বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ে পরীক্ষার নামে বাণিজ্য

মুক্তখবর :
এপ্রিল ২০, ২০১৯
news-image

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : শ্রেণী কক্ষের পাঠদান কার্যক্রম বৃদ্ধিসহ শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমানোর জন্য বছরে দুটি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা রয়েছে সরকার। অথচ ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ত্রৈমাসিক নামের পরীক্ষা। কোন প্রকার রসিদ ছাড়া শ্রেণী ভেদে পরীক্ষার ফি বাবদ নেওয়া হচ্ছে ১২০ থেকে ৩০০ টাকা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সিলেবাস সম্পন্ন না করেই শিক্ষার্থীদের জোর করে এ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অভিবাবকদের অভিযোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সংশ্লিষ্টরা বানিজ্য করার উদ্দ্যেশে এ পরীক্ষা নিতে চাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে অবহিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিজুশ চন্দ্র দে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধানগণকে পরীক্ষা না নিয়ে আদায়কৃত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৬২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬৭টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারের নির্দেশনা উপক্ষো করে ত্রৈমাসিক পরীক্ষা নিচ্ছেন। যেহেতু পরীক্ষাটি নেওয়া অবৈধ সেহতু প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে নানাবিধ কৌশল নিচ্ছেন। কোন কোন বিদ্যালয়ে দু’একটি শ্রেণীর ক্লাশ খোলা রাখা হচ্ছে। অপরদিকে কয়েকটি ক্লাশের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার পরীক্ষা নেওয়ার এই কৌশলটি দিয়েছেন।
কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মূ. হারুন-অর –রশিদসহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধানগণ জানান, পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আমরা নিজেরা প্রশ্ন করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিচ্ছি। তবে আমরা ১০০ মার্কের পরীক্ষা নিচ্ছি না। আমাদের ক্লাশও চলছে। পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত ব্যপারে বলেন, যে টাকা আদায় করা হয়েছে পরবর্তীতে সেটা সমন্বয় করে দেওয়া হবে।  তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এম সোহেল রানা। তারা বলেন, সত্তর থেকে আশি নম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিচ্ছে এটা জানি। পরীক্ষা নেওয়া বে-আইনী। ইউএনও’ স্যারের নির্দেশনায় পরীক্ষা বন্ধসহ শিক্ষার্থীদের থেকে আদায়কৃত ফি বাবদ নেয়া টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি।