বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

সরকারের ২১০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

মুক্তখবর :
এপ্রিল ১৭, ২০১৯
news-image
বিশেষ প্রতিনিধি : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারা দুর্নীতি ও অনিয়ম করে সরকারের ২১০ কোটি টাকা লুটপাট করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ঢাকা মিরপুর ৯নং সেকশনে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) ফ্ল্যাট নির্মাণে নিজেদের প্রতিষ্ঠান জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে ঠকিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। ৩০০ কোটি টাকার জমির দাম দেখানো হয়েছে মাত্র ৯০ কোটি টাকা। এতে করে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ২১০ কোটি টাকা। ১৪ লাখ বর্গফুট ফ্লোরের অংশীদারি এ ৪,৩৯,১১৩ বর্গফুট সব মিলিয়ে জমির মালিক জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ পাবে ৩১ শতাংশ ও ডেভেলপার কোম্পানি পাবে ৬৯ শতাংশ। যদিও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ আবাসিক ফ্লোর স্পেস পাবে ৩৬ শতাংশ ও বাণিজ্যিক ফ্লোর স্পেস পাবে ১০ শতাংশ। আর জমির মালিক হিসাবে সাইনিং মানিও পাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনটাই পায়নি এ প্রতিষ্ঠান। দপ্তরের অপর একটি সূত্র দাবি করছে, সাইনিং মানি হিসাবে টাকা পেয়েছে। কিন্তু সরকারি খাতে জমা না হয়ে  চলে যায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের পকেটে। ইতিমধ্যে কালো তালিকাভূক্ত ডেভেলপার কোম্পানি ট্র্যপিক্যাল হোমস লিঃ এর সাথে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (পিপিপি) চুক্তি দলিল অনুমোদনের পর তা স্বাক্ষরিত হয়, আর এ কাজগুলো হয়েছে তড়িৎ গতিতে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মিরপুর জনতা হাউজিং-এর সাথে ট্র্যপিক্যাল হোমস এর তৈরিকৃত একটি ভবন রয়েছে। গত কয়েক বছর পূর্বে ১০০ ফ্ল্যাটের এ ভবনটি তারা নির্মাণ করেছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জায়গায় ভবন নির্মাণের কারণে এ ভবনটির কোন ছাড়পত্র দিচ্ছে না জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। তাই ট্র্যপিক্যাল হোমস লিঃ কালো তালিকাভূক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। আর এ কালো তালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানকেই ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকৌশলী বলেন, একটি কালো তালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জাতীয় গৃহায়ন এর শীর্ষ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, মিরপুর ৯নং সেকশনে (মিরপুর স্যাটেলাইট) টাউন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমির পরিমাণ ৩০০ কাঠা, ২০১১ সালে এ জমিতে ১৫ লাখ বর্গফুট স্থাপনা বানানোর প্রস্তাব করে ট্র্যপিকাল হোমস। এর মধ্যে আবাসিক ফ্লোর ১২ লাখ বর্গফুট ও বাণিজ্যিক ফ্লোর ২ লাখ বর্গফুট। আবাসিক ফ্লোরকে উচ্চ আয়ের, মধ্য আয়ের, নিম্ন আয়ের এ তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে তারা। উচ্চ আয়ের লোকদের জন্য বানানো ফ্ল্যাটের কোন স্পেস জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে দিবে না ট্র্যপিক্যাল হোমস। তারা ২ লাখ বাণিজ্যিক ফ্লোর, স্পেসের মধ্যে ২০ হাজার বর্গফুট, মধ্য আয়ের জন্য ৩০ হাজার বর্গফুট এবং নিম্ন আয়ের জন্য দুই লাখ ৭০ হাজার বর্গফুট ফ্লোর স্পেস দেবে। সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ১১৩ বর্গফুট দেবে ডেভেলপার কোম্পানী। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ভবনের মাঝামাঝি স্থানে তৈরিকৃত কোনাকুনি এবং উঁচু তলার ফ্ল্যাটগুলো জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে দেবে ট্র্যপিক্যাল হোমস। ঐ ভবনেই বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে অলিখিত চুক্তি হয়েছে। এসব ভবনের পাশ দিয়ে তৈরিকৃত ১০০ ফুট রাস্তা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ নিজ খরচে তৈরি করে দেবে এ ছাড়া আগামীতে সার্ভিস চার্জ অনেক বেশি হবে। এ জন্য আগামীতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকে কেনা ফ্ল্যাট মালিকরা বিপদে পড়তে পারে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সূত্র থেকে জানা গেছে, মিরপুর স্যাটেলাইট টাউন প্রকল্পটি নিয়ে নিজেদের উচ্চবিলাসী লাভের কথা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অজানা কারনে ৩০০ কোটি টাকার জমির দাম মাত্র ৯০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এ দুর্নীতির ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির তথা সংগ্রহ করেছে দৈনিক মুক্তখবর যা সমীক্ষান্তে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এ দুর্নীতির ব্যাপারে জানার জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে একাধিক বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।