীবিত না মৃত, যদি জীবিত থাকেন তাহলে স্বশরীরে জাতীয় পরিচয়পত্র সহ অত্র দপ্তরে হাজির হবেন। আর যদি বাড়ির মালিক মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তার ওয়ারিশ হিসেবে জীবন বৃত্তান্ত ও সকল প্রমানাদিসহ অত্র দপ্তরে হাজির হওয়ার বিধান রয়েছে। এসব বিষয় জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন- সামছুন নাহার অত্র দপ্তরে এসে আবেদন করেছেন। সেই আবেদন অনুযায়ী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ করি এর সাথে মিরপুর হাউজিং এষ্টেট এর প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়। কিন্তু নোটিশ অনুযায়ী সামছুন নাহার অত্র কার্যালয়ে হাজির হননি। নোট ছিটে আমি তাহা উল্লেখ করেছি। তবে নোটিশ অনুযায়ী কে কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছেন তা সামছুন নাহারের ফাইলে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও বলেন- যেখানে নোটিশের মাধ্যমে সরেজমিন প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কিন্তু সরেজমিন প্রতিবেদনে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে স্বপরিবারসহ বসবাস করার কথা উল্লেখ করে। যে এই রিপোর্ট করেছেন সকল দায় দায়িত্ব তার। আমি কেন এর দায় নিতে যাব। এ নিয়ে  একে অপরের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। এতে করে মুল অপরাধীকে আড়াল করার অপকৌশল মাত্র। তদন্ত করে অতি দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে গত ২২-০১-২০১৮ইং তারিখে সামছুন নাহারকে হাজির হওয়ার জন্য বলা হলেও, এখন পর্যন্ত সামছুন নাহারকে আবেদনকারীর পক্ষে হাজির করতে পারেননি। মৃত সামছুন নাহার তিন সন্তান ওয়ারিশ থাকার পরও তার পক্ষে (১) ফজলে রাব্বী (২) হারুন অর রশিদ (৩) ইকবাল হোসেন (৪) ইখফেখার উদ্দিন (শাহিন) তারা কেন আবেদন করবে। সামছুন নাহারের সম্পর্কে তারা কি হয়, তারাই বা কেন সামছুন নাহারের পক্ষে হেবার জন্য আবেদন করল। যাচাই বাচাই ছাড়াই কেন তাদের পক্ষে স্বপরিবার ঐ বাড়িতে বসবাস করার রিপোর্ট দিল এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। এ সংক্রান্ত বিষয় গত ৬ই মে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে হেবা হস্তান্তর অত:পর বাড়ি দখলের চেষ্টা। শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় দৈনিক মুক্ত খবরে। সংবাদ প্রকাশের পর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর হাউজিং এষ্টেট হইতে শুরু করে তার পার্শ্ববর্তী এলাকাসহ অত্র এলাকায় আলোচনা সমালোচনা ঝড় বইছে। এলাকাবাসী জানায় সামছুন নাহার যদি জীবিত থাকে এক মাত্র ওয়ারিশগণরাই হেবা পাইতে পারে। এর বাহিরে কিছু হইলে তা দন্ডনীয় অপরাধের সামিল । এসব বিষয় জানতে চাইলে অত্র এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ অত্র এলাকার নূরানী মসজিদের সভপতি মোঃ আলী এবং সাধারন সম্পাদক হারুন সাহেব বলেন- এই মসজিদের সদস্য হইতে হইলে অবশ্যই এই এলাকার বাড়ির মালিক হতে হবে। ইফতেখার উদ্দিন শাহিন যদি বাড়ির মালিক নাই হন, তাহলে আগামী মিটিংয়ে অত্র মসজিদে তার সদস্যপদ বাতিল করার জন্য সভা মিটিং ডাকা হবে। এ নিয়ে অত্র এলাকায় চাপা খোব বিরাজ করছে। তবে ইফতেখার উদ্দিন শাহিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আজ পর্যন্ত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোন নোটিশ পাইনি। সামছুন নাহার হাজির হওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তার কোন উত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে হেবা হস্তান্তর ও মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ ছাড়া কেউ পেতে পারেন না। আপনি কেন হেবার জন্য আবেদন করলেন, তারও কোন উত্তর দিতে পারেননি শাহিন। স্থানীয় আম জনতা ইফতেখার উদ্দিন শাহিনের কাছে জানতে চায়। মৃত সামছুন নাহার কিভাবে জীবিত হলো। এসব প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তরিঘরি করে স্থান ত্যাগ করে। এখন তিনি চুপে চাপে ঘর থেকে বের হন। লোক সমাজে তেমন একটা বের হনা না। এই ঘটনা জানা জানি হলে উৎসব জনতা ঐ বাড়ি দেখার জন্য মাঝে মাঝে ভির জমায়। বিশেষ সূত্রে জানা যায় স্থানীয় কিছু সাংবাদিক রয়েছে তারা ও অত্র এলাকার কিছু ক্ষমতাসীন দলের নেতা রয়েছে তারা জাতীয় গৃহায়ন অফিসের কিছু দুষ্কৃতিকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে মিশে দালাল চক্রের সাথে আতাত করে অনেক টাকার বিনিময় এসব কাজ করে থাকে। যার কারণে অনেক সাংবাদিক আছে যারা মিরপুর হাউজিং এষ্টেট অফিসে প্রবেশ করতে বাঁধা প্রদান করে। তাদের ধারনা এসব জাল জালিয়াতি চক্র ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বাড়ি দখলের বিষয়ে জানা জানি হলে পরবর্তীতে এসব ফাইন নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনেকের কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন- মৃত সামছুন নাহারের মত অনেক সামছুন নাহার রয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু দুষ্কৃতিকারী ভুয়া সরেজমিন প্রতিবেদন প্রদান করে। যার কারণে অনেক ফাইল প্রধান কার্যালয়ে আটকা পরে আছে। যার কারণে মুল প্লট/বাড়ির মালিক হাজিরা না হওয়ার কারণে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারছেনা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে যাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা যদি অনিয়মে জড়িয়ে পরে তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ভাবমুর্তি ফিরিয়ে আনা উচিত বলে মন্তব্য করেন- বিশিষ্ট জনরা। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor