Space For Advertisement

রগল্পের বিকেল

রগল্পের বিকেল

কাজের ফাঁকে মিলেছিল একচিলতে অবসর। জোভান আর টয়া তাই মেতে উঠেছিলেন গল্প-কথার আড্ডায়। কথায় কথায় জানিয়েছিলেন কীভাবে বদলে গেল তাদের চলার পথ। অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে টয়া ও জোভানের তারকা হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে লিখেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

'আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে হয়, ইস্‌, যদি একটা ডানা থাকত- তাহলে উড়ে বেড়াতাম নীলাকাশজুড়ে। আবার কখনও ইচ্ছে হয়, নভোচারীর মতো মহাকাশ চষে বেড়ানোর। সাগরের বুক চিরে নাবিকের মতো পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছুটে যাওয়ার বাসনাও জাগে কখনও কখনও। তরুণ বয়সটাই এমন- কত কী যে করতে মন চায়। কিন্তু হয়ে ওঠে না। জীবনের গতিপথ যে বদলে গেছে। নিত্যদিন তাই একই আওয়াজ শোনার প্রতীক্ষায় থাকতে হয়; লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন। এই শব্দত্রয়ী এখন বুনে চলেছে ভবিষ্যতের রূপরেখা।' জোভানের জীবনে এ কথা যতটা সত্যি, ততটাই মুমতাহিনা টয়ার জীবনেও। এই দুই তারকার কেউই অতীতে ভাবেননি, আগামী দিনগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে নানা চরিত্রের মধ্য দিয়ে বন্দি করে যেতে হবে। কিন্তু সেটাই এখন বাস্তব। কীভাবে বদলে গেল চলার পথ- সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল হঠাৎ করেই। সে দিনটাও ছিল ছকবাঁধা ব্যস্ততার। একের পর এক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করছিলেন তারা।

দিনভর শুটিং শেষে টয়া আর জোভান পেয়ে গেলেন একচিলতে অবসর। শুরু হলো দুই তারকার খুনসুটি। তারই ফাঁকে চলল স্মৃতিরোমন্থন। কথায় কথায় উঠে এলো পুরনো দিনের প্রসঙ্গ। বেরিয়ে এলো বদলে যাওয়া ইতিবৃত্ত। অবাক হতে হলো এ কথা জেনে যে, আজ যে টিভি পর্দার ব্যস্ত অভিনেত্রী সেই মুমতাহিনা টয়া আদৌ অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নই দেখেননি! এটা কি বিশ্বাস করার মতো কথা! অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। খানিকটা দুরন্ত স্বভাবের টয়া ছিলেন খেলাধুলার মাস্টার। নাচ নিয়েও ছিল তার আগ্রহ। স্কুলসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার পারফর্ম দেখে অনেকেই মুগ্ধ হতেন। ভবিষ্যতে তিনি নামকরা নৃত্যশিল্পী হবেন- উৎসাহ দেওয়ার জন্য এমন কথাও বলতেন কেউ কেউ। কিন্তু টয়া যে সেসব কথায় মোটেও কান দিতেন না। ভালো লাগত তাই নাচ করতেন। এর বাইরে ছিল কেবল পড়াশোনা, পড়াশোনা আর পড়াশোনা।

পড়াশোনাও যেন বয়ে বেড়ানোর মতো বোঝা মনে হতো মাঝেমধ্যে। ভালো লাগে না বলে তো আর অশিক্ষিত হয়ে থাকা যায় না, তাই পড়ালেখার পর্বটা শেষ করতে হয়েছে তাকে। এরপর এসেছে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন, যেদিন থেকে হাওয়ায় ভাসতে শিখেছেন তিনি। টয়া বলেন, 'আমি কখনই অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। ২০১০ সালে 'লাক্স সুপারস্টার' প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর থেকেই মূলত অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছাটা প্রবল হতে থাকে। আর একটি-দুটি কাজ করার পর তো অভিনয়ের নেশাটা প্রবল হয়ে ওঠে। সত্যি বলতে কী, এখন আমার ধ্যানজ্ঞান হয়ে পড়েছে অভিনয়। ছোট পর্দার পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও কাজ করার স্বপ্ন দেখি। মঞ্চে কাজ করার সুযোগ পেলেও পিছিয়ে আসব না। অভিনয়ের জন্য এখন আমি এতটাই নিবেদিত।' টয়ার এ কথা যে মিথ্যা নয়, সেটা তার কাজের পরিকল্পনা দেখেই বোঝা যায়। চরিত্র আত্মস্থ করে নিজেকে মুহূর্তের মধ্যে ভিন্নরূপে ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন তিনি। তখন দেখলে যে কেউ স্বীকার করবেন, একটু আগের দেখা টয়া আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো  টয়ার মধ্যে আছে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

অভিনয়ে নিজেকে ভেঙে নানা চরিত্রে তুলে ধরার মধ্যেই দারুণ পারদর্শী হয়ে উঠেছেন তিনি- এ কথাও অস্বীকার করবেন না অনেকে। অন্তত যারা তার অভিনীত নাটক ও মিউজিক ভিডিওগুলো দেখেছেন তারা জানেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টয়া কীভাবে একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি অতিক্রম করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেল হিসেবেও দর্শকের মনোযোগ কেড়েছেন টয়া। এ কারণে তিনি যখন বলেন, বদলে যাওয়া জীবনের প্রতিটি কোণ ছুঁয়ে দেখতে চান, তখন সেই চাওয়া অপূরণীয় বলে মনে হয় না।

টয়ার মতো জোভানও অভিনয়ের ক্যারিয়ারের প্রতি বাঁক অতিক্রম করেছেন সাফল্যের সঙ্গেই। যদিও বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে প্রথম দর্শকের মনোযোগ কেড়েছেন, তার পরও এখন তার কাজের সিংহভাগ অভিনয়কে ঘিরে। স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি একাধিক নাটক-টেলিছবিতে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তার এখনকার কাজের তালিকায় চোখ রাখলে যে কেউ বিস্মিত হবেন। কেননা, অভিনয় ব্যস্ততার ফাঁক গলে, একচিলতে অবসর খুঁজে নেওয়া জোভানের জন্য যুদ্ধ জয় করার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার পরও চরিত্র আত্মস্থ করতে এবং অভিনয়ে নিজেকে ভাঙার জন্য কিছুটা অবসর তিনি খুঁজে নেন।

তা করতে কারার জন্যই ধারাবাহিক নাটক থেকে নিজেকে যতটা পেরেছেন দূরে রেখেছেন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, অভিনয়ের জন্য যে মানুষটি এতটা নিবেদিত, সেই জোভান কখনও অভিনেতা হওয়ার স্বপ্নই দেখেননি। তিনি বলেন, 'আমার বাবা ব্যবসায়ী ছিলেন। তাকে দেখেই ছোটবেলা থেকে ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। তা ছাড়া আমার পরিবারের কিংবা দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কেউ অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। যেজন্য অভিনেতা হওয়ার বাসনা কখনও জাগেনি। অথচ বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়া এবং সেখানে থেকে টিভি নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি কীভাবে যে হয়ে গেল। পেছন ফিরে তাকালে পুরো বিষয়টি স্বপ্নের মতোই মনে হয়। কিন্তু যা কিছু হয়েছে, তা নিয়েও আলাদা করে ভাবিনি। বরং একটি-দুটি কাজ করতে গিয়ে অভিনয়ের প্রতি এ ধরনের ভালোবাসা তৈরি হয়েছে।

তাই জীবনের এই বাঁকবদল নিয়ে আমি হতাশ নই; বরং এখন চাইছি, মনেপ্রাণে অভিনয় চালিয়ে যেতে। সেই সঙ্গে চাইছি, এমন কিছু কাজ করতে যা, আমাকে দর্শকের মাঝে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখবে।' জোভানের মতো একই রকম চাওয়া টয়ার। যেজন্য ব্যস্ততার তালিকাটা ক্রমাগত বাড়িয়ে চলছেন তিনি। উভয়ের কথায় একটা বিষয় স্পষ্ট যে, চলার পথের বাঁকবদল হয়েছে ঠিকই; কিন্তু পথটা ক্রমেই মসৃণ হয়ে আসছে দর্শকের ভালোলাগা আর ভালোবাসায়। এজন্য অভিনেতা-অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিটি মাধ্যমে নিজেদের মেলে ধরার স্বপ্ন দেখেছেন। তাদের এই স্বপ্ন অপূর্ণ থাকবে না- এমন আশা করা যেতেই পারে। 


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor