Space For Advertisement

ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদের জানাজা ও মিলাদে অশ্রুসিক্ত দৃশ্যপট

ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদের জানাজা ও মিলাদে অশ্রুসিক্ত দৃশ্যপট

                 সমাজে ন্যায়, নিষ্ঠ, সৎ ও আদর্শবান মানুষের মর্যাদা ও সম্মান এখনও কমে যায়নি। মানুষ আজও নির্লুভ, দুর্নীতি বিমূখ, ন্যায় নিষ্ঠাবান, সৎ আদর্শবান ও কর্তব্য পরায়ন মানুষকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিতে ভুল করেনি। যার প্রমাণ প্রয়াত ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মোঃ সাঈদ। তাঁর গ্রামের বাড়ী নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলাধীন মাজেরচর গ্রামে। বাসা নরসিংদী শহরের গাবতলী মাদ্রাসা সংলগ্ন। তাঁর মরহুম পিতা ছিলেন সরকারি কলেজের একজন অধ্যাপক। আবু সাঈদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন (চঁনষরপ অফসরহরংঃৎধঃরড়হ) শেষে ১৯৮৫ সালে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তাঁর কর্মজীবনে সহপাঠীদের অনেকেই অতিরিক্ত সচিব হিসেবে এখনও কর্মরত থাকলেও, তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ কালেক্টরিয়টে (জেলা প্রশাসন) সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন অবিবাহিত। জানা যায়, কিশোরগঞ্জ কালেক্টরিয়টে যোগদানের পূর্বে জামালপুর, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও শরীয়তপুরে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকরি করে থাকেন। কিশোরগঞ্জ কালেক্টরিয়টে একাধারে প্রায় ১৭ বছর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকরি করার সুযোগ লাভ করে থাকেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।

                  ইতোমধ্যে তাঁকে মুন্সীগঞ্জ জেলায় বদলী করা হলে এলাকার জনগণের প্রত্যাশার কারণে এবং জনস্বার্থে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মুন্সীগঞ্জের বদলী আদেশ বাতিল করে কিশোরগঞ্জ কালেক্টরিয়টেই রাখা হয়। প্রশাসনিক কারণে এরই মধ্যে অষ্টগ্রাম উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসারের (টঘঙ) দায়িত্ব দেয়া হলেও পরবর্তী সময় কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণের প্রত্যাশায় প্রায় ৮ মাস পর কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনে পুণরায় ফিরিয়ে আনা হয়। কিশোরগঞ্জে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ জেলা প্রশাসনের সার্টিফিকেট অফিসার, ট্রেজারি অফিসার ও মোবাইল কোর্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সূচারুরূপে ন্যায় নিষ্ঠাবান ও সৎ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে জেলার সর্বস্তরের মানুষের ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে থাকেন। তিনি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী কোর্টেরও ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তিনি যতদিন কিশোরগঞ্জ কালেক্টরিয়টে কর্মরত ছিলেন ততদিন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, ডিডিএলজি, এডিসি (সার্বিক), এডিসি (রাজস্ব), এডিএম, এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) তাঁকে প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে কুন্ঠাবোধ করেনি। এমনকি তিনি একজন সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হলেও কালেক্টরিয়টের এ সমস্ত কর্মকর্তারা স্যার বলে সম্বোধন করতেও দ্বিধা সংকোচ করতেন না।

                  তিনি কিশোরগঞ্জের গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসস্থল আলোর মেলার ডরমেটরীতে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে বাস করতেন। তিনি সাদাসিদে জীবন যাপনে অভ্যস্থ ছিলেন। তাঁর কাপড় চোপড়েও তেমন কোনো জৌলুস ছিল না। তিনি প্রতিদিন সরকারি দায়িত্ব শেষে সহকর্মীদের সাথে প্রতিদিনই লন টেনিস খেলেতেন।

                 কিশোরগঞ্জে ভেজাল বিরোধী অভিযান, সরকারি জায়গা দখল উচ্ছেদ অভিযান, মদ, গাঁজা, মরননেশা ইয়াবা, ফেনসিডিল বিরোধী অভিযানে জেলায় যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করে থাকেন। তাছাড়া বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও বিআরটিএর অভিযানেও যথেষ্ট সুখ্যাতি অর্জন করে থাকেন। এ সমস্ত অভিযানে যেমন ছিল না তার মাঝে কোনো স্বজনপ্রীতি তেমনি ছিল না তদবীর সুপারিশের সংস্পৃশ্যতা। হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে যথাযথ খাবার সরবরাহ, মেয়াদ উত্তীর্ণ নিষিদ্ধ ঔষধ বিরোধী অভিযান, রেলের টিকিটের কালোবাজারী রোধ, পাসপোর্ট অফিসের দালালদের উৎখাত এমনকি পলিথিন বিরোধী অভিযানেও যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করে থাকেন। কিশোরগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন স্বপ্নিল নরসুন্দা পার্কের কাজ তদারকি এবং নদীর পাড়ের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানেও তাঁর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।

                  এই মানুষটিকে কখনও কর্মে ফাঁকি দেয়ার কথা শুনা যায় না। তিনি যথারীতি ৯-৫টা অফিস করতেন। তদোপরি দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজ ছিল তাঁর ১ নং শত্রু ও চক্ষুশূল। কোনো অবস্থাতেই এ শ্রেণীটাকে তিনি আশ্রয় প্রশ্রয় দিতেন না বলেও জানা যায়। তাছাড়া সরকারও জনস্বার্থে তাঁর অসংখ্য প্রশংসনীয় কর্মকান্ড এ নিবন্ধের সংক্ষিপ্ত পরিসরে উল্লেখ করা আদৌ সম্ভব নয় বিধায় সেদিকে আর এগুচ্ছি না।

                  ০৯/১১/১৮ ইং শুক্রবার কালেক্টরিয়টের গেজেটেড অফিসার্স ডরমেটরিতে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাঁর সহকর্মীরা তাঁহাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জ নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁহাকে মৃত বলে ঘোষণা করে থাকে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার জহিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) মোঃ হাবীবুল্লাহ হাবীব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মোঃ আক্তার জামীল, এডিসি (রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধর, এডিএম, এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি), কালেক্টরিয়টের সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট, অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, শুভানুধায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ হাসপাতালে এসে ভীড় জমায়। সকলেই অশ্রু ভেজা চোখে উদ্বেলিত হয়ে পড়ে। সে দৃশ্যপট চোখে না দেখলে নিবন্ধে দুকথা লেখে বুঝানোর ভাষা নেই। এ যেন অভূতপূর্ব হৃদয় বিদারক দৃশ্যপট।

                 কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থপনায় রাত ১০টায় ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজে সকল স্তরের জনগণ কালেক্টরিয়টের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁর শুভানুধায়ীরা অংশগ্রহণ করে থাকে। জানাজায় অংশগ্রহণকারী ছোট বড় সকলের চোখই ছিল অশ্রুসিক্ত। জানাজায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী তাঁর কর্মজীবনে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরের দিন শনিবার (১০/১১/১৮ ইং) নরসিংদীর পলাশে তাঁর গ্রামের বাড়িতে লাশ নেয়ার ব্যাপারে জেলা প্রশাসকসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভানুধায়ীদের কর্মতৎপরতা যারা দেখেছে তা কোনোদিন ভুলে যাওয়ার নয়। শুধু তাই নয়, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ মরহুম ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মোঃ সাঈদের অনেক শুভানুধায়ী লাশের কফিন নিয়ে নরসিংদীর পলাশ গ্রামের বাড়ীতে উপস্থিত হলে সেখানেও হৃদয় বিদারক অভূতপূর্ব দৃশ্যপটের অবতারণা হয়ে থাকে। পরে পারিবারিক গোরস্তানে তাঁর পিতার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর গ্রামের বাড়ীতেও ২য় জানাজার সময় হৃদয় বিদারক মর্মস্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা হয়।

                ১২/১১/১৮ ইং সোমবার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আসরের নামাজের পর কালেক্টরিয়েট মসজিদে মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা করা হলে এলাকার শ্রেণী পেশার লোকজন, জনসাধারণ ও কিশোরগঞ্জ কালেক্টরিয়টের সকল শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিচার বিভাগ ও পুলিশ সুপার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করে থাকে। মিলাদ মাহফিলের প্রারম্ভে জেলা প্রশাসক মরহুমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত কেহই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। কালেক্টরিয়েট মসজিদের ইমাম যখন মিলাদে মোনাজাত করছিলেন, তখন উপস্থিত সকলেই আমীন, আমীন ধ্বনি ও কান্নার রোল পড়ে যায়। মিলাদ অনুষ্ঠানের পর অনেক কর্মকর্তা, অধঃস্তন কর্মচারী, আম জনসাধারণ, শুভানুধায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন আহমদের ভাগীনা সাইফুল ইসলাম তাঁর সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও অকৃত্রিম কর্তব্যপরায়নতার কথা তুলে ধরে অশ্রুবেদনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কিশোরগঞ্জ বড় বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওসমান গনি ও কিশোরগঞ্জের ইলেক্ট্রনিক ব্যবসায়ী মোঃ হুমায়ুন কবীর আকন্দ তাঁর আকষ্মিক মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে থাকেন।

                মানুষ মরণশীল (গধহ রং সড়ৎঃধষ) এ দুনিয়া কারও জন্যেই চিরস্থায়ী নহে। একদিন আগে হোক বা পরে হোক প্রত্যেকেরই এ দুনিয়ার মোহমায়া ত্যাগ করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে অনাধি অনন্তকালের না ফেরার দেশে চলে যেতে হবে। কর্মজীবনের সুখ্যাতি, সুনাম, যশ, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা নিয়ে যারা না ফেরার দেশে চলে যায় তারাই ভাগ্যবান। তেমনি মরহুম ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মোঃ সাঈদ কর্মজীবনে সবকিছুর লোভ, লালসা, ত্যাগ করে মানুষের সম্মান ও অশ্রুসিক্ত পানি নিয়ে যেতে পেরেছেন, ইহাই তাঁর বড় প্রাপ্তি। তাই হয়তো বিশ্ব বিজয়ী বীর আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট তার মৃত্যুর আগে সহকর্মীদের 

বলেছিলেন, মৃত্যুর পর আমার লাশ কফিনে রাখার সময় আমার দুটি হাত কফিনের বাহিরে রাখিবা। মানুষ দেখুক, আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট খালি হাতে দুনিয়া থেকে বিদায় হচ্ছে। 

                মরহুম আবু তাহের মোঃ সাঈদ হয়তোবা চেয়েছিলেন, কর্মজীবনে মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে অন্যায়, অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করে আলীশান বাড়ী, গাড়ী, বিশাল ব্যাংক ব্যালেন্স, ফ্ল্যাট করে গেলে আমার তো কোনো উপকারে আসবে না। আমারতো খালি হাতেই একদিন দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতেই হবে।

                একইস্থানে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ চাকরি করার সুবাধে আমার মতো অনেকের সাথেই তাঁর সুস্পর্ক গড়ে ওঠে। নরসিংদী শহরের গাবতলী মাদ্রাসা সংলগ্ন তাঁর পৈতৃক বাসায় অনেকবার তাঁর সাথে বেড়ানোর সুযোগ ঘটে। তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত জরাজীর্ণ বিন্ডিং দেখে প্রায় সময়ই তাঁকে বলতাম, বাসাটা সংস্কার করা যায় না ? প্রতি উত্তরে বারবারই বলতেন, বাসা সংস্কার করার মতো অর্থ আমার নেই। তারপর বাসা সংস্কার করলে কি লাভ হবে। আমি কি বাসা সাথে নিয়ে কবরে যাব। ইত্যাদি অনেক যুক্তি। তবে এক সময় তিনি বলেছিলেন, আগামী ২০১৯ সালে আমি অবসরে গেলে অবসরকালীন ভাতার এককালীন টাকা দিয়ে একটি ছোটখাট ব্যবসা ও কোনো মতে থাকার জন্যে বাসায় একটি আলাদা কক্ষ করতে পারি।

                পরিশেষে জানা মতে আরেকটি ঘটনার উল্লেখ না করলেই নয়, একবার আমি তাঁর কাছে অফিস কক্ষে বসাছিলাম। কোনো একজন আলেম এসে বললেন, আপনিতো একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আপনি জানেন কি ন্যায় বিচার না করলে আপনার কি ধরণের শাস্তি পেতে হবে। তখন উক্ত আলেম সাহেব বললেন, ন্যায় বিচার না করলে একটি জীবন্ত ছাগলকে জীবন্ত লটকিয়ে যেভাবে চামড়া তোলা হয়, তেমনি একজন হাকিমকে তার অন্যায় অপরাধের জন্য এমনিভাবে ছাগলের মতো লটকিয়ে গায়ের চামড়া তোলা হবে (সহীহ হাদীস)। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, এ ব্যাপারে সজাগ। আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন এই পথে না যাই এবং পরকালে যেন আমার এ শাস্তির মুখোমুখি হতে না হয়। 

                আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি তাঁকে যেন আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন ক্ষমা করে দেন। প্রার্থনা করি, মরণের পরপারে যেই বেশে যেই দেশে যাই, তাঁর দেখা যেন পাই। হে মরহুম ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মোঃ সাঈদ, আপনি মরেও অমর। আপনার স্মৃতি তর্পন দুকথা ব্যক্ত করে শেষ করার মতো নয়। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন আপনাকে জান্নাতবাসী করেন। সমবেদনা জানিয়ে বলতে চাই, তাঁর মা, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধায়ী ও কর্মজীবনের ছোট বড় সকলকেই যেন আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন অনাবিল জ্বালা, মর্মস্পশী ব্যাথা বেদনা ও শোক সহ্য করার মতো শক্তি দান করেন। তাঁর মৃত্যুর পর কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অফিসে যেন শূন্যতা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের সকলের মুখে একই কথা, একই শ্রুতি ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ স্যারকে আমরা ভুলতে পারি না ভুলতে পারব না। উনার সানন্দ ব্যবহার, সুন্দর আচরণ, সততা ও পারফরম্যান্সে (চবৎভড়ৎসধহপব) সকলেই ছিল অভিভূত। কর্মজীবনে তাঁর সাথে যারা প্রতিনিয়ত কাজ করেছেন তাদের সাথে দেখা হলেই বলে থাকে সাঈদ স্যারের জন্য দোয়া করবেন। আমরা সাঈদ স্যারের মতো একজন নির্লোভ, সৎ, ন্যায় পরায়ন, আদর্শবান কর্মকর্তার কথা কোনদিন ভুলব না। 

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট

 

 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor