মঙ্গলবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং

দুর্নীতি দমনে পাগলা ঘোড়া ও জেলা উপজেলায় মনিটরিং ব্যবস্থা

মুক্তখবর :
এপ্রিল ১৩, ২০১৯
news-image
দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে দেশে দুর্নীতির মাত্রা ততই সুনামি ও গোর্কির তান্ডবের মতো লাগামহীনভাবে এগিয়ে চলছে। কোনো নির্দেশনাই যেন কাজে আসছেনা। তদোপরি দুর্নীতির সাথে যোগ হচ্ছে খাদ্যে মরণঘাতক ভেজাল, প্রতারণা ও নকলের রমরমা তেলেসমাতি বাণিজ্য। দুর্নীতি দমনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভেজাল নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোগ্যপণ্য সংরক্ষণ অধিদফতর অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পরিদফতর ও প্রশাসন যে একেবারে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচেছ তাও বলা যাবে না। তবে দৃশ্যপট দেখে অনেকেই মনে করে থাকে এসব ব্যাপারে কোথায়ও না কোথায় ফাঁক ফোকড়, গলদ ও শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে। যে কারণে অনেক দুর্নীতি বিশ্লেষকরা মনে করে এসব ব্যাপারে কিছু পুরনো আইন সংশোধন করে হলেও মরণঘাতক ভেজাল, প্রতারণা, নকল ও দুর্নীতি রোধে ডাইরেক্ট অ্যাকশনের পথকে যুগপোযোগী করে তোলা। অনেকেই দুর্নীতিবাজদের দমনে ভালো ভালো কথা ও পরামর্শ দিলেও তেমন কোনো কাজে আসছেনা বলেও মনে করে থাকে। অর্থাৎ চোর নাহি শুনে ধর্মের কাহিনী।
 দেশ স্বাধীনের পর দুর্নীতি দমনে অনেকবার সেনাবাহিনী, রক্ষিবাহিনী ও জরুরী শাসন জারি করে সাময়িক কিছু দিনের জন্য ফল লাভ করলেও তা ক্ষণিকের জন্য স্থিমিত থেকে আবার আগের জায়গাতেই চলে যায়। ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করা হলেও দুর্নীতি দমন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মকান্ডের নিরিখে দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা অর্জনে এখনও রয়েছে ভুল বুঝাবুঝি ও সন্দেহ। যে কারণে সন্দেহের এ অবসানে দুদককে সতর্ক ও জনগণের আরও আস্থা অর্জন করার কথা অনেকেই মনে করে থাকে। এছাড়া বেড়ায় যাতে কোনো মতেই ক্ষেত না খায় এ ব্যাপারেও সজাগ থাকার জন্য দুদককে অনেকেই পরামর্শ দিয়ে থাকে।
 দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মধ্যে অনিয়ম, গলদ এবং গ্যাংরিন (পচন) থাকাতে ১৯৭৪ সালে জরুরী আইনের মাধ্যমে (ঝঢ়বপরধষ চড়বিৎ অপঃ- ৭৪), লাল ঘোড়া দাবড়ানো হয়। পরবর্তী সময় ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ, ২০০২ সালে একই প্রক্রিয়ায় অপারেশন ক্লিনহার্ট (ঙঢ়বৎধঃরড়হ ঈষবধহ ঐবধৎঃ) এবং ২০০৭ সালে ১/১১ (ঙহব বষবাবহ) পরিচালিত হয়ে থাকে। সেই সময় দুদক “এখনই সময়” আখ্যা দিয়ে দুর্নীতি দমনে ব্যাপক অভিযান শুরু করে থাকে। তারপরও এত বছরেও দুর্নীতি কমেনি বরং অনেক বেড়েছে। আর শাসন, প্রশাসন, আইন, বিচার বিভাগসহ পরিদফতর, অধিদফতরে এর ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। বরং এর সাথে ভেজাল, নকল, প্রতারণা, অসাধুতা, বিভিন্ন ধরণের অভিনব ও নতুন নতুন দুর্নীতির বিস্তৃতি ঘটেই চলছে। যে কারণে সরকারের অর্জন ও উন্নয়নকে পক্ষাঘাত করে ম্লান করেও দিতে পারে বলে আশংকা রয়েছে। তদোপরি ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে দুদক করা হলেও আজও দুর্নীতির টুটি ধরতে পারছে
না। আর দেশের শ্রেণী, পেশা ও সাধারণ মানুষের কাছে এক সময়ের স্কাইলাব (ঝশুষধন) আতংকের মতো দুর্নীতি (পড়ৎৎঁঢ়ঃরড়হ) একটি আতংকিত শব্দ ও নাম। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও দুদকের ভূমিকা যথেষ্ট সুস্পষ্ট। কিন্তু এত কিছুর পরও দুর্নীতি আয়ত্বে আসছে না। কোথায় যেন গলদ ও শুভংকরের ফাঁকি। অফিস আদালতে বেসামাল ঘুষতো চলছেই তদোপরি ভেজাল, নকল, প্রতারণা ও কালোবাজারি যেন দুর্নীতির সাথে পাল্টা দিয়ে প্রতিযোগিতায় মাঠে নেমেছে। খাদ্যে মরণঘাতক ভেজাল, ঔষধে ভেজাল, ভূয়া শিক্ষাসনদ, ভূয়া পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব, ডিএসবি, বিজিবি, এনএসআই, জিডিএফআই, সেনাবাহিনী, ক্যাপটেন, মেজর, এএসপি, ভূয়া ম্যাজিস্ট্রেট, ভূয়া ডাক্তার, ভূয়া প্যাথলজি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নকল টাকা ও কয়েন বানানোর কারখানা, হাইকোর্ট, জজ কোর্টের ভূয়া রায়, আদালতের ভূয়া ওয়ারেন্ট, নকল ঔষধের কারখানা, নকল পাসপোর্ট, নকল স্ট্যাম্প, কার্টিজ, নকল প্রসাধনী কারখানা, নকল ট্রেনের টিকিট, ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, এইডস, ডায়াবেটিস ও হার্টের নকল রিং। চাকরির ভূয়া নিয়োগপত্র, ট্রাক, বাস ও গাড়ী চালানোর ভূয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রশ্নপত্র ফাঁস। এছাড়া আরও যে কত ধরণের দুর্নীতি, ভেজাল, নকল, প্রতারণার মহোৎসব চলছে তাঁর সীমা পরিসীমা নেই।
মাঝে মধ্যে এ সমস্ত ভেজাল, প্রতারক, নকল ও ভূয়া পদ পদবীর সাথে জড়িতরা ধরা পড়লেও আইনের মারপ্যাচে জামিন ও মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের হ্যাক কেলেংকারী, শেয়ার বাজার কেলেংকারী ও বিভিন্ন ব্যাংকের হাজার, হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সাথে জড়িত অনেক রাঘব বোয়ালরা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে জানা যায়।
 বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের কার্গো শাখায় নন-সিডিউল ফ্রেইটারের কাছ থেকে ইনবাউন্ড, আউট বাউন্ড কার্গো হ্যান্ডলিং চার্জ বাবদ ৭৬ কোটি টাকা লুটপাট হওয়ার পর মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য বেড়িয়ে আসে। প্রথম দফায় ৭৬ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনাটি বিমানের অভ্যন্তরীন নিরিক্ষায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলে তাতে তদন্তে ৪১২ কোটি টাকা লোপাটের কথা বেড়িয়ে আসে। বিমানের অডিট শাখায় এক কর্মকর্তার মতে উল্লখিত খাত থেকে ১০ বছরে ৭২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানা গেলেও সব তথ্য না থাকায় ৪১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ এর প্রমাণ মিলেছে। আরও জানা যায়, নন-সিডিউল ফ্রেইটারের কাছ থেকে ইনবাউন্ড কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু সংখ্যক নন-সিডিউল ফ্রেইটারের কাছ থেকে স্লেভরেট ভিত্তিতে কার্গো হ্যান্ডলিং চার্জ আদায় করা হয়। যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নন সিডিউল ফ্রেইটারের বহনকৃত ইনবাউন্ড এবং আউট বাউন্ড কার্গো হ্যান্ডলিং বাবদ কোনো চার্জ বিমানের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়নি।
সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঢাকা বিভাগীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের উপপরিচালক গণমাধ্যমকে বলেছেন, খবরের কাগজ ও টেলিভিশনের খবরে জানতে পেরেছেন বিভিন্ন হাসপাতালে নির্ধারিত চিকিৎসা সেবা না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর হচ্ছে। সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত টাকা খরচ করার পর কাংখিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। অনেক সময় চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। তৎসঙ্গে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অশোভন আচরণের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এছাড়া হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় রোগীদের নানা ধরণের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এসব কারণে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতর দেশের সরকারি বেসরকারী ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করার পরিকল্পনার কথা জানা যায়। ভোক্তা আইন ২০০৬ এর ৫২ ধারায় উল্লেখ আছে সেবা গ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পরে এমন কোনো কাজ করা যাবে না। আর এমন কাজ করার পর তার প্রমাণ মিললে ভোক্তা আইনে ৩ বছরের কারাদন্ড বা ২ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা যাবে। এছাড়া ভোক্তা আইনের ৫৩ ধারায় বলা হয়েছে কোনো সেবা প্রদানকারীর পক্ষ হতে অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা অসতর্কতা দ্বারা সেবা গ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য বা জীবনহানীর ঘটনা ঘটানো যাবে না। আর এমন কিছু হলে ভোক্তা আইনে ৩ বছরের কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বিভিন্নভাবে দালালদের দৌরাত্বের কথা ও বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবার নামে গলাকাটা ফিস রাখার কথাও জানা যায়। এহেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরই নয় স্থানীয় প্রশাসন ও দুদকের সবিশেষ দৃষ্টি প্রনিধানযোগ্য। ইতোপূর্বে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা হাসপাতালে এম.সি (গবফরপধষ ঈবৎঃরভরপধঃব) তে সাধারণ আহতকে টাকার বিনিময়ে দন্ডবিধির ৩২৬ ধারায় মিথ্যা মিথ্যি ডাক্তারী সার্টিফিকেট দেয়ার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়ে থাকে। তা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্ণকুহরে গেলে হয়তো এ ঘটনাও তদন্তের মুখ দেখতে পেত।
বর্তমানে অনেক জেলায় দুদক অফিস উঠিয়ে নেয়া হলেও দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সময় এবং দুদক গঠনের পরও অনেক জেলায় দুদকের অফিস ছিল। এক সময় দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মহকুমা কর্মকর্তাকে সাকো (ঝঅঈঙ) এবং জেলা কর্মকর্তাকে
ডাকো (উঅঈঙ) বলা হতো। মহকুমা ও জেলায় কর্মকর্তা হিসেবে কমবেশী তাদের তদারকি চোখে পড়ত। তাদের মধ্যে স্বচ্ছতা এবং অস্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হলেও এখন অনেক জেলায় দুদক অফিস উঠিয়ে দুদক আঞ্চলিক বা সমন্বয় কার্যক্রম অফিস হওয়াতে আগের মতো সেই কার্যক্রম এখন আর অনেকেরই দৃষ্টিগোচর হয় না। যদিও মাঝে মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা, অভিযোগ (ঈড়সঢ়ধষরহ) ও ইনফরম্যাশনের কারণে জেলা এবং উপজেলায় দুদক কার্যক্রমের কথা শুনা যায়। তবে সময় সময় জেলা ও উপজেলায় দুদকের মনিটরিং না করার কারণে দুর্নীতি সংগত কারণেই বেড়ে যাচ্ছে। দুর্নীত বিশ্লেষক, ভোক্তভোগী ও সাধারণ জনগণ মনে করে জেলা উপজেলায় দুদুকের মনিটরিং দরকার। দুর্নীতি বিশ্লেষক, ভোক্তভোগী ও সাধারণ জনগণ মনে করে জেলা উপজেলায় দুদকের মনিটরিং থাকলে স্বাভাবিক কারণেই স্পর্শকাতর অনেক অফিসের দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যেত। এছাড়া যে সমস্ত উন্নয়নের কাজে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চা, প্রয়োজনীয় সিমেন্টের তুলনায় বেশী বালি, ১ নং ইটের বদলে ৪ নং ইট, প্রকল্পের নামে ভৌতিক প্রকল্প করে গম, চাউল, রেন্ডম আত্মসাৎ এবং সরকারি হাসপাতালে যথারীতি সেবা প্রদান না করে ও কাজে ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারে সময়ে অসময়ে রোগী দেখার প্রবণতা এমনিতেই অনেকটা কমে যেত।
এছাড়া জেলা উপজেলায় দুদকের মনিটরিং থাকলে এবং প্রায় সময় দুর্নীতির জালে রাঘব বোয়ালদের আটকে পড়ার অবস্থা থেকে দুর্নীতির মাত্রা এমনিতেই কমে যেত। আগ থেকেই দুদকের সঠিক তদারকি থাকলে কিশোরগঞ্জের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল এমনিভাবে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করতে পারতনা। বিভিন্ন স্থানে এসিল্যান্ড অফিস এবং বিভিন্ন পর্ষদে সরকারি চাকরি নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, বটগাছের মাথায় টি.আর. কাবিখার কাজের ভৌতিক সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে গমখেকো ভূতরা এহেন দুর্নীতি করার এত সাহস পেত না। বর্তমান দুদক চেয়ারম্যান যেভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার কথা বলছে দুদক এমনিভাবে কাজ করলে দুর্নীতি দমনে জনগণই এক সময় চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, ভেজাল, প্রতারণা, নকল ও অসাধুদের বিরুদ্ধে পাগলা ঘোড়ার মতো ভূমিকা রাখতে দ্বিধা সংকোচ ও কুন্ঠবোধ করবে না।
তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও দুদক চেয়ারম্যানের আহবানে সাড়া দিয়ে দুদক যদি উঠে বসে এবং সচেতন হয় এবং সবকিছু যদি সঠিকভাবে অনুসন্ধ্যান, মনিটরিং ও পরিচালনা করে থাকে তবে নিরাশা হওয়ার মতো কোনো কারণ না থাকারই কথা। আর যদি সরিষায় ভূত থাকে এবং এর ব্যর্থয় হয় তবে জাতির ললাটে দুঃখ বেদনা ও অনুশোচনার কথা বলার শেষ নেই।  অতীতে দুর্নীতি প্রতিরোধ লাল ঘোড়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ, অপারেশন ক্লিনহার্ট এবং ওয়ান ইলেভেন সফল হয়নি। এ সমস্ত অভিযানে দুর্নীতি দমনের নামে যা হয়েছে তা নতুন করে বলা লেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। যার পেছনে কথা ও কাজের মধ্যে অনেক অসংগতিই দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতা বলে অনেকই মনে করে থাকে। যদিও ওয়ান ইলেভেনের সময় সাবেক সেনাপ্রধান ও দুদক চেয়ারম্যান হাসান মশহুদ চৌধুরী দেশব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলেও তিনি বলে গেছেন ও ধস ঁহফড়হব ্ ঁহধনষব অর্থাৎ আমি অসমর্থ, অসহায় ও ব্যর্থ। শুনেছি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী জীবনযাপন করছেন এবং এ ব্যাপারে একটি বই লিখেছেন। বইটি পাওয়া গেলে এ ব্যাপারে জানতে হয়তো কারও আর কোনো দ্বিধা, দ্বন্দ্ব ও সংকোচ থাকবে না। এবার যদি কোনো কারণে দুর্নীতি দমনে সফলতা না আসে তবে ব্যর্থতার পরিণতি সকলেরই মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে হবে।
আর নয় ব্যর্থতা, দেশের মানুষ চায় এ অভিযানের সফলতা। স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে সেগুনবাগিচাস্থ দুদক কার্যালয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সুস্পষ্টভাবে একটি মূল্যবান উক্তি করেছেন। তিনি বলেছেন রাজার মনোভাব ও আমিত্বের ভাব পরিহার করতে হবে। দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সময় অনেকেই লক্ষ্য করেছে সাকো, ডাকো ও ব্যুারোর অনেকেই মনে করতেন উনারাই পবিত্র আবে জমজমের পানি ধোয়া সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের চেয়ে সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী দেশের অন্য কোনো দফতরের কোথায়ও নাই। যদিও তাদের সাথে অহরহ চিহ্নিত, অসৎ ও দুর্নীতিবাজদেরই বেশী মেলামেশা ও আড্ডায় মশগুল থাকতে দেখা যেত। সমাজে এবং কর্মক্ষেত্রে এখনও অনেক ন্যায় নিষ্ঠা ও আদর্শবান কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভালো মানুষ রয়েছে। দুর্নীতিবাজ, রাঘব বোয়াল ও টাকার কুমীরদের সাথে অনেককে এক কাতারে সামিল করা যুক্তিযুক্ত ও কারও কাম্য নহে। দুর্নীতির রাহুগ্রাসের খাঁচা থেকে মুক্তিই জন প্রত্যাশা। দুর্নীতি অভিশাপ, দুর্নীতিবাজ জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায় ও জাতীয় দুশমন।
এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট
মোবাইল: ০১৭১৮-৮১৪৮১৩।