বুধবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

যশোরে স্ত্রীর জন্য ভাইকে খুন

মুক্তখবর :
মে ২৫, ২০১৯
news-image

ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি): যশোরের কেশবপুর উপজেলার কিশোর তরিকুল ইসলাম (১৬) খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তরিকুলের আপন বড় ভাই শরিফুল তাকে হত্যা করেছে। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সকালে সাতবাড়িয়া পাচানীপাড়া গ্রামের একটি বাগান থেকে তরিকুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।  শরিফুল জানিয়েছে, স্ত্রীকে পাওয়ার শর্তে তার আপন ভাইকে হত্যার প্রস্তাব দেয় শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এক পর্যায়ে স্ত্রীকে পাওয়ার আশায় ভাইকে হত্যার প্রস্তাবে রাজি হন শরিফুল। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তরিকুলকে খুন করে শরিফুলের শ্যালক রবিউল ও আল-আমিন। তরিকুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও নিহতের বড় ভাই শরিফুল ইসলামের এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন। পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আসামি শরিফুল ইসলাম মৃত তরিকুল ইসলামের আপন বড় ভাই। দুই ভাই তার বাবার কাঠমিস্ত্রির কাজে সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার আনুমানিক দুই সপ্তাহ আগে আভিযুক্ত বড়ভাই শরিফুল ইসলাম কেশবপুর থানার কমলপুর গ্রামের রশিদ বিশ্বাসের মেয়ে জেসমিন আরাকে বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পর আসামি শরিফুল ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে যায়। সেখান থেকেই তাকে বাবার সঙ্গে কাঠমিস্ত্রির কাজ করার জন্য আসতে হতো। বিষয়টি শরিফুলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের ভালো লাগেনি। তোমার বাড়িতে তোমার ছোট একটা ভাই আছে, সে তো তোমার বাবার সঙ্গে কাজে যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে শরিফুলের মনেও রাগের সৃষ্টি হয়। বাড়িতে এসে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে বলে তোমাদের ছোট ছেলেকে তো কাজে পাঠাতে পারতে, আমি শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে গেছি, আমাকে কেন কাজে যেতে বলো?।এ কথা শুনে সেই সময় শরিফুলের মা শরিফুলকে সংসার হতে পৃথক হওয়ার জন্য বলে। এ বিষয়টি শরিফুলের শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে জানায়। পরবর্তীতে যখন শরিফুর শ্বশুর বাড়িতে যায় তখন তার শ্যালক রবিউল ইসলাম শরিফুলকে বলে, তুমি তো ঠিকমতো কাজও করতে পারো না, আবার পৃথক হয়ে আমার বোনকে খাওয়াবা কি? সবচেয়ে ভালো হয় তোমার বাবার সকল সম্পত্তি পেতে ও তোমার চাচাদের শায়েস্তা করতে তোমার ছোট ভাইকে সরিয়ে দিলে। তাহলে তুমি সবদিক থেকেই লাভবান হবা।শরিফুলের বড় চাচা শ্বশুর শরিফুলকে জানায়, যদি রবিউল ইসলামের (শরিফুলের শ্যালক) কথামতো কাজ না করো তাহলে তোমার স্ত্রীকে আর পাঠানো হবে না। এমন হুমকিতে শরিফুল তার ছোট ভাইকে খুনে সম্মতি দেয়। শরিফুলের শ্যালক রবিউল তার কাছে জানতে চায় তোমরা কয়টার দিকে ঘুমাও। কবে তোমার (শরিফুলের) বাবা-মা বাড়িতে থাকবে না। হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা শরিফুলের চাচা শ্বশুরের বাড়িতেই হয়। শরিফুলের স্ত্রী জেসমিন আরা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিল।বৃহস্পতিবার আসামি শরিফুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে আটকের পর আদালতে হাজির করা হয়। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে শরিফুল।