Space For Advertisement

সংসদ নির্বাচনে আইজিপি নূর মোহাম্মদ নতুন আলোর দিশারী

সংসদ নির্বাচনে আইজিপি নূর মোহাম্মদ নতুন আলোর দিশারী

সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ৩১ অক্টোবর ২০১৮ থেকে ১৯ সালের ২৮ জানুয়ারীর ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশনের সচিব টাঙ্গাইলের বাশাইল পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে ২৩ জুন এক অনুষ্ঠানে বলেছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশীল আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে ঘোষণা করা হবে। তাতে একাদশ নির্বাচনের দিনক্ষন প্রায় দ্বারপ্রান্তে। 

                মহাজোট, জোট, বড় দুই দল ও অন্যান্য প্রার্থীরা এখনই জনসংযোগ করে যাচ্ছে। তবে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট নিবাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের নিকট কিছু দাবী জানিয়ে আসছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, কিছু প্রার্থী আগাম বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও পোষ্টারে দলীয় নেতানেত্রীদের সাথে ছবি ও নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে বাহারী আশাবাদ ব্যাক্ত করে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কে কোন দল, মহাজোট ও জোটের প্রার্থী তা আগাম বলতে পারছে না। সকলেই অনুমান নির্ভর ও আশাবাদী হয়ে এসব হৈ হুল্লুড় করে যাচেছ বলে অনেকেই মনে করে থাকে। এরই মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ.এম. এরশাদ ১৪ দলীয় মহাজোটের শরীক হলেও, এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার কথা ব্যাক্ত করেছেন। তবে একথা তার শেষ কথা কী না তা বলা খুবই মুশকিল। কারণ তিনি সকালে এক কথা, বিকালে আরেক কথা এবং ঘুমে যাওয়ার আগে অন্য কথা বলতে সিদ্ধহস্ত। 

                রাজনীতির দৃশ্যপটে ১৪ দলীয় মহাজোট, ২০ দলীয় জোট, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থাকলেও বিকল্প ধারা, জে.এস.ডি, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং নাগরিক ঐক্য ইতিমধ্যে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছে। তদোপরি সূত্র মতে বৃহত্তর ঐক্যের ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্ট, ঐক্যজোট, ইউনাইটেড ফ্রন্ট, ন্যাশনাল ফ্রন্ট ও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের কথাও শুনা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে নির্বাচনী দৃশ্যপট কোন দিকে যায় তা নিয়েও রয়েছে নানা মত, অভিমত। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অভিজ্ঞ মহল মনে করে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী হিসেবে টিকে থাকার জন্য যে সব প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে হয় তন্মধ্যে নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও আইনের শাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তদোপরি এসব প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির চর্চা আরো গুরুত্বপূর্ণ। এসব কিছু ব্যতিরেখে শুধু নির্বাচন কেন অনেক কিছুরই অর্গানোগ্রাম জটিল ও কঠিন বলে বিশ্লেষকরা মনে করে থাকে। 

                 ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্র রক্ষার নামে যে তুঘলকি কান্ড ঘটেছে তা কারো জন্যে সুখকর বার্তা বয়ে আনেনি। এক সময় রাজনীতিকরা ছিল নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর লোক। তারা লোভ লালসা, মিথ্যাচার, হিংসা বিদ্বেষের উর্ধ্বে জীবন যাপন করতেন। তাদেরকে গরীবের গম, রিলিফের টিন, 

উন্নয়নের অর্থ লুটাপাটতো দূরের কথা এ ধরণের চিন্তাও মাথায় নিতে দেখা যায়নি। আর এখন চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ভোগ বিলাস, শঠতা, মিথ্যাচার, দুর্নীতির মাধ্যমে গাড়ী, বাড়ি, ফ্ল্যাট নামে বেনামে ব্যাংক একাউন্টে বিশাল অর্থ আমানত ইত্যাদি হচ্ছে প্রধান ধারা। ২৭ জুন, ২০১৮ ইং প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণে গণতন্ত্রের দিন কি শেষ প্রায়? শীর্ষক এক প্রবন্ধে সাংবাদিক ফজলুল কবির লিখেছেন মুমূর্ষ গণতন্ত্রের বিছানার ওপর আদলে হচ্ছে নির্বাচন খেলা। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির ধারাও ক্রম বিকাশ অব্যাহত থাকলে কোনো একটি দলের একক শাসনের পথ প্রশস্ত হতে পারে। দেশে কার্যকর কোনো বিরোধী শক্তি না থাকলে ক্ষমতাসীনদের যে কোন ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্ভবকে অস্বীকার না করারই কথা। ফলে ততই জেঁকে বসবে ক্ষমতাসীনদের কর্তৃত্ববাদী মনোভাব। ফলশ্র“তিতে দুর্ভোগ, অসহনশীলতা প্রকট ও মহামারীর আকার ধারণ করবে। এসব কিছু থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে জি হুজুর মার্কা খাংসারপা বিরোধী দলের কথা যেমন মাথা মগজ থেকে বাদ দিতে হবে তেমনি কথায় নয় কাজের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চাকে এগিয়ে নেয়াটাই হবে মুক্ত চিন্তা বুদ্ধির অভিষেক। তদোপরি নির্বাচনে আদর্শবান, ন্যায় নিষ্ঠাবান, জাতীয় স্বার্থের পরিক্ষীত ধারক বাহক, জনবান্ধবদিগকে নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও দলীয় মনোনয়ন কম গুরুত্ব বহন করে না। 

                কিশোরগঞ্জ ২ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সাবেক আইজিপি, যুব ও ক্রীড়া সচিব এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত নূর মোহাম্মদ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হচ্ছেন বলে গণমাধ্যম ও সূত্রে জানা যায়। তদোপরি ০৬/৭/১৮ ইং বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি সংবাদেও তা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কিশোরগঞ্জ- ২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) নির্বাচনী এলাকায় এ পর্যন্ত ৫০/৬০টি জনসংযোগ সভা করেছেন বলেও জানা যায়। ২৭/৬/১৮ ইং কটিয়াদী উপজেলার মসূয়ায় এক নির্বাচনী গণ সংযোগ অনুষ্ঠানে ঐ আসন থেকে তিনি প্রার্থী হবেন বলে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সামনে স্বতঃস্ফুর্তভাবে ঘোষণা প্রদান করে থাকেন। সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের এ ঘোষণায় নির্বাচনী এলাকার সকল শ্রেণী পেশা ও সাধারণ মানুষের মনে অভূতপূর্ব আনন্দ, উল্লাস ও গণজাগরণের চিত্র ভেসে উঠেছে। নির্বাচনে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ প্রার্থী হওয়ায় নতুন আলোর দিশারী, নব দিগন্তের দিশারী এবং জনগণের প্রতিক্ষিত আশার আলো বলে অনেকেরই উল্লেখ করার কথাও শুনা যায়।

                 এ বিষয়ে এলাকার সুশীল সমাজ, পেশাজীবি, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারী পুরুষ, লেখক, কবি, সাংবাদিক, রাজনীতিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, বুদ্ধিজীবি, শ্রমজীবিসহ অগনিত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিসরে দীর্ঘদিনের কাংখিত প্রত্যাশা বাস্তবায়নের ধ্বনি, প্রতিধ্বনির পংক্তি বিন্যাস দৃশ্যপটে ভেসে আসছে। এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ- ২ নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও সাবেক প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের ভাগিনা মোঃ হুমায়ুন কবির আকন্দ আলাপচারিতায় বলেন, আমি কোনো রাজনীতি করিনা, কোনো রাজনীতি বুঝিনা এবং কখনও রাজনীতি করব না। তবে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ সংসদ সদস্য প্রার্থী হচ্ছেন জেনে এলাকার ভোটার হিসেবে যতটুকু করার প্রয়োজন আমি তা করব। আইজিপি হিসেবে নূর মোহাম্মদের কর্মকালীন সময়ের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে জনকল্যাণ, জনবান্ধব ও জনহিতৈষি হিসেবে অনেক কিছুর উদাহরণের কথাও তিনি উল্লেখ করে থাকেন। এমনিভাবে নির্বাচনী এলাকার আরো অনেকের কাছ থেকে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের কর্মজীবনে জনবান্ধব হিসেবে সাধারণ মানুষের দুঃখ বেদনার পাশে থাকার কথাও অকপটে চলে আসছে। এ আসনে জনগণের যেমনি ন্যায়নীতি পরায়ন আদর্শিক প্রার্থীর প্রত্যাশা তেমনি অবাধ, স্বচ্ছ, প্রভাব, কারচুপি মুক্ত জনগণের গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ও ভোটাধিকার কাম্য। দেশের জনগণ ভোট কারচুপি, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ভোটাধিকার হরণ ও ভোট ছাড়া ৮৮, ৯৬’র ১৫ ফেব্র“য়ারি ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো বিনা ভোটে ১৫৪ জন সংসদ সদস্যের মতো প্রতিচ্ছবিও ভোটের নামে গণতন্ত্র হত্যার ন্যাক্কারজনক তামাশা কোন অবস্থাতেই যেমনি প্রত্যাশা করে না তেমনি তা দেখতে চায় না।

                 লাখে লাখে সৈন্য মরিল কাতারে কাতার গুনিয়া বাছিয়া দেখি মাত্র তের হাজার। সোনাবানের ডাহা মিথ্যা ও অবাস্তব এ পংক্তির মতো মিথ্যা আশ্বাস ও প্রতিশ্র“তি যেমনি কেহ শুনতে চায়না তেমনি গণবিমুখ, দূর্নীতিবাজ, মিথ্যা প্রতিশ্রতিপরায়ন কোনো ব্যক্তিকেও দেখতে চায়না। এমনিভাবে মহাজোট, জোট ও বড় দুই দলের এমন কোনো প্রার্থীকেও দেখতে আগ্রহী নহে। দূর্নীতিবাজ, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী যে কোন সংসদ সদস্য প্রার্থী যেমনি দেশ, জাতি, জনগণ ও রাষ্ট্রের দুশমন তেমনিভাবে জনগণ ও ভোটারদের কাছেও গজব হিসেবে অলংকিত। মানদন্ডের বিচারে কোন দল, জোট, মহাজোট, ফ্রন্ট, দূর্নীতিবাজ, জনবিমুখ বলয়ের কাহাকে যদি প্রার্থী বাছাই (মনোনয়ন) করা হয়ে থাকে এর শুভাশুভ জনগণ ও ভোটারদের আদালতেই এক সময় পরিস্ফুটিত হয়ে থাকে। গণমাধ্যমে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সম্প্রতি ৩ দিনব্যাপী আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে গণভবনে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলার তৃণমূলের নেতা কর্মিদের মতামত অনুষ্ঠানে অনেকেই গণবিমুখ হাইব্রিড দূর্নীতিবাজদের কে মনোনয়ন না দেয়ার কথা ব্যাক্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, প্রত্যেকের আমল নামার ফাইল তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ প্রত্যাশা জনগণ অন্যান্য দল ও জোটের তৃণমূলের নেতাকর্মিদের বলেও জানা যায়।  

                থু থু উপরে ছুঁড়লে নীচে পড়ে। এ কথা ভেবে বড় কর্মকর্তার আসনে থেকে অনেকেই সত্য কথা বলতে চান না। অনেকেই নিজেকে বাঁচিয়ে পাহাড়, পর্বত, নদী, সমুদ্র ঘুরে অকপটে কিছু বললেও বাস্তব ও সত্যকে মিথ্যার আবরণ দিয়ে 

ঢেকে রাখার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু নূর মোহাম্মদ আইজিপি থাকাকালীন সময়ে ২০০৭ সালে ঢাকায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, দূর্নীতি একটি বিশাল বঠ বৃক্ষ। তার ডালপালাও সুবি¯তৃত। সামান্য বাতাসে নড়লেও সহজে ভাঙ্গে না। অনেকেই আইন নিজের হাতেও তুলে নেয়। তবে আইন শৃংখলার উন্নয়নে সেবা, কল্যাণ, কথা ও কাজের সমন্বয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ নিয়ামক শক্তি। এ অনুষ্ঠানে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের জনক রবার্ট ফীলের উক্তি “পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এর তাৎপর্য তুলে ধরে পুলিশকে সত্যিকারভাবে জনসেবার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তার এ বক্তব্যকে ব্যাখা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তিনি বাস্তব ও সত্য বলতে কুন্ঠিত হননি।  

                 ১৯৭৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত এ আসনে অনেকেই সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হলেও তুলনামূলকভাবে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এ এলাকার তেমন উন্নয়ন চোখে পড়ে না। এ ব্যাপারে কাহাকেও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে খাট করে দেখার প্রয়োজন হয় না। জনগণই এর নীরব সাক্ষী ও দর্শক। তদোপরি গণমাধ্যম ও মিডিয়াতে প্রায় সময় দেশের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের হাল হকিকত ও প্রতিচ্ছবি কমবেশী প্রকাশিত হচ্ছে। তাতেও জনগণের এ ব্যাপারে না বুঝার কথা নয়। এত কিছুর পর সবকিছু আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার ফুসরতই বা কোথায়। তাই বলা হয়ে থাকে আক্কেলছে বানকেলিয়ে ইশারায়ে কাফিহে। তাছাড়া এ নিবন্ধটি লেখার সময় প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন পরিচালিত গোলাপি এখন ট্রেনে ছবির “হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ” এ ডায়লগটির কথা বারংবার মনে হয়েছে। সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের অতীত ইতিহাস, কর্মজীবনের সুখ্যাতি, ন্যায়নীতি, আদর্শ ও জনবান্ধব হিসেবে সুখ্যাতি রয়েছে বলেই নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার কথা শুনে জনগন ও ভোটাররা আনন্দিত ও উল্লসিত। জনগণের এ স্বীকৃতি তার সুবিশাল প্রাপ্তি ও কর্মজীবনের ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি।  

                ইতিহাসের কালজয়ী প্রাণপূরুষ হেরাডোটাস, ব্র“ট, ফিলিপ.কে. হিট্টি, গীবন, আল মাসউদ সহ আরো অনেকেই বলেছেন, ইতিহাস যেমনি নিষ্টুর সময়ের নীরব সাক্ষী তেমনি সত্যের অনুসন্ধ্যানী ও বাস্তবতার দলিল। ইতিহাস ও জনগণ যেমনি কাউকে ক্ষমা করে না, তেমনি কাউকে স্বীকৃতি ও প্রতিদান দিতেও ভুল করেনা। ইতিহাসে হিটলার, মুসোলিনী, জার, চিয়াংকাইশাক, চেঙ্গিস খান, হালাকু খান, তৈমুর লংগ, নাদিরশাহ, টিক্কা, ইয়াহিয়া বর্তমান বিশ্ব পরিক্রমায় ডোলান্ড ট্রাম্প, কিম জং উন, নেতানিয়াহু, মিয়ানমারের দজ্জাল সেনাপ্রধান, হাফিজ আল বাশার, ভ­াদিমির পুতিন কে নিয়ে যেমনি সমালোচনা করতে দ্বিধা বোধ  করেনি তেমনি দ্বীন ধর্ম ইসলাম ও যুগে যুগে আসা নবী রাসূলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ফেরাউন, নমরূদ, কারূন, আবু জাহেল, আবু লাহাব, ইয়াজিদ, তুলায়হা, মুসায়লামা, সাজাহ, ওয়ালিদ বিল মুগীরা, উতবা, শাহিবা সহ আরো অনেকের নাম ও ইতিবৃত্ত কলংকের কালিমায় লিপিবদ্ধ। ইতিহাসের প্রাপ্তি  যেমন সুন্দর সুবাসিত তেমনি কর্দমাক্ত, কলংকময় ও দুর্গন্ধযুক্ত। ইতিহাস যেমনি কারো প্রাপ্তিকে অস্বীকার করে না তেমনি ক্ষমাও করে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ৪৭ বছর থেকে ৪৮ বছরে পদার্পন করছে। এর মধ্যে যা হয়েছে ইতিহাসই সাক্ষী। যে কারণে ইতিহাসের নিরিখে দেশের মানুষ আজো স্মরণ করে থাকে মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবর রহমান, জিয়াউর রহমান, ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতা, তিতুমীর, সূর্য্যসেন সহ আরো অনেক দেশপ্রেমিক, দেশবরেণ্য ও জাতীয়তাবাদী মহানায়কদের। বর্তমান সংসদের ভোটারবিহীন সংসদ সদস্য ও অন্যান্য সময়ের সংসদ সদস্যের আমলনামা ও কেরামান খাতেবীন ফেরাস্তার রেকর্ডের মতো ইতিহাসে দলিল হিসেবে রক্ষিত না থাকার কথা নয়। হয়তো সময়ই তা বলে দিবে। ৭৩, ৭৯, ৮৬, ৮৮, ৯১, ৯৬ ১৫ ফেব্র“য়ারী, ৯৬ ১২ জুন, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে কোন সরকার, কোন নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কী ভূমিকা তা যেমন সুস্পষ্ট তেমনি ডিজিটাল ক্যামেরায় ধারনকৃত ও অলংঘনীয়।   

                একাদশ সংসদ নির্বাচন যাতে সুন্দর, সুস্টু, অবাধ, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য, প্রভাবমুক্ত ও অংশগ্রহণমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটে এদিকে দেশের আপামর মানুষ গভীর আগ্রহের দিকে চেয়ে আছে। এটাকে কোন অবস্থাতেই খাট করে দেখার সুযোগ পরাহত। পরিশেষে বলব, দেশ ও কিশোরগঞ্জ -২ নির্বাচনী এলাকার জনগণ যে কাংখিত আশা বুকে ধারণ করে বসে আছে এ কাংখিত প্রত্যাশা বাস্তবায়নে শুভ সূচনা হোক। একাদশ সংসদ হোক জনগণের অর্পিত, প্রভাবমুক্ত ভোট ও সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্যদের অভিষেক। কথা নয়, জনগণের কাছে মিথ্যা প্রতিশ্র“তি নয়, হিপোক্রেসি নয়, গণতন্ত্রের নামে কেমোফ্ল্যাক্স নয়, বাস্তবতার নিরিখে জনমনে প্রতিফলিত হোক দীর্ঘদিনের জনপ্রত্যাশার আদলে সংসদ সদস্যর  মাধ্যমে স্বপ্নিল নতুন আলোর অনাবিল সুন্দর নবদিগন্ত।   


এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট
মোবাইল: ০১৭১৮-৮১৪৮১৩।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor