রবিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

অরক্ষিত যৌনজীবন থেকে সাবধান

মুক্তখবর :
এপ্রিল ২০, ২০১৯
news-image
ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ (স্বাস্থ্য ডেস্ক) : মানবজীবনের অতিস্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া যৌন জীবনযাপন। তবে যৌনতা বা যৌনরোগ নিয়ে অকারণে ভীতি, অজ্ঞতা বা সংকোচ এখনো আমাদের মধ্যে প্রচণ্ড। কারণ স্কুলে যৌনজীবনের পাঠ নেই। পরিবারে সবার সামনে এসব নিয়ে মুখ খোলা মানা। তাই নিজের অজ্ঞানতা ঢাকতে প্রায়ই ভুল করে বসি আমরা। বিপদে পড়লে ছুটে যাই হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে।
ফলে যৌনরোগ থেকে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে ক্যানসার, অন্ধত্ব, সন্তানের জন্মগত ত্রুটির মতো মারাত্মক সমস্যায়। এসবে মৃত্যুবরণ করছে অনেকে। সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হচ্ছে দুই কোটি মানুষ। এদের মধ্যে প্রায় এক কোটি আক্রান্তের বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। যৌনরোগের একটি হলো-এইচপিভি (ঐচঠ) বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস, যা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়। এ ভাইরাস বেশ কয়েক ধরনের ক্যানসারের জন্য দায়ী। অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক থেকে আসা এ ভাইরাস উপসর্গ ছাড়াই বছরের পর বছর থাকতে পারে মানবদেহে।
কেবল তরলের মাধ্যমে ছড়ায় এ ধরনের যৌনরোগ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে কনডম। যেমন-গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া বা এইচআইভি। কিন্তু ত্বকের সংস্পর্শে ছড়ায় যেসব যৌনরোগ, যেমন-সিফিলিস, হার্পিস ও এইচপিভি আটকাতে পারে না কনডম। মনে রাখতে হবে, শুধু শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে যৌনরোগ ছড়ায় না। হার্পিস বা জেনিটাল ওয়ার্ট ত্বকের সংস্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।
ওরাল সেক্স থেকেও ছড়ায় একাধিক যৌনরোগ। মুখের ক্যানসার এর মধ্যে অন্যতম। বেশিরভাগ যৌনরোগ উপযুক্ত চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সেরে যায়। কিন্তু অবহেলা করলে তা ভবিষ্যতে এইচআইভির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের সিফিলিস, গনোরিয়া বা হার্পিস হয়, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বেশি। যৌনাঙ্গ থেকে তরল নিঃসৃত হওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, শারীরিক সম্পর্কের সময় ব্যথা বা রক্তপাত, তলপেটে ব্যথা, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত এবং গলায় সংক্রমণ-এসব উপসর্গের কোনোটি দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
লেখক : কনসালট্যান্ট, ইউরোলজি বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চেম্বার : সেন্ট্রাল হসপিটাল গ্রিনরোড, ধানম-ি, ঢাকা ০১৭১১০৬৩০৯৩, ০১৯১১৭৬৫১৫০