Space For Advertisement

পানছড়ি বাজার বর্জনের ঘোষনা, বিপাকে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতা

ইউপিডিএফর মোটা অংকের চাঁদা দাবি

পানছড়ি বাজার বর্জনের ঘোষনা, বিপাকে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতা

--সড়কে গাড়ী ভাংচুর, দূর্ভোগে মানুষ--
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : ইউপিডিএফ’র দাবীকৃত মোটা অংকের চাঁদা না দেওয়ায় খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী পানছড়ি বাজার বর্জনের ঘোষনায় বিপাকে পড়েছে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতা। আকস্মিক বাজার বর্জনের ঘোষনার পর পুরো পানছড়ি বাজার এখন পাহাড়ি ক্রেতা-বিক্রেতা শূণ্য। পানছড়ি বাজারের প্রায় দুইহাজার ছোটবড় ব্যবসায়ীর কপালে হাত ।উৎপাদিত কাচা তরতরকারী বাজারে আনতে না পারায় তা পচে যাচ্ছে। ক্ষতির মুখে পড়খে কৃষক। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এলাকায় মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্দ পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ।
ঐতিহ্যবাহী পানছড়ি বাজারে প্রায় পাঁচ শতাকিক ব্যবসায়ী রয়েছে।  প্রতি রবিবার পানছড়ি বাজারের হাটবার।ঐদিন এ বাজারে হাজারো পাহাড়ি-বাঙালির মিলন মেলায় পরিণত হয়। কিন্তু রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো বাজার বিরাজ করছে সুনসান। কোন পাহাড়ি ক্রেতা-বিক্রেতা বাজারে আসেনি।কয়েকজন বাঙালি বিক্রেতা মালামাল নিয়ে বসে থাকলেও কোন ক্রেতা নেই। 
বাজারের ব্যবসায়ী,ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, প্রসীতের ইউপিডিএফ’র দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় সংগঠনটি রবিবার(২০ মে) থেকে বাজার বর্জনের ঘোষনা দেয়। কোন পাহাড়ি বাজারে আসলে অর্থদন্ডসহ প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষুব্দ সাধারন পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষ। বাজার বর্জনের সাথে সাথে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ীর ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা। 
ক্রেতা রূপন চাকমা জানান, প্রসীতের ইউপিডিএফ পানছড়ি বাজার বর্জন করে সাধারন পাহাড়িদের বাজারে না আসতে নিষেধ করেছে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে ব্রাশ ফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক দিপন চাকমা বলেন, প্রসীত পহ্নি ইউপিএিফ’র বাজার বর্জন ঘোষনা দেওয়ায় সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারন পাহাড়িরা। বাজার বর্জনের ঘোষনার কারণে পাহাড়িরা তাদের উৎপাদিত পূণ্য বাজারে আনতে না পারায় পচে যাচ্ছে। অপর কৃষক বিক্রম ত্রিপুরা বলেন, আমারা নিরহ। দিনে এনে দিনে খায়। বাজারে যেতে না পারলে অনেক পাহাড়ির চুলোয় আগুন জ¦লবে না।
পানছড়ির টমটম চালক মনিরুল ইসলাম জানান, ইউপিডিএফ বাজার বর্জনের পাশাপাশি গাড়ী চলাচলেও বাধা দিচ্ছে। কেউ রাস্তায় গাড়ী নামলে ভাংচুর করা হচ্ছে। কাঠ ব্যবসায়ী রনি ত্রিপুরা জানান, আমরা সাধারন পাহাড়ি জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি না করলে সংসার চলে না। কিন্তু ইউপিডিএফ’র বাজার বর্জনের কারণে সব বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার-পরিজন না খেয়ে মারা যাবে। 
পানছড়ির নার্সারী ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, ইউপিডিএফ-কে চাঁদা না দিয়ে কোন ব্যবসা করা যায়। এটা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। রাস্তায় চারা নিয়ে নামলে চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়।
পানছড়ি বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হেদায়েত তালুকদার বলেন, কয়েকদিন প্রসীতের ইউপিডিএফ বাজার বর্জনের হুমকি দিয়ে আসছে। রবিবার থেকে তা কার্যকর হলো। এতে বাজারের প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী বিপাকে পড়েছে। চাঁদাবাজির কথা তিনি অকপটে স্বীকার করে বলেন, ব্যবসা করলে চাঁদা দিতে হবে। এটা সর্বজন স্বীকৃত।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বলেন, বাজার বর্জন ও চাঁদাবাজির  কথা শুনেছেন। তবে লিখিতভাবে কেউ জানাননি। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আবুল হাসেম ইউপিডিএফ’র বাজার বর্জনের কথা স্বীকার করে বলেন, এ ঘোষনা জনস্বার্থ বিরোধী  অনৈতিক কাজ। তারা যে কাজটি করেছে এটি একেবারে জনস্বার্থ বিরোধী। এটা  অত্যন্ত গর্হিত কাজ। কারন পাহাড়িরা তাদের উৎপাদিত পূণ্য বাজারে বিক্রি করে আবার বাজার থেকে পূণ্য কিনে নিয়ে যায়। এটাকে  নিমূল করার জন্য জনগণকে আস্থায় নিয়ে এসে বাজার প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রশাসনের যা করা দরকার প্রশাসন করবে এবং বাজারের ব্যবসায়ী নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন কাজ করছে এবং করবে।তিনি কতিপয় সংগঠনের বাজার বর্জনের ঘোষনা ও চাঁদাবাজিসহ  অনৈতিক দাবী করে প্রতিরোধে সকল এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে।  পক্ষান্তরে ইউপিডিএফ’র(প্রসীত) অন্যতম সংগঠক মাইকেল চাকমা তাদের বিরুদ্ধে বাজার বর্জনের ঘোষনাকে হাস্যকর আখ্যায়িত করে বলেন, এটা সাধরন উদ্ধত পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাজারে আসছে না। 

 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor