বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা কেটে যাচ্ছে, আশ্রয়কেন্দ্র না ছাড়ার নির্দেশ

মুক্তখবর :
মে ৪, ২০১৯
news-image

ঢাকা, শনিবার, ০৪ মে ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার) : ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের স্থলভাগ হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবেশ করায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। আজ শনিবার সকাল ৬টায় ‘ফণী’ খুলনা-সাতক্ষীরা ও যশোর অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে। পরে তা মধ্য অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যত সময় যাচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা ততই কমে যাচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে ২০০ কিলোমিটার বেগে ‘ফণী’ ভারতের ওডিশা রাজ্যে আছড়ে পড়ে। গতকাল মধ্যরাতের পর তা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রবেশ করে। তখন এর গতিবেগ প্রায় অর্ধেকে আসে। সেখানে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার।

বাংলাদেশে প্রবেশের পর ঘূর্ণিঝড়ের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। এটি ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমদ।

সকাল ১০টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শামসুদ্দিন আহমদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল তা থেকে কিছুটা শঙ্কামুক্ত। তিনি আরো বলেন, ‘তবে আমরা মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছি। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং কক্সবাজারকে চার নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছি।

এই ঝড়কে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার রাতে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আন্তমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি। সেখানে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের চার হাজার ৭১টি সাইক্লোন শেল্টারে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৫ জনকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাত পর্যন্ত ১৫ থেকে ১৮ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা ধীরে ধীরে কেটে গেলেও আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষজন অবস্থান করবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শেল্টার সেন্টারে আবহাওয়ার পুরোপুরি উন্নতি না হাওয়া পর্যন্ত মানুষজনকে থাকতে হবে। কারণ, একটি সামুদ্রিক ঝড় যখন কোনো অঞ্চলে আসে তখন সেটি সমুদ্রে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করে রাখে। সেটি শান্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মানুষজন যাতে নিরাপদে বাড়িতে ফিরে যেতে পারেন, সেজন্য কিছুটা সময় আরো অপেক্ষা করতে হবে।’

‘যখনি আমরা দেখব, উনারা নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন, সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ওয়ার্নিং তুলে দেব। কারণ, আমরা চাই, শেল্টারে মানুষজন যেন একেবারে ন্যূনতম সময়ের জন্য থাকেন। আমরা এই ওয়ার্নিংটা তিন-চার দিন রাখতে পারতাম। কিন্তু আমাদের নীতি হলো, একজন মানুষ যেন শেল্টারে কষ্ট না পায়। ন্যূনতম সময়ের জন্য তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে’, যোগ করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক।