Space For Advertisement

উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর অঞ্চল-৩ দালালদের ঘুষ বাণিজ্যের রাজত্ব

উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর অঞ্চল-৩ দালালদের ঘুষ বাণিজ্যের রাজত্ব

নূর আলম প্রিন্স : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর অঞ্চল-৩ এ কর কর্মকর্তা নাসির উদ্দীনের যোগসাজসে দালালরা কায়েম করছে ঘুষ বাণিজ্যের রাজত্ব। সরেজমিনে অনুসন্ধান  করতে গিয়ে দেখা যায় কর কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন দীর্ঘদিন যাবৎ অঞ্চল-৩ এ দালালদের সাথে সিন্ডিকেট করে প্রতিদিন গ্রাহকদের কাছ থেকে লুটে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর অঞ্চল-৩ এর কর্মচারীরা বলেন নাসির উদ্দীন কিছু কিছু কাজ নিজ দায়িত্বে করে থাকেন। বিশেষ করে হোল্ডিং ট্যাক্স। বাড়ীবাড়ী গিয়ে নিজেই মাপঝোপ করে বাড়ীওয়ালাদের বাড়ীতে বসেই হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা গ্রহন করে নিয়ে আসেন। এতে করে হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে কত টাকা নিলেন, আর কত টাকা ছেড়ে দিলেন তা তিনিই জানেন। কিন্তু এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না হয়ে চলে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নাসির উদ্দীনের পকেটে। এতে করে দুর্নীতিবাজরা কোটি কোটি টাকার মলিক বনে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর অঞ্চল-৩ এর কর কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। উত্তরায় কোটি টাকার আলিশান ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। এছাড়া ঢাকায় আরো     এরপর দুটি আলিশান ফ্ল্যাট রয়েছে তার। নিজে একটি গাড়ী ও পরিবারের জন্য আরও একটি গাড়ী রেখেছেন। স্ত্রীর নামে ও বেনামে ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছেন কোটি কোটি টাকা। এছাড়া ঢাকায় দুইটি প্লট রয়েছে বলে সূত্র দাবী করছে। কর কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন কর অঞ্চল-৩ এ দালালদের মাধ্যমে একটি শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। যেখানে চুক্তি ভিত্তিতে কাজ করছেন একাধিক দালাল। যার নেতৃত্বে রয়েছেন কর কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন নিজেই। গত ১০/১১/২০১৮ইং তরিখ শনিবার সকাল ১০:০০ ঘটিকায় কর অঞ্চল-৩ এ ঘুষের টাকা ভাগাভগি নিয়ে দুটি গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে করে আহত হন কর কর্মকর্তার পি.এ হোসেন আলী। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন নাসির উদ্দীন এর পি.এ হোসেন আলী ও অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব ছিলেন সুপার ভাইজার রশিদ। এই ঘটনা নিয়ে অঞ্চল-৩ ব্যাপক তোলপাড় এর সৃষ্টি হয়। কারন সরকারী ছুটির দিনেও কেন এই সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অফিস করেছিলেন।  
গত ২৩ অক্টোবর ২০১৮ইং তারিখে দৈনিক মুক্তখবর পত্রিকার (উত্তর সিটি কর্পোরেশন ব্যাপক দুর্নীতির আখড়া) সংবাদ প্রকাশ হলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় এবং অভিযুক্ত তিন/চার জনকে বদলি করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর। কিন্তু ধরা-ছোয়ার বাহিরে রয়ে যাচ্ছে দুর্নীতীবাজদের খল নায়ক কর কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিন্ডিকেট এর দালালরা এখন আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে দপ্তরে। সেলিম সিকদার বাদল, মোজ্জাফ্ফর, মঞ্জ, মামুন, জসিম, তারেক, কবির ও হাবিবুর রহমান নামক দালালরা আগের মত অঞ্চল-৩ এ কাজ করেই যাচ্ছে। হাবিবুর রহমান মাষ্টার রোলে বিদ্যুৎ বিভাগে উত্তর জোন-১ এ কাজ করেন। কিন্তু অতিরিক্ত আয়ের লোভে সে এখানেও কাজ করে থাকেন। উত্তর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৩ এ এখনও প্রতিটি টেবিলেই চলছে ঘুষ বাণিজ্যের উৎসব। অপর একটি  সূত্র থেকে জানা গেছে অঞ্চল-৩ এ সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এস.এম ওয়াসিমুল ইসলাম তার চাকুরীর বয়স মাত্র এক বছর। কিন্তু এখন সে কোটিপতি। ঢাকায় একটি ১৫০০ বর্গফুট এর ফ্ল্যাট ক্রয়ের উদ্দেশ্যে দৌড়যাপ করছেন। কারন তিনি দু’হাতে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটে নিচ্ছেন। ই.পি.আই শাখা, মূসক প্রেস প্রোগ্রাম কচুরি পানা ইত্যাদি ভূয়া বিল ভাউচার বানিয়ে সরকারের টাকা লুটপাট করে কোটিপতি হয়ে গেছেন ডাঃ এস.এম ওয়াসিমুল ইসলাম। এ ব্যাপারে ফোনে ডাঃ এস.এম ওয়াসিমুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। উত্তর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৩ এ এখনও গ্রাহকরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গ্রাহকরা অঞ্চল-৩ এর দুর্নীতি থেকে রক্ষা পেতে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অভিযোগ উঠেছে কর-কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন উচ্চ-পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মোটা অংকের ডোনেশন দিয়ে এ সকল কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। এ ব্যাপারে নাসির উদ্দীন এর সেল ফোনে কল করে জানতে চাইলে সে এ প্রতিবেদককে চা চক্রের আমন্ত্রণ জানান।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor