সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

দুর্যোগে বিপদমুক্ত থাকুক উপকূল

মুক্তখবর :
মে ১৪, ২০১৯
news-image

–রফিকুল ইসলাম মন্টু–
ছবিতে পাকা দালানটি দেখে যে কেউ অনুমান করতে পারবেন, এটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। দালানটি কতটা পুরোনো সেটাও বোঝা যাবে। সামনের খোলা আঙিনা অনেক আগেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সামনের এবং পাশের গ্রাম, ফসলি মাঠ, রাস্তা, পুকুর, সুপারি বাগান, নারিকেল গাছ, কবরস্থান- সবই নদী গর্ভে হারিয়েছে। ছবিতেই দৃশ্যমান- শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে আশ্রয়কেন্দ্রের সামনে থইথই পানি। এটি ভোলার চরফ্যাসনের ঢালচরের চিত্র। প্রথমবার আমি যখন এই দ্বীপে যাই, তখন এই আশ্রয়কেন্দ্রটির সামনে নদী দেখা যেতো না। নদীর তীরে যেতে হলে হাঁটতে হতো ১০-১৫ মিনিট। এভাবেই বিপদ বাড়ছে উপকূলের দ্বীপ-চরে। ‘ফণী’ সতর্কতায় এই আশ্রয়কেন্দ্রেও ঠাঁই নিয়েছেন কিছু মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্র নিজেই যেখানে বিপদাপন্ন, সেখানে সে আবার মানুষের আশ্রয় কীভাবে দিবে?
দুর্যোগ আসে, দুর্যোগ যায়। রেখে যায় বিপদ। উপকূলের মানুষের বিপদ যায় না। সমগ্র উপকূলে চোখ ফেরালে এমন বিপদাপন্ন এলাকার শেষ নেই। আমাদের সব আছে, আবার কিছুই নেই। যে দ্বীপে একটিও পাকা দালান নেই, সেখানকার মানুষ সর্বোচ্চ সতর্কতায় কীভাবে প্রস্তুতি নিবে? কোথায় আশ্রয় নিবে?
যে দ্বীপে নেই রাস্তাঘাট, সে দ্বীপের মানুষ কত পথ পাড়ি দিবে আশ্রয়ের খোঁজে? যে দ্বীপের এক প্রান্তে পড়ে আছে সংস্কারবিহীন আশ্রয়কেন্দ্রটি, অন্যপ্রান্ত থেকে মানুষগুলো সেখানে যাবে কীভাবে? তারপর ধরে নিলাম, দ্বীপ থেকে মানুষগুলো আশ্রয় নিতে মূল ভূ-খ-ে আসবে- কিন্তু কীভাবে? দুর্যোগ সহনশীল প্রয়োজনীয় যানবাহন আমাদের আছে কী? ধরা যাক, আমাদের সব কিছু আছে। আশ্রয়কেন্দ্র আছে। রাস্তাঘাট আছে। বেড়িবাঁধও হয়েছে। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূল অঞ্চলে অসংখ্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। সে কারণেই ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগের চেয়ে কমেছে; কিন্তু ভেবে দেখেছেন, প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এখনও কোথায় ফাঁকফোকরগুলো রয়ে গেছে? নতুন বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে? এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে না? রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না। ফলে একবার নির্মিত অবকাঠামো ক্রমে ক্ষয়ে যেতে থাকে। এসব কারণে উপকূলের অনেক এলাকা রয়ে যায় অরক্ষিত। এ অবস্থায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেও উপকূলের এই দুর্যোগপ্রবণ স্থানগুলো নিরাপদ রাখা কতটা সম্ভব হবে? সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
ধরা যাক, ভোলার চরফ্যাসনের দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচর। সেখানে বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র অনেক আগেই নদীতে হারিয়েছে। এখনও অসহায়ের মত দু’একটি দাঁড়িয়ে আছে। এখানে আশ্রয়ের জন্য ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলা ভবন আর মাটির কিল্লা। তা গত বর্ষায় ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ঢালচরের মানুষ সর্বোচ্চ সতর্কতায় কী ব্যবস্থা নিতে পারবেন আমার জানা নেই। ঝড়ো হাওয়া শুরু হওয়ার আগেই কী সেখানকার সব মানুষের নদী পাড়ি দিয়ে এপারে চলে আসা সম্ভব? আমরা সকলেই জানি, সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাহলে সেখানকার মানুষের নিরাপত্তা আমরা কীভাবে নিশ্চিত করতে পারি? সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির পর ঢালচরের মানুষের মনে পড়ছে ’৭০-এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের কথা। সে প্রলয়ে ভেসে গিয়েছিল সম্ভাবনাময়ী দ্বীপ ঢালচর। ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ দ্বীপটিতে তখন কেবল জনবসতি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন সেখানে ঘর বাঁধতে শুরু করে। অনেকে গরু মহিষ চড়াতে ওই চরে মৌসুমভিত্তিক অবস্থান করতেন। প্রলয়ংকরী ঝড়ের তোড়ে পানি বাড়তে থাকে। মানুষগুলো তখন অসহায় হয়ে পড়েন। একটিমাত্র দোতলা ভবনে আশ্রয় নেন কিছু মানুষ। বনজঙ্গলের কারণে দূরের মানুষ আশ্রয়ে আসতে না পেরে ভেসে যান। ঢালচরের একমাত্র পাকা ভবনে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে যাওয়া বাসিন্দা ইউসুফ আলী পাটোয়ারী এখনও সেখানে বসবাস করছেন। বয়স ৬৬ বছর। ৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ে ছিলেন ১৬ বছরের কিশোর।
সেদিনের ভয়াল চিত্র তুলে ধরে তিনি জানালেন, সে প্রলয়ের কথা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। কীভাবে যে বেঁচে আছি আল্লাহ জানেন। ঘূর্ণিঝড়ের দুই বছর আগে বড় ভাইয়ের সঙ্গে এই চরে আসি। ঘূর্ণিঝড়ের আগের দিন দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবল বেগে বাতাস আসে, পানি বাড়তে থাকে। কিছু মানুষ পাকা ভবনে আশ্রয় নিতে পারলেও অনেকেই সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। পাকা ভবনের বাইরে থাকা মানুষ সকলেই ভেসে গেছে। শুধু মানুষ নয়, শত শত মহিষ, গরু পানির প্রবল তোড়ে ভেসে গেছে। ঢালচরের বাসিন্দা ৯৫ বছর বয়সী আমিন উদ্দিন বলছিলেন, ‘আমাদের তো আল্লাহ বাঁচাই রাখছে।’
’৭০-এর প্রলয়সহ বিভিন্ন সময়ের ঘূর্ণিঝড়ে বার্তায় আতঙ্কিত হয় ঢালচরের মানুষ। ‘ফণী’ আসার খবরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির পর আমার কথা হয় ঢালচরের অনেকের সঙ্গে। ঢালচরের বাসিন্দা কাওসার ফরাজী বলেন, এখানে প্রায় ১৭-১৮ হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে নদী ভাঙনের কারণে কিছু মানুষ বাইরে চলে গেছে। এখনও অন্তত ১২-১৩ হাজার লোকের বসবাস এখানে। সমুদ্রের মোহনায় চারদিকে জলরাশিবেষ্টিত দ্বীপের মাঝে আমরা বাস করি। সতর্ক করা হলেও আমাদের বাঁচার উপায় কী? আল্লাহকে ডাকা ছাড়া আমাদের আর বিকল্প নেই। ঢালচরের বাসিন্দা এম. আবদুর রহমানের সঙ্গে আলাপের সময় জানান তার অসহায়ত্বের কথা। তিনি বলেন, বড় দুর্যোগ এলে কী করব? ভেবে পাচ্ছি না। ঢালচর প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে আমি ভাবছিলাম, ঢালচরে যখন ভাঙন শুরু হয়নি, তখন এ দ্বীপের চারদিকে বেড়িবাঁধ দেয়া হলে এই জরুরি সময়ে সেখানকার মানুষদের হয়তো কান্নাকাটি করতে হতো না।
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতির দ্বীপ ইউনিয়ন চর আবদুল্লাহ’র ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল ’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ে। সেখানকার বহু মানুষ প্রাণ হারান। অনেক পরিবার একেবারেই নিঃশেষ হয়ে যায়। চর আব্দুল্লাহ’র মূল ভূ-খ- এখন আর নেই। ভেসে গিয়ে নতুন চর জেগেছে, নাম হয়েছে চর গজারিয়া। এ দ্বীপের মানুষেরাও আছেন চরম আতঙ্কে। এ দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র তো নেই-ই, চলাচলের রাস্তাঘাটও নেই।
সর্বোচ্চ সতর্কতা দিয়ে এখানকার মানুষদের কীভাবে বাঁচানো সম্ভব হবে? এই দ্বীপের বাসিন্দা মাস্টার আলাউদ্দিন বলছিলেন, আমরা বেঁচে আছি আল্লাহর উপর ভরসা করে। এখানে আশ্রয় নেওয়ার মতো পাকা ভবন নেই। একটি আশ্রয়কেন্দ্র ছিল, সেটি অনেক আগেই নদীতে হারিয়ে গেছে। জরুরি সময়ে এখানকার মানুষের নিরাপদে যাওয়ার সুযোগ নেই। গজারিয়ার মেঠো পথে কিলোমিটারে পর কিলোমিটার হাঁটার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মাষ্টার আলাউদ্দিনের কথা সত্য। এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, যেখান থেকে মূল ভূ-খ-ের দেখা মেলে না, সেখান থেকে জরুরি সময়ে মানুষদের নিরাপদে যাওয়া সম্ভব নয়। শুধু ঢালচর আর গজারিয়া নয়, এমন অনেক এলাকার নাম লেখা যায়, যেসব স্থানে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। প্রশ্নটা আসতেই পার-সর্বোচ্চ সতর্কতায় কী করবে সেইসব এলাকার মানুষ?
সরেজমিনে পাওয়া মাঠের তথ্যসূত্র বলছে, প্রান্তিক উপকূলের বহু মানুষ এখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতঙ্কে দিন কাটান। জোয়ারের পানি বাড়লে, জলোচ্ছ্বাস হলে, ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত পড়লে ভয় বাড়ে। পূর্ব উপকূলের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মানুষ গত কয়েক বছরে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতেও বাড়িঘর, ফসলি জমি ডুবে যাচ্ছে। লবণের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়েছে। ভাঙ্গনে দ্বীপটি ছোট হয়ে গেছে, বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। লবণচাষি, মৎস্যজীবী, কৃষিজীবীরা পেশা বদল করেছে। মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, সোনাদিয়া অনেক এলাকার মানুষ নানামূখী পরিবেশ সংকটে রয়েছে। অনেক স্থানে নেই বেড়িবাঁধ। একই অবস্থা কুতুবদিয়ার তাবালচর, কিরণপাড়া, ধূরুংসহ অনেক স্থানে। সন্দ্বীপের চারদিকে সম্প্রতি বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হলেও এ উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন উড়িরচর জোয়ার এলেই পানিতে ভাসে। বেড়িবাঁধ না থাকায় নষ্ট হয় ফসল, ডুবে যায় বাড়িঘর।
নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী দ্বীপ হাতিয়া ক্রমেই ছোট হচ্ছে। নলচিরা, সুখচর, তমরুদ্দি ক্রমাগত ভাঙছে। সুখচর ইউনিয়ন প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। হাতিয়ার দ্বীপচরগুলোতে থাকা হাজারো মানুষের বিপন্নতায় বসবাস। আকাশে মেঘ দেখলেই তাদের মাঝে আতঙ্ক বাড়ে। হাতিয়ার পশ্চিমে, রামগতি-আলেকজান্ডারের দক্ষিণে, মনপুরার উত্তরে এবং ভোলা-দৌলতখানের পূর্বে মেঘনার বুকে রয়েছে বৃহৎ চরাঞ্চল। এসব চরে হাজারো মানুষ সারাবছর চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে। এই বৃহৎ চর এলাকার মধ্যে রামগতির চর আবদুল্লাহ, দৌলতখানের চর জহিরুদ্দিন, হাজীপুর, তজুমদ্দিনের চর মোজাম্মেল, মনপুরার কলাতলী, ঢালচর। বিভিন্ন এলাকা থেকে নদী ভাঙনের শিকার মানুষ এসব চরে ঠাঁই নিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারা অসহায় হয়ে পড়ে।
দ্বীপ জেলা ভোলার মনপুরার মানুষেরা এখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে অসহায়। এ উপজেলায় রয়েছে চর নিজাম কলাতলী, ঢালচরসহ বেশ কয়েকটি চর। এতে অসংখ্য মানুষের বসবাস। পলি জমে গড়ে ওঠা নিচু চরে এদের বাস। মাঝারি আকারের উচ্চতায় জোয়ারের পানি এলেও এসব এলাকার মানুষের রক্ষা নেই। জীবন বাঁচানোর মতো আশ্রয়ের ব্যবস্থা এসব চরে একেবারেই সীমিত। বড় কোনো গাছপালাও নেই, যা ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে চরবাসীরা জীবন রক্ষা করবে। চরফ্যাসনের ঢালচর সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। নদী ভাঙনের কারণে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় থাকা এ দ্বীপটি এরইমধ্যে অনেক ছোট হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সম্ভাবনাময় দ্বীপ কুকরি মুকরি। এছাড়াও ভোলা সদরের মাঝেরচর, রামদাসপুর, চর চটকিমারা, দৌলতখানের মদনপুর, হাজীপুর, মেদুয়া, বোরহানউদ্দিনের চর জহিরুদ্দিন (আংশিক), তজুমদ্দিনের চর মোজাম্মেল, চর জহিরুদ্দিন (আংশিক), লালমোহনের কচুয়াখালীর চরের বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক বিপদের মাঝে বসবাস করছে। পটুয়াখালীর গলাচিপা, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, দশমিনা, বাউফলে রয়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা বেশকিছু অরক্ষিত চরাঞ্চল। স্বাভাবিক জোয়ারেই সেসব চরে পানি প্রবেশ করে। অনেক স্থানে নেই বেড়িবাঁধ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধ থাকলেও প্রবল জোয়ারের তোড়ে ভেসে গেছে। রাঙ্গাবালীর দ্বীপ ইউনিয়ন চরমোন্তাজ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। একই অবস্থা রাঙ্গাবালীর দ্বীপ ইউনিয়ন চালিতাবুনিয়ার। গলাচিপার চরকাজল, চর বিশ্বাস, পানপট্টির অনেক স্থানের মানুষের বারোমাসই ঝুঁকিতে বসবাস। বরগুনার তালতলী, পাথরঘাটা, পিরোজপুরের মাঝেরচর, শরণখোলার বগী, তাফালবাড়িয়া, খুলনার কয়রা, দাকোপা, সাতক্ষীরার গাবুরার প্রাকৃতিক ঝুঁকি কোনোভাবেই কমছে না। এসব এলাকার মধ্যে সিডর বিধ্বস্ত বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা এবং আইলা বিধ্বস্ত কয়রা, দাকোপা, শ্যামনগরের মানুষের প্রাকৃতিক বিপদের ঝুঁকির মাত্রা অত্যাধিক।
প্রাকৃতিক বিপদ মোকাবেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি শক্ত ও উঁচু বেড়িবাঁধ নির্মাণের। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় স্থানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। আশ্রয়কেন্দ্রে ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সড়ক যাতে চলাচল উপযোগী থাকে, সে বিষয়ে নজর রাখার দাবি উপকূলবাসীর। সিগন্যাল সম্পর্কে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ালে প্রাকৃতিক বিপদ অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করেন ঝুঁকিপ্রবণ এলাকার বাসিন্দারা। দ্বীপগুলোতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সাইক্লোন শেলটার নির্মাণের দাবিও রয়েছে তাদের। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এগিয়েছে অনেকখানি। ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। অসংখ্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মিত হয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ঘটেছে। এইসব ব্যবস্থার কারণে দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমেছে। কিন্তু এখনও রয়েছে ঝুঁকি।
এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, উপকূলের বহু এলাকা এখনও রয়েছে অরক্ষিত, বিপদাপন্ন। জোয়ারের পানি বাড়লেই ডুবে যায় ঘরবাড়ি। ছোট ধাক্কাতেই ভেঙে যায় নাজুক বেড়িবাঁধ। উপকূলের সব স্থানে যেমন বেড়িবাঁধ নেই, তেমনি বাঁধের উচ্চতাও প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো হয়নি। ফলে ’৭০ কিংবা ’৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের মতো বড় আকারের কোনো ধাক্কা উপকূলে এলে ক্ষয়ক্ষতি যে হবে না, এটা বলা যায় না। হয়তো প্রস্তুতি জোরদার করে ক্ষতি কমিয়ে আনা যেতে পারে। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ এগিয়ে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশের উপকূলজুড়ে। দ্বীপ-চরের মানুষ দুশ্চিন্তায়। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি করবে না এ ঘূর্ণিঝড়। ‘ফণী’র ধকল সামলাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মানুষও সাধ্যমত প্রস্তুতি নিয়েছে। তবুও ভয়, যদি কিছু হয়। তবে সতর্কতা-সচেতনতা এগুলো বাড়ানোর পাশাপাশি উপকূলের দ্বীপ-চরের বাস্তবতাকে বিবেচনায় আনাটাও জরুরি। আমাদের সকলের প্রত্যাশা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বিপদমুক্ত থাকুক উপকূল।
লেখক: উপকূল সাংবাদিক