Space For Advertisement

মিরপুর হাউজিং এস্টেটের মিথ্যা প্রতিবেদনে বাড়ি ছাড়া সামছুন নাহারের ওয়ারিশরা

মিরপুর হাউজিং এস্টেটের মিথ্যা প্রতিবেদনে বাড়ি ছাড়া সামছুন নাহারের ওয়ারিশরা

*এতিমদের সম্পত্তি জাল জালিয়াতি চক্রের দখলে মুলহোতা ইফতেখার উদ্দিন শাহিনগংরা বেপরোয়া*
রফিকুল ইসলাম : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী মোঃ তাজুল ইসলাম মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন দেন। আর এই প্রতিবেদনেই কাল হল মৃত সামছুন নাহারের ওয়ারিশগন বাপ্পী, সুমি ও লিপিকে বাধ্য হয়ে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। মৃত সামছুন নাহার জাতীয়

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাব কবলা দলিল মুলে মিরপুর সেকশন-২, ব্লক-এইচ, রোড-৬, বাড়ি-২২ নং বাড়িটি ক্রয় করেন। এরপর দীর্ঘদিন যাবৎ ঐ বাড়িতে বসবাস করার এক পর্যায় ২০০৩ সালে তিন সন্তান বাপ্পী, সুমি ও লিপিকে ওয়ারিশ রাখিয়া মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু সামছুন নাহারের মৃত্যুর পর তার তিন সন্তান বাপ্পী,

সুমি ও লিপি ঐ বাড়িতে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করে আসছে। কিন্তু সংঘবদ্ধ মৃত সামছুন নাহারে চার ভাই মোঃ ফজলে রাব্বী, হারুন অর রশিদ, ইকবাল হোসেন ও ইফতেখার উদ্দিন (শাহিন) গংরা বিশ্বাস ঘাতকতা করে মৃত সামছুন নাহারকে জীবিত দেখিয়ে সামছুন নাহারের মুল কাগজপত্র এবং তার সই হুবাহুব জাল করে জাতীয় গৃহায়ন

কর্তৃপক্ষের প্রদান কার্যালয়ে হেবা হস্তান্তরের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের আলোকে সামছুন নাহারকে স্বশরীরে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অত্র কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ করেন। এর সাথে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কার্যালয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়।

কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরে সামছুন নাহারকে প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য বলা হলেও অদ্যবদি তিনি হাজির হননি। তবে মিরপুর হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সরেজমিন প্রতিবেদক ও অফিস সহকারী মোঃ তাজুল ইসলাম মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মৃত সামছুন নাহারকে জীবিত দেখিয়ে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক

নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহকে নিয়োগ দিয়েছিলেন, তার একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবন করে দিয়েছে সরকার।

সূত্র জানায়, নিয়োগের শর্ত মেনে শুরুতে উপাচার্য ভবনে উঠেন অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। ওই সময় তার সন্তানকে স্থানীয় একটি স্কুলেও ভর্তি করে দেন তিনি। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই তিনি আবার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় ফিরেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত এপ্রিল মাসে উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ মাত্র পাঁচ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে দুই দিন আবার বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক সূত্র জানায়, গত মার্চ মাসের ৩০ তারিখ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান

কলিমউল্লাহ ঢাকায় ছিলেন। ২ এপ্রিল বিকেলে এক ফ্লাইটে ঢাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন তিনি। এরপর আবার ৩ এপ্রিল বিকেলে অন্য এক ফ্লাইটে আবারও ঢাকায় চলে যান। এরপর টানা সাত দিন ঢাকায় অবস্থান করে গত ১০ এপ্রিল বিকেলে এক ফ্লাইটে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন। পরদিন ১১ এপ্রিল ক্যাম্পাসে মাদক ও জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে

সভাপতিত্ব করেন। ওই সমাবেশে পুলিশের আইজিপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পরের দিন ১২ এপ্রিল সকালের ফ্লাইটে তিনি আবারও ঢাকায় চলে যান। এর ২ দিন পর ১৪ এপ্রিল ঢাকা থেকে বিমানে রংপুর আসেন তিনি; পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পরের দিন ১৫ এপ্রিল আবারও বিমানযোগে ঢাকায় চলে যান। এ দুই

দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ছুটি ছিল। এরপর টানা ৬ দিন ঢাকায় অবস্থান করে ২১ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা থেকে বিমানে করে ক্যাম্পাসে আসেন। ২ দিন ক্যাম্পাসে অবস্থান করে আবার ২৩ এপ্রিল বিকেলে বিমানযোগে ঢাকায় চলে যান। এরপর ২৫ এপ্রিল সকালে ক্যাম্পাসে এসে ২৬ এপ্রিল সকালে ঢাকা চলে যান। এরপর টানা ৬ দিন ঢাকায় অবস্থান

করে ৩ মে সাপ্তাহিক ছুটির দিন বিকেলে ঢাকা থেকে বিমানে করে রংপুরে আসেন। পরদিন ৪ মে বিকেলে আবারও বিমানযোগে ঢাকায় চলে যান। এরপর টানা ৫ দিন ঢাকায় অবস্থান করে ৯ মে বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী প্রয়াত ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে ফুল দিতে আসেন তিনি। ওই

দিন বিকেলের ফ্লাইটেই আবার ঢাকায় ফিরে যান। পরের দিন ১০ মে আবারও সকালে বিমানে ক্যাম্পাসে আসেন; এদিন নারী ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় ইউজিসির একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার জন্য ১২ মে পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন তিনি। এরপর ১৩

মে সকাল ১১টায় সৈয়দপুর থেকে বিমানে ঢাকায় ফেরেন। এরপর ১৭ মে সকালে ক্যাম্পাসে এসে বিকালের ফ্লাইটেই ঢাকায় ফিরে যান তিনি। এখন পর্যন্ত ঢাকাতেই অবস্থান করছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা জানান, মূলত কোনও সভা-সেমিনার বা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করতে রংপুরে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। এ ছাড়া, তাকে ক্যাম্পাসে পাওয়া যায় না। তার অনুপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলে বা ফাইলে স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে রংপুর থেকে ঢাকায়

যেতে হয় সংশ্লিষ্টদের। তার অনুপস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে একজন জুনিয়র শিক্ষককে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। ওই শিক্ষক নিজেও ক্লাস নেন না। ওই শিক্ষক বেশিরভাগ সময় উপাচার্যের পিএস, এপিএসদের ওপর খবরদারি করেন। সিন্ডিকেট সভাকক্ষেও তার খবরদারি চলে। এই জুনিয়র শিক্ষকের হুকুম ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে

‘একটি গাছের পাতা নড়ে না’ বলে প্রবাদও রয়েছে। তিনি (জুনিয়র শিক্ষক) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করে চলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান জানান, ‘উপাচার্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা না থাকাটা আপেক্ষিক বিষয়। উনি বাইরে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজেই থাকেন। তবে ওঁর থাকা না থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনাটি স্যাবোটাজ বলে মনে করি।’

তবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর মন্তব্য এর বিপরীত। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অমান্য করে কীভাবে উপাচার্য ক্যাম্পাসে অবস্থান না করে ঢাকায় থাকেন! তিনি উপাচার্যের পদ এনজয় করবেন, আর রাষ্ট্রপতির নির্দেশ মানবেন না তা তো হতে পারে না। তার অনুপস্থিতির

কারণে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।’ শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘উপাচার্য নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করে চলেছেন, এটা কাম্য নয়। তিনি রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা মানবে না আবার উপাচার্য পদ দখল করে থাকবেন, এটা দুঃখজনক।’ তবে রাষ্ট্রপতি ক্যাম্পাসে থাকার শর্তে নিয়োগ দিলেও

এবং শিক্ষক-ছাত্ররা অনুপস্থিত বলে অভিযোগ তুললেও নিজেকে অনুপস্থিত ভাবতে রাজি নন উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তিনি দাবি করেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ নেই। একজন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের একজন শিক্ষকের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা বাধ্যতামূলক নয়। যারা

প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়েই সার্বক্ষণিক সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে এমনটি নয়। বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে তাদের ঢাকায়ও থাকতে হয়।’ তিনি আরও বলেন,‘যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার বাইরে অবস্থিত সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকায় একটি করে লিয়াজোঁ অফিস থাকে। কারণ,বিভিন্ন সময় সিন্ডিকেট মিটিং,জরুরি কোনও

সভা, মন্ত্রণালয়ের মিটিং, ইউজিসির কোনও কাজ, কোর্টের কোনও মামলাসহ নানা দাফতরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করতে হয়,এটাই নিয়ম। কিন্তু কোনও একটি মহল অপপ্রচার চালিয়ে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে মোড় দেওয়ার চেষ্টা করছে।’


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor