বুধবার, ১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং

জীবন দিয়ে হলেও মেহনতী মানুষের ভাগ্যপরিবর্তনের জন্য আজীবন লড়াই করবো

মুক্তখবর :
মে ৫, ২০১৯
news-image

——–স্বাক্ষাৎকারে প্রতিবাদী ফিরোজা বেগম
ত্রিশোর্ধ প্রতিবাদী নারী ফিরোজা বেগম। বাড়ী ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার নূরাবাদ গ্রামে। বাবার নাম মৃত আব্দুস সালাম ও মায়ের নাম সখিনা বিবি। বাবা বেঁচে থাকতে তিনি জনগণের পক্ষে লেখালিখি করেছে। আব্দুস সালাম নিজ এলাকায় নূরাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে অল্প কিছু ভোটে হেরে যায়। এরপর সে ঢাকায় চলে আসে। মারা যায় ২০১৩ সালে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ফিরোজা বেগম জনগণের পক্ষে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছে। জীবন সংগ্রাম পরিচালনার জন্য রাজধানীর কাওরান বাজারের ফুটপাত ও রেল লাইনের পাশে রাত কাটিয়ে সময় অতিক্রম করছে। রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও মৌলিক চাহিদা থেকে আজ সে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত। জোটেনি কোনো সংসারে। আর তাই কখনো পান-সিকারেট বিক্রি করে, কখনো আড়তে ডালা ভাড়া দিয়ে কিংবা মাল উঠা-নামা করে জীবীকা নির্বাহ করে সে। সীমাহীন এই কষ্টে তার সাথী চোখের জল। কিন্তু এই জলই তাকে রুখে দাঁড়াতে শিখিযেছে । আর তাই জীবীকা থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সমাজের শোষিত, বঞ্চিত ও নিপূরিত মানুষের জন্য অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার সঙ্গে কথা হয় দৈনিক মুক্তখবর এর সাথে। সেখানে জীবনের নানা দিক ও তার আন্দোলন সংগ্রামের লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন তিনি। স্বাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক মুক্তখবর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ শাহীন কাজী।
প্রশ্ন: আপনি কেন আন্দোলন-সংগ্রাম করছেন?
উত্তর: জীবন সংগ্রাম পরিচালনা করতে গিয়ে আমি উপলব্ধি করেছি কষ্ট কি। জীবন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সারা দিন-রাত পরিশ্রম করেও তিন বেলা ভাল করে খেতে পারি না। তাছাড়া অন্যান্য মৌলিক চাহিদা তো আছেই। এজন্যই খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে আমি আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি।
প্রশ্ন: সমাজের নিম্ন স্তরের মানুষ হয়েও যে কাজগুলো করছেন তাতে সাধারণ মানুষের সমর্থন কেমন পাচ্ছেন?
উত্তর: আমি সাধারণ মানুষের অনেক সমর্থন পাচ্ছি। ইতো মধ্যে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনকে প্রধান অতিথি করে আলোচনা সভা করেছি। তখন ব্যাপক জনসমাবেশ হয়েছে। তারা আমাকে অনেক উৎসাহও দিয়েছে। এছাড়া আমি প্রেসক্লাবের সামনে একাধিকবার মানববন্ধন করেছি। ডিআরইউ, ফার্মগেট ও কাওরান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছি।
প্রশ্ন: আপনার মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচী-আলোচনা সভা কতটা সফল হচ্ছে বলে মনে করেন?
উত্তর: আমি একজন নিম্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ হয়ে যে আন্দোলন করছি, তা দেখে অনেকেই এগিয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভিতে আমার আন্দোলনের সংবাদ প্রচার হয়েছে। আশা করি আমার দাবিগুলো একদিন পূরণ হবেই।
প্রশ্ন: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
উত্তর: আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা একটাই, যতদিন আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের দাবি পূরণ না হবে ততদিন পর্যন্ত আমার শরীরের শেষ বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।
প্রশ্ন: দেশের বর্তমান প্রেক্ষপটে আপনার দাবিগুলো কি কি?
উত্তর: দেশ আজ ভয়াবহ সঙ্কটের মুখোমুখি। কোথাও সুশাসন নেই। এমনকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও আজ প্রশ্নের মুখে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। যার ফলে নাভিশ্বাস উঠে গেছে জনসাধারণের। আর এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সমাজের উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত পর্যায়ের সকল মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ জমা হয়েছে। মানুষ আজ এই অবস্তা থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে কথা বলার অধিকারও যেন হরণ করা হয়েছে। কারণ জনসাধারণের স্বাধীন ভোটাধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে। যার উৎকৃষ্ট উদাহারণ ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন। মানুষ তার সাংবিধানিক অধিকার থেকে সেই দিন বঞ্চিত হয়েছিলো। আর তাই আজ সময় এসেছে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সবাইকে সজাগ হওয়ার। যার মূলে রয়েছে ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ। এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে মানবাধিকার। যখন মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মানবাধিকারও ক্ষুণœ হয়। এই অধিকারের সঙ্গে আমাদের আরো একটি দাবি রয়েছে। সেটা হলো যানজট নিরসন। গণপরিবহনের তীব্র সঙ্কটের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে আজ সড়কের বেহাল দশা, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রতিদিন এই ভঙ্গুর সড়কের কারণে ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়ে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে কেউই পৌঁছতে পারছে না। প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও তেমন কোনো সমাধানের পথ দেখা যাচ্ছে না। এজন্য এই আলোচনা সভা থেকে এসব দাবি তীব্রভাবে তুলে ধরছি। আমাদের এসব মৌলিক অধিকারগুলো ফেরত চাই।