Space For Advertisement

নীলফামারীতে কাল বৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও বীজ ভান্ডার ব্যবসায়ীদের আতœনাৎ

নীলফামারীতে কাল বৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও বীজ ভান্ডার ব্যবসায়ীদের আতœনাৎ

নীলফামারী প্রতিনিধি : কাল বৈশাখী ঝড়ে সর্বশান্ত হয়েছে নীলফামারী জেলার তিনটি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন। গত ১০ মে বৃহস্পতিবার রাতে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে ডোমারে ৯টি, ডিমলায় ৩টি ও জলঢাকায় ৩টি ইউনিয়নের লন্ডভন্ড হয়েছে কৃষি ফসল গাছপালা ও বসতবাড়ী। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক পরিবার ও দুই শতাধিক কৃষি ভান্ডার ব্যবসায়ীরা। ঝড়ে হতহত হয়েছে ৭ জন, বসতবাড়ী ও কৃষি ফসল দেখে স্টোক করে মারা যায় ২ জন, আহত অর্ধশতাধিক। 

ডোমারে ১০০ কিঃমিঃ বিদ্যুৎ লাইনে ২২টি বিদ্যুতিক খুটি পড়ে যাওয়ায় ১৬/১৭ হাজার গ্রেহক ও পল্লী বিদ্যুতের ৯টি বৈদ্যুতিক খুটি পড়ে যাওয়ায় প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিহিন অবস্থায় অন্ধকারে পড়ে আছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে দ্রুতগতিতে তারা সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ১৪ মে সোমবার ডোমারের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা গোমনাতি ইউনিয়নে গেলে দেখা যায় যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, কৃষকরা আগামী কয়েক বছরেও পুসিয়ে উঠতে পারবে কি না সন্দেহ। ইউনিয়নে প্রায় সাড় ৭ হাজার পরিবারের মধ্যে মধ্যবৃত্ত পরিবারগুলো দুর্ভোগে পড়বে অনেকে। কারণ যাদের ৫ থেকে ৫০/১০০ বিঘা জমি আছে তারা কখনও কাজ করার জন্য বাইরে যেতে পারবে না। এরা ধার দেনা ও বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওতে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছে সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করবে কিভাবে। গোমনাতি ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ড মেম্বার পাড়ার মৃত সমসের আলীর ছেলে হারুন-অর-রশীদ (৪০), রেজাউল আলম (৩৫), আব্দুল মান্নান (৩৫), মাষ্টার পাড়ার নুরন্নবী (৫০), উত্তর আমবাড়ী ১ নং ওয়ার্ডের মহিলা আনছার সদস্য লাইলী বেগম (৩০), মর্জিনা বেগম (৩৫), লায়লা বেগম (৩১), এসব ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের ঘরবাড়ী ভেঙ্গে যাওয়ায় বৃষ্টির পানিতে রাত্রীযাপন করা খুবই কষ্টকর। তারা ধার দেনা করে জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করলেও ধান না পাওয়ায় খাবে কি, চলবে কি ভাবে, তা বুঝে উঠতে পারছে না। কৃষক আব্বাস আলী জানান, আমার ৭ বিঘা জমির ফসল কাল বৈশাখী ঝড়ে বিনষ্ট হয়েছে। ধান তো পাওয়া দুরের কথা খড় কুটো পাওয়া যাবে না। আমি বীজ ভান্ডার থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা বাকীতে সার, কীটনাশক সহ চাষাবাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বাকীতে এনেছি। যা ধান উঠলে পরিশোধ করব। কাল বৈশাখী ঝড়ে ধান শেষ হওয়ায় এসব দেনা পরিশোধ করতে কষ্টকর হবে তিনি জানান। কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় বীজ ভান্ডার ব্যবসায়ীদেরও বুক ফাটা আতœনাৎ। গোমনাতী ইউনিয়নের আমবাড়ী বাজারের মেসার্স রাহাত ট্রেডার্স ও শাহীন ট্রেডার্সের ব্যবসায়ী রবিউল আলম এবং রশিদুল ইসলাম জানান, খুচরা ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মাঝে ৫০ থেকে ৬০ লক্ষাধিক টাকা বাকি পড়ে আছে। এছাড়াও বোড়াগাড়ী বাজারের বর্ন বীজ ভান্ডার, ঐশী বীজ ভান্ডার ও প্রিয়াংকা বীজ ভান্ডারের ব্যবসায়ীরা জানায় তাদেরও কয়েক কোটি টাকা খুচরা ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মাঝে পড়ে থাকায় কোম্পানির নিকট কৃষি মালামাল ব্যবসায়ী চুক্তি অনুযায়ী বাকীতে নিয়েছি। কৃষকরা দিতে না পারলে আমাদের পক্ষও এই টাকা পরিশোধ করতে সময় লাগবে। ব্যবসায়ীরা আরো জানান, কৃষকরা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাতে টাকা চাওয়ার কোন পথ খুজে পাইনা। আমরা কোম্পানীর লোকজনকে বলেছি তাদের মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনের অনুরোধও জানিয়েছি। 
গোমনাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ জানান, আমার জীবনে এরকম দুর্যোগ দেখিনি। ইউনিয়নবাসীসহ আমি নিজেও ক্ষতিগ্রস্থ।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor