Space For Advertisement

বিপন্ন মানবতা, বেহাল গণতন্ত্র ও দুর্নীতির লাগামহীন ঘোড়া

বিপন্ন মানবতা, বেহাল গণতন্ত্র ও দুর্নীতির লাগামহীন ঘোড়া

                স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল, মধ্য আয়ের দেশ ও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতেই নহে, বিশ্ব পরিক্রমায় শক্তিধর পরাশক্তির দেশগুলোর মধ্যেও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রাচ্য প্রতীচ্যের অনেক উন্নত দেশেও বিপন্ন মানবতা, বেহাল গণতন্ত্র, বেসামাল দুর্নীতির দৌরাত্ম, লাগামহীন ঘোড়ার ন্যায় কম পদচারণা লক্ষ্য করা যায়নি। আর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ভুলন্ঠিত গণতন্ত্র বেহাল মানবতা ও বেসামাল দুর্নীতির পথযাত্রা সংক্রামক ব্যাধির মতো সমানে বি¯তৃত হচ্ছে। তদোপরি দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মিডিয়ার দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে এসব কিছু যেন সামনে এগিয়ে  চলছে। এসবের প্রতিকার ও প্রতিরোধেও যেন কোন রাখ, ডাক নেই। বাধাহীনভাবে সাইক্লোন, গোর্কির তান্ডব, বন্যার পানি ও আগুনের লেলিহান শিখার মতো সব কিছু যেন ধ্বংস করে দাবানল ও সুনামির মতো সামনে এগিয়ে চলছে।

                মিয়ানমার থেকে অমানবিকভাবে নির্যাতিত ও নির্বাসিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত ১১ লাখ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হওয়া, প্যালেষ্টাইনের মুক্তিকামী জনগণের ওপর ইসরাইলের নির্মম নৃশংসতা, বর্বরতা এবং সিরিয়াতে যা ঘটছে গণতন্ত্রকামী ও মানবতাবাদী দেশ, মুসলীম বিশ্ব ও বিশ্ব বিবেকের কোন অবস্থাতেই তা সহ্য করার কথা নয়। ইসরাইলের নেতানিয়াহু, সিরিয়ার হাফিজ আল বাশার, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা, অং সান সুচি কোন না কোন পরাশক্তি ও দুনিয়ার কিছু শক্তিধর বড় দেশের ইন্ধনে তা করতে সাহস পাচ্ছে। তাদের মধ্যে মানবতা যেমন অনুপস্থিত তেমনি গণতন্ত্রও নির্বাসন। যদিও তারা গণতন্ত্র ও মানবতার কথা বলে বেড়াচ্ছে।

                ২০/৬/১৮ ইং ডেমোক্রেটাইজেশন নামের একটি জার্নালে ১৮০টি দেশের গণতন্ত্রের ওপর বিশিষ্ট রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের একটি সমিক্ষা সম্পাদিত হয়েছে। গবেষণার মধ্যে উঠে আসে ১৮০টি দেশের মধ্যে ২৪টিতে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২৬০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে সেই ২৪ দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, তুরস্ক, ব্রাজিল, পোলান্ড, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও আরো কিছু দেশ। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের জনক। তিনিই অব দি পিপুল, বাই দি পিপুল এন্ড ফর দি পিপুল সংজ্ঞার জনক। তদোপরি গণতন্ত্র হল সরকার পরিচালনায় সব নাগরিকের সুষম অংশীদারিত্ব, প্রবলভাবে চর্বিত, রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি। গণতন্ত্রে ওই সংজ্ঞাটির মূল্যায়ন অপরিসীম। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আজ গণতন্ত্র ও মানবতা বিপন্ন। এই গবেষনাটি ভ্যারাইটিস অব ডেমোক্রেটিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের। ৩০০ বিশেষজ্ঞ প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে লাখ, লাখ তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তা সম্পাদিত করেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়ে থাকে। ওই গবেষণায় ১৮০টি দেশের গণতন্ত্র বিবেচনায় চার পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে খরনবৎধষ উবসড়পৎধপু (উদার গণতন্ত্র), ঊষবপঃড়ৎবষ উবসড়পৎধপু (নির্বাচনী গণতন্ত্র), ঊষবপঃড়ৎবষ ঙঃড়পৎধপু (নির্বাচনী 

 

স্বৈরতন্ত্র) এবং ঈষড়ংবফ উবসড়পৎধপু (রুদ্ধ স্বৈরতন্ত্র)। ওই গবেষণাটি বিশ্লেষণে ১৮০টি দেশের মধ্যে যে সমস্ত দেশে এর প্রতিফলন ঘটেছে, সেই সমস্ত দেশের জনগণের কাছে এ চারটি দিক একেবারে সুস্পষ্ট।

                 গণতন্ত্র মানবতার মহাযজ্ঞের বিরুদ্ধে পরাশক্তিধর দেশ বা বিগ ফাইভ যেমনি নীরবতা পালন করে আসছে তেমনি মুসলীম দেশগুলোর অনৈক্যের সুযোগে অনেক দেশ সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলীম দেশগুলোর অগ্রাযাত্রাকে ভূমিকম্প, সুনামি ও দাবানলের রাহুগ্রাসের মতো নিপতিত করতে কুন্ঠাবোধ করছেনা। তদোপরি পরাশক্তিধরদের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের কারণে (ঈধষপঁষধঃবফ ধহফ ঢ়ৎবঢ়ষধহহবফ) মুসলীম দেশগুলোর যেমন ঐক্যবদ্ধ হতে পারছেনা তেমনি নিজেরা নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি ও অনৈক্যের কারণে বিভিন্নভাবে জড়িয়ে পড়ছে। অপরদিকে সৌদি আরব প্যালেষ্টাইনী জনগণের ন্যায্য দাবী ও অধিকারকে পাস কাটিয়ে দজ্জাল ইসরাইলীদের সাথে সখ্যতার বন্ধনে আবদ্ধ হতেও দ্বিধা বোধ করছেনা। লিবিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, ইরান, তুরস্ক, সিরিয়া, সৌদি আরবসহ মুসলীম দেশগুলোর মধ্যে সীমাহীন অর্ন্তদ্বন্দ্ব জাতিগত সংঘাত ও যুদ্ধ ইহারই জ্বলন্ত উদাহরণ।

                মুসলীম বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রপ্রধান কর্নেল গাদ্দাফীকে নির্মমভাবে হত্যা এবং প্রহসনের বিচারে ইরাকের রাষ্ট্রপ্রধান সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসি, মিশরের জাতীয়তাবাদী নেতা আনোয়ার সাদাত নিহত এসব কিছুই পরাশক্তিদের ষড়যন্ত্রের ফসল বলে মনে করা হয়ে থাকে। অপর দিকে বাংলাদেশের দুই রাষ্ট্রপ্রধান নিহত, প্যালেষ্টাইনী মুক্তি সংস্থার চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাতের রহস্যজনক মৃত্যু, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান বেনজীর ভূট্টো ও চিলির রাষ্ট্রপ্রধান আলেন্দা নিহতের ঘটনাকে আমলে না নেয়ার কথা নয়। পরাশক্তিধর ও পরাক্রমশালী বড় দেশগুলোর এ জঘন্য খেলা এখনো থামেনি। 

                 প্রতিবেশী ভারত ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বললেও ইতিপূর্বে যেমনি ১৬০০ বছরের বাবরী মসজিদের স্থলে রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে তেমনি আজো মুসলমানদের গরু জবাই, গরু কোরবানী ও গো মাংস ভক্ষণের দায়ে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন এমনকি অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করতেও সংকুচিত ও দ্বিধাবোধ করছে না। ভারত তাদের স্বার্থে একটার পর একটা চুক্তি করলেও, আন্তর্জাতিক নদী আইন হেলসিংকী নদীমালাকে পাস কাটিয়ে তিস্তা, ফারাক্কা, বারাকসহ বাংলাদেশের ৪৪টি নদীর পথ রুদ্ধ করে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখে চলছে। ইতিপূর্বে ফেলানীকে ভারতের বিএসএফ নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করলেও যেমনি ফেলানীর স্বজনরা প্রতিকার পায়নি তেমনি ভারতের বিএসএফ ও বাংলাদেশের বিজিবির মধ্যে বিভিন্ন পতাকা মিটিংসহ দ্বিপাক্ষিয়ভাবে আলোচনা হলেও ফলাফল যেন অন্তঃসার শূন্যের কোঠায়।

                 বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান থাকলেও, বাংলাদেশ সরকারকে বায়ে ফেলে ইন্দিরা ভূট্টো সিমলা চুক্তির মাধ্যমে ৯৩ হাজার পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী ও ১৯৫ জন চিহ্নিত নরঘাতক ও মা বোনের ইজ্জত হরণকারীদের সসম্মানে পাকিস্তানে ফেরৎ দিয়ে এবং ভারতের যুদ্ধবন্ধীদেরকে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে এনে তাদের স্বার্থ হাসিল করেছিল। যদিও বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার পথে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে বলেছিলেন, পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধী ও নরঘাতকদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। অপর দিকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির চেয়ারম্যান জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী স্বাধীনতার অব্যবহিত পর টাঙ্গাইলের সন্তোষের দরবার হলে অনুষ্ঠিত দেশী বিদেশী জনাকীর্ণ সাংবাদিকদের প্রেস কনফারেন্সে আইজি প্রিজনের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, কয়েক টন ফাঁসিকাষ্টের দড়ির ব্যবস্থা করতে হবে। তাতে পাকিস্তানের ৯৩ হাজার যুদ্ধাপরাধী ও ১৯৫ জন কষাই দজ্জাল, নরঘাতক ও হায়েনাদের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির দড়িতে কার্যকর করা হবে। তারপর ভারতের তদনীন্তন ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সরকার ও পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার বাংলাদেশের রাজনীতি ও জাতীয় নির্বাচনের ওপর ক্ষমতার বলে বিভিন্নভাবে মরুব্বীয়ানা ও অহেতুক হস্তক্ষেপ যেন তাদের মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

                এখন আসা যাক দেশের কথায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ঠওইএণঙজ বা বেনীআসহকলার মতো (রংধনু) অনেক ধরণের সরকার এসেছে এবং গিয়েছে। সকলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবতা, সমুন্নত মৌলিক অধিকার ও দুর্নীতি প্রতিরোধের কথা বলে ক্ষমতায় আসলেও এদেশের কামার, কুমার, শ্রমিক ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যেমন ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়নি তেমনি এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনসহ শাসন, প্রশাসন, সমুন্নত আইন, বিচার, বিপন্ন গণতন্ত্র, অবহেলিত মানবতা, বেসামাল দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক মুক্তি বন্দী দশা থেকে আলোর মুখ দেখেনি। 

                 তারপর স্বাধীনতার পর ৭২ সালে পাকিস্তান ফেরত এইচ.এম এরাশাদ ৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা হরণ করে মসনদে বসে দেশবাসীকে তাজ্জব লাগিয়ে বলেছিল “স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখবো।” তেমনি ফখরুদ্দীন, মাইনুদ্দীন ২০০৭ সালে ওড়ে এসে ক্ষমতাসীন হয়ে বড় দুই দলের জননেত্রী ও দেশনেত্রীকে বন্দী করে শেরে বাংলা নগরের ক্যাঙ্গারো কোর্টে বিভিন্ন সাজানো মামলায় হয়রানী করে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ওপর কম চমক সৃষ্টি করেনি।

                বাংলাদেশ এ পর্যন্ত গণতন্ত্র রক্ষা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, বেসামাল দুর্নীতির রাহুগ্রাস ও দুর্নীতির লাল ঘোড়া  দৌড়ানোর মাধ্যমে প্রতিরোধের কথা বললেও কার্যত এ পর্যন্ত কোন সরকারের আমলেই এ সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং ক্রমান্বয়ে লাগামহীন ঘোড়া ও ক্ষেতের ফসল নষ্ট করা মারদাঙ্গা হাতীর তান্ডবের মতই সামনে বেড়েই চলছে। জাতির ভাগ্যে কি আছে আজ কেহই যেমন সঠিকভাবে তা নিরুপন করতে পারছেনা তেমনি সঠিকভাবে পথ নির্দেশনাও দিতে পারছেনা। দেশের আইন আদালত ও বিচারের দরজা খোলা থাকলেও এনকাউন্টার ও ক্রস ফায়ারের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক ২৪/৬/১৮ ইং রোববার ক্রসফায়ারে নিহত একরামুলের মাকে টেকনাফে শান্তনা দেয়ার সময় বলেছেন গাইড লাইন তৈরী হচ্ছে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ হবে। একরামুল হক হত্যা কান্ডের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে সরকারের কাছে দাবী জানান। ২৫/৬/১৮ ইং বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংবাদটি প্রকাশিত হয়ে থাকে। জানা যায়, এমন প্রতিশ্র“তি সর্বোচ্চ বিচার বিভাগ থেকে বহুবার আসলেও তা থেমেনি। হয়তোবা সময়ই বলে দিবে মানবাধিকার চেয়ারম্যানের এ কথা কতটুকু ফলপ্রসু ও বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। দুর্নীতির নামে যে হুলি খেলা এবং দুর্নীতি দমন প্রতিরোধে বর্তমান দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ আপ্রান চেষ্টা করলেও তা নিয়ে রয়েছে নানা মনির নানা মত ও অভিমত। 

                ২৪/৬/১৮ ইং রোববার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ২৩/৬/১৮ ইং রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সরিষাবাড়ীতে এক পথসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেছেন, সরকারের ৯৭ ভাগ এমপি-মন্ত্রী দুর্নীতিগ্রস্থ অর্থাৎ চোর। ইতিপূর্বে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন সরকারের একজন মন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন আমরাতো দুর্নীতিগ্রস্থ, বেশী করে ঘুষ খাই। এখন থেকে একটু কম করে ঘুষ খেতে হবে। এর চেয়ে আমাদের জন্য লজ্জা ও দুর্ভাগ্যের আর কি হতে পারে। এ সংবাদটি ২৪/৬/১৮ ইং দৈনিক যুগান্তরেও প্রকাশিত হয়। প্রকাশ্যে এ বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর দুর্নীতির ব্যাপারে আর কোন কিছু অবশিষ্ট আছে বলে মনে না করারই কথা। দেশের এমপি-মন্ত্রীরা দেশ ও জনগণের আশা ভরসার স্থল। তারাই যদি দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত হয় এবং জাতীয় গণমাধ্যমে সরকারের ৯৭ ভাগ “এমপি-মন্ত্রী দুর্নীতিগ্রস্থ” এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় তবে দুঃখ বেদনা জানানোর জায়গাই বা কোথায় ? এ বক্তব্য থেকে আরো প্রমাণিত হচ্ছে, প্রতিনিয়ত গরীবের গম, উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে যে সংবাদ বেড়–চ্ছে তা যেমনি অমূলক নহে তেমনিভাবে দুর্নীতিবাজরা যেখানে দুর্নীতির মাধ্যমে হালুম হুলুম করে রসগোল্লার মতো দুর্নীতির মাল গিলছে তাও অমূলক নহে।

                সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাকুন্দিয়া সদর হাসপাতালের এমসি বাণিজ্য সম্পর্কে নিজস্ব সংবাদদাতা কর্তৃক একটি সংবাদের দৃশ্যপট চোখে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কতটুকু নজর দিয়েছেন তা জানা যায়নি। তবে স্পর্শকাতর এ বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে কর্তৃপক্ষের দেখার দরকার বলে অনেকেই মনে করে থাকে।

                    সারা বিশ্বে মুসলীম রাষ্ট্রগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে শক্তিধর পরাশক্তি যেখানে মুসলীম দেশগুলোর ওপর ষাঁড়াশি আক্রমন অব্যাহত রেখেছে ভারত যেমনিভাবে বাংলাদেশে আধিপত্য বিস্তারসহ আন্তর্জাতিক নদী নীতিমালা ভঙ্গ করে নির্লজ্জভাবে যা করছে, তা কারো মেনে নেয়ার কথা নয়। দেশে যাতে সুসংহত গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ, লাগামহীন ও বেসামাল দুর্নীতি প্রতিরোধে আরো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা যেমন জনপ্রত্যাশা তেমনি পরাশক্তি ও বড় দেশের কাছে বন্দী বিপন্ন মানবতা ও বেহাল গণতন্ত্রের অবসানে বিশ্বের গণতন্ত্রকামী, মানবতাবাদী দেশ ও মুসলীম বিশ্বের নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্ব পরিহার পূর্বক সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যাবশ্যক। সহিংসতা, বিপন্ন মানবতা, বেহাল গণতন্ত্র, বেসামাল ও লাগামহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপই দেশের শান্তি, স্বস্থি, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও জাতীয় সংহতি অর্ন্তনীহিত। 


এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট
মোবাইল: ০১৭১৮-৮১৪৮১৩।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor