সোমবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

পিডিবির পরিচালক পদায়নে নজিরবিহীন অনিয়ম : ঠিকাদারী বিল প্রদানে ৭৫ কোটি টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ!

মুক্তখবর :
এপ্রিল ১৮, ২০১৯
news-image
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯ (রোস্তম মল্লিক) : বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ( পিডিবি) এর পরিচালক (অর্থ) পদে অনিয়মের মাধ্যমে একজন জুনিয়র কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়ন করায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কথা উঠেছে যে, এই পদায়নে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। বোর্ড চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ  এই অনিয়নের মূল হোতা বলে দাবী করা হয়েছে। এই পদায়নে জৈষ্ঠতা লংঘন ও মন্ত্রণালয়ের বিধি ভংগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। অন্যদিকে  চলতি অর্থ বছরে গত ৬ মাসে বেসরকারী কোম্পানী ডরিন,এগ্রিকো,ওরিয়ন,সিনহাসহ  বেশ কিছু কোম্পানিকে প্রায় ৩৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা কালে ২ শতাংশ হারে  প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ঘূষ আদায় করেছে অর্থ পরিদপ্তর এমন তথ্য পাওয়াগেছে। একাধিক সুত্রে জানাগেছে, পিডিবির অর্থ পরিদপ্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেট সদস্যরা সরাসরি চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদের লোক হিসাবে পরিচিত। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ অর্থ পরিদপ্তরে বেসরকারী বিদ্যুৎ কোম্পানীগুলোর বিল নিয়ন্ত্রন ও পাশ করে কমিশন আদায় করে আসছেন। তাদের নির্দ্ধারিত কমিশন না দিলে কোন বেসরকারী বিদ্যুৎ কোম্পানী বা ঠিকাদার অর্থ পরিদপ্তর থেকে বিল পাচ্ছেন না। প্রতিটি চেকে তারা ২ শতাংশ হারে কমিশন আদায় করছে মর্মে অভিযোগ তোলা হয়েছে। কমিশন না দিলে বৈধ বিলও পাশ করা হয়না আবার কমিশন দিলে অডিট ছাড়াই বিল প্রদান করা হয়। এ ছাড়া অডিট করার নামে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে।  অন্যদিকে এফডিআর খাতে বড় ধরনের দুর্নীতি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট হারি কমিশন গ্রহণ করে অখ্যাত, নাজুক, দুর্বল ও নতুন – নতুন  বেসরকারী ব্যাংকে এফডিআর রেখে মোটা অংকের কমিশন গ্রহণ করা হচ্ছে। বিগত ৬ মাসে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ২৮০০ কোটি টাকা এফডিআর জমা করা হয়েছে। আর এই সব কিছুই হচ্ছে পরিচালক (অথর্) মো: আনোয়ার হোসেনের ইচ্ছা খুশিমত।
সুত্রমতে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পরিদপ্তরে ৪/৫ কোটি টাকার কমিশন ভাগাভাগি হয়। সিন্ডিকেটের ১১ জন সদস্য কমিশনের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন। তার বড় একটি অংশ পৌছে যায় চেয়ারম্যান এর বাসায়। দুর্নীতিবাজ এই সিন্ডিকেটের সাথে বেসরকারী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী আমলা ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তার আঁতাত রয়েছে।
এ দিকে অনেক সিনিয়র দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা থাকা সত্তেও পরিচালক (অর্থ) পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে কেন জুনিয়র কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেনকে  পদায়ন করা হয়েছে তার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে পাওয়াগেছে চমৎকার তথ্য। পিডিবির বর্তমান চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ এর অতি বিশ্বস্থ ও কাছের লোক বিধায় জৈষ্ঠতা লংঘন করে মো আনোয়ার হোসেনকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে পদায়ন করা হয়েছে এমন গুন্জন চলছে পিডিবি ভবনে। যেহেতু অর্থ পরিদপ্তরই হল পিডিবির সমস্ত প্রকার আর্থিক লেনদেনের ফোকাল পয়েন্ট ও বোর্ডের অক্সিজেন সেহেতু সেখানে অতি বিশ্বস্থ লোক না থাকলে আর্থিক দুর্নীতি করা সম্ভব নয়। আর সে চিন্তা থেকেই এখানে চেয়ারম্যান অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে তার একজন বিশ্বস্থ কর্মকর্তাকে পদায়ন করেছেন এমনটিই প্রচার হচ্ছে। এসব দুর্নীতির বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পিডিবির চেয়ারম্যানের দপ্তরে বার বার ফোন করেও তার নাগাল পাওয়া যায়নি। প্রতিবারই বলা হয় -স্যার মিটিং এ আছেন। ——-(চলবে)