বৃহস্পতিবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

আখাউড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ কৃষি

মুক্তখবর :
এপ্রিল ২৪, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) :  আখাউড়ায় পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ কৃষি। স্থানীয় লোকজন জমির পাশাপাশি এখন ছাদে বেগুন,মরিচ,পেপে,বরবটি,মাল্টা, লেবু,সহ নানা জাতের সবজি, ফল ও ফুল আবাদ করছেন।
ছাদ কৃষিতে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে দিন দিন বাড়ছে এ আবাদ। পৌর শহরের সমজিদ পাড়া, মালদারপাড়া, তারাগন,উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিনগর, বাউতলা, হিরাপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার বাড়ির ছাদে অনেক পরিবার বছর জুড়ে নানা প্রকার সবজি, ফল ও ফুল আবাদ করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সহযোগিতায় ও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে এসব আবাদ করছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
ছাদ কৃষি আবাদে প্রথমে কিছুটা হতাশা কাজ করলে ও ফলন আশানুরোপ ভাল হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে আবাদ। সেই সাথে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে তারা বাড়তি আয় করছে বলে জানায়।
উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন বাড়ির ছাদে এ বাগান শুধু শখের বিষয় নয়, পরিবেশ সুরক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করছে। ছাদ কৃষিতে বাগানের মাধ্যমে গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার কবল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। পরিবেশ দুষণমুক্ত থাকে। বায়োডাইভারসিটি সংরক্ষণ করা যায়। এ ছাড়া তাজা শাকসবজি ও ফল মুলের চাহিদা ও মেটে। এসব কারনে বাড়ির ছাদে বাগান বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বাড়ির ছাদে বাগান করা হলে এটি প্রতিটি পরিবারের সবজি ও ফলমূলের চাহিদা মিটিয়ে ও পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে জানায়।
সরেজমিনে বেশ কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নানা জাতের সবজি আর ফলমুলে তাদের বাড়ির ছাদ ঢাকা পড়ে আছে। সবুজ শ্যামলে পরিণত হয়ে আছে ছাদ। লেবু, বেগুন,মরিচ,পেপেসহ নানা জাতের ফল ও ফুল শোভা পাচ্ছে।
বাড়ির মালিকরা পরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন খালি ড্রাম ও প্লাষ্টিকের বড় কৌটা সিমেন্টের স্থায়ী টব তৈরী করে ছাদ কৃষি করছেন। ফলন ভাল করতে পরিবারের সদস্যরা ও নিয়মিত কাজ করছেন।
মসজিদ পাড়া এলাকার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত দু’বছর ধরে বেগুন,মরিচ,পেপেসহ নানা জাতের ফল ও ফুল আবাদ করা হয়। তিনি বলেন শুরুতে সংশয়ে পড়লে ও তবে ফলন হওয়ায় সংশয় কেটে যায়। ছাদ কৃষিতে বার মাসই সবজি করা হয়। তাজা শাকসবজি ও ফল মুলের চাহিদা ও মেটছে আমাদের।
তিনি বলেন এ কৃষি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছে।
একাধিক লোকজন জানায়, নিজ উদ্যোগে গত কয়েক বছর ধরে সবজি আবাদ করা হলেও এখন কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তারা আরো জানায় যখনই ফলদ ও বনজ মেলা হয় তখন সেখান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির চারা সংগ্রহ করে ড্রাম ও টপের মাধ্যমে ছাদ বাগানে লাগানো হয়। তবে এসব ছাদ বাগানে কোন প্রকার রাসায়নিক সার ও কিটনাশক ব্যবহার করা হয়নি।
মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্বেও বাড়িতে জায়গা কম থাকায় ফল ফলাদি ও সবজির আবাদ করা যায়নি। তাই ফল ফলাদি ও সবজির আবাদ করতে ছাদকে বেছে নিয়েছি। ছাদ কৃষিতে রয়েছে আম, লেবু মাল্টা, বেগুন, মরিচ, পেপেসহ নানা জাতের ফল ও ফুল গাছ।
বাগানে উৎপাদিত বিষমুক্ত এসব ফল ও সবজি নিজেদের চাহিদা মিটাছে। সে সাথে পরিবেশকে যেমন সুন্দর রাখছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরাম হোসেন বলেন, ছাদ কৃষি করতে স্থানীয় লোকজনকে কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ উপজেলায় ছাদ কৃষি আবাদ শুরু হয়েছে । ছাদ বাগান থেকে উৎপাদিত স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য শরীরের জন্য যেমন নিরাপদ একই ভাবে তা অনুকুল পরিবেশ ও আবাসন স্থানকে দুষণমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।