Space For Advertisement

মণিরামপুরে সরকারী এ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে তালাবন্দী

---বিপাকে দুঃস্থ-অসহায় রোগী ও স্বজনরা

মণিরামপুরে সরকারী এ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে তালাবন্দী

মোঃ শফি সম্রাট : যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী বহনকারী একমাত্র এ্যাম্বু?েন্সটি প্রায় পাঁচ মাস যাবত গ্যারেজবন্দী হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় এ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হয়ে থাকলেও সেটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। ফলে ভূক্তভোগী গরীব ও দুঃস্থ রোগীর স্বজনেরা পড়েছেন মহাবিপাকে। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে গঠিত দেশের অন্যতম বৃহত্তর এ উপজেলায় অন্তত: ৫ লাখ লোকের বসবাস। বিশাল এই জনগোষ্ঠির সেবায় দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে রোগী বহনকারী একটি মাত্র এ্যাম্বুলেন্স, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য। এ্যাম্বুলেন্সটি দিয়ে সেবা প্রাপ্তি নিয়ে রোগী ও রোগীর স্বজনদের রয়েছে নানা অভিযোগ। এতদিন দিনের বেলায় এ্যাম্বুলেন্সটির সেবা জুটলেও রাতে বা গভীর রাতে কোন সেবায় পায়না রোগী ও রোগীর স্বজনেরা। রাত হলেই এ্যাম্বুলেন্সের চালককে ফোন করে পাওয়া যায় না, কখনোবা পাওয়া গেলেও নানা খোড়া অজুহাত দেখিয়ে চালক এড়িয়ে যেতেন। রাতে সেবা না মিললেও দিনে যেটুকু মিলত সেটাও বন্ধ রয়েছে গত পাঁচ মাস ধরে। এ্যাম্বুলেন্সটি চলাচলের অনুপযোগী অজুহাত দেখিয়ে গ্যারেজে তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এ্যাম্বুলেন্সের চালক ইকলাস আলীসহ হাসপাতালের একটি চক্র সরকারী এ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাইরের এ্যাম্বুলেন্স ও  রেন্ট-এ কারে ভাড়া ধরিয়ে দিয়ে রোগী-সাধারণদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা।
উপজেলার বাঙ্গালিপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেন জানান, সম্প্রতি আমার চাচা গভীর রাতে আকষ্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। অবস্থার আরো অবনতি হলে জরুরী বিভাগের এক চিকিৎসক রোগীকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। তখন হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালককে কল করা হলে চালক বলেন গাড়ী নষ্ট, তিনি যেতে পারবেন না। পরে বাইরে থেকে ১২০০ টাকা দিয়ে এ্যামবুলেন্স ভাড়া করে চাচাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। যদিও সরকারী এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া মাত্র ৪৪০ টাকা। স্থানীয়রা আরো জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এ্যাম্বুলেন্সটি তালাবদ্ধ রাখা থাকলেও সংস্কারে তেমন কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ফলে প্রায় তিনগুণ ভাড়া দিয়ে বাইরে থেকে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে রোগীসহ ভূক্তভোগীদের। এতে করে গরীব ও দু:স্থ রোগীর স্বজনরা পড়ছেন বিপাকে। হাসপাতালের একটি অসাধু চক্র রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ডাক্তার দেখানো, রোগী বহন করাসহ ভূক্তভোগী অসহায় ও দুঃস্থ রোগী ও রোগীর স্বজনদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে চলেছে।
হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক ইকলাস আলী বলেন, মণিরামপুর হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সটি তৈরি ২০০৬ সালে। বেশ পুরোনো হওয়ায় কয়েক মাস ধরে তা বিকল হয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যে এটি মেরামত করে চালানো সম্ভব হলেও এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। গাড়ির ইঞ্জিনের সমস্যা, রং এর সমস্যা আর গতিবেগ নেই বললেই চলে। রোগী বহন করার সময় পথিমধ্যে গাড়ি খারাপ হলে রোগীর স্বজনরা অনেক খারাপ ব্যবহার করে। তাই গাড়ীটি গ্যারেজে রাখা হয়েছে। মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. আব্দুল গফ্ফার বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি এ্যাম্বুলেন্স প্রতি লিটার পেট্রোলে কমপক্ষে ৬ কি.মি. পথচলার কথা। কিন্তু অত্র এ্যাম্বুলেন্সটি প্রতি লিটারে যাচ্ছে ৪ কি.মি.। ফলে অতিরিক্ত তেল খরচ বহন করা সম্ভব নয়। আর পুরোনো হওয়ায় এই গাড়িটিও ব্যবহারের উপযোগী নয়। গত ৮মাসে তিন বার এ্যাম্বুলেন্সের জন্য অবেদন করা হয়েছে। এমপি মহোদয়কেও জানানো হয়েছে। তিনি চেষ্টা করছেন। এ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। অচিরেই নতুন এ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor