বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

নাগরপুরে কমছেনা নিষিদ্ধ তামাক চাষ, বসছে তামাক বেচাকেনার হাট

মুক্তখবর :
মে ৫, ২০১৯
news-image

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে কোনভাবেই কমছেনা ক্ষতিকর নিষিদ্ধ তামাকের চাষ। রীতিমত বসছে তামাক বেচাকেনার হাট।ক্ষতির কথা জেনেও শুধুমাত্র বেশি লাভের আশায় তামাক চাষের দিকে ঝুকছে কৃষক। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকরাও ভূগছে নানাধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায়।
জানাযায়, একসময় উপজেলার চরাঞ্চলখ্যাত মোকনা ও পাকুটিয়া ইউনিয়নের জমিতে চাষকরা হতো ধান, পাট, গমসহ নানাধরনের শাক-সবজি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সিগারেট, বিড়ি ও র্জদ্দা কোম্পানির প্রলোভনে পড়ে নাগরপুর উপজেলার মোকনা ও পাকুটিয়া ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা শুরু করেছে বিষাক্ত তামাক চাষ। চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। তাই অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ক্ষতির কথা চিন্ত ানা করে কৃষকরা দিনদিন ঝুকে পড়ছে তামাক চাষে। তাছাড়া তামাক চাষে কারগিল নামক সার প্রয়োগের ফলে চাষি ও তার পরিবারের স্বাস্থ্য ঝুকি বাড়ছে। এতে কওে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে, ফসলি জমি উর্বর শক্তি হারাচ্ছে। সেই সাথে কৃষকরা ভূগছে নানা ধরনের জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায়।
সরেজমিনে উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের কেদারপুরে অস্থায়ী ভাবে বসা দুটি হাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ব্যারেল বেধে কৃষকরা দূরদূরান্ত থেকে তাদেও উৎপাদিত তামাক নিয়ে আসছে। আর সেখানে অপেক্ষারত বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিগণ (যাদের সাথে আগে থেকেই কৃষকদের চুক্তি করা) তামাক দেখে দাম নির্ধারন করে নিচ্ছে। ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকোর মাধ্যমে এবার তামাক সংগ্রহ করছে জাপান টোব্যাকো লিমিটেড। জাপান টোব্যাকোর প্রতিনিধি জাহিদুর রহমান জানান, আমরা এখান থেকে তামাকের গুনাগুন দেখে ৮৪ থেকে ১০৮ টাকা কেজি দওে কিনে নিচ্ছি। এ বছর এখান থেকে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৫০ মেট্রিকটন। হাটে গিয়ে কথা হয় কৃষক রিপন মিয়ার সাথে তিনি জানান, তামাক চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় আমি দীর্ঘ আট বছর যাবৎ তামাক চাষ করছি। সেই সাথে চাষ করার আগে কোম্পানির প্রতিনিধিরা তামাক চাষ করতে অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। তাছাড়া বালুমাটিতে তামাক চাষ করে অন্য ফসলের চেয়ে ভালোফলন পাওয়া যায়। খোজ নিয়ে জানা যায় ব্রিটিশ আমিরিকান টোব্যাকো, জাপান টোব্যাকো কোম্পানীসহ বিভিন্ন বিড়ি ও জর্দ্দা কোম্পানি তাদেও প্রতিনিধির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। সরকারি কোন রুপ নিষেধাজ্ঞা না থাকার ফলে কৃষকদের এ বিষবৃক্ষ চাষে উৎসাহ যোগাচ্ছে টোব্যাকো কোম্পানিগুলো। তামাক চাষে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অগ্রিম টাকা, বীজ ও সার প্রদান কওে বিভিন্ন ভাবে তামাক চাষে সাহায্য সহযোগিতা করছে। সরকার যখন চেষ্টা করছে তামাক চাষের পরিবর্তে অন্য ফসলচাষে কৃষকদেও উৎসাহিত করতে তখনি লক্ষ্য করা যাচ্ছে টোব্যাকো কোম্পানিগুলো লোভাতুর সকল অফার দিয়ে কৃষকদের তামাক চাষে উৎসাহিত করছে।
নাগরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন বন্ধ করে সরকার বিকল্প কৃষিপন্য উৎপাদনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করায় এবং আমাদের কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের তৎপরতায় নাগরপুর উপজেলায় প্রতিবছর তামাক চাষ কমছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসাইন শাকিল বলেন, এ বছর নাগরপুর উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করা হলেও তা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। কৃষকদের তামাক চাষ থেকে নিরুৎসাহিত করার জন্য উঠান বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার পরার্মশ দেওয়া হচ্ছে।