Space For Advertisement

মন্ত্রী আসে মন্ত্রী যায় আমলনামা ডুগডুগি বাজায়

মন্ত্রী আসে মন্ত্রী যায় আমলনামা ডুগডুগি বাজায়

-এ.কে.এম শামছুল হক রেণু-

ত্রিশ ডিসেম্বর একাদশ নির্বাচনের পর ৭ জানুয়ারী সোমবার নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করা হয় এবং ৮ জানুয়ারী মঙ্গলবার মন্ত্রীসভার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীগণ শপথ গ্রহণ করে থাকেন। ৪৭ সদস্যের মন্ত্রীসভার মধ্যে ৩১ জনই নতুন মুখ। আগের মন্ত্রীসভার ২৫ মন্ত্রী, ৯ প্রতিমন্ত্রী, ২ উপমন্ত্রী এবং সংসদ নির্বাচনের আগে দায়িত্ব প্রাপ্ত টেকনোক্রেট মন্ত্রীদের বাদ দেয়া হয়। সরকার বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করে থাকেন সরকারে মন্ত্রীদের বাদ পড়া এবং নতুন মন্ত্রীদের আগমন নতুন কিছু নয়। কারণ রাজা আসে রাজা যায়, মন্ত্রী আসে মন্ত্রী যায়। থাকে তাদের আমলনামা এবং কর্মের ফিরিস্তি। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এ রেওয়াজই চলে আসছে। পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান, আব্দুল মোনায়েম খানকে তাঁর বিশ্বস্থ ব্যক্তি হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিযুক্ত করলে এক সময় তাকে সরিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এম.এন হুদাকে গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তাহাকেও সরিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তথ্য ও চলচ্চিত্র বিষয়ক মন্ত্রী করা হয় মিজানুর রহমান চৌধুরীকে। জানা যায়, এক সময় মিজান চৌধুরীকে বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান তাকে পদত্যাগ করতে বলেন। এমনিভাবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মর্মান্তিকভাবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে নিহত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার সাংবিধানিক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং জিয়ার আমলের অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে নতুন পুরানের সমন্বয়ে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে থাকেন।
সেনাপ্রধান এ.এইচ.এম এরশাদ ৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে (ঈগখঅ) ক্ষমতায় এসে সাবেক সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বাদ দিয়ে নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করে থাকেন। তার ক্ষমতার মধ্যে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মিজানুর রহমান চৌধুরী, আতাউর রহমান খান ও কাজী জাফর আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে থাকেন। এ সম্পর্কে বর্ষিয়ান নেতা আতাউর রহমান খান “নয় মাসের প্রধানমন্ত্রী” নামে একটি বইয়ে অনেক কিছু উল্লেখ করে গেছেন। এ নিবন্ধে তা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি। ২০০১ সালে নির্বাচিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করলেও অল্পদিনের মধ্যেই তাকে সরিয়ে দিয়ে অধ্যাপক ইয়াজুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। ২০০৭ সালের এক এগারোর সময় (ওয়ান ইলেভেন) সেনা প্রধান জেনারেল মইন-উ-আহমদের নেপথ্য অনুপ্রেরণা ও অনেকের নেপথ্য পরামর্শ ও সহযোগিতায় অধ্যাপক ইয়াজুদ্দীনকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দিন আহমদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করা হয়। তাতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মন্ত্রী পরিষদে রদবদল ও নতুন মন্ত্রী নিয়োগ সরকারের একটি প্রথাসিদ্ধ ফরমেট। মন্ত্রী পরিষদ থেকে কাহাকে বাদ দেয়া এবং নতুন মন্ত্রী পরিষদে কাহাকে নেয়া সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এ ব্যাপারে কাহারও কোনো প্রশ্ন উত্থাপনকে যেমনি অনেকেই অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করে থাকে তেমনি সংবিধান বিশ্লেষকরা অসাংবিধানিক (টহপড়ংহঃরঃঁঃরড়হধষ) প্রশ্ন বলেও মন্তব্য করে থাকে। এছাড়া যাদেরকে মন্ত্রী পরিষদ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে দেশের কোনো এলাকা থেকেই এ পর্যন্ত তাদের বিষয়ে যেমন কোনো প্রতিবাদ ও প্রশ্ন উত্থাপন হয়নি তেমনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও জনগণের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। যদিও মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বঞ্চিত এলাকা থেকে মন্ত্রী পরিষদে নেয়ার ব্যাপারে জনপ্রত্যাশা অব্যাহত রয়েছে। সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জনবান্ধব এম.এ মান্নানকে পরিকল্পনা মন্ত্রী করায় দেশবাসী অভিনন্দন জানিয়েছে। তেমনিভাবে কিশোরগঞ্জ জেলায় বর্তমানে কোনো মন্ত্রী না থাকার কারণে এলাকাবাসী সাবেক আইজিপি, সচিব, রাষ্ট্রদূত ও জনবান্ধব নূর মোহাম্মদকে মন্ত্রী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আসছে। বরং গণমাধ্যমে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ০৮/০১/১৯ ইং মঙ্গলবার সাংবাদিকরা দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চেয়েছে মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পড়া অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাদের অবস্থা কী হবে। তাতে তিনি বলেছেন অভিযোগ থাকলে আমরা অনুসন্ধ্যান করব, দৃশ্যমান করব। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সরকারও দুর্নীতির রশি টেনে ধরবে। মর্নিং শোজ দ্যা ডে (প্রতিদিনের সংবাদ ০৯/০১/১৯ ইং)। গোটা বিশ্বে রাষ্ট্র, সরকার পরিচালনায় শাসন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন স্পর্শকাতর দপ্তর, অধিদফতর ও পরিদফতর রয়েছে। যাদের দায়িত্ববোধ ও কার্যালয় অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের কাছে যেমন ব্যতিক্রম তেমনি অদৃশ্য বা আনসিনও বটে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ, রাশিয়ার কেজিবি, ভারতের “র”, পাকিস্তানের আই.এস.আই, ইসরাইলের মুসাদসহ অন্যান্য দেশের রয়েছে গোপনীয় সংস্থা। বাংলাদেশে রয়েছে ডিজিএফআই (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা), এন.এস.আই (জানিগো), এসবিসহ আরও কিছু সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। জাতীয় স্বার্থে এ সমস্ত সংস্থাগুলো মন্ত্রী থেকে শুরু করে আরও কিছু গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপারে তথ্য, তত্ত্ব ও তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করে থাকে। যার ফলে সরকার প্রধানের অনেক কিছু জানতে অসুবিধা না হওয়ারই কথা। যে কারণে হয়তো দেশের কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের আমলনামা সম্পর্কে সংগত কারণেই অবহিত বা না জানার কথা নয়।
জানা যায়, সদ্য মন্ত্রী পরিষদ থেকে বাদ পড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শেষ কার্যদিবসে ০৭/০১/২০১৯ ইং সোমবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদেরকে বিদায় জানানো কালে বিদায়ী সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ১৪ দলীয় মহাজোটের কোনো নেতাকে নতুন মন্ত্রী সভায় না নেওয়ার ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। অপরদিকে সদ্য মন্ত্রীসভায় বাদ পড়া বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ বলেছেন, “এই সংসার আসা যাওয়ার রঙ্গমঞ্চ”। আবার মন্ত্রী পরিষদ থেকে বাদ পড়ে অনেকেই কেঁদেছেন বলেও জানা যায়। দেশের অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে যুগান্তকারী ও সাধুবাদ জানিয়েছে। ০৮/০১/২০১৯ ইং মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, মন্ত্রী করতেই হবে, এমন শর্ত দিয়ে মহাজোট করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে জনৈক ব্যক্তি উচ্ছাস প্রকাশ করে বলেছেন, মন্ত্রীর ক্ষমতা পেয়ে প্রতিপক্ষের কারও মান সম্মান ও চৌদ্দ গোষ্ঠিকে টেনে এনে অশোভন, বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক ও ভীমরুলের মতো হুল ফুটানো কোনো উক্তির মাধ্যমে সরকারকে খুশী করার নামে জনগণের নিকট সরকারকে সমালোচনার দিকে ঠেলে দেয়া কারও কাম্য নয়। প্রায় সময় গণমাধ্যম ও মিডিয়ায় বিদায়ী তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও বিদায়ী আরও অনেকেই প্রায় সময়ই ধান ভানতে শিবের গীতের মতই অশোভন ও বিদ্বেষমূলক উক্তি ও বক্তৃতায় যা খুশী তা বলে সরকারকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ও জনগণের নিকট বেকায়দায় ও সমালোচনায় ফেলতে কুন্ঠবোধ করেনি। মন্ত্রীত্ব তাদের কাছে মনে হয়েছে জমিদারি। সদ্য বিদায়ী যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় সরকারি কর্মকর্তা, অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনকারীদের সাথেও প্রায় সময় রূঢ় আচরণ করার দৃশ্যপট এখনও মুছে যায়নি। এমনিভাবে মন্ত্রী পরিষদ থেকে সদ্য বিদায় হওয়া ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী ও ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের ছেলের আচার আচরণে ছিল দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অসন্তোষ্ট ও আতংকগ্রস্থ। ময়মনসিংহের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ দাতাদের সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দলীয় কোন্দলে প্রকাশ্য দিবালোকে জনৈক যুবলীগ কর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহত যুবলীগ কর্মীর বুক কেটে কলিজা নিয়ে হত্যাকারীরা উল্লাস করতেও দ্বিধাবোধ করেনি। এ ব্যাপারে নিহত যুবলীগ কর্মীর স্ত্রী থানায় মামলা করতে গেলে যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পতিত হয়। জানা যায়, যুবলীগ কর্মী হত্যার নেপথ্যে নাকি সদ্য বিদায়ী ধর্মমন্ত্রীর ছেলের সম্পৃক্ততা ছিল বলে মামলার বাদী এজাহারে তা উল্লেখ করে। কি কারণে বা কোন আনসিন রিপোর্টের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীসভার ২৫ মন্ত্রী, ৯ প্রতিমন্ত্রী, ২ উপমন্ত্রী, টেকনোক্রেট মন্ত্রী কেন বাদ পড়েছেন, আদৌ তারা মন্ত্রী পরিষদে পুণরায় ফিরে আসবেন কী না তা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিষয়। তাছাড়া দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী ও তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মনে করে বাদ পড়াদের মধ্যে যারা সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করেছে চিহ্নিত এসব লোকদের কাছ থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই ভালো ও মঙ্গলজনক। বাদ পড়া খাদ্য মন্ত্রীর বিদেশ থেকে পঁচা গম ও মিয়ানমার থেকে অধিক মূল্যে চাল আমদানীতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয়, নিয়োগে অনিয়ম, ত্রানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের টিআর প্রকল্পের চাউল, গমের অপচয়, সাবেক ও বাদ পড়া বিমানমন্ত্রীর যে অনিয়ম, দুর্নীতি গণমাধ্যমে ইতোপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে তা দেশের জনগণ, সরকার ও বিমান পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ঝেঁটিয়ে বিদায় নেয়ার চেয়ে স্বেচ্ছায় অবসর ভালো। সাবেক অর্থমন্ত্রী এ.এম.এ মুহিতের এমন মন্তব্যকে ভালোভাবে নেয়নি বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েই তিনি একথা বলছেন। দশম সংসদের মন্ত্রীদের শেষ কর্মদিবস ছিল ০৭/০১/২০১৯ ইং সোমবার। এদিন অর্থমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হাসতে হাসতে সাবেক অর্থমন্ত্রী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ঝেঁটিয়ে বিদায় নেয়ার চেয়ে স্বেচ্ছায় বিদায় নিয়ে ভালো করেছি। মন্ত্রী পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেছি। অবসর না নিয়ে ঝেঁটিয়ে বিদায় হয়ে যাওয়া, সেটার থেকেতো রক্ষা পেয়েছি। আগে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভালোই করেছি। এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সুজন সভাপতি এম. হাফিজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, তার মতো সিনিয়র নেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশা করা যায় না। কয়েক দিন আগেও তিনি আরও এক বছর মন্ত্রীসভায় থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। হলমার্কের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকে তিনি সামান্য টাকা বলেছিলেন। জনগণের একটি টাকাও রেহাত হলে সেটাও বড় দুর্নীতি। কাহারও কার্যকলাপ ও আমলনামা ইচ্ছে করলেই ধুয়ে মুছে সাফ করা যায় না। যাদেরকে মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তাদের আমলনামা যেমন সুরক্ষিত তেমনি কিছু পুরাতন ও নতুনদেরকে নিয়ে যে মন্ত্রীসভা পুর্নগঠন করা হয়েছে তাদের আমলনামাও অপেন। যাদের আমলনামা অশোভন, ক্ষমতার দাপট, দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত তাদের মুখ ও মুখোশ যদি উন্মোচিত হয় তবে তাদের যেমন বলার কিছু থাকবে না তেমনি জনমনে তাদের লম্পঝম্প, বড় বড় অশোভন ও বেসামাল কথাবার্তা সম্পর্কে কোনো কিছু জানতে অবশিষ্ট না থাকারই কথা। 
সবেমাত্র অনেকেরই মন্ত্রীত্ব গেল মাত্র। এখনই সাংবাদিক ও দুদুক চেয়ারম্যানের মুখ থেকে যা বেড়িয়ে আসছে তার জন্য অপেক্ষা করাটাই শ্রেয়। থলের বিড়াল বের হওয়ার সংবাদিকদের এমন আশংকাকে একেবারে খাটো করে না দেখারই কথা। রাজা আসে রাজা যায়, মন্ত্রী আসে মন্ত্রী যায়, এমপি আসে এমপি যায়। কিন্তু তাদের আলমনামা কখনও মুছে যায়নি। যা ধারণকৃত রেকর্ডের মতই গন্য হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী পুরাতন মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠন করায় সবার মনে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হলেও প্রায় দুই টার্মের অর্থাৎ দশ বছরের বাদ পড়া মন্ত্রীদের যে আমলনামা রয়েছে এর নিরিখে যদি সবকিছু দৃশ্যমান হয় তবে খুবই ভালো। 
আর যদি কোনো কারণে রানা প্লাজার মতো মাটি চাপা পড়ে যায়, সাগর রুনির হত্যাকান্ডের মতো ধামাচাপা দেয়ার মতো চেষ্টা হয়ে থাকে তবে বিদায়ী মন্ত্রীদের আমলনামার ডুগডুগির আওয়াজ বেড়ে গিয়ে ঢোলের আওয়াজে রূপ নিলেও হয়তো কাহারও কিছু বলার সুযোগ নাও থাকতে পারে। জনপ্রত্যাশার আলোকে বাদ পড়া মন্ত্রীদের আমল নামার নিরিখে সামনে চলাই হোক বর্তমান সরকারের নতুন দিকদর্শন। 
 

-লেখক সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor