রবিবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

মৌলভীবাজারে কিশোরীকে গণধর্ষণ, অভিযুক্ত পুলিশ আটক

মুক্তখবর :
এপ্রিল ২৭, ২০১৯
news-image

ঢাকা, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় ১৭ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা শুকুর আলীকে (৩৫) ঘটনার ১০ দিন পর আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজার থেকে পুলিশ একটি সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করে। এর আগে ঘটনার সাথে জড়িত অপর পাঁচ আসামীকে আটক করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে আগেই খবর ছিল, গণধর্ষণ মামলার মূলহোতা রাজনগর থানা এলাকায় রয়েছে। খবর পেয়েই কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে কৌশলী পুলিশ কর্মকর্তারা একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন।

তাদের উদ্দেশ্য ধর্ষণকারী শুকুরকে পুলিশের খাঁচায় বন্দি করা। পরিকল্পনার মধ্যে এএসআই নাজমুলকে স্বামী, কনস্টেবল জুনেদকে কালো বোরকা পরিয়ে স্ত্রী সাজিয়ে অভিযানে নামে কুলাউড়া থানা পুলিশ। মোটরবাইকে করে চলতে থাকে শুকুর আলীকে বহনকারী সিএনজিকে লক্ষ্য করে। স্ত্রীর গায়ে সিএনজি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার অজুহাতে সিগন্যাল দিয়ে থামিয়ে চ্যালেঞ্জ করে পুলিশের ছদ্মবেশে থাকা এএসআই নাজমুল।

একপর্যায়ে সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি চালিয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা শুকুর আলীকে (৩৫) আটক করে পুলিশ।

এর আগে প্রথমে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সিএনজি অটো রিক্সা চালক হাসান মিয়াকে (২৫) আটক করতে সক্ষম হয়। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের পুসাইনগর ও জুড়ী উপজেলার ফুলতলা সীমান্ত এলাকা থেকে বিলাল মিয়া (২৫), জাহাঙ্গীর আলম (২৬), সুজন মিয়া (২২) ও সুফিয়ান মিয়াকে (২৫) গ্রেফতার করে। এরমধ্যে বিলাল ও জাহাঙ্গীর দালালের মাধ্যমে চোরাই পথে ভারতে পালানোর চেষ্টা চালায়।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, গণধর্ষনের এই ঘটনার ১০ দিনের মাথায় আমরা মোট ছয় আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। তারা আদালতে এ ব্যাপারে জবানবন্দীতে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।

১৫ এপ্রিল রাতে পৌরসভাধীন আশুরিঘাট এলাকায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ডেকে নিয়ে নির্জন স্থানে সাত জন মিলে ধর্ষণ করে এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদি হয়ে কুলাউড়া থানায় শুকুর আলীকে প্রধান আসামী করে সাত জনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ওই দিন রাতেই হাসান আহমদ (২৪) কে পুলিশ আটক করে।