সোমবার, ২৬শে মে, ২০১৯ ইং

অফিস আদালতে জনহয়রানি ভোগান্তি ও উদাসীনতা

মুক্তখবর :
মে ৫, ২০১৯
news-image

——-এ.কে.এম শামছুল হক রেনু

সাংবিধানিকভাবে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং দেশ পরিচালনায় সমস্ত অর্গান (ঙৎমধহ) যেমন দেশের জনগণের সেবক তেমনি ৭২ সালের সংবিধানের আলোকে দেশের জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। তারপরও অবস্থা দেখে দৃশ্যমান হয় সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা যেন কানে তুলা এবং চোখে চামড়ার চশমা এঁটে অনেক কিছু দেখে, জেনে, শুনেও যেন না দেখার ও না জানার ভান করে থাকে। প্রেক্ষাপট মনে করে ওরা সরকারি দায়িত্ব কর্তব্য পালনের চেয়ে নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে যেন বেশী মনোযোগী। সপ্তাহের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সরকারি অফিস আদালত বন্ধ থাকে। তারপর সরকারি পরিপত্রে যথাসময়ে অফিসে আসা এবং যথাসময়ে অফিস ত্যাগের নির্দেশনা থাকলেও তা যেমন মানা হচ্ছে না তেমনি অনেক ক্ষেত্রে তা দেখার বা মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও অনেকেই তা মনে করে না। তারপর প্রজাতন্ত্রের সেবক হলেও অবস্থাদৃষ্টে অনেকেই মনে করে ওরা প্রজাতন্ত্রের সেবক নয় ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের মতো শাসক। কোনো রাজা, জমিদারের বংশধর বা উত্তরসুরী। অনেক অফিস আদালতে ফাইলের স্তুপ জমে থাকলেও এদিকে যেন আদৌ তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। যা জন হয়রানি, ভোগান্তি ও উদাসীনতারই নামান্তর। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আজও দেশের মানুষ কেন যেন পরাধীনতার অক্টোপাস থেকে বেড়–তে পারছেনা। আজও ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের আইসিএস (ওঈঝ) ও সিএসপিদের (ঈঝচ) সৃষ্ট আমলাতান্ত্রিক জটিলতা (ঝঃৎঁপঃঁৎধষ ওহঃবৎষড়পশরহম) হতে জনগণ মুক্তি লাভ করতে পারেনি। যদিও তাদের মুখে ৪৮ বছর ধরেই বড় বড় কথার ফুলঝুড়ি। এই করেছি, সেই করেছি, এই করব, সেই করব কথার বাহানা। যা জিরো প্লাস জিরো এবং জিরো মাইনাস জিরো সূত্রেরই নামান্তর। সচিবালয় থেকে শুরু করে দেশের বড় অফিস আদালতের চালচিত্র দেখে মনে হয় দেশটা যেন মগের মুল্লুক। অনেক অফিসে লালবাতি জ্বালিয়ে এবং দরজার সামনে পিয়ন চাপরাশি দাঁড় করিয়ে রেখে অধস্তনদের নিয়ে ব্যক্তিগত গল্প গুজব ও আলাপে মশগুল থাকতেও অনেক কর্মকর্তাকে দেখা যায় বলেও জানা যায়। তাতে অফিস সময়ে জনসাধারণের কী অসুবিধা হলো তা দেখা বা বুঝার যেন ওদের প্রয়োজন পড়ে না। কারণ তারাই অফিস আদালতের বস, কর্মকর্তা, আদেশ নির্দেশ দাতা বড় সাহেব ও স্যার হিসেবে সমাধিত বা আখ্যায়িত। এমনিভাবে অফিসের ফাস্ট আওয়ার (ঋরৎংঃ ড়ঁৎ) বা প্রথম প্রহর কেটে যাওয়ার পর সেকেন্ড (ঝবপড়হফ যড়ঁৎ) বা বিরতির পর অনেক অফিস কর্মকর্তা অফিস আদালতের আপডেট কাজকর্ম বা অগ্রগামী করার মতো ফাইল পত্র বা নথি ঐ দিনে পেন্ডিং রেখে থাকে। তার পরের দিন শুক্র ও শনিবার সরকারি নৈমত্তিক ছুটি ও তার পরের দিন রোববার ও সোমবার অন্য কোনো কারণে ছুটি থাকলে ভূক্তভোগীদের অপরিসীম দুঃখ বেদনার অসহনীয় জ্বালা যন্ত্রণার যেন শেষ থাকেনি। তদোপরি বৃহস্পতিবার অফিস সপ্তাহের শেষ দিন থাকাতে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যায়। এমনকি দুইদিন ছুটি থাকার পর রোববারে অফিস খোলা থাকার পরও অনেক সময় যথাসময়ে অফিসে না আসার কারণে বা ঐ দিন ছুটি নিয়ে থাকলে জন ভোগান্তিরও শেষ থাকেনি। এটা কোনো নতুন সংস্কৃতি (ঈঁষঃঁৎব) নহে। জানা যায়, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে আমলাতান্ত্রিক শাসন চললেও অফিস সময়কে ফাঁকি দেয়া এবং অফিস সময়ে অহেতুক লালবাতি জ্বালিয়ে গল্পগুজব, সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা ও রেডিসন থেকে রকমারি নাস্তা এনে খাওয়ার সুযোগ নাকি আদৌ ছিল না। জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কোনো অফিসে নাকি প্রয়োজন ব্যতিরেখে লালবাতি জ্বালিয়ে সিভিল অনেক অফিস আদালতের মতো এ ধরণের সুযোগ নাকি পরিলক্ষিত হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি, জঙ্গি, মাদক, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ অন্যান্য স্তরে সকল প্রকার অনিয়মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ও গণমাধ্যমে একটার পর একটা নির্দেশনার মাধ্যমে দৃষ্টি ও সজাগ থাকার কথা বলছেন। তারপরও যদি অফিস আদালতে জনগণের হয়রানি, ভোগান্তি, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, কৃষ্ণকর্ম, মনিটরিংয়ে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম হয়ে থাকে তারপর এ ব্যাথা ও জনগণের অনুশোচনা জানানোর জায়গাই বা কোথায়। যদিও কিশোরগঞ্জ জেলার কোনো এক উপজেলার একজন অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক টি.আর, কাবিখা ও কাবিটার গমের খবর জানতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, হুমড়া, চোমড়া ও চাটুকারদের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার পর একটি কলামে ২১ এপ্রিল রোববার তা প্রকাশ হয়ে থাকে। সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে দেখা যায়, ঢাকার জুরাইন এলাকার ভূক্তভোগী লোকজন ওয়াসার (ডঅঝঅ) বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দাবীতে ওয়াসার এমডি’র অফিস ঘেরাও করে এবং এমডির জন্য ওয়াসার পানি দিয়ে তৈরী একগ্লাস শরবত নিয়ে যায়। এমডি এই শরবতা পান না করলেও, ওয়াসার পানিকে শতভাগ বিশুদ্ধ বলে মনে করে থাকে। ভূক্তভোগীরা মনে করে অনেকেই যেমন মিনারেল ওয়াটার (গরহধৎধষ ডধঃবৎ) ছাড়া হাতমুখ ধৌত করে না তেমনি কাপড় চোপড় ধোয়া ও গোসলও করে থাকে। তাদের বেলায় ওয়াসার ময়লাযুক্ত দুর্গন্ধ পানি দ্বারা তৈরী শরবত এমডির পান করার চিন্তাও আহম্মকের রাজ্যে বাস করারই নামান্তর। তারপরও জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ নয়।
প্রতিটি হাসপাতালে যথাসময়ে ডাক্তার আসা এবং যাওয়া ডাক্তারদের ক্লিনিকবাজি ও সরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষিকাদের ও কোচিং বাণিজ্যের ওপর যথাযথ সরকারি নির্দেশনা আরোপ করা হলেও দেখা যায় ডাক্তার ও শিক্ষকগণ এসব নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে দেদারছে ক্লিনিকবাজি ও দেদারছে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দেখে মনে হয় নির্দেশনা শুধু কাগজে কলমেই আছে মনিটরিং করার মতো যেন কেহ নেই। গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাকুন্দিয়া উপজেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ডাক্তারের অভাবে প্রতিদিন রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আর সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ শহরে বহুল প্রচারিত একটি মনোরম বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, শহরে একটি ক্লিনিকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে কর্মরত চারজন ডাক্তার উক্ত ক্লিনিকে রোগী দেখবেন। তাতে ২ জন অনকলে এবং অপর ২ জন প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রোগী দেখবেন। তাতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ২ জন ডাক্তার কী করে অনকলে যখন তখন এবং অপর ২ জন ডাক্তার ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কী করে ক্লিনিকে রোগী দেখতে পারে। আসলে দেখার কী কেউ নেই। ক্লিনিকের বিজ্ঞাপনে রোগীর সিরিয়াল নেয়ার ব্যাপারে ২টি নাম্বার রয়েছে। যথাক্রমে ০৯৪১-৬২৩৩২, ০১৮৭৫-০৫০৬৫০।
এক সময় দেশ বরেণ্য প্রয়াত সাংবাদিক ও শ্রদ্ধেয় কলামিস্ট এ.বি.এম মুসা একটি কলামে লিখেছিলেন, যদি অনিয়ম, দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ থেকে জেনে বা দেখে যদি মনিটরিং না করে তবে এ শিথীলতা ধীরে ধীরে মেঘের মতো দানা বাঁধে। আর যদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পেছনে যথারীতি মনিটরিং ব্যবস্থা থাকে এবং গাফিলতির জন্য ডাস্টিক (উঁংঃরপ) ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে তবে এসব অনিয়ম ও অন্যায় করার ফুসরত কারও না পাওয়ারই কথা। তিনি লিখেছিলেন, একনায়ক ও স্বৈরাচার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করে যেমনি মানুষের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হায়নার মতো হরণ করে ছিল তেমনি মানুষের মনে ভয়ভীতি, আতংক ছড়িয়েছিল। রাস্তার পাশের আবর্জনা পরিষ্কার থেকে শুরু করে বাড়ীর আঙিনার গোবরের স্তুপ খাল বিলের পাশে সরিয়ে ফেলা হয়। এমনকি রাস্তার পাশে অনেকেই প্রশ্রাব করতেও ভয় পেয়ে থাকে। পরিশেষে তিনি লিখেছিলেন, সভ্য দুনিয়ার মানুষের জন্য এসব ট্রেন্ড (ঞৎবহফ) ছিল ঘৃণার কাজ। কিন্তু ঘৃণিত জননিন্দিত ও গণতন্ত্র হত্যাকারী এক সামরিক শাসকের নির্দেশনা এমনিভাবে পালন হলেও, স্বাধীনতার এত বছরে এ দেশের কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের নির্দেশনাকে এমনভাবে পালন করা হয় নাই বলেই জাতির ভাগ্যে বারবার নেমে এসেছে দুঃখ, যন্ত্রণা, ভোগান্তি ও জন হয়রানি। দেশ, জাতি, জনগণের স্বার্থেই সরকারি নির্দেশনা, প্রবিধান ও সার্কোলার মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি বিশদভাবে উক্ত কলামে ব্যাখ্যা বিশ্লেষন করেছিলেন। দুনিয়ার যেসব দেশে এসব কিছু মেনে চলছে সেই সব দেশ যেমনি সামনে এগুচ্ছে এবং যেসব দেশ এগুলো না মেনে চলছে সেইসব দেশ পেছনে যাচ্ছে বলেও তিনি (এবিএম মুসা) মন্তব্য করেছিলেন। ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও জাপানের উন্নয়নের কারণগুলোও তিনি তুলে ধরেছিলেন। প্রতিটি সরকারের আমলেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের পরিচালনা, তদারকি বা মনিটরিং (গড়হরঃড়ৎরহম) করার সরকারি নির্দেশনা থাকে। কিন্তু এ ব্যাপারে যথেষ্ট ফাঁকফোকড় ও ছাড় দেয়ার কথাও শুনা
যায়। অনেকে যেমন যথাসময়ে অফিসে যায় না, অফিস সময়ে অহেতুক গল্প গুজব, বিশেষ অফিস সমূহে লাল বাতি জ্বালিয়ে দরজায় পিয়ন চাপরাশি দাঁড় করিয়ে জন নিষেধাজ্ঞা, সময়ের কালক্ষেপন, ফাইল পেন্ডিং রেওয়াজে পরিণত হয়ে গেছে। বড় সাহেবদের এসব ত্রুটির ব্যাপারে তাগিদ দিলে ভূক্তভোগীর ওপর অনেক সময় নাকি বিপদ ঘনিয়ে আসে এবং ধূলোবালির আস্তানা থেকে পেন্ডিং ফাইল আজও নাকি আলোর মুখ দেখেনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যায়, হাইকোর্ট থেকে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নাকি হারিয়ে যায়। অনেক সময় নাকি গায়েব হয়ে যায়, লাপাত্তা হয়ে যায়। একজন ভূক্তভোগীর জন্য এ ব্যাথা, জ্বালা যন্ত্রণা ও ভোগান্তি ও হয়রানি কত যে বেদনাদায়ক তা ভূক্তভোগী ছাড়া অন্য যে কারও পক্ষে বুঝা বাস্তবিকই কঠিন ও বেদনার মহাকাব্য। কবির পংক্তিতে যাকে বলা যায় “কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশী বিষে দংশেনি যারে। এ ব্যাপারে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যদি কোনো কর্মকর্তা সরকারি রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থেকে থাকে তবে সেই কর্মকর্তার জন্য যেমন সোনায় সোহাগা ও আনন্দ উল্লাসের যেন শেষই থাকেনি। যেন আষাঢ় মাসে বসন্ত উদযাপন। যাক, স্বাস্থ্য বিভাগে কী ঘটছে এ সম্পর্কে ২৪ ও ২৫ এপ্রিল জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমটির শিরোনাম ছিল সাতক্ষীরা হাসপাতালে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। দ্বিতীয়টি ছিল সাতক্ষীরা হাসপাতালের ১৮ কোটি টাকা লোপাট, সিভিল সার্জন অফিস ঘেরাও, স্টোর কিপার (ঝঃড়ৎব শববঢ়বৎ) পলাতক। সাতক্ষীরা চিকিৎসা সেবায় মারাত্মক ধ্বস নেমেছে উল্লেখ করে নাগরিক সমাজ ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে ডাক্তাররা সময়মতো হাসপাতালে থাকে না। তারা নানা কৌশলে রোগীদের দালাল চক্রের মাধ্যমে সরিয়ে নিয়ে নিজের চেম্বারে চিকিৎসার নামে গলাকাটা ফি আদায় করে থাকে। এসবের প্রতিকার চেয়ে সাতক্ষীরার নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ জেলা হাসপাতালের ১৮ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম লোপাটকারীদের চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করে থাকে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয় সদর হাসপাতালের এক্সরে মেশিন ও আল্ট্রাসনো মেশিন অকেজো, ইসিজি মেশিনেরও একই অবস্থা। সরকার এই হাসপাতালের অনুকূলে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান নেই। অনেক ডাক্তার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক খুলে বসেছে। যা দেখার যেন কেউ নেই। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও এসব সরঞ্জাম এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা সরকারি হাসপাতালে দেখা যায় না। ১৮ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম লোপাটের প্রতিবাদে ২৪ এপ্রিল সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ আন্দোলন করলে এবং দুদকের তদন্তের সংবাদ পেয়ে হাসপাতালের স্টোর কিপার নাকি পালিয়ে যায়। এমনিভাবে এক সময় কিশোরগঞ্জ হাসপাতালের স্টোরে চুরি সংঘটিত হলে এ ব্যাপারে মামলা হলে দুদক তা তদন্ত করলে কয়েক বছরেও নাকি এর কূলকিনারা পাওয়া যায়নি বলে অনেকেই মন্তব্য করে থাকে। সিভিল সার্জন নিয়ন্ত্রিত প্রায় জেলা হাসপাতালে এ ধরণের অনিয়মের কথা জানা গেলেও ওরা নাকি বহাল তবিয়তেই উচ্চ পদে পদোন্নতি নিয়ে আছে।
অনেকের ধারণা দুদক এ ব্যাপারে যথাযথ অনুসন্ধ্যান করলে এবং মুখোশ উন্মোচিত হলে অনেক হাসপাতালের সামনে দিয়ে দুর্নীতির দুর্গন্ধে কানে তুলা এটেও যাওয়া যাবে না। পরিশেষে বলা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অন্য কারও কথা আমলে না নিলেও রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী ও প্রধানমন্ত্রী জনস্বার্থে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে নির্দেশনা প্রদান করেছেন তা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা, কর্মচারী হিসেবে যথাযথ পালন করা উচিত। তেমনিভাবে অফিস আদালতে কাহাকেও হয়রানি, ভোগান্তি কারও উদাসীনতা, পেন্ডিং ফাইল, লালবাতি জ্বালিয়ে গল্প গুজব, কর্তব্যে ফাঁকি দেয়া, অনিয়ম, দুর্নীতি, কৃষ্ণযজ্ঞ কারও কাম্য নহে। ইসলামের নামে মানুষ হত্যা, জঙ্গিবাদ, ইয়াবা ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই জনপ্রত্যাশা। বড় বড় কথার আস্ফালন থেকে সরে এসে সর্বাগ্রে প্রয়োজন দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, স্বচ্ছতা, কথা ও কাজের সমন্বয় এবং দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। পায়রোবি, চামচা, চাটুকারীতা, পদলেহন একটি ব্যাধি। এ থেকে যত দূরে থাকা যায়, ততই দেশ, জাতি ও জনগণের মঙ্গল ও কাংখিত ভবিষ্যৎ নীহিত।
Ñলেখক সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।