Space For Advertisement

বিবেক মরে গেছে, শুধু কবর দেবার বাকি

বিবেক মরে গেছে, শুধু কবর দেবার বাকি

||সৈয়দ আনছার হোসেন||

মেয়েটি মারা যাচ্ছিলো দেখেও শ্রমিকরা এ্যাম্বুলেন্স ছাড়েনি। শ্রমিকদের কাছে বলেছি আমার বাচ্চাটা খুব অসুস্থ। কিন্তু কেউ আমার কথা শোনেনি। আমি দেখেছি বাচ্চাটা মারা যাচ্ছে। আমার বাচ্চাটার কষ্ট হচ্ছে। আমাদের গাড়িটি ছেড়ে দিন। ড্রাইভারকে বলেছি আমাকে নামিয়ে দিন আমি হেটে যাবো। আমার চোখের সামনে মেয়েটি ওখানে মারা গেছে। এভাবেই বলে ছিলেন পরিবহন ধর্মঘটের সময় মৌলভীবাজার বড়লেখার  উপজেলার চান্দগ্রামে এ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় মারা যাওয়া ৭ দিনের কন্যা শিশুর মা সায়রা বেগম। 

এই শিশুটির মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু বলতে পারি না। এটা একটা স্পষ্ট হত্যা কান্ড। এর দায় ভার কে নিবে? 
এই অবরোধে সারা দেশের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অবরোধের নামে মানুষের আত্মমর্যাদায় যারা আঘাত আনছে এত কিছুর পরও পুলিশ প্রশাসন নীরব রয়েছে। স্কুল ছাত্রীর গায়ে পোড়া মবিল দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ও চালকের মুখে পোড়া মবিল এবং গাড়ি থেকে নামিয়ে কান ধরে উট বস করানো হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘন্টা কর্ম বিরতির নামে যে সন্ত্রাসি তান্ডব চালিয়েছে তার দায় ভার কে নিবে?
এই ৭ দিনের শিশুটির মৃত্যুর দায় ভার কে নিবে? 
বড়লেখা উপজেলাবাসি মারা যাওয়া মেয়েটির নাম দেয় বিবেক। আসলেও আমাদের বিবেক মরে গেছে। আজ যদি আমাদের বিবেক মারা না যেতো তাহলে ৭ দিনের এই শিশুটিকে এইভাবে রাস্তায় মারা যেতে হতো না। আর কতো এইভাবে আমাদের লাশের বোঝা নিতে হবে? এটা কি পরিকল্পিত হত্যা নয়? 
পরিবহন শ্রমিকরা জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর কয়েকটি ধারা বাতিলের দাবিতে রাস্তায় পরিবহন ধর্মঘট করেছে। যাতে জিম্মি হয়ে পড়েছিলো দেশের ১৬ কোটি মানুষ এই নিয়ে সন্দেহের তীর নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এর দিকে। গত ২৮ তারিখ সকাল ৬ টায় ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর থেকেই উনি শপথ করেছেন উনি হাসবেনা না এবং কথা বলবেন না। এদিকে রবিবার সংসদ অধিবেশনে আসেননি। সোমবার সরকারের অনুষ্টিত মন্ত্রীসভার বৈঠকেও যোগ দেননি শাহাজাহান খান কারও সাথে কথা বলেননি। এই ব্যাপারে বর্তমানে অবস্থা উনার এমন হয়েছে মনে হচ্ছে এই কর্মসূচি সর্ম্পকে কিছুই জানেন না। শুধু বলছেন নো কমেন্ট। অন্য দিকে তার ফেডারশেনের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, তার বিষয়টি না জানার কোন কারণ নেই। শাহাজাহান খান বর্তমান সরকারের মন্ত্রী। অন্যদিকে বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারশনের কার্যাকরী সভাপতি আমার জানা মতে পৃথিবীর কোথায় আছে কিনা সন্দেহ সরকারের মন্ত্রী থাকা অবস্থায় আবার পরিবহনের শ্রমিক নেতা হতে পারে। যখন সংসদের আইনটি পাশ হয় তখন আপনি কোথায় ছিলেন? 
আপনি তখন সেটিকে সমর্থন করেছেন। তাহলে আবার কেন আনন্দোলন? 
শ্রমিকরা আনন্দোলন করতেই পারে অতীতেও করেছে। কিন্তু এই ধরনের অরাজকতা কোন শ্রমিক করতে পারেনা। আপনি শাহজাহান খান পরিবহন শ্রমিক ফেডারশনের সভাপতি হিসাবে এর দায় ভার আপনাকে নিতে হবে। আমরা জাতি হিসেবে শুধু বলতে পারি আমাদের বিবেক মরে গেছে। শুধু কবর দেবার বাকি। 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor