Space For Advertisement

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারিত হচ্ছে শত শত মানুষ

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারিত হচ্ছে শত শত মানুষ

ঢাকা, রোববার, ১০  মার্চ ২০১৯ (আইটি ডেস্ক) : মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর দ্রুত ও সহজ হলেও দুষ্টু চক্রের তৎপরতায় প্রতিদিন সারা দেশে শত শত মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেশের কয়েকটি স্থানে প্রতারকচক্রের জাল বিস্তার শনাক্ত করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফলে টাকা হাতিয়ে নেয়া ওই চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যদিও বিকাশসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গ্রাহকদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী এবং ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতারক চক্র মূলত মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের অ্যাপকে কেন্দ্র করেই প্রতারণার নানা পদ্ধতি বের করে ফাঁদ পাতছে। গ্রাহকের কাছে ফোন করে তথ্য হালনাগাদের কথা বলে চক্রটি পিন নম্বর বা সিকিউরিটি কোড কৌশলে নিয়ে নিচ্ছে। এতাপর গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে থাকা সব টাকা খুব সহজেই তারা নিজেদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে নিচ্ছে। আর গ্রাহক তথ্য হালনাগাদ করতে না চাইলে প্রথম দিকে বড় ধরনের প্রলোভন দেখায়। তাতেও কাজ উদ্ধার না হলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বলেও হুমকি হয়। ফলে অনেক গ্রাহকই হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে পিন নম্বর দিয়ে দিচ্ছে। আর তাতেই ঘটছে সর্বনাশ। তাছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গ্রহীতার নম্বরে ডাবল এসএমএস দিয়েও প্রতারক চক্র অহরহ প্রতারণা করছে। সূত্র জানায়, মেবাইল ব্যাংকিং প্রতারক চক্রের প্রতারণা থেকে না পুলিশ, আইনজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ কেউই রেহাই পাচ্ছে। সহজ-সরল শিক্ষিত মানুষ থেকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নানা কৌশলে প্রতারক চক্র বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।  কারণ শিক্ষিত ও ধনী ব্যক্তিরা কয়েক হাজার টাকার জন্য আইনের সহায়তাও নিতে চান না। আবার অনেকেই অভিযোগ করেই ক্ষ্যান্ত দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওসব ঘটনায় মামলা করার কথা বললেও ঝুট-ঝামেলা থেকে দূরে থাকার জন্য ভুক্তভোগী আর সামনে এগোতে চান না। সূত্র আরো জানায়, প্রতারণার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে প্রতারক চক্র। আর প্রতারণার ক্ষেত্রে প্রথমে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট নম্বর ও নাম জেনে নেয়া হয়। পরে গ্রাহককে ফোন দিয়ে কিছু নম্বর চেপে মোবাইল ফোনের সিম ডাইভার্ট করে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। অনেক প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আরো সচেতন হতে হবে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গত জানুয়ারি মাসে লেনদেন হয়েছে ৩৪ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। গত জানুয়ারি পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১১৬ কোটি টাকা। সর্বশেষ ১৮টি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা দেশে-বিদেশে লেনদেন করতে পারতো। বর্তমানে ১৬টির মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু     রয়েছে। আইএফআইসি ও এক্সিম ব্যাংক নানা সঙ্কটের মুখে তাদের মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম জানান, কোনো প্রতিষ্ঠানই চায় না তাদের গ্রাহক প্রতারিত হোক। বিকাশের গ্রাহকরা যাতে প্রতারিত না হয় সেজন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেয়াসহ বিভিন্নভাবে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কেউ ফোন করে পিন নম্বর চাইলেই দিয়ে দিতে হবে, তা করা কখনো ঠিক হবে না। কারণ পিন নম্বর একটি গোপনীয় বিষয়। এটা দিয়ে দিলে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সেজন্য সবাইকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে।


সংশ্লিষ্ট আরও খবর

সর্বশেষ খবর

Today's Visitor