Space For Advertisement

বছরের প্রথম দিনই ধার নিল ৫ ব্যাংক

বছরের প্রথম দিনই ধার নিল ৫ ব্যাংক

আগ্রাসীভাবে ঋণ প্রদান করার জেরে নগদ টাকার তীব্র সংকটে পড়েছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক। এ কারণে সিটি, ন্যাশনাল, এবি, এনআরবি গ্লোবাল ও এনসিসিÑ এই পাঁচ ব্যাংক তাদের প্রাত্যহিক প্রয়োজন মেটাতে নতুন বছরের প্রথম দিনই কলমানি মার্কেট থেকে নগদ ১ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা ধার করেছে। এর মধ্যে শুধু সিটি ব্যাংকই নিয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। কলমানিতে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদে নেওয়া হয়েছে এসব অর্থ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা তোলার চাপ যদি বেশি হয় এবং নিজস্ব তহবিলের সংকট থাকে, তা হলে ঘাটতিতে থাকা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যাংক থেকে সুদের বিনিময়ে নগদ টাকা ধার নিয়ে গ্রাহকের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। অন্য কোনো কারণে নগদ টাকার প্রয়োজন হলেও এভাবে টাকা ধার নেওয়া যায়। সাধারণত এক থেকে সাত দিনের জন্য এ লেনদেন হয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একে কলমানি মার্কেট বা আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার বলা হয়।

সূত্র জানায়, টানা ৪ দিন বন্ধ থাকার পর ২০১৯ সালের প্রথম দিন অর্থাৎ গতকাল ব্যাংকের লেনদেন শুরু হয়েছে। এদিন মতিঝিল ব্যাংকপাড়া ঘুরে গ্রাহকের তেমন চাপ দেখা যায়নি। সোনালী ব্যাংকের ৩টি শাখা ঘুরে দেখা যায়, অনেকটাই সুনসান। টাকা তুলতে বা জমা দিতে খুব বেশি গ্রাহকের দেখা মেলেনি। এমন পরিস্থিতিতেও নগদ টাকার সংকটে পড়েছে উপরোল্লিখিত ৫টি ব্যাংক। ২০১৮ সালে কলমানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সুদহার ছিল দেড় শতাংশ। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এটি বেড়ে ৪ শতাংশে দাঁড়ায়। আর নতুন বছরের প্রথম দিনই চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় সুদহার আরও বেড়ে সাড়ে ৪ শতাংশ হয়েছে। এই সুদহারেই টাকা ধার নিয়েছে ব্যাংকগুলো।

নগদ টাকার সংকট সবচেয়ে বেশি সিটি ব্যাংকের। ব্যাংকটি নিজের প্রয়োজন মেটাতে সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা ধার নিয়েছে। নিজেদের সাময়িক বার্ষিক হিসাবে গত বছর ৬৮৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা দেখিয়েছে সিটি ব্যাংক। গত বছর তৃতীয় সর্বোচ্চ পরিচালন মুনাফা অর্জনকারী ন্যাশনাল ব্যাংকেও চলছে নগদ টাকার টানাটানি। এক দিনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যাংকটি তাই ৪৩১ কোটি টাকা ধার করেছে। সাম্প্রতিক সময় অর্থপাচার, ঋণে অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে সমালোচিত এবি ব্যাংক ধার করেছে ২৭০ কোটি টাকা। সংকটে পড়েছে নতুন প্রজন্মের এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকও। তাই ৯০ কোটি টাকা ধার করেছে। গত বছর ব্যাংকটি পরিচালন মুনাফা দেখিয়েছে ১১০ কোটি টাকা। এর আগে টাকার সংকটের কারণে গত বছরের মার্চে নিয়ম অনুযায়ী নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) রাখতে ব্যর্থ হয় ব্যাংকটি। ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরিমানাও করে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংককে। এ ছাড়া এনসিসি ব্যাংক ধার করেছে ৮০ কোটি টাকা। গত বছর বেশ কয়েকবার ঋণ-আমানত অনুপাতের (এডিআর) সীমা লঙ্ঘন করে ব্যাংকটি।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি সৈয়দ হাবিব হাসনাত বলেন, তারল্যের কোনো সংকট নেই। তবে প্রয়োজন মেটাতে কলমানি থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এর সুদহার অনেক কম। আমানতের সুদহার কিছুটা বেশি হলেও সব ব্যাংকই বছরের শেষদিকে এসে আমানত সংগ্রহে তোড়জোড় করে। সব বিবেচনা করে সামান্য পরিমাণ টাকা কলমানি থেকে নেওয়া হয়েছে। যদিও এটি প্রকৃত সমাধান নয়।

ব্যাংকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ করায় অধিকাংশ ব্যাংক এডিআরের আইনি সীমা লঙ্ঘন করে। এর ফলে নগদ টাকার সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। কিছু ব্যাংক এডিআর কমিয়ে আনতে সক্ষম হলেও কয়েকটি ব্যাংক এখনো তা আইনি সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে পারেনি। পর্যাপ্ত নগদ টাকা না থাকায় তারা গ্রাহকের টাকা দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আইনি জমাগুলো রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এসব প্রয়োজন মেটাতে কলমানি মার্কেট থেকে অর্থ ধার করছে ব্যাংকগুলো।

গত বছর ব্যাংকিং খাতে নানা সংকট চললেও নতুন বছরে এই খাত ভালো করবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ব্যাংকাররা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নতুন বছর ব্যাংকিং খাত ভালো করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। গত বছরের হিসাবে মুনাফা ভালো হয়েছে। খেলাপি ঋণের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, এ বছর তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সূত্র : আমাদের সময় 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor