সোমবার, ২৬শে মে, ২০১৯ ইং

মোহাম্মদ আমিরের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা শেষ!

মুক্তখবর :
মে ১৪, ২০১৯
news-image

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০১৯ (স্পোর্টস ডেস্ক) : বিশ্বকাপ খেলাটা যেন ভাগ্যে লেখা নেই মোহাম্মদ আমিরের। অমিত সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আগমন ঘটে তাঁর। কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামের পর পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিভাবান ফাস্ট বোলারের স্বীকৃতি পেয়ে যান অল্প কিছুদিনের মধ্যেই। তবে ২০১০ সালে মারাত্মক এক ভুলে পথ হারান তরুণ এই বাঁহাতি পেসার। স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পাঁচ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন আমির। মিস করেন ২০১১ ও ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ। নিষেধাজ্ঞা শেষে ২০১৬ সালে অনেকটাই সেই পুরোনো ঝলক নিয়ে ফিরলেও সম্প্রতি চরম ফর্মখরায় ভুগছেন এই পেসার। ফলে বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের পাকিস্তান দলে জায়গা হয়নি তাঁর।

তবে এক হাতে ম্যাচ জেতানোর প্রতিভা থাকায় আমিরকে পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারেননি পাকিস্তানের নির্বাচকরা। ইংল্যান্ডের সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দলে সুযোগ দেওয়া হয় বাঁহাতি এই পেসারকে। নির্বাচকরা এটাও জানিয়েছিলেন, ইংল্যান্ড সিরিজে ভালো করলে হয়তো বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তাঁকে বিবেচনা করা হতে পারে। তাই নিজেকে প্রমাণের মিশনে একবুক আশা নিয়ে দলের সঙ্গে ইংল্যান্ডে যান আমির।

তবে ভাগ্যটাই যেন খারাপ আমিরের। ইংলিশদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে একাদশে সুযোগ পেলেও বোলিং করার সুযোগ হয়নি তাঁর। বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচটা পণ্ড হয়ে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য রহস্যজনক কারণে একাদশে ছিলেন না আমির। অবশেষে জানা গেছে তাঁর একাদশে না থাকার কারণ। পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলবসন্তে আক্রান্ত হয়েছেন আমির। তাই তাঁকে একাদশে রাখা হয়নি। আজ ব্রিস্টলে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে তো বটেই, আগামী দুটি ম্যাচেও হয়তো মাঠে দেখা যাবে না আমিরকে।

আপাতত দলের সঙ্গে থাকছেন না আমির। অসুস্থতা নিয়ে লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে আছেন এই তারকা পেসার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটা তাঁর জন্য ছিল অনেকটা ‘এসিড টেস্ট’। তবে বারবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ ফসকে যাওয়ার দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়ছে না আমিরকে। ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নেমে কিছু করতে না পারলে বিশ্বকাপ দলে ঢোকাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে প্রতিভাবান এই পেসারের জন্য। সে ক্ষেত্রে ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে অবিস্মরণীয় বোলিংয়ে পাকিস্তানকে শিরোপা জেতানো মোহাম্মদ আমিরকে দর্শক হয়েই কাটাতে হবে আরেকটি বিশ্বকাপ।