বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

শেরপুরে ধানের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ!

মুক্তখবর :
মে ২, ২০১৯
news-image

শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি : শেরপুরের সিংহ ভাগ লোক কৃষক। কৃষি ফসল উৎপাদন করে তাদের জীবন-জীবিকা চালায়। তাই এবছরও অত্র জেলার কৃষকরা ব্যাপক আকারে বোরো চাষাবাদ করে। যদিও এবছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা ধানের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় হতাশ। প্রতি মণ ধান বাজারে বিক্রি হচ্ছে, ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা। অথচ ১জন শ্রমিকের দিন হাজিরা মূল্য ৬/৭শ টাকা। এতে প্রতি একর জমির ধান কাটা-মাড়াই খরচ বাবদ ব্যয় হচ্ছে ১২/১৩ হাজার টাকা। এতে প্রতি একর জমি চাষাবাদে সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ২৭/২৮ হাজার টাকা। প্রতি একর জমিতে ধান হচ্ছে ৫০/৬০ মণ ধান। প্রতি একর ধান বাজারে বিক্রি করে যে টাকা কৃষক পাচ্ছে তাতে আয়ের চেয়ে ব্যায়ের খরচ বেশী। তাই অত্রাঞ্চলের কৃষকেরা বোরো চাষাবাদ করে লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, অত্র এলাকার কৃষকেরা সুদখোর মহাজন, বিভিন্ন বেসরকারী এনজিও প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী ব্যাংকগুলি থেকে ঋণ নিয়ে বোরো চাষাবাদ করেছে। ভেবেছিল এবছর ঋণদফা করে অধিক পরিমান বোরো চাষাবাদ করে লাভবান হবে। কিন্তু ধানের বাজার মূল্য এতটাই নিচে নেমেছে তারা খরচের মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে তাদের দেনা পাওনা পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে কৃষকেরা লাভের পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে। তাই অসহায় দরিদ্র কৃষকদের দিক বিবেচনা করে সরকারী ভাবে কৃষকের কাছ থেকে সরকারী নির্ধারিত মূল্যে ধান ক্রয় করলে কৃষকরা অনেকটাই ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাবে। নচেৎ কৃষকেরা তাদের ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে অত্রাঞ্চলের কৃষকরা ঋণগ্রস্থ্য হয়ে পড়বে এবং ধান উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। এতে বোরো উৎপাদন ব্যাহত হবে। এ ব্যাপারে কৃষি অফিসার মোঃ হুমায়ুন কবির এর সাথে কথা হলে তিনি ধানের বাজার কম থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্য মূল্যে পায় এব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। তাহলে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্যে পেলে উৎপাদনের আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে। এতে দেশের বোরো উৎপাদনে যোগান্তকারী ভূমিকা রাখবে অত্রাঞ্চলের কৃষকেরা।