বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় দিনমজুর থেকেশত কোটি টাকার সম্পদের মালিক!

মুক্তখবর :
মে ৭, ২০১৯
news-image

বিশেষ প্রতিনিধি : ইহা কল্পনা নয় বাস্তব সত্য ঘঠনা যা আরব্য উপন্যাস এর আলদীনের চেরাগের কাহিনীকেও হার মানাবে। ১৯৮৫ সালে আফজাল হোসেন (আকমল) গ্রামের জনৈক এক স্কুল মাস্টারের বাড়িতে চুরি করে এবং পাশের গ্রামের মাঠের সরিষা চুরি করে ধরা পড়ে এই দুটি ঘটনায় থানায় মামলা হয়। এর পর আরো কয়েক বাড়িতে চুরির সময় ধরা পড়ে মার খায়। পরে কিছু দিন মানুষের বাড়িতে দিন মুজুরিতে কাজ করে। ১৯৮৮ সালে গ্রামের সহজ সরল মানুষ কে বলে আমাকে সহযোগিতা করেন আপনারা সবাই আমি ইউপি সদস্য পদে ভোটে নির্বাচন করব। ভোটে জিতলে আর চুরি করবনা ভোটে জিতে নিজের নাম পরে নিজেই পরিবর্তন করে আকমল হোসেন রাখেন। কারন চুরির মামলা রয়েছে আফজাল হোসেনের নামে। এর পরের বছর ১৯৯৩ সালে আবারো ইউপি সদস্য পদে ভোট করে হেরে যার। দু বছর পরে ১৯৯৫ সাল থেকে খৈল ভুসির দোকান দিয়ে ভেজাল করার কারনে এ ব্যবসা আর বেশি দিন চলে নাই। ২০০৬ সাল থেকে ভেজাল সরিসার তেলের ব্যবসা করে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যান এ আকমল হোসেন। যা বিভিন্ন সময় দেশের বেশ কিছু জাতীয় পএিকায় এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। কিন্তু রসস্যজনক কারনে তার এ ভেজাল তেলের ব্যাবসা এখন ও চলমান রয়েছে। জানা যায় আকমল পাময়েল তেলের সাথে এক ধরনের বিশেষ ক্যামিকেল মিশিয়ে রং দিয়ে সরিষার তেল তৈরি করে। যা আসল সরিষার তেলের মতো। এই তেল প্রান কোম্পানিতে সরবরাহ করে শত কোটি টাকার মালিক। এক লিখিত আভিযোগে জানা যায় মাগুড়াডাঙ্গা গ্রামের আকমল হোসেন অতি অল্প সময়ে তাড়াতাড়ি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নি¤েœ তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন এর মাগুড়াডাঙ্গা গ্রামের মোঃ শাহজাহান আলীর ছেলে আকমল হোসেন ৮০ এর দশকে মানুষের বাড়ীতে দিনমজুর এর কাজ করত। এর পর তার নানা অনিয়ম বিভিন্ন মানুষের জায়গা জমি দখল। গরীব মানুষের সম্পদ লুট। খৈল ভুসির ব্যবসা, পরেসরিষা তেলের ব্যবসা। সরিষার তেলের মিল। এরপর সরিষার তেলে ভেজাল করে শত কোটি টাকার মালিক। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকার মালিক হলেও তিনি সরকারকে কোন প্রকার ভ্যাট, ট্যাক্স প্রদান করেন নাই যা তদন্ত করলে এই দুর্নীতি পরায়ন অশিক্ষিত ভেজাল তেল ব্যবসায়ীর অবৈধ সম্পদের থলের বিড়াল বেড়িয়ে পড়বে।
নি¤েœ তার অবৈধ সম্পদের বিবরণ দেওয়া হলো :-
সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার ১১ নং উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত মাগুড়াডাঙ্গা গ্রামে, আকমল হোসেনের মাগুড়াডাঙ্গা মৌজায় কৃষি ফসলি জমির পরিমাণ ৬০ বিঘা জমি ক্রয় করেছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। ১৯৮৮ সালে এই আকমলের ১ শতাংশ জমিও ছিল না। উপজেলার পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের অন্তর্গত বড় ভেটুয়াকান্দি গ্রাম ও ছোট ভেটুয়াকান্দি গ্রামের মৌজায় তার কৃষি জমি ৩০ বিঘা জমি ক্রয় করেছে যার বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকা। উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের চালা গ্রামের মৌজায় ১০ বিঘা জমি ক্রয় করেছে যার বাজার মূল্য ৩ কোটি টাকা। উল্লাপাড়া পৌর সভার বাখুয়া মৌজায় ১০ বিঘা জমি ক্রয় করেছে যার বাজার মূল্য ১০ কোটি টাকা।
উল্লাপাড়া পৌর সভায় তথা শহরের ব্যস্ততম এলাকা শ্যামলী পাড়ায় ব্রিজের সাথে উল্লাপাড়া মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন ৫ তলা আলিশান বাড়ি, নিচে মার্কেট এ ভবনের মূল্য ৫ কোটি টাকা। উল্লাপাড়া মডেল থানার পিছনে পাট বন্দরে গুদাম ঘর ২০ শতক জায়গার ওপর এর বাজার মুল্য ৩ কোটি টাকা। পৌর এলাকা বাখুয়া ওয়াবদায় দুই বিঘা জমির ওপর তেলের মিল যার বর্তমান বাজার মূল্য দুই কোটি টাকা। স্ত্রীকোলা গ্রামের উত্তর সীমান্তে চকিদহ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ২ বিঘা জমির ওপর ২য় তলা আলিশান তেলের মিল যার বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকা। এছাড়া স্ত্রীকোলা পূর্ণিমাগাঁতী রোডে পাকা তেলের মিল যার বাজার মূল্য কোটি টাকা। মাগুড়াডাঙ্গা গ্রামে হাজার পরিবারের বসবাস, গ্রামের প্রায় সকল বাড়িতে টিনের কিছু আধাপাকা বাড়িঘর। আর এই আকমল হোসেন ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মার্বেল পাথর দিয়ে তার নিজ গ্রামে চার তলা রাজপ্রাসাদ বাড়ি নির্মাণ করেছে। এই আকমলের অবৈধ সম্পদ এতই বেশি যে, সে দুইটি মাইক্রো গাড়ী ব্যবহার করে যার নং ঢাকা মেট্রো-চ ১৩৩৪২৯ তার চারটি টাটা ট্রাক রয়েছে যার নং ঢাকা মেট্রো-ট ১৮৯২ ৯৩, ঢাকা মেট্রো-ট ১৮২৪৬৫, ঢাকা মেট্রো-ট ১১৯০৫৯, ঢাকা মেট্রো ট-১৮১৯৯১। এছাড়াও তার রয়েছে নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ যার কোন আয়কর দেওয়া হয় না। সামান্য দিনমজুর এবং মানুষের বাড়িতে চুরি করলেও বর্তমানে সে শত কোটি টাকার মালিক কিভাবে হলেন এ বিষয় নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হয় বিভিন্ন চা এর দোকানে। চলমান